[এক]
“সেইভ হিম, সান…” এটাই ছিল মায়ের শেষ কথা।
জলের তোড়ে ভেসে যেতে যেতে এক হাতে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরেছিল অ্যালেক্স। অন্য হাতে ধরে ফেলেছিল যমজ ভাই হ্যারিকে। হ্যারির হাত ধরে ছিল মা। মেরী। মা বুঝতে পেরেছিলেন তার হাত ধরে রাখলে পানির তোড় সামলানো সম্ভব হবে না ছোট্ট হ্যারির পক্ষে। নরম স্বভাবের হ্যারিকে একটু বেশিই ভালবাসতেন তো, ওর হাতটা জীবনেও ছাড়তে চান নি। কিন্তু এবারে সেই হাতটা ছেড়ে দিলেন স্বেচ্ছায়। হাতের মুঠো ঢিলে করতে করতে অ্যালেক্সকে বহুকষ্টে জানিয়েছিলেন আকুতিভরা কথাটা, “ওকে বাঁচিও, পুত্র…”
অ্যালেক্স মায়ের কথাটা রাখতে পারে নি। পানির তোড়ে মা ভেসে যাওয়ার পর হাত ফস্কে ভেসে যায় সহোদরও।
শৈশবের সেই মুহূর্তটা আজও অ্যালেক্সের স্বপ্নে ফিরে ফিরে আসে। সেই দৃশ্যেরই নবতর সংস্করণ দৃশ্যায়িত হচ্ছে আজ, এখন, এই মুহূর্তে…
রকেট হামলায় বিধ্বস্ত হাসপাতাল। কেউই বেঁচে নেই ভেবে প্রস্থানরত সেনারা হঠাৎ থমকে দাঁড়াল ক্ষীণস্বরে কান্নার আওয়াজ শুনে। দেয়াল সরাতেই রক্তশূন্য চেহারার এক তরুণীর সাথে চোখাচোখি হলো। আনা ওয়েবার। অ্যালেক্স শত্রুসেনা জেনেও মেয়েটি রক্তমাখা হাতে সদ্যোজাত শিশুটাকে তুলে ধরে আকুতিভরা কণ্ঠে বহুকষ্টে বলেছিল শেষ কথা, “Rette ihn, bitte…!”
যুদ্ধে এমন বহু প্রাণহানী দেখেছে জেনারেল অ্যালেক্স ওয়াকার। কিন্তু আজকের মতো এমন অস্থিরতার ঝড় কখনো মনে ওঠে নি। আনার চেহারাটা ঠিক যেন মা মেরীর মতো! অথবা সকল মায়ের মধ্যে অ্যালেক্স মা মেরীকেই দেখে।
চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে এই যে এত এত বেসামরিক মানুষের প্রাণহানী ঘটছে, যুদ্ধেসেনা হিসেবে তার দায় আছে অ্যালেক্সেরও। অপরাধবোধ শুরু থেকেই ছিল। ছোটবেলার স্নায়ুক্ষয়ী স্মৃতিটা মুঠোমুঠো অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারলেও এবেলায় হৃদয়ে ওঠা অশান্ত ঝড়টাকে শান্ত করতে পারে না সে।
যুদ্ধ চলাকালেই নিজেই নিজের গানশটে আত্মাহুতি দেয় অ্যালেক্স।
[দুই]
(কয়েক দশক পর)
ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারের বিভীষিকা দুনিয়াকে আর দেখতে হবে না- এই অঙ্গীকার করা জাতিপুঞ্জ নামক সংস্থাটি সিলভার জুবিলি পালন করার পরের বছরই গুঁটিয়ে যায় সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার রুখতে না পারার ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে। তার জায়গায় জন্ম নেয়া আরো শক্তিধর, আরো সুসংগঠিত, আরো সুদূরপ্রসারী ভাবনাপ্রসূত জাতিসঙ্ঘ এক শতক ধরে বেঁচে আছে। বেঁচে আছে না বলে বলা ভালো টিকে আছে, বেহায়ার মতো, আঞ্চলিক অজস্র যুদ্ধসংঘাত প্রতিহত করার ব্যর্থতা নিয়ে। চলমান থার্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরও হয়ত টিকে থাকবে। ব্যর্থতা কি বেহায়াদের স্পর্শ করে!
এই যে দুই দশক আগে একটা পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি হলো- জাতিসঙ্ঘ কি পেরেছে পারমানবিক শক্তিধর ইউএসএ-কে তাতে সই করাতে? নিউক্লিয়ার বোমার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশগুলো ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ নীতি মানলেও বিশ্বের সবচে ‘সভ্য’ দেশ তার থোড়াই কেয়ার! জার্মানিতে যে তারা ম্যাসিভ নিউক্লিয়ার বম্বিং করল, জাতিসঙ্ঘ সেখানে স্রেফ নপুংসকের ভূমিকা পালন করছে।
নিউজ মিডিয়ায় গেল তিন মাস ধরে এসব বিশ্লেষণই দেদার চলছে। যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে হইহল্লার ভিড়ে মিডিয়ার নজর এড়িয়ে গেছে ইউএস আর্মির ‘অতি তুচ্ছ অন্তর্গত’ এক ঘটনা।
গত এক মাসে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। না, যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, শান্তভূমিতে, নিজ গৃহে। পুরদস্তুর সুস্থ তিরিশের কোঠা না পেরোনো এই সেনাদের মৃত্যুর কারণ নাকি হার্ট এটাক! ডাক্তাররা বলছে। কিন্তু কেউই বলতে পারছে না এটাকের অন্তর্নিহিত কারণ কী।
তিন সেনা-ই নন-মার্কিন রেস, সবাই-ই চাকরি থেকে ডিসচার্জড এবং প্রত্যেকের ডিসচার্জ হওয়ার একই কারণ- এসপায়োনেজ! মানে বাহিনীর ভেতর থেকে বাইরে তথ্য পাচার। সেটা অবশ্য অফিসিয়ালি ‘অ্যাকিউজেশন’, ‘কনভিকশন’ নয়। অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো ‘কনক্লুসিভ এভিডেন্স’ দিতে না পারায় দেশদ্রোহিতার মতো গর্হিত অপরাধের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হয় নি কেউই। তাই তারা বেঁচে গেছিল সর্বোচ্চ ৫১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড থেকে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ শৃংখলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে তাদের ডিসচার্জ করে দেয় ইউএস আর্মি। আর তার সপ্তাহখানেক পর হার্ট এটাক।
একজন মারা গেছে বেডরুমে; দরজা ভেতর থেকে লক ছিল। একজন মেট্রোরেলে, কম্পার্টমেন্টভর্তি সহযাত্রীদের সামনে। আর আরেকজন পার্কে, বন্ধুর সাথে জগিং করতে করতে।
যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই এক অখ্যাত সাংবাদিক লেগে গেছিল রহস্যজনক কেসটার পিছে। এর কিছুদিন পর তার স্ত্রী হাজবেন্ডের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পুলিশকে রিপোর্ট করে। কিন্তু তার আর খোঁজ মেলে নি।
[তিন]
এলইডি স্ক্রিনের দিকে পাথুরে চোখ মেলে চেয়ে আছে থিওডোর। মার্কিন ইন্টার-কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুটে চলেছে চীনের সামরিক স্থাপনার দিকে। এই উৎক্ষেপণে কত লোক মারা যেতে পারে? আদৌ মারা যাবে? গেলেই বা কী! এসব তাড়িত করে না থিওডোর ‘থিও’কে। মিসাইল অপারেশন চালাতে চালাতে মনটাই পাথুরে হয়ে গেছে লেফটন্যান্ট থিওর। না হয়ে কী উপায়! যা কিছু করছে তা তো মাতৃভূমিকে বাঁচাতেই! হাতের জবাবে হাত, মিসাইলের জবাবে মিসাইল…
দিনে দশবার করে নিজেকে এই কথাগুলো দিয়ে প্রবোধ দেয় থিও। কিন্তু আয়নায় নিজের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারে না। যুদ্ধটা কি আদৌ বাঁচার জন্যে শুরু করেছিল তার দেশ? না তো! ‘ছোট ভাই’ ইসরাইল গেছিল ইরানকে শায়েস্তা করতে। যখন রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিলো তখন বড় ভাই হয়ে হাত গুঁটিয়ে বসে থাকবে কেন ইউএসএ?
আঘাত-পাল্টা আঘাতের খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বহরে একে একে ভিড়ল ইউকে-জার্মানি-সাউথ কোরিয়া-ইউক্রেন; ততদিনে অক্ষশক্তির দল ভারী করেছে চীন-নর্থ কোরিয়া-তাইওয়ান-লেবাননসহ মিডল ইস্টের কতক দেশ। তিন মাস ধরে দফায় দফায় চলা আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে উজাড় হয়ে চলেছে অঞ্চলের পর অঞ্চল, জনপদের পর জনপদ। ইতিহাসের বইতে পড়া প্রথম-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাপঞ্জি এতকাল যাদের কাছে স্রেফ গল্প মনে হয়েছে তারাই এখন আরেক বিশ্বযুদ্ধের স্বাক্ষী হয়ে মৃত্যুভয়ে ক্ষুৎ-পিপাসা ভুলে গেছে। এবেলায় কেউ বলতে পারে না ওই বেলায় কোথায় থাকবে, ইহলোক না পরলোকে।
থিওদের এসবে কিছু যায় আসে না। ফ্যামেলি নিয়ে অনেকটাই সুরক্ষিত আছে তারা।
না, থিও স্বস্তিতে নেই। সুখে তো নয়ই। না চাইতেও প্রাণহানী দেখা লাগে। রিপোর্টে আসা ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৩ জন তো নিছক পরিসংখ্যান। কিন্তু ওই যে শরীরগুলো দুমড়ানো মোচড়ানো, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছড়ানো ছিটানো, রক্তাক্ত ছিন্নভিন্ন দেহের অর্ধেকটা বাইরে ঝুলে আছে বাকি অর্ধেক বিধ্বস্ত ভবনের ভেতর, শিশু সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের তাকে জড়িয়ে ধরা আর তারপর সবাই পুড়ে স্যান্ডউইচের মতো জোড়া লেগে যাওয়া কিংবা বিধ্বস্ত বিরানভূমিতে দুর্গন্ধ ছড়ানো অসমাধিত লাশগুলোকে শকুনদের ঠুকরে ঠুকরে খাওয়া… এসব তো স্রেফ পরিসংখ্যান নয়!
থিওর খেদভরা কথাগুলো শুনতে শুনতে সরুচোখে ওকে দেখছে কমান্ডার রিচার্ড রাসেল
“ইয়াং ম্যান! এমন ইমোশন নিয়ে ডিফেন্স সার্ভিসে কী করে আছ?”
“স্যার! ফার্স্ট আ’ম আ হিউম্যান, দেন আ ডিফেন্স স্টাফ…”
“বটে! তা তোমাকে যদি কেউ অ্যাটাক করে তাহলে কী করবে? হাত গুঁটিয়ে বসে থাকবে?”
“আই অ্যাপোলোজাইজ স্যার! যুদ্ধটা আমরাই শুরু করেছিলাম, এটা কোনো অবস্থাতেই আত্মরক্ষা ছিল না”
“রুশ অ্যাটাকের বিরুদ্ধে আমরা সেলফ ডিফেন্স করেছিলাম…”
“আই বেগ টু ডিফার অ্যাগেইন! আমরা ইসরাইলকে সাপোর্ট না দিলে বিশ্বযুদ্ধ শুরুই হতো না”
কমান্ডার এবার ক্ষেপে গেল
“ইউ হ্যাভ লস্ট ইওর মাইন্ড, অফিসার! যুদ্ধের বিভীষিকা তোমার মাথা খারাপ করে দিয়েছে। তুমি ভুলে গেছ মিলিটারি ট্রেইনিংয়ে শেখানো রুল- ‘মাদারল্যান্ড ফার্স্ট’… ইউ আর এক্সহস্টেড পুওর ফেলো! গো হোম, টেইক রেস্ট। লেফটন্যান্ট লুকাস উইল টেইক ওভার ইওর চার্জ”
“বাট স্যার…”
“নো আর্গুমেন্ট! লিভ”
ব্যক্তিগত সবকিছু প্যাক-আপ করে চটজলদি অফিস ত্যাগ করল থিও। বেরিয়েই স্মার্ট ওয়াচসহ সঙ্গে থাকা সকল ডিজিটাল ডিভাইস ছুঁড়ে ফেলল ডাস্টবিনে। তার ঠিক ছয় ঘণ্টা পর একগুচ্ছ দিকভ্রান্ত মিসাইল ছুটল মিত্রপক্ষের নিমরাজি সদস্য ফ্রান্সের আকাশে; আরেক গুচ্ছ মিসাইল আঘাত হানল জাপানে- বিশ্বযুদ্ধের নিউট্রাল স্টেট, যারা প্রচ্ছন্নভাবে অক্ষশক্তিকে মদদ যোগালেও এখনো প্রকাশ্যে যুদ্ধে জড়ায় নি।
মিসাইল লঞ্চের কমান্ড পেন্টাগন থেকেই এসেছিল, তবে কন্ট্রোল প্যানেলে ইনস্টলড সিক্রেট বট মিসাইলের প্রোগ্রামিং বদলে ডেস্টিনেশন রিসেট করে দিয়েছে। গেল তিনটা মাস ধরে সবার, এমনকি সিকিউরিটি সিস্টেমের নজর এড়িয়ে সেলফ-লার্নিং বটটাকে ইনস্টল ও ডেভেলপ করেছে থিও ওরফে ফিন ওয়েবার।
এত বড় অঘটনের কারণে বরখাস্ত কমান্ডার রিচার্ড রাসেলের রাগে নিজের চুল ছিড়তে মন চাইছিল। পুঁচকে ছেলেটা ওকে নিয়ে রীতিমত খেলেছে! ছোকরাটা তার সাথে আর্গুমেন্ট নেহায়েত আবেগের বশে করে নি তাহলে! তার দরকার ছিল কমান্ডারের ইস্যু করা ‘এক্সিট পাস’। ওইটা ছাড়া ফিন অফিস লিভ করতে পারত না, যুদ্ধের এই আপৎকালীন সময়ে নেব্রাস্কা টিমের কেউ তা পারে না। যেটা রিচার্ড রাসেল ওকে সেধে সেধে দিয়েছে।
[চার]
ফিনের স্ট্র্যাটাজি ভালো কাজে এসেছে। ফ্রান্স-জাপান দুটো দেশই অক্ষশক্তিতে যোগ দিয়েছে। এটুকুতেই বিশ্বযুদ্ধ থেমে যাবে না হয়ত। তবে ‘মিশন এক্স’-এর বাকিরা কিছু করতে পারলে সেটাও সম্ভব হয়ে যেতে পারে।
বায়োলজিকেল প্যারেন্টস বেন-আনার কোনো ছবি বা স্মৃতি ফিনের নেই। মা আনা ওয়েবার তো তাকে জন্মের আধঘণ্টা পর অ্যালেক্সের হাতে তুলে দিয়েই ইহলোক ছেড়েছে! আর পালক পিতা অ্যালেক্স আত্মাহুতি দিয়েছে তার এক সপ্তাহ পর। পালক মা সোফিয়া সঙ্গ দিয়েছে জীবনের ঊনিশটা বসন্ত।
অ্যালেক্স-সোফিয়ার ছবি আজও ফিনের নোটবুকে থাকে। কী প্রতিক্রিয়া হতো যদি তারা বেঁচে থাকতেন আর পালিত সন্তানের দেশবিরোধী কাজের খবর পেতেন?
ফিন জানে না কীভাবে তাদের প্রবোধ দিত। তার কাছে তার জন্মভূমি জার্মানি আগে। যুদ্ধের ভয়াবহতা আর নিষ্ঠুরতা দেখে আত্মহত্যা করা পালক পিতার পথ অনুসরণ করে নি সে, মাতৃভূমির জন্যে নিজের পক্ষে যতটুকু করার তা করেছে। প্ল্যান এক্সিকিউট করেই চলে গেছে আন্ডারগ্রাউন্ডে।
জিপিএস দিয়ে ট্রেস করা সম্ভব এমন কোনো ডিভাইসই সঙ্গে নেই। তাই ভূ-গর্ভস্থ সিক্রেট চেম্বারে গা-ঢাকা দিয়ে নিশ্চিন্তে নেক্সট একশন প্ল্যান ঠিক করছিল ফিন। টিমমেটদের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ বুকে অস্বস্তিবোধ করতে লাগল তার। কিছুক্ষণ পর বুক চেপে ঢলে পড়ল মেঝেতে।
ফিনের চোখদুটো স্থির হতেই তিনশ’ কুড়ি মাইল দূরে শীতাতোপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নরম কেদারায় বসে পা দোলানো রোয়ানের ঠোঁটে ফুটে উঠল পৈশাচিক হাসি। তার রিস্ট ওয়াচের সেকেন্ড-লেয়ার স্ক্রিনে ভাসছে কনফার্মেশন মেসেজ- MISSION ACCOMPLISHED!
[পাঁচ]
ডিজিটাল সিকিউরিটাইজেশনের নামে আর্মি এন্ড ডিফেন্স স্টাফদের হৃৎপিণ্ডের খুব কাছে তাদের অজান্তেই ইনস্টল করা হয়েছে রিমোট সেন্সিং ন্যানো চিপ। উদ্দেশ্য বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকানো। কোর্ট মার্শাল কিংবা বিচারিক আদালত অভিযুক্ত কাউকে সাজা দিতে ব্যর্থ হলে লাস্ট রিসোর্ট হিসেবে চিপটা একটিভেট করা হয়। সাথে সাথে সেটা হার্টের আর্টারিগুলো কিছু সময় প্রেস করে ছেড়ে দেয়। যা হওয়ার তা ওটুকু সময়েই হয়ে যায়। কাকপক্ষীটিও টের পায় না কীভাবে কী হলো।
পেন্টাগনের সুপার সিক্রেট সিকিউরিটি অফিসার রোয়ান এন্ডারসনের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটারই সর্বশেষ শিকার ফিন।
বাটন টিপে সেকেন্ড লেয়ার স্ক্রিনটাকে ঘড়ির ভেতর সেন্ড ব্যাক করতে করতে রোয়ান ভাবছে, ডিফেন্স স্টাফদের মধ্যে ঢুকে পড়া সিক্রেট এজেন্টরা সংখ্যায় আসলে কত? কতটা শক্তিধর এই সিক্রেট মিশন? চলতি বিশ্বযুদ্ধের মোড় কি ঘুরিয়ে দিতে পারবে তারা?
রোয়ান জানে না এই মুহূর্তে পেন্টাগনের দিকে ধেয়ে আসছে ব্রিটিশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, ফিনের মতোই তুখোড় কোনো টেক-স্পেশালিস্টের কলকাঠিতে দিক হারিয়েছে যা…
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
জমে উঠেছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ। সরাসরি যুদ্ধবিগ্রহের অন্তরালে গোপনে কাজ করে চলেছে একটি সিক্রেট মিশন। দেখা যাক, যুদ্ধের গতিপথ তারা বদলাতে পারে কিনা!
৩০ সেপ্টেম্বর - ২০২৩
গল্প/কবিতা:
৫৭ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
আগামী সংখ্যার বিষয়
গল্পের বিষয় "বাবা”
কবিতার বিষয় "বাবা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে,২০২৬