আহা! কি স্নিগ্ধই না ছিলাম একদা,
আয়নায় তাকিয়ে মুগ্ধ হওয়ার ক্ষণগুলো সেই
হারিয়ে খুঁজি ফের!

চোখের তারায় উচ্ছ্বাস প্রহর
উল্লাসে ফেটে পড়া মুখশ্রীর ছবি সেঁটে আছে এলবামে!
মুগ্ধ আমি মুগ্ধ-আহা!কত সুন্দরই না ছিলাম;
আমায় দেখে আমি ঈর্ষায় মরি
আমায় দেখে আমি হিংসা মনে ধরি।

ছবি উল্টে দেখি-পিছনে সত্যিই দুটো ডানা ছিল
আহা! পিঠে হাত বুলিয়ে ডানা পাই না, খুঁজে পাই না!
আচ্ছা কোথায় কোথায় উড়েছিলাম!
নদী পাড়ি দিয়েছিলাম? পাহাড়? সমুদ্দুর?
না, না, না, তবুও ডানা মেলা পাখি ছিলাম;
খসে পড়ে পালক, সময়ের স্রোতে,
ডানা ভাঙ্গা পাখি আমি-গালে হাত দিয়ে বসে ভাবি!
আহা! কত সুন্দর স্নিগ্ধ ছিলাম আমি!

কে নিয়ে গেলো কেড়ে রূপ মাধূর্য্য আমার?
ফুটফুটে লাল জামায়, আমায় পরীই লাগছিল বটে!
এক চিলতে হাসি-আহা কি মোহনীয়-সেকি দম্ভের ছিলো?

না-কী ভেবেছিলেম, আমি এখানেই পড়ে থাকবো
যত উচ্ছ্বাস, যত উল্লাস সব আমার!আমারই থাকবে/থাকুক!
আহা কি মায়াময় দাঁত কেলানো হাসিগুলো সেই
ছবির উপরে হাত বুলিয়ে অনুভব করছি,
সেই হাসিগুলো কী অতি প্রাকৃত? নাকি মেকি ছিল!
না এখন নিত্য যাচ্ছি হেসে-হ্যাঁ মেকি-অভিনয়-অভিনয়।

হাসিগুলো হলো উধাও, দাঁতে শিরশির যন্ত্রণা,
ঠোঁটের গায়ে কে মেখে দিয়ে ব্যথার প্রলেপ;
হাসি নেই এখানে আর উচ্ছ্বাসের।

আহা কি মনোহারী লাগছে আমায়-যেনো প্রজাপতি,
কতই না মিষ্টি ছিলাম! কোথায় খুলে পড়লো মুগ্ধতা!
খসে পড়লো স্নিগ্ধ পলগুলো-কোথায় হারালো?

ঐ যে ছবিটায় আমি ছিলাম যেনো আমাতেই মত্ত
নিজেকে নিয়ে কত-ই না গর্ব আহা-চোখ ফেরানো যায় না।
আজ এখানে আমার আমি'টাকে খুঁজে মরছি!
হারিয়ে ফেলেছি সেই চেনা সুর-চেনা গল্প, চেনা মুখোচ্ছবি’টি।
বেলাশেষে-অচেনা এই আমি-সেই আমি’র কাছে।
সুন্দর সে-তো ক্ষণিকের, তবু মন বুঝে না হায়!
রূপের দম্ভ, মনের সব অহংকার একদিন মিশে যাবে ধূলোয়
আমি আর চিনবো এই আমাকেই-
কী কঠিন মানুষের জীবনাবসান!