কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি নিজেও জানিনা, উদ্দেশ্য ছিল একটা বই পড়ার, এটা সুন্দর একটা ঘুমপাড়ানি গান কি না সেটা আমার জানা নেই কিন্তু একটা ওপেন সিক্রেট তো বটেই। ঘুমের সাথে বই পড়ার একটা গোপন সূত্র আছে।
আমি যে খুব ঘনঘন স্বপ্ন দেখি এমন কিন্তু না, কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে যেন জেগে স্বপ্ন দেখছি। একটিকে আমি টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছি অন্যদিকে আমি বারান্দায় বসে ফোন ঘাটছি, চোখদুটো কেমন যেন কালো কালো অর্থাৎ চোখের জায়গায় একটা গর্ত, আর চোখ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ে শুকিয়ে গেছে, আমি অনুভব করতে পারছি যে এটা ফাল্গুন মাস, আকাশে কোথাও কোনো মেঘ নেই, অথচ কি আশ্চর্য বিষয় যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, ঝড়ো হাওয়া এলোমেলো করে দেয় আমার চুল। আমি আমার দিকে তাকিয়ে থাকি, এই কি আমি তাহলে বসে আছি কেন? কেমন যেন জড়তা শরীর জুড়ে, স্বাধীন বাতাসে পর্দাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়। কিন্তু আমার দিকে আমি এগিয়ে আসি। দেখো তোমার অতিরিক্ত স্বাধীনতার জন্য আজ আমার এই অবস্থা। তুমি তো সুযোগ পেলেই ফোন আর ফোন, নিজের কি অবস্থা করেছ তা কখনো ভেবেও দেখোনি, এখনতো আমি অন্ধ, আমাকে আমার চোখদুটো ফিরিয়ে দাও। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা আমি হঠাৎই নড়েচড়ে উঠি।
ওহ্, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তাহলে। কি সুন্দর অথচ ভয়ঙ্কর একটা স্বাধীনতা নেমে এসেছে আমার সময়গুলোতে। এখনতো পড়ালেখা মানেই হাতে একটা ফোন। এটা কেমন স্বাধীনতা? সময় বাঁচানোর এক অদৃশ্য খেয়ালে আধুনিকতায় হারানো এক পরাধীন সত্তা আমায় একটু যেন নাড়া দিয়ে যায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
সবসময় আমরা যেটাকে স্বাধীনতা মনে করি তা কি আসলেই স্বাধীনতা না কি পরাধীনতার এক নতুন সূত্র?
০৩ ফেব্রুয়ারী - ২০২৬
গল্প/কবিতা:
২ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।