শেষ আকাশের নিচে

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ (মে ২০২৬)

শাহীন আল মামুন
  • 0
  • ৮২
সকালটা অদ্ভুত নীরবতায় ভরা ছিল। পাখিরা ডাকছিল ঠিকই, কিন্তু সেই ডাকের ভেতরে যেন কোনো অচেনা শঙ্কা লুকিয়ে ছিল। শহরের মানুষ তখনও জানত না—সেই দিনটিই ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

রাহাত বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিল। নীল আকাশে ভেসে থাকা মেঘগুলোকে তার আজ খুব দূরের মনে হচ্ছিল। হঠাৎ মোবাইলের পর্দা কেঁপে উঠল। সংবাদ ভেসে উঠল—
“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে।”

প্রথমে সে বিশ্বাস করতে পারল না। যুদ্ধ—এই শব্দটা এতদিন তার কাছে ছিল বইয়ের পাতা আর ইতিহাসের গল্পে। কিন্তু আজ, সেটাই যেন তার দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে।

রাস্তায় হঠাৎ চিৎকার শুরু হলো। মানুষ ছুটছে, দোকানপাট বন্ধ হচ্ছে, কেউ খাবার মজুত করছে, কেউ প্রিয়জনকে খুঁজে ফিরছে। শহরের স্বাভাবিক ছন্দ মুহূর্তেই ভেঙে পড়ল।

রাহাতের মা ভেতর থেকে ডাকলেন,
“কি হয়েছে, বাবা?”
রাহাত ধীরে বলল, “মা… যুদ্ধ শুরু হয়েছে।”

মায়ের চোখে এক মুহূর্তের জন্য ভয় দেখা গেল, কিন্তু তিনি দ্রুত নিজেকে সামলে নিলেন। বললেন, “যুদ্ধ শুধু বন্দুক দিয়ে হয় না, মন দিয়েও লড়তে হয়।”

দিন গড়াতে লাগল। শহরে বিদ্যুৎ কমে গেল, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করল। আকাশে মাঝে মাঝে অচেনা শব্দ শোনা যেত—কেউ নিশ্চিত জানত না সেটি কী। মানুষ এখন আর খবরের ওপর নির্ভর করতে পারছিল না; গুজবই যেন সত্য হয়ে উঠছিল।

এই অস্থিরতার মধ্যেই রাহাত একটা সিদ্ধান্ত নিল। সে তার পুরোনো ডায়েরিটা বের করল। যুদ্ধের প্রতিটি দিন, প্রতিটি অনুভূতি সে লিখে রাখবে। যদি ভবিষ্যতে কেউ জানতে চায়—এই সময়টা কেমন ছিল, তাহলে যেন তারা শুধু সংখ্যা না দেখে, মানুষের হৃদয়ের গল্পও বুঝতে পারে।

একদিন সন্ধ্যায়, যখন আকাশে সূর্যটা লাল হয়ে ডুবে যাচ্ছিল, রাহাত লিখছিল—
“যুদ্ধ মানে শুধু ধ্বংস নয়, মানুষের ভেতরের ভয় আর আশার লড়াইও।”

ঠিক তখনই তার ছোট বোন এসে পাশে বসলো। সে জিজ্ঞেস করল,
“ভাইয়া, যুদ্ধ কবে শেষ হবে?”
রাহাত কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর মৃদু হেসে বলল,
“যেদিন মানুষ আবার মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখবে।”

দিনের পর দিন কেটে গেল। শহর বদলে গেল, মানুষ বদলে গেল। কিন্তু রাহাতের ডায়েরির পাতাগুলো ভরে উঠল গল্পে—ভয়, সাহস, হারানো, আর আশার গল্পে।

অনেক বছর পর, যুদ্ধ থেমে গেল। পৃথিবী আবার ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে ফিরতে শুরু করল। কিন্তু সেই ডায়েরি থেকে গেল—একটি সময়ের সাক্ষী হয়ে।

শেষ পাতায় রাহাত লিখেছিল—
“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু একটা জিনিস শিখিয়েছে—শান্তি কখনো স্বাভাবিক নয়, তাকে রক্ষা করতে হয় প্রতিদিন।”

আকাশ তখন আবার নীল। পাখিরা ডাকছে।
কিন্তু যারা সেই সময়টা দেখেছে, তারা জানে—এই নীল আকাশের মূল্য কতটা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
শাহীন আল মামুন আমার লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে জেনে আমি বেশ খুশি হলাম। আপনারা ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সেই সাথে আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ফয়জুল মহী চমৎকার লিখেছেন প্রিয়। মুগ্ধ

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

গল্পটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাহাত নামের একজন যুবকের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। হঠাৎ শহরে যুদ্ধ শুরু হয়, মানুষের জীবন অচেনা ভয় ও অস্থিরতায় ভরে ওঠে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ আতঙ্কে পড়লেও কিছুই বোঝে না। রাহাত তার ডায়েরিতে প্রতিটি অনুভূতি লিখতে শুরু করে—ভয়, আশা, এবং মানুষের সাহস। যুদ্ধের মধ্যেও তিনি শিখেন, সত্যিকারের লড়াই শুধু অস্ত্রের নয়, মানুষের মন ও বিশ্বাসের। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পৃথিবী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে, কিন্তু রাহাতের ডায়েরি থেকে যায় সেই সময়ের সাক্ষী এবং শান্তির মূল্য সম্পর্কে শিক্ষা।

১২ মার্চ - ২০২৬ গল্প/কবিতা: ৩ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাবা”
কবিতার বিষয় "বাবা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে,২০২৬