লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৪০টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঅন্ধকার (জুন ২০১৩)

আলোতে ফিরে আসা
অন্ধকার

সংখ্যা

আনিসুর রহমান মানিক

comment ৬  favorite ০  import_contacts ১,০৩৮
আপনি আস্তে আস্তে চোখ খুলুন।
ধীরে ধীরে চোখ খুলবার চেষ্টা করে সূচি। প্রথমবার চোখ মেলেই দিনের তীব্র আলোতে চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। পরক্ষনেই আবার চোখ খোলে।
খুশীতে চিৎকার করে বলে ওঠে সে, আমি সব দেখতে পাচ্ছি। সব, সবই..
হঠাৎই থেমে যায় সে ।চোখ বেয়ে তার জল গড়িয়ে পড়ে।হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সে।
ডাক্তার সূচির হাত ধরে বলে , আপনি শান্ত হোন। আপনি কাঁদবেন না। চোখ নষ্ট হয়ে যাবে।
সূচির বুক ফেটে আসতে নেয়।ক্ষণিকের পরিচয়ে তার জীবনটা বদলে দেয়া অচেনা সেই মানুষটিকে দেখতে না পাওয়ার বেদনা তাকে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।সেতো আজ নেই।
মা এগিয়ে আসে।সূচির মাথায় হাত রেখে বলে চুপ কর মা।আল্লাহর কাছে দোয়া কর।
মাকে জড়িয়ে ধরে সে কাঁদতে থাকে।
বেশ কিছুক্ষণ পর শান্ত হয় সে।
ডাক্তার,পরিবারের সদস্য সবাই খুশী হয়।সূচি দেখতে পাচ্ছে।সূচির নিজেরও ভালো লাগে। সুন্দর এই পৃথিবীটাকে আবার দেখতে ফিরে পেয়ে।নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় অসুখে চোখ দুটো নষ্ট হয়ে যাবার পর ভেবেছিল হয়তো আর কোনদিন সে দেখতে পারবে না কিন্তু আজ তার জীবনটা আবার আলোয় ভরে উঠেছে। এতকিছুর পরও মনের গহীনে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করে সে।অদেখা অজানা মানুষটিকে দেখার বাসনা জাগে।
আচ্ছা কেমন দেখতে ছিলো ছেলেটা? হ্যান্ডসাম,রুক্ষ,নাকি মায়াভরা কোন চেহারা।মনের কল্পনায় সে রাহুলের যে ছবি এঁকেছিল তা ঠিক হ্যান্ডসাম নয় তবে তার চেহারায় একটা মায়াজড়ানো ভালোলাগা ছিল।

সেদিন আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়েছিল।মা উঠোন পেরিয়ে রান্নাঘরে রান্না করছেন।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয় হয়।ঠিক এমন সময় খোলা গেট দিয়ে ঘরে এসে ঢোকে অপরিচিত একটি ছেলে।২৪-২৫বছরের হবে হয়তো।
ঘরে কারো ঢোকার শব্দ শুনেই চমকে সূচি বলে ওঠে,কে, কে ওখানে?
আমাকে একটু আশ্রয় দিন। আমার খুব বিপদ।
অপরিচিত পুরুষের কণ্ঠ শুনে সূচি ভয় পেয়ে বলে ওঠে আপনি কে?কেন আশ্রয় চাচ্ছেন?
ছেলেটি সে কথার জবাব না দিয়ে পাশের ঘরে চলে যায়।গিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়।সূচি বলতে থাকে,এইয়ে আপনি কোথায়? কই গেলেন?
অবাক হয়ে যায় রাহুল,আশ্চর্য মেয়েটির সামনে দিয়ে এলাম অথচ মেয়েটি দেখলনা।কিন্তু মেয়েটি তো চোখ মেলে তাকিয়ে ছিল।তবে কি মেয়েটি অন্ধ?
আস্তে করে দরজা খুলে সূচির কাছে ফিরে এসে রাহুল বলে,আপনি কি আমাকে দেখতে পাননি?
সূচি সে কথার জবাব না দিয়ে বলে, আচ্ছা আপনিতো বড় খারাপ মানুষ। চেনা নাই ,জানা নাই অপরিচিত এক মানুষের বাড়িতে এসে ঢুকলেন ।
ছেলেটি বলে, বলেছি না আমার বড় বিপদ।আমাকে পুলিশ তাড়া করেছে।আমাকে একটু থাকতে দিন।আমি রাত্রি হলেই চলে যাবো।
রান্নাঘর থেকে মা বলে উঠেন কিরে মা,কার সাথে কথা বলছিস?
সূচি কিছু বলতে যাবে এমন সময় ছেলেটি তার মুখটি চেপে ধরে বলে, আমার কথা বললে দুজনেরই ক্ষতি হবে। এমনকি দুজনেই মারা পড়তে পারেন।
কিরে কি হলো কিছু বলছিস না যে।কে এলো?
ছেলেটি আস্তে করে সূচির মুখ হতে হাতটা সরায়।
সূচি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলে কেউ না মা।

এবার নিশ্চিত হয় ছেলেটি, আসলেই মেয়েটি অন্ধ।দেখতে পাচ্ছেনা।
ঠিক আছে আপনি পাশের ঘরটায় গিয়ে থাকুন।রাত্রি হলেই যেন চলে যান।সূচি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।তারপর একটু থেমে বলে, আমাদের কোন ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন না।
সত্যি বলছি কোন ক্ষতি করবো না।আমাকে শুধু এই আশ্রয়টুকু দিন। অনেক ধন্যবাদ।
পাশের ঘরে গিয়ে ঢোকে ছেলেটি।নিজেকেই প্রশ্ন করে, কিরে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ রাহুল ভদ্র ছেলে হয়ে গেলি যে! সৌজন্যতা ভদ্রতার ক্ষেত্রে কোন কিছুরই কমতি রাখছিস না।১৯-২০ বছর বয়সী সুন্দরী মেয়ে দেখে ভালো হয়ে গেলি নাকি।
কি জানি হবে হয়তো!নিজেই জবাব দেয় সে।
কোন মানুষই না ভদ্র ভালো জীবন চায়। তারও কি ইচ্ছে হয়না ভালোভাবে বেঁচে থাকবার।হ্যাঁ চায়।তার চাওয়া অনেক আগেই মরে গেছে।সন্ত্রাসী হয়ে উঠে সন্ত্রাসীদের তালিকায় যেদিন নাম উঠে গেছে তখন শুধু সে কেন, কোন সন্ত্রাসী মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারেনা।অমানুষ হয়ে যায়।
কি ভাবছে এসব সে? তারতো এখন পালানোর পথ খুঁজতে হবে।তাকে পুলিশ তাড়া করেছে।
সন্ধ্যা থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।সূচি চিন্তায় পড়ে যায়। মা টের পেয়ে যাবে। সন্ত্রাসী ছেলেটা যে কোন কিছু ঘটাতে পারে। তার কাছে পিস্তলও থাকতে পারে।মাকে কি বলবে ছেলেটার কথা?
তোকে অমন দেখাচ্ছে কেন?মা সূচির দিকে তাকিয়ে বলে।
চমকে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে সূচি, কই নাতো!তারপর একটু থেমে বলে,
আচ্ছা মা রাত হয়েছে কি?
হ্যাঁ এইতো কিছুক্ষণ আগে এশার আযান হলো। কেন হঠাৎ রাত হয়েছে কিনা জানতে চাইলি?
এমনি মা। আমার কাছেতো দিনও যা, রাতও তা।পুরোটাই অন্ধকার।
চুপ কর মা। ওভাবে বলিস না। তুই আবার ঠিকই দেখতে পাবি। তোর ভাই জুন্নুন বিদেশ থেকে ফিরলে দেখিস ঠিকই তোর চোখ যোগাড় করে ফেলবে।

ভিতর ঘর হতে সব শুনতে থাকে রাহুল।তবে মেয়েটি জন্মান্ধ নয়।সে চোখ পেলে দেখতে পাবে। কত মানুষকে রাহুল পিটিয়ে আহত করেছে, গুলী করেছে।অথচ মেয়েটির কষ্ট দেকে তার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠছে।মেয়েটি সুন্দরী বলে কি? নাকি তাকে আশ্রয় দিয়েছে এইজন্য। তার এখান থেকে যেতে আর মন চাইছে না। ইচ্ছে হচ্ছে একদিন, দুদিন, যতদিন খুশী এখানে যদি থাকতে পারতো।
সূচি ভাবে ছেলেটি কখন যাবে। যেভাবে বৃষ্টি পড়ছে ওতো যাবে কেমনে?

মা বলেন নামায পড়ে নিয়ে খেয়ে দেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বো।
ঠিক আছে।
মা নামায পড়তে নিজের ঘরে যান।
সূচি হাতরাতে হাতরাতে ভাইয়ের ঘরে ঢোকে।
ফিসফিসিয়ে বলে, এই যে শুনছেন আপনি কোথায়।
অন্ধকার যে লাইটটা জ্বালিয়ে দিন। রাহুল আস্তে করে জবাব দেয়।
ও সরি। আমারই ভুল হয়েছে।আসলে আমিতো আলো অন্ধকার বুঝতে পারিনা।আমার কাছে সবইতো অন্ধকার।
সরি আপনি কষ্ট পাবেন জানলে বলতাম না।
না ঠিক আছে। তবে রাততো হয়েছে। এবার আপনি চলে যান।
এই বৃষ্টির মধ্যে আমাকে চলে যেতে বলছেন।
তা নয়তো কি?আপনি একজন সন্ত্রাসী,আপনি অন্ধকার জগতের মানুষ। আমাদের উচিত আপনাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া। নিশ্চয়ই অপরাধীকে আশ্রয় দেয়া সুনাগরিকের কর্তব্য নয়।


কিরে কে এসেছে? কার সাথে কথা বলছিস?বলতে বলতে সূচির মা চলে আসে তাদের ঘরে।লাইটটা জ্বালিয়ে দিতেই চমকে ওঠে সে।
কে তুমি? ভয়ে সূচিকে জড়িয়ে ধরে বলে ওঠে, কিভাবে বাসায় ঢুকলে।
রাহুল বলে আপনি ভয় পাবেন না। আপনাদের কোন ক্ষতি হবেনা।আমি রাত্রি শেষেই ভোরের আলো ফোটার আগেই চলে যাবো।
কিন্তু কে তুমি? কেনইবা এসেছো এখানে?
আমি রাহুল, আমি বেশ বিপদে পড়েছি।আপনার সন্তান যদি বিপদে পড়তো ওকে কি আপনি এই বৃষ্টির মধ্যে তাড়িয়ে দিতে পারতেন।
আমি অতসব বুঝিনা তুমি চলে যাও এখন।
থাক না মা। এই বৃষ্টির মধ্যে উনি কিভাবে যাবেন কোথায় যাবেন। উনিতো বলেছেনই ভোরের আগেই চলে যাবেন।
কিন্তু তাই বলে,চেনা নেই জানা নেই এরকম একটা অপরিচিত ছেলেকে থাকতে দেয়া..
থাক না ভাইয়ার ঘরে।তবে, কিন্তু ভোর হওয়ার আগেই চলে যাবেন।
কিন্তু কেন তুমি এখানে লুকিয়েছো? কি বিপদের কথা বলছিলে..সূচির মা জানতে চায়।
আমাকে পুলিশ তাড়া করেছে।
তার মানে তুমি সন্ত্রাসী। আতঙ্কে সূচির হাতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে ওঠে মা,তুমি চলে যাও বাবা। আমি আর আমার অন্ধ মেয়ের ক্ষতি করোনা। তুমি চলে যাও..
আমিতো বলেছি আপনাদের কোন ক্ষতি হবেনা।
মা চলোতো এখন আমাদের ঘরে।উনি থাক এ ঘরে। তবে ভোর হওয়ার আগেই যেন এ বাড়ি থেকে চলে যান।
বেশ কথা দিলাম।
ভাত খেতে খেতে সূচি বলে মা একটা কথা বলি।
কি বলবি বল।
আমরা ভাত খাচ্ছি।ছেলেটা না খেয়ে থাকবে?
তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে।ওকে এখন খেতে দিবো।ঐ রকম সন্ত্রাসী ছেলে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে আমারতো ভয়ে সারা শরীর কাঁপছে।সারারাততো ঘুমই হবেনা।
সে না হয় না হবে। কিন্তু ছেলেটাকে এখন একটু ভাত দিয়ে আসোনা মা। তোমার স্নেহে সে ভালো হয়ে যেতে পারে।
মায়ের দয়া হয়।রাহুলকে ভাত খেতে দেয়া হয়।রাহুল অবাক হয়। ক্ষুধায় গোগ্রাসে খেতে থাকে।অপলক দৃষ্টিতে ছলছল চোখে তার খাওয়া দেখতে থাকে সূচির মা। তার প্রবাসী ছেলের কথা মনে পড়ে যায়। ছেলেটা ঐ দূরদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কিইবা খেতে পারছে!চোখ দুটো তার জলে ভিজে ওঠে।
আপনার চোখে পানি।
চমকে আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলে,কই কিছু না।
আপনি আমাকে এভাবে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে নেবেননা ।তাতে কষ্ট পাবেন।তারপর একটু থেমে বলে আমাকেতো যেতেই হবে।

দরজা নক করার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় সূচি ও তার মায়ের।
রাহুলেরও ঘুম ভেঙ্গে যায়। চমকে ওঠে সে।
কখন যে বৃষ্টি থেমে গেছে টের পায়নি।
আমরা পুলিশ। থানা থেকে আসছি। একটু দরজা খুলুন।
মা ভোর হয়েছে কি?সূচি মার কাছে জানতে চায়।
হ্যাঁ একটু একটু আলো দেখা যাচ্ছে।মা বিছানা থেকে নামতে নামতে বলে।
মা তুমি দরজায় যাও আমি দেখছি ছেলেটা আছে কিনা?
হাতড়াতে হাতড়াতে চলে আসে ভাইয়ার ঘরে।
সূচীকে দেখে রাহুল এগিয়ে আসে।অসহায়ের মত রাহুল বলে,আমাকে কি ধরিয়ে দেবেন।
আপনি এখনও যাননি। পুলিশ এসেছে।

হ্যাঁ । দরজা নক করছে। সেজন্যইতো জানতে চাইছি আমাকে ধরিয়ে দেবেন?
না । আপনি পালিয়ে যান।পিছনের দিকে একটা দরজা আছে। সেদিক দিয়ে বেরিয়ে যান।
রাহুল তার পাশ কেটে বেরিয়ে যেতে নিতেই সূচির হাতের সাথে তার হাতের ছোঁয়া লাগে।সূচি রাহুলের হাতটা ধরে বলে ওঠে অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর জগতে ফিরে আসবেন।
হাতটা ছেড়ে দেয় সূচি।
আপনি নিশ্চয়ই আবার দেখতে পাবেন।আপনার চোখ ভাল হবে ।রাহুল সূচিকে বলে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,আপনাদের বাড়িতে একজন সন্ত্রাসী ঢুকেছে। আমরা ওকে ধরতে এসেছি।
কই সেরকমতো কেউ ঢোকেনি।সূচির মা বেশ জোরের সাথে কথাটা বলেন।
আমরা একটু ভেতরটা দেখতে চাই।
বেশ জোর করেই ভেতরে ঢোকে পুলিশ।
এঘর সে ঘর তল্লাশি করে না পেয়ে যাবার সময় বলে,দুঃখিত।আপনাদের বিরক্ত করবার জন্য। তবে সন্ত্রাসী কেউ এলে থানায় খবর দেবেন।
সেদিনের পর,১৮ কি ২০দিন পরের ঘটনা।দুজন লোক আসে সূচিদের বাড়িতে।
তারা প্রস্তুত ছিল না খবরটা শোনার জন্য।
১০-১২দিন আগে পুলিশের গুলীতে আহত হয় রাহুল। হাসপাতালে কয়েকদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে। মৃত্যুর আগে সে মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করে যায়। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সূচিদের বাড়ির ঠিকানাটা জানিয়ে দেয় এবং বলে যদি মিলে যায় তবে যেন চোখ দুটো অন্ধ সেই মেয়েটিকে দেয়া হয়।যে তাকে অন্ধকার জীবন থেকে আলোতে ফিরে আসতে অনুরোধ করেছিল।তার সে সুযোগ ছিলোনা। কিন্তু যে মেয়েটি অন্ধ হয়ে অনেক আলোর ভিড়েও অন্ধকারে ছিলো তার চোখদুটো দিয়ে মেয়েটি নতুন করে আলো দেখুক। সেই আলোইতো রাহুলের আলোতে ফিরে আসা।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement