এখানে কোনো উল্লাস নেই, আছে বুক কাঁপানো রূঢ়তা
আনমনে বকে যায় কেউ, অদৃশ্য কথোপকথনের ঝড়
ইথারে ভেসে বেড়ায় প্রতিধ্বনি, পাখিরা কান পেতে শুনে
সংসার সংসার খেলায় নিত্যই হাঁপিয়ে যায় সময়-ধুকপুক..
ভিতর কাঁপিয়ে আসে বড় বড় শ্বাস; অচেনা শহরে বসবাস।
মুখ চাওয়া চাওয়ি অত:পর সটকে পড়ো সম্মুখ হতে..
চিনে নিতে কে কারে- কে -বা চায়...দাঁড়িয়ে খানিকক্ষণ!

দেরাজ হতে মুখোশ টেনে এনে যে যার মত চলে যায় সাজঘরে।
কেউ সুখি হতে পারে না এখানে, কারো সংস্পর্শেই যেনো সুখ নেই...
আছে অস্পৃশ্য পাথর, একটু এদিক সেদিক হলেই ঠাসঠাস ধ্বনি...
ফলাফল হৃদয়ের চোরাপথে অবিরাম রক্তক্ষরণ চুয়ে চুয়ে।
আবেগ লুকায় গিয়ে পেয়াজের ঝুঁড়িতে...হয় লোনাজলের কাব্য
বৈদ্যুতিক পাখা টেনে নেয় ফিসফিসানি ব্যথার নির্যাসগুলো
দেখো পাখায় পাখায় ঝুলে আছে মন খারাপের মলিন ঝুল।

ধুয়ে মুছে দিতে কেউ আসে না সহসা, কষ্ট লেপ্টে থাকে চুন খসে পড়া দেয়ালে।
এখানে নতুন কিছু নেই, নেই কবিতার শিরোনাম- শুধু আছে বেরসিক বেমানান শব্দের সমাহার
বেতাল মাত্রা ছড়িয়ে পড়ে জীবন কবিতায় নিরস বাক্যে বাক্যে
মনের আকাশে এক চিলতে আকাশ ছিল যা, তাও রঙহীন
জানালায় উঁকি দিত একফালি চাঁদ,সেও গেছে নির্বাসনে
আমার আকাশ ঢেকে যাচ্ছে সম্পর্কের অদৃশ্যের দেয়ালে চাপা পড়ে।

নিত্যই গড়ে উঠছে ইট পাথরের মনুষ্য ইমারত, শুধু আঁধার দেখি
ভোঁতা অনুভূতি'রা খেলা করে নির্নিমিখ আঁখি পল্লবে যেনো
বোবা দৃষ্টি শুধু দেখে যায় মুখে এঁটে নিরবতার তালা...
অগুছালোই থাকল আঁচলে জমানো রঙবেরঙের কথার ফুলগুলো,
এখানে অভিনয়ের বেসাতি, লেনদেন হয় মিথ্যের মুখোশ
রয়ে যায় অবিক্রিত, তেতোযুক্ত অমোঘ সত্য কথনগুলো।
অতঃপর আমার স্বপ্নগুলো অধরাই রয়ে গেলো।