যখন চারিদিক ডুবে ছিল সার্বভৌম অন্ধকারে,
তুমি হঠাৎ উদয় হলে এক বিন্দু আলো হয়ে,
তারপর দিগন্ত জুড়ে ক্রমশ বিকশিত হয়ে উঠলে ,
ভাববাদিতার অন্ধকারের ঘুম থেকে জেগে উঠলাম আমি পুরুষ,
আমি উত্তম পুরুষ , আমি মধ্যম পুরুষ , আমি অধম পুরুষ ।।

তুমি নারী , তুমি প্রকৃতি , তুমি প্রগতি ,
তোমার হৃদয়ের মাঝে লুকানো অনুভূতির বীজ ছড়িয়ে দিলে বিশ্বময় ,
হাসি কান্নায় ভরিয়ে তুললে চারিদিক ,
পৃথিবীর পান্থশালার সমস্ত পেয়ালা গুলো কানায় কানায় পূর্ণ করে দিলে আনন্দ বেদনায় ।।

সেই সুপ্রাচীন কোন আলোয় ভাসা দিনে
তোমার বিমূর্ত হাসির শব্দেরা জলের গানের মতো পরশ বুলিয়ে ছিল আমার অনুভূতির মেঘে মেঘে,
আমার শরীর জুড়ে আঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমেছিল , অতঃপর ;
তোমার মতো ভালোবাসা , প্রেম আর কামনারা পুষ্প পল্লবিত হলো আমার হৃদয়ে ,
কৃষ্ণ চূড়ার রঙে আকা এক উচ্ছ্বল গোধূলি বেলায় আমরা প্রথম শিহরিত হলাম ,
আমাদের দেহে গজিয়ে উঠলো লজ্জার শেওলারা ।।

কামনার বিদগ্ধ উত্তাপে হঠাৎ একদিন কম্পিত হলো মহাবিশ্ব,
অনন্ত নক্ষত্র পুঞ্জ আর অগণিত ছায়া পথ মাড়িয়ে ,
কসমিক ঢেউ আছড়ে পড়লো আমাদের গহীন শরীরে ,
অশান্ত সাগরের ফেনীল জলের মতো নিঃশ্বাস ঘন হয়ে উঠলো ,
প্রণয় নৃত্যে আমরা দ্রবীভূত হলাম মহাকালের বুনো উন্মাদনায় ,
অস্তিত্বের শিরদাঁড়া বেয়ে সুখের স্রোত মিশে গেলো আমাদের মাঝে বয়ে চলা অনন্ত আকাশ-গঙ্গায় ।।

সেদিনের সেই কামনার জ্বরে ফুলের কুড়ি থেকে যেন তুমি প্রকাশিত হলে
প্রস্ফুটিত পদ্মের ন্যায় ,
সেই থেকে তুমি অনিন্দ্য নারী হয়ে উঠলে রমণীয় , সেই থেকে তুমি রমণী ।
কত সহস্র প্রাগৈতিহাসিক বেদনার নীল মুছে যায় তোমার ফাগুন নিঃশ্বাসে ,
তোমার মোহময় ছায়া ছুয়ে আমি আজ ও হেটে চলি কোন নিঝুম বালু চরে,
তোমার রঙমহলের অবিরত উৎসবে আমি প্রতিদিন ই খুন হয়ে যায় ।।