লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ৮টি

সমন্বিত স্কোর

২.০৩

বিচারক স্কোরঃ ০ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০৩ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবর্ষা (আগস্ট ২০১১)

এমন দিনে তারে
বর্ষা

সংখ্যা

মোট ভোট ৪৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.০৩

গীতু

comment ৪৫  favorite ১  import_contacts ১,১০২
মুখটা কুচকে শক্তি দিয়ে আবার তাতে ব্যর্থ হলে বুদ্ধি দিয়ে খুব চেষ্টা করছে কিন্তু বিধিবাম। একে সাদা সুতি, তার উপর বৃষ্টি হাল সময়ের ছাতা খোলার নতুন ধরন সব মিলে যেন এক মহা শংকট সময় উপস্থিত তৃণার জীবনে। ঝলমলে আকাশ যে ঘর থেকে বেরিয়ে এমন দুর্যোগ সৃষ্টি করবে সে তা ভাবতেই পারেনি। ছাতার সাথে বৃষ্টির যেন অহি নকুল সম্পর্ক। এমন বৃষ্টির সাট যে এই বাড়ির ছোট বারান্দায় আশ্রয় নিয়েও নিজেকে ভেজা থেকে বাঁচাতে ছাতা খুলতে হচ্ছে। কিন্তু সেটা খুললে তো? পেছনে আসতে আসতে কখন যে বাড়ির দরজার সাথে ধাক্কা লেগে গেছে তা সে লক্ষ্যই করেনি। হঠাৎ করে পেছন থেকে কিছু যেন শূন্য হয়ে গেল আর তৃণা ধপ করে পেছনে পড়ে যায়। সাথে সাথে একটা ছেলের কণ্ঠ বলল-ঙয! ঝড়ৎৎু ঝড়ৎৎু. বাড়িয়ে দেয়া হাতটা চট করেই ঘোরের বসেই ধরে ফেলল। হ্যাচকা টানে কেউ একজন দাঁড় করাতেই মুখোমুখি সে দেখল কোন অচেনা ছেলে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তৃণাও তাকে দেখছে। ঘোর কাটতেই তৃণা দেখল ছেলেটার হাতে তার হাত এখনও আবদ্ধ। হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে এবার একটু ঠিকমত চারদিকে তাকাল। বসার ঘর আলো-অাঁধারির খেলা। ছেলেটি এবার বলল, আসলে দরজায় ধাক্কানোর মত মনে হওয়ায় আমি খুলে দিয়েছি। বুঝতে পারিনি আসলে আপনি বৃষ্টির জন্য আশ্রয় নিয়েছেন। যাই হোক বাহিরে যথেষ্ট বৃষ্টি আপনি বরং এখানেই বসুন। তৃণা একটু দ্বিধা বোধ করছে। ছেলেটি বলল, দেখুন আমি জানি আপনি কি ভাবছেন। কিন্তু এই সময় আপনার আমাক বিশ্বাস করা ছাড়া কোন উপায় নেই। আর আমি দরজা খোলাই রাখছি। আশা করি এতে আর আপত্তি থাকার কিছু নেই।
তৃণা একটু ছেলেটার দিকে ভাল করে তাকাল। লম্বায় হবে সাড়ে পাঁচ ফুট, একটু ফরসা, মাঝারি স্বাস্থ্য, চোখে চশমা পড়া । চেহারা ভদ্র আছে। তাই সবকিছু কি চেহারায় বোঝা যায়। যাই হোক তাও দরজা খোলা থাকায় সাহস করে সে তার কাছাকাছি সোফাটায় বসল। অনত্দত বদ মতলব দেখলে এখান থেকে ছুটে বাহির যাওয়া যাবে। ছেলেটিও সোফার অন্যপ্রানত্দে বসে বলল-আসলে বাড়িতে বিদু্যৎ নেই তাই আলো জ্বালাতে পারছিনা। তৃণা- না না ঠিক আছে। দুজনেই নিশ্চুপ! এরপর ছেলেটি বলল-আসলে খুব বোরিং লাগছে। বিদু্যৎ থাকলে এমন লাগত না। নিজের মোবাইলটা ড়ঢ়বহ করে সে গান চালাল। রবীন্দ্রসংগীত_
"এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘন ঘোর বরিষায়
এমন দিনে মন খোলা যায়।"
গানটা ড়ঢ়বহ করে সে চলে গেল ভেতরে।
কিছুক্ষণ পর দুই কাপ কফি নিয়ে ভেতরে ঢুকে বলল_'আসলে বাসায় কেউ নেই। এর চেয়ে বেশি আতিথিয়তা আমি করতে পারব না।' তৃণার মনে দ্বিধা নিয়ে কফিটার দিকে তাকাল। ওর ভ্রুটা একটু কুচকে আছে। তার দিক তাকিয়ে বলল_আপনি মনে হয় কফিটা নিয়ে খুব দ্বিধায় আছেন, খাবেন-কি খাবেন না। ঠিক আছে অসুবিধা নাই আপনি আমারটা নিন। কিন্তু তৃণা এক সিনেমায় দেখেছে এভাবেই ছেলেটি মেয়েটাকে যেটাতে নেশার ঔষধ মিশান ছিল সেইটা দিয়েছে। তাই সে এই ভরসা পাচ্ছে না। ছেলেটা এবার একটু হেসে বলল, ঠিক আছে সমস্যা নেই অপেক্ষা করেন। এবার ভেতর থেকে একটা পাত্র এনে তাতে দুই কফি মিশিয়ে দিল। ও তা দুই কাপে ভরে বলল_আশা করি এবার আপনি যা পান করবেন আমিও তাই পান করব।
তৃণা এবার ভরসা পেল। আর একটু বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় চা-কফি পেলে মন্দ হয় না। এবার কাপটা নিয়ে সে একটু চুমুক দিল।
ছেলেটি হঠাৎ জিজ্ঞেস করল_আচ্ছা কিছু মনে করবেন না আপনার কাছে একটা পরামর্শ চাই। আসলে কিছু বিষয়ে আমার ধারণা কম সেই জন্যেই মতামত চাইছি। _ঠিক আছে বলেন।
_আপনিতো আমায় দেখছেন। বলুন তো একটা বিশেষ অনুষ্ঠানে কেমন পোশাক পড়লে ভাল হয়। মানে কি রং-এর।
_ আপনার গায়ের রংটা উজ্জ্বল। আপনাকে...
_ থামুন। আমি কিছু রং বলি। সাদা, নীল, হাল্কা গোলাপী বা বেগুনি।
_ হাল্কা বেগুনি। কারণ, বাকিগুলো খুবই কমন। আর ঐ রং আপনাকে ভাল লাগবে।
_ঠিক আছে। ঘড়ির কেমন বেল্ট হবে। আমার সোনালি, রূপালি, কালো বেল্টের ঘড়ি আছে।
_ কালোটা ঠিক। আর কালো ফ্রেম চশমা ব্যস্। ও প্যান্ট আর জুতাও কালো হলে ভাল হয়।
_ ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
_ আজ কোথাও অনুষ্ঠান আছে নাকি?
_ না, আসলে আজ না অন্যদিন জানি না। কোন রুচিশীল মেয়ের পরামর্শ আগে থেকেই নিয়ে রাখলাম।
_ আপনি কি করে জানলেন আমি রুচিশীল?
_ বাহ্ আপনাকে দেখছি তো। পোশাক, কথা বলা এতেই।
_ ওহ্ ধন্যবাদ।
আবার দুজনে নিশ্চুপ। বাহিরের বৃষ্টি একটু যেন কমেছে। তবে বের হবার মত না।
দুজনেই একই সাথে বলে উঠে_আচ্ছা আপনি... হেসে ফেলে এক সাথে। তৃণা বলে ঠিক আছে আপনি বলুন। ছেলেটি বলে না না লেডিস ফাষ্ট।
_ সব ক্ষেত্রে কি এই মতবাদে বিশ্বাসী এই পুরুষ সমাজ? কিছুটা কটুক্তি করেই প্রশ্নটা করে তৃণা।

_ অনত্দত আমার কাছে তাই। সমধিকার যখন বলছেন। তখন সুবিধা নেয়া আর সাজে না ঠিকই। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া যায়।
_ আপনি কি ভাবেন সমধিকার দেয়া মানে একটি মেয়ের শারীরিক গঠন ছেলেদের চেয়ে দুর্বল সেটাকে উপেক্ষা করে দেখা?
_ আমিতো সেটা বলিনি। আমি বুঝতে পারছি আপনি কি বলতে চাইছেন। আজকাল বাস-ট্রেনে সমধিকার বলায় কেউ সিট দেয় না। এমন কি বরাদ্দ সিটে বসে থাকে। আসলে আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এত সুপ্রশস্থ না। সমধিকারের কথা বলে একটা মেয়েকে আমরা দাঁড়িয়ে রাখি। আর কিছু কিছু পুরুষ নামের কলঙ্ক এমন কিছু তার সাথে ব্যবহার করে যে দাঁড়িয়ে থাকার পরিস্থিতি রাখি না। আবার অফিসেও অনেক সময় অনেক ক্ষেত্রে একটা মেয়ে কলিগ অন্যদের সাহায্য পায় না। বাড়িতেও দেখা যায় তারা অনেক পরিশ্রম করে আসে, যা একটা ছেলের সেভাবে করতেও হয় না। আসলে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন শুধু একজন ছেলের হলেই হবে না। মেয়েদের বিশেষ করে সে ছেলে যে বাড়িতে বড় হচ্ছে সেই বাড়ির মাকেও পরিবর্তন করাতে হবে। কারণ, খেয়াল করে দেখবেন বেশির ভাগ ছেলে পরিবারে ছোটবেলা থেকেই প্রাধান্য পায়। পরে সেটাই তার অভ্যাসে পরিণত হয়। আর মেয়েদের সব সময় মা বলবে তুমি মেয়ে এটা কর ওটা শেখ। তাহলে যদি ধরি এর পেছনে মেয়েরাই দায়ী। কথায় আছে না_মেয়েরাই মেয়েদের বড় শত্রু।

_তৃণা সত্যি কোন উত্তর খুঁজে পায় না। আসলেই কথাটা ঠিক। তাহলে স্বীকার করছেন যে পরিবেশ তৈরি না করেই মানুষ সমধিকার বলে একটা পরিহাস সৃষ্টি করছে।
_এক ক্ষেত্রে তাই। আমি স্বীকার করি। তবে আমার পরিবার এমন নয়। বিশেষ করে আমার মা। একছেলে হলেও সে আমার বোনের মত সবই করিয়েছে।
_ ওহ। আপনি কি এখানে একা? বাড়িতে কেউ আছে বলে তো মনে হয় না।
_ না আছে তবে একটা বাড়িতে বেড়াতে গেছে। আমরা এখানে নতুন এসেছি। আগে...
হঠাৎ করেই বিদু্যৎ চলে আসল। আর ঘরের টিভিটা খোলা থাকায় এমন শব্দ হল যে তৃণা একটু চমকেই গেল। স্টার স্পোর্টস চলছে। দরজা দিয়ে বাহিরে দেখে বৃষ্টিও টিপ টিপ করে পড়ছে। আর অপেক্ষা নয়। উঠে দাঁড়িয়ে বলল_ আজ আসি। ধন্যবাদ কফি আর আশ্রয় দেবার জন্য।
ছেলেটি বলল ছি! ছি! আপনাকে ধন্যবাদ। আমায় এমনভাবে বিদু্যৎবিহীন বোরিং সময়ে সঙ্গ দেবার জন্য আর পরামর্শ দেবার জন্য।
_ আসি তবে।
তৃণা বাহিরে এসে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। কিছু দূর আসার পর মনে হল যাহ্ ছেলেটার নামটাই তো জানলাম না! ছেলেটাও তো আমার নাম জানতে চাইল না! নাম না জানা অপরিচিত অথচ ছেলেটার কথাগুলো বেশ ভাল লাগল তৃণার। ছেলেটা দেখতে ভাল।
অফিস থেকে আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরে আসল। বাড়িতে ঢুকতেই মা বেশ উচ্ছ্বাস ভরে বলল- এসে গেছিস। বেশ ভাল হলো। আজ এক অবাক কাণ্ড হয়েছে জানিস। ঔ যে তোর বাবা যখন ঢাকায় চাকরি করত তখন বিপ্লবদের কথা মনে আছে? আমাদের পাশের ফ্লাটে থাকত?
_ কে ঔ ছেলেটা যে আমায় শুধু খেপাত আর কি অতিষ্ট করত! এত চঞ্চল! বলত 'শোন্ তুই ভাল করে পড়াশুনা কর বড় হলে তোকে বিয়ে করব?'
_ হঁ্যারে ওর মা-বোন আজ এসেছিল। ভাইয়ের এখানে পোষ্টিং হয়েছে। তোর শফিক চাচা উনার কলিগ তার কাছে জানতে পেরেছে আমাদের কথা। ঠিকানাও নিয়েছে। আজ চমকে দিল। বিপ্লব এখনতো ইঞ্জিনিয়ার। একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। শোন্ আমি না আজ একটা কথা দিয়ে ফেলেছি তোকে না জানিয়েই।
মার মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তৃণা বলল_নিশ্চয় বিপ্লবের সাথে আমার দেখা করতে হবে?
_ দেখ রাগ করিস না। এত করে বলল এই ফাস্ট ফুড-এর দোকানে। একটু দেখা কর না। আমরা তো জানি ওদের। বন্ধু হিসেবেই করবি। ওর নম্বর দিয়েছে। তুই কল করলেই হবে। এখন এখানেই আছে। সামনের শনিবার ঢাকা যাবে।
তৃণার একটু মেজাজ খারাপ হলো। হুট্ করে এই দেখাদেখি বিষয়টা। সে ঠিকই বুঝেছে তারা কেন দেখাদেখি করতে বলছে। সে কোন উত্তর না দিয়ে ঘরে চলে গেল।
বিকালে কি মনে করে ঐ নম্বরে মোবাইল করল তৃণা। ওপার থেকে আওয়াজ আসল হঁ্যালো... চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই ছোটবেলার দুষ্টুমিগুলো...
ফাস্ট ফুডের দোকানের দরজাটা খুলে দাঁড়ালো তৃণা। চারদিকে চোখ বুলাতেই একটি টেবিলে চোখ পড়তেই আটকে গেল চোখ। মনের মধ্যে যেন হঠাৎ ধক্ করে উঠল। পেছন থেকে দেখতে পাচ্ছে ছেলেটি কে। হাঁটতে হাঁটতে তার দিকে এগুতে লাগল তৃণা। বেগুনি শার্ট, কালো প্যান্ট। পেছনে দাঁড়িয়ে হাতটা দেখল-কালো ব্যান্ড ঘড়ি। এবার তৃণা দাঁড়ালো তার সামনে। ছেলেটি মাথা নিচু করে মেনু পড়ছিল। সামনের দিকে তাকিয়ে যেন ভূত দেখার মত চমকে বলল_তৃণা? তৃণা হেসে বলল_এই তোমার বিশেষ অনুষ্ঠান?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement