ফ্রেন্ড’স কেভ

ভূমিকম্প (জানুয়ারী ২০২৬)

Sunil Akash
  • 0
  • ২৮
এই গুহার নাম এডামস কেভ। এডাম নাকি স্বর্গচ্যুতির পর মর্ত্যে নেমে কিছুদিন এই কেভে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিংবদন্তী আছে। তবে এমন বহু কিংবদন্তী তৈরি হয়েছে বাণিজ্যিক লাভালাভের জন্যে। যে-কারণে এই এডামস কেভ ট্যুরিস্টদের একটা পছন্দের জায়গা। এই শহরে আসবে, কিন্তু এডামস কেভ দেখে যাবে না, এই অসম্ভব!
গুহার ভেতর দেখার অনেক কিছু আছে ব্যাপারটা তা না। তবু প্রতিদিনই কিছু না কিছু ট্যুরিস্টের দেখা মিলবেই।

রিশান আর সাজিদ এই টুরিস্টদের অন্যতম। গুহা দেখতে দেখতে দুজন একটু আক্ষেপই করছিল- সময় বরবাদ হয়েছে বহু দূর থেকে ডলার খরচা করে এই গুহা দেখতে আসা। দেখা শেষে দুজন যখন বেরিয়ে আসবে, তখন হঠাৎ কেঁপে উঠল পুরো গুহা। ভূমিকম্প!

ভূমিকম্পের প্রথম ধাক্কাতেই টুরিস্টদের সবাই হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে এসেছে। রিশানও ছুটে বেরিয়ে যাবে, সাজিদ ওকে আটকাল। এমন ছোটখাট ভূমিকম্প কত হয়! এতে অস্থির হলে কেমনে হবে!

“ছোট ভূমিকম্পের পরে আফটার শক কিন্তু বড়ই হয়”
“আরে কিচ্ছু হবে না, রিল্যাক্স!”

সাজিদের কথা শেষ না হতেই আবার ভূমিকম্প। এবার আগের চেয়ে তীব্র। দুজন বেরিয়ে আসার সময়টুকুও পায় নি। তার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল গুহার একাংশ। দুজন ভেতরে আটকা পড়েছে। কিছু সময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠে রিশান ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল

“সাজিদ! আমার পা পাথরে চাপা পড়েছে রে”
“আমারও!”
“আমি আর সহ্য করতে পারছি না! এখন কী হবে?”
“একটু ধৈর্য ধর দোস্ত, রেসকিউ করতে কেউ না কেউ আসবে”

পুরো দিন পেরিয়ে গেছে, কেউ আসে না ওদের উদ্ধার করতে

“সাজিদ, কেউ তো আসলো না”
“আসবে আসবে। খিদে লেগেছে?”
“হুম”
“আমার কাছে এই বিস্কুটের প্যাকেটটাই আছে। নে, খা”
“তুই খাবি না?”
“আমার জন্যে দুই পিস রাখিস, তাইলেই হবে”

বিস্কুট খেতে খেতে রিশান কেঁদে ফেলল

“খাইস্টাগুলো ভেতরে ঢোকার সময় ফোন রেখে দিয়েছে। এখন সাথে ফোন থাকলে কত সুবিধা হতো!”
“কাঁদিস না, একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে”

পাথরচাপা অবস্থাতেই দুজন খাচ্ছে, বাথরুম করছে, ঘুমাচ্ছে… পেরিয়ে গেছে তিনটা দিন, কারো আসার লক্ষণ নেই

“কেউ মনে হয় আসবে না রে! তোর ব্যথাটার কী অবস্থা?”
“ব্যথা অনুভব হচ্ছে না। নিচটা মনে হয় প্যারালাইজড হয়ে গেছে। তোর?”
“আমারও সেইম অবস্থা”

দুই সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো লোকজন এলো গুহাটাকে মেরামত করতে

“রিশান রিশান”
রিশান তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল। সাজিদের কথায় জেগে উঠল
“কী হয়েছে?”
“দেখ দেখ, কে যেন ভেতরে আসছে! মনে হয় উদ্ধারকারী”

গুহামুখ ড্রিল করে একজনের ঢোকার মতো ছিদ্র বানানো হয়েছে। সেটা দিয়ে একজন ভেতরে ঢুকছিল। ভেতর থেকে ফিসফিসানি শুনে সে ‘বাবা রে মা রে’ বলে দ্রুত বেরিয়ে গেল। উদ্ধার আর হলো না। তিন মাস পর এলো আরেকদল

“সাজিদ, দ্যাখ আবার কারা যেন আসছে”
“হুম দেখছি। কথা বলিস না, তাইলে এরাও চলে যাবে”

ওদের কথা এরাও শুনতে পেয়েছে। আগেরবারের উদ্ধারকর্মী লোকটার ভয়ানক কথা শুনে আর কোনো শ্রমিক এখানে উদ্ধার কাজে আসতে রাজি হচ্ছিল না। কর্তৃপক্ষ বহু কষ্টে এদের রাজি করিয়েছিল। কিন্তু ভয় পেয়ে এরাও চলে গেছে। এরপর থেকে গুহাটা বন্ধ পরে রয়েছে।

ছয় বছর পর আরেক ভূমিকম্পে গুহাটা আরেক দফায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ততদিনে এটার কিংবদন্তী সবাই ভুলে গেছে। এই সুযোগ কর্তৃপক্ষ আবার উদ্যোগ নিল সংস্কারের।

গত দুইবারের অভিজ্ঞতায় এবার দুই বন্ধু কেউই কোনো কথা বলল না। নির্বিঘ্নে গুহা সংস্কার কাজ চলতে লাগল।
গুহার ভেতরটা খনন করতে গিয়ে পাওয়া গেছে এক জোড়া কঙ্কাল। ভারী দুটো পাথরের নিচে চাপা পড়া দুজন হাতে হাত ধরা। মনে হচ্ছে ওরা বন্ধু, ভারী পাথরের নিচে চাপা পড়ে মারা যাওয়ার সময়টাতে নিজেদের হাত ছাড়ে নি।

ছয় বছর আগে ভূমিকম্পের পর গুহা কর্তৃপক্ষ সকল ভিজিটরকে তাদের ফোন ফিরিয়ে দিয়েছিল। দুটো ফোন কেউ নিতে আসে নি। গুহার ভেতর থেকে কঙ্কাল দুটো আবিষ্কারের পর তারা ধারণা করছে ফোন দুটো ওদেরই। এই সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল এরা দুজন বাংলাদেশ থেকে এসেছিল। বাল্যবন্ধু, বেস্ট ফ্রেন্ড। ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। সারাজীবনের সাথী দুজন মরণকালেও নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নি।

এরপর থেকে এডাম’স কেভ পরিচিত ‘ফ্রেন্ডস’ কেভ’ নামে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মেহেদী মারুফ বেশ সুন্দর করে লিখেছেন গল্পটা। পড়তেও আগ্রহ লেগেছে। তবে একটা ব্যাপার বাস্তবতার সাথে খুব একটা মেলেনি, সেটা হলো -- তিন মাস পেরিয়ে যাবার পরেও দুইজন কিভাবে বেঁচে থাকে?? আর কিভাবে সুস্থ স্বাভাবিক কথা বলে!! যেখানে দুইদিন খাবার না খেলেই মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে! তিন মাসের ব্যাপারটা আপনার লিখতে গিয়ে ভুল হয়েছে নাকি ওভাবেই লিখেছেন?? তবে শেষের দিকটা বেশ ভালো ছিলো। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য!!!
আমার গল্পটা পড়ে আসার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ!!
আপনি তাহলে পরের অংশটা খেয়াল করেন নি! ৬ বছর পর যখন গুহা সংস্কারে লোক এলো তখন বন্ধু দুজন কথা বলল না! তার মানে তখন তারা জীবিত ছিল, ইচ্ছা করেই কথা বলে নি?? আসলে তারা ভূমিকম্পে পাথরচাপা পড়ে প্রথমদিনই মারা গেছে। মৃত্যুর পরও তারা একাত্ম ছিল।

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

ভূমিকম্প ও বন্ধুত্বের গল্প

২৫ নভেম্বর - ২০২৩ গল্প/কবিতা: ১৪ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "মাতৃভাষা”
কবিতার বিষয় "মাতৃভাষা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জানুয়ারী,২০২৬