লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৪০টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftইচ্ছা (জুলাই ২০১৩)

অপূর্ণ ইচ্ছা
ইচ্ছা

সংখ্যা

আনিসুর রহমান মানিক

comment ৯  favorite ১  import_contacts ১,০৮৩
সাহিত্য¶েত্রে অবদানের ¯^ীকৃতি¯^রূপ অত্যš— সম্মানসুচক ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান চলছে। উপস্থাপক ঘোষনা দেয়ার জন্য মাইকের কাছে এলেন।ভরাট কন্ঠে তিনি বললেন ,’রোদেলা ঝড়” গল্পগ্রন্থের জন্য অকাল প্রয়াত লেখক রাজু আহমেদ শাš— মরনোত্তর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।তাঁর প¶ থেকে তাঁর বন্ধু মেহেরা কিছু বলবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।তাকে তার বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রন জানাচ্ছি।
মেহেরা বলতে শুর“ করে, আসসালামু আলাইকুম।আমি আজ আমার বন্ধুর প¶ে পুরস্কার গ্রহনের জন্য আসিনি। আমি কিছু কথা বলতে চাই।অনুগ্রহ করে আমার বক্তব্য শুনবেন। ”রোদেলা ঝড়” আমার বন্ধু রাজু আহমেদ শাš—র দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ। সেটি খুব সহজেই প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ”ইচ্ছে হলে কাঁদব” প্রকাশের ইতিহাসটা অনেকেরই অজানা। আমি আজ সেই গল্পটি বলতে চাই।
গ্রামের দরিদ্র এক পরিবারের সš—ান শাš—। মা বাবার বড় আদরের। বাবা কৃষিকাজ করেন। নিজের কিছু জমির সাথে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। কিন্তু তার অনেক ¯^প্ন আছে। তার ¯^প্ন ছেলে লেখাপড়া করে মানুষ হবে ।বড় অফিসার হবে। শাš— পড়াশোনায় খারাপ তা বলা যাবে না।কিন্তু তার শখ বিভিন্ন রকমের বই পড়া, একটু আধটু গল্প কবিতা লেখা। স্কুলের পড়ার চেয়ে তার লিখতেই ভালো লাগত।অনেক সময় পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে চুপিসারে লিখতো।
- হয়েছে, ছেলে লেখক হবে। লেখালেখি কইরা কি হইবো? সংসারের অভার দূর হইবো? পড়ালেখা করতে কও। অফিসার হইতে হইবো।ওরে গল্প লেখালেখি বাদ দিতে কও। শাš—র মাকে তার বাবা বলে।
কষ্ট পেলেও, মনে দুঃখ পেলেও লেখালেখি ছাড়ে না কিশোর শাš—। গোপনে লুকিয়ে লুকিয়ে খাতার মধ্যে গল্প লেখে, কবিতা লেখে।তার ¯^প্ন,সে একদিন বড় লেখক হবে। তার লেখা পড়ে মানুষ প্রশংসা করবে। সেদিন তার বাবা মাও খুশী হবে। তাকে নিয়ে গর্ব করবে।
তার ইচ্ছা সে বড় হয়ে ঢাকা শহরে ভার্সিটিতে পড়বে। ঢাকায় অনেক বড় বড় লেখক থাকে।প্রকাশকরা থাকে।সেখানে বই প্রকাশ হয়। তারও ইচ্ছা তার লেখা বই বের“বে।
দিন যেতে থাকে। সে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে গ্রামের কলেজে ভর্তি হয়। এরপর ¯^প্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।্তার মনের লুকোনো বাসনা প্রকাশ হতে চায়। বন্ধুরা কেউ তাচ্ছিল্য করে।কেউবা উপহাস করে। তার লেখা পড়াতো দূরের কথা। বিদ্রƒপ করে বলে, ওরে আমার রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, হুমায়ূন আহমেদ, এবার একুশে বইমেলায় ক”টা বই বের“চ্ছে?সহপাঠিদের আচরনে সে কষ্ট পায়। তবু সে আপনমনে লিখে চলে। এরই মধ্যে মেহেরার সাথে বন্ধুত্ব হয়। মেহেরা তাকে বুঝবার চেষ্টা করে।তার লেখক হবার অদম্য ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করে। তার লেখা পড়ে।পছন্দ অপছন্দের কথা, ভালো লাগা মন্দ লাগার জায়গাগুলো ধরিয়ে দেয়।
শাš—র লেখাগুলো অনেক ভালো লাগে মেহেরার। শাš—র লেখা এসব গল্প শুনে অনেকে পছন্দ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেরই প্রশংসা পায়।
কিন্তু তার ¯^প্ন। শাš—র ইচ্ছা বই প্রকাশের।বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় ঘুরতে থাকে। তারা পান্ডুলিপি দেখাতো দূরের কথা ভালোভাবেই কথা বলতে চায়না।
কেউ কেউ আড়চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, আপনার কি লেখক সমাজে কোন পরিচিতি আছে?
কখনো কোনো পত্রিকায় লেখা ছাপিয়েছেন?
আপনি কি প্রকাশের খরচ বহন করতে পারবেন?


না জবাব পেয়ে প্রকাশকরা তাকে ফিরিয়ে দেন। অনেক প্রকাশকেরই বক্তব্য এখন অনেক লেখকই দু”একটা লেখা লিখেই লেখক হয়ে যান।তারপর এসব লেখকরাই নিজেরাই টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করেন।
আপনিতো কিছুই করতে পারবেন না। অযথা কালি কাগজ খরচ করে লেখালেখি করেই বা লাভ কি?পারলে টাকা খরচ করে বই প্রকাশ কর“ন। অনেকেইতো করছে।
হ্যা করছে ,কিন্তু দয়া করে যদি পান্ডুলিপিটা পড়ে দেখতেন।
ওসব দেখার সময় নেই। সামনে বইমেলা। শয়ে শয়ে বই বের“বে। এখন আমাদের ফুরসত নেই। আপনি আসুন।

শাš—র ইচ্ছে মরে যায়। কিন্তু সে দমবার পাত্র নয়। তার বিশ্বাস নিশ্চয়ই এমন কোন প্রকাশক পাবে যিনি তার লেখার মূল্যায়ন করবেন।অš—তঃ পান্ডুলিপিটা নিয়ে পড়বেন।
শাš—র আগ্রহ দেখে বন্ধুরা এগিয়ে আসে। তারা বলে আমরা টাকা যোগাড় করে তোর বই বের করবো। তারা টাকা যোগাড়ে নেমে পড়ে।
কিন্তু হঠাৎই এক ঝড় তাদের সব উদ্যোগ ভে¯ে— দিয়ে যায়। শাš—র ব্রেন টিউমার! ক”দিনের অসুস্থতায় পরী¶া নিরী¶া শেষে জানা যায় তার ব্রেনে টিউমার রয়েছে।দ্র“তই অপারেশন প্রয়োজন।অনেক টাকা লাগবে।
জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে শাš—। বেঁচে থাকার ইচ্ছে জাগে না। শাš—র একাš— ইচ্ছে তার লেখার মূল্যায়ন। পাঠক যেন তার লেখা পড়তে পারে। অš—ত প¶ে যদি একটি বই প্রকাশ সে দেখে যেতে পারতো।
কিন্তু তার বন্ধুদের ইচ্ছাটা ভিন্ন।শাš—কে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে।কিন্তু এত টাকা! কেমনে যোগাড় হবে?উদ্যোম হারায় না তারা। অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলে।
শাš— ওদের বলে, তোরা আমার একটা শেষ ইচ্ছা রাখবি?
কি বল?
তোরা আমার একটা বই বের করে দে।আমি মরার আগে যেন বইটা দেখে যেতে পারি।
গুর“তর অসুস্থ হয়ে পড়েছে শাš—। আর মাত্র দুই কি তিন দিন। বই প্রকাশ হতে শুধু এটুকু সময়। বন্ধুরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানায় যেন তাদের লেখক বন্ধু শাš— বইটি দেখে যেতে পারে। শুধু সেটুকু পর্যš— হলেও তাকে বাঁচিয়ে রাখো,তার আগে নিয়ে যেও না।
বইটি নিয়ে যখন মেহেরা আর তার বন্ধুরা শাš—র কাছে পৌঁছালো তখন সে শুধু একটু চোখ মেলে বইটি দেখেছিল। তার দু”চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল। তারপর সেই যে চোখ বুজলো তা আর খুললো না। চিরদিনের মতো দুনিয়া থেকে চলে গেলো।
আর নিজেকে সংবরন করতে পারলো না মেহেরা। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো এখন আপনারাই বলুন মৃত্যুর পরে কি হবে তাকে সম্মানিত করে। যে মানুষটি আর দুনিয়াতে নেই তাকে পুরস্কার দিয়ে কি লাভ। মরনোত্তর পুরস্কারের নামে কেনইবা উপহাস।
পুরো হল জুড়ে নীরবতা।কারো কারো চোখে জল।
চোখ মুছতে মুছতে বলে মেহেরা, শাš—র বাবামা, তাদের জানিয়েছিলাম তাদের ছেলেকে পুরস্কৃত করা হবে। তাদের নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। তারা আসেননি।তারা বলেছেন, যেখানে তাদের ছেলে নেই সেখানে পুরস্কার দিয়ে কি হবে।
তার ছেলে তাদের ¯^প্ন দেখিয়েছিলো তার লেখা একদিন সবাই প্রশংসা করবে। শাš—র ইচ্ছা ছিলো তার বই বের“বে।পাঠক পড়বে। বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়োবে।এখন হয়তো তার অনেক বই বের“বে। প্রচুর প্রশংসা কুড়োবে। পাঠক কাটতি হবে।তার লেখাগুলো সংগ্রহের চেষ্টা চলবে।বড় বড় প্রকাশকরা এগিয়ে আসবেন।মৃত্যুর উপর কারো হাত নেই। কিন্তু যদি আরো আগে তার লেখা প্রকাশ হতো---, পাঠক উপকৃত হতো,দেশ সম্মানিত হতো।আজ হয়তো অনেকেই বলবেন তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রতিশ্রূতিশীল, প্রতিভাবান অনেক বিশেষনে বিশেষায়িত করবেন। এরূপ লেখককে হারিয়ে জাতির অপূরনীয় ¶তি হল।
র“মাল দিয়ে চোখ মুছে নিয়ে মেহেরা বলে, বক্তব্যের শুর“তেই বলেছি, আমি আমার মৃত বন্ধুর প¶ে পুরস্কার নিতে আসিনি। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে আমার কথাগুলো শুনেছেন বলে। আর একটা অনুরোধ, মানুষ বেঁচে থাকতে তাঁর ইচ্ছাকে, তাঁর মেধাকে মূল্যায়ন কর“ন। মরনোত্তর পুরস্কার প্রদানে গর্বিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ।
দ্র“ত মঞ্চ থেকে নেমে বাইরে বেরিয়ে আসে মেহেরা। আজ তার অনেক হালকা লাগছে। ক”দিন থেকে মৃত বন্ধুর জন্য কষ্টের যে ভারটা মাথার মধ্যে ছিলো তা যেন আজ অনেকটাই হাল্কা হয়ে গেলো। সে ফুটপাত ধরে হাঁটতে থাকে। একটু একটু করে বৃষ্টি পড়তে শুর“ করে। তার ইচ্ছে করে শাš—র হাতটি ধরে বৃষ্টিতে ভিজতে। তার সে ইচ্ছে পুরন হয় না,পূরণ হবারও নয়। অপূর্ণ সে ইচ্ছার হাত ধরে সে এগোতে থাকে অজানা গš—ব্যের দিকে।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • পাঁচ হাজার
    পাঁচ হাজার মাঝে মাঝে মনে হয় এ যে স্বীকৃতি দেয়া অথচ যার কাজ সেই নেই, লাভ কি তাতে! জটিল একটা বিষয়ের অবতারনা ভালো লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ১ জুলাই, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় ভাল লেগেছে গল্পটি--লেখকদের বাস্তবিক জীবনের এই তো ঘটনা--বিশেষ করে নতুন লেখকদের ক্ষেত্রে।সুন্দর কাহিনী।ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ৩ জুলাই, ২০১৩
  • Tumpa Broken Angel
    Tumpa Broken Angel কিছু মানুষ হয়ত অতৃপ্তি নিয়েই মরে যায়! গল্পটা ছুঁয়ে গেলো। ভালো থাকবেন।
    প্রত্যুত্তর . ৭ জুলাই, ২০১৩
  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না গল্পটা ভাল লাগল আনিস ভাই। একটা খটকা থেকে গেল। প্রথম বই প্রকাশের পরপর রাজু মারা যায়। তারপর তার দ্বিতীয় বই কীভাবে প্রকাশ হয় সে বিষয়ে কোন ইংগিত পেলাম না।
    প্রত্যুত্তর . ৯ জুলাই, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক একজন লেকখের কষ্টের গাথা মালা....অতি বাস্তব দৃশ্যপট....খুব ভালো লাগলো...অনেক শুভ কামনা.....
    প্রত্যুত্তর . ১৩ জুলাই, ২০১৩
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ লেখকের করুণ বাস্তবতা.........
    প্রত্যুত্তর . ১৪ জুলাই, ২০১৩
  • স্বাধীন
    স্বাধীন যোগ্য মানুষের যোগ্যতম সময়ে যদি মূল্যায়ন না হয়, তার অনুপস্থিতিতে সে মূল্যায়ন আমার কাছে মনে হয় মশকরা। সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে দারুন লিখেছেন।
    প্রত্যুত্তর . ২১ জুলাই, ২০১৩
  • সূর্য
    সূর্য "....একটা অনুরোধ, মানুষ বেঁচে থাকতে তাঁর ইচ্ছাকে, তাঁর মেধাকে মূল্যায়ন করুন" এই কথাটাই গল্পের প্রাণ। আমরা সবাই জানি বুঝি অথচ এই সহজ "কাজ"টাই করা হয়ে ওঠে না। ভালো লাগা রইল
    প্রত্যুত্তর . ২৭ জুলাই, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ লেখদের স্বীকৃতি না পাওয়াটা আসলেই যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভালো লাগলো গল্পটি।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ জুলাই, ২০১৩

advertisement