অতিমানুষ হওয়ার ইচ্ছে পোষণ মনের কাছে
মন শুনে, সাহস যুগায় না, বিপত্তি পা ফেললেই
হেরে যেতে হয় বার বার হাজারবার,কেনো এমন হয়,
মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে ঢুকে যেতে পারি না নির্দ্বিধায়,সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বের জীবন।

শত ইচ্ছে স্বত্তেও অসহায়দের ভিড়ে হারাতে পারি না
রোহিঙ্গাদের ভিড়ে সেবাকে বিলিয়ে দিতে পারি না
ওদের কাছাকাছি গিয়ে জীবন দেখতে পারি না
না, যেতে পারি বন্যার্তদের খুব কাছাকাছি।

ফুটপাতে বসা ফাতেমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে পারি না
ফাতেমা তুকে আর ফুটপাতে ইটপাথরের বিছানায় শুতে হবে না
তোর নানিকে ডাস্টবিনে রেখে তুকে নিয়ে গেলাম
তুই পড়াশুনা করবি ফুল বিছানায় শুবি কিংবা
খলখলানি হাসিতে পাতে দেয়া একটুকরো মাংসের সাথে গরম ভাত মুঠো ভরে খাবি!

কিংবা ফুটপাতে বসে যে পুরুষ নির্লজ্জতা গায়ে মেখে বসে পড়ে মুত্র ত্যাগ করবে বলে,
তাকে গিয়ে ন্যায় অন্যায় শিখাতেও পারি না
যে ছেলে মধ্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিড়ি টানে কিংবা
গরম চায়ের পেয়ালায় তৃপ্তির চুমুক তুলে দিন দুনিয়া ভুলে
তাকে থাপ্পড় দিয়ে বুঝাতে পারি না যে- এটা ফুটপাত, এটা জনগণের চলার পথ
এটা আমাদের নাগরিক অধিকার।

বলতে পারি না গলা উঁচু করে এই যে ছেলে চিপসের প্যাকেটটা
ডাস্টবিনে ফেলো অথবা এখানে থু থু ফেলো না,
কিছুই বলা হয় না, কিছুই করা হয় না;
কেবল অন্যায়গুলো চিবিয়ে গলদঃকরণ করে ফেলি
আর বিতৃষ্ণা গায়ে মেখে পথ চলি সকল অন্যায় চোখে পুরে।

কিছুই পারি না আমি কিছুই না
কেবল গা বাঁচিয়ে নিজের সুখের তরে হেঁটে চলি পথ
অলীক এক গগজ চোখে থাকে সাঁটা...
ন্যায় নীতি দয়া মায়া সহানূভুতি মানবতা সব আমার হিলের পেষনে পিষ্ট হয়ে যায়,
আর আমি আনমনায় হেঁটে চলি পথ।