যে দেশের নাম মানচিত্রে ছিল না, কেবল গল্পে ছিল, সেই দেশের নাম ছিল ঢাকনাপুর। দেশটি খুব ছোট ছিল না, আবার খুব বড়ও ছিল না। তবে তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল ভয়। তারা ধান ফলাত কম, ভয় ফলাত বেশি। শীতকালে আলু উঠত, বর্ষায় পাট উঠত, আর বছরের বারো মাস গুজব উঠত।
ঢাকনাপুরের রাজধানীর নাম ছিল উচ্চারণনগর। সেখানে একটি বিশাল ভবন ছিল—“জাতীয় আতঙ্ক ভবন”। ভবনটির সামনে সোনালি অক্ষরে লেখা ছিল: “যা ঘটেনি, তা-ই আগে ভাবো।” ভবনের ভেতরে সারাক্ষণ টেলিভিশন চলত, মোবাইল বাজত, মানুষ চিৎকার করত। সেখানে হাজার হাজার কর্মচারী ছিল। তাদের কাজ ছিল পৃথিবীর যেকোনো ঘটনা থেকে ভয় বের করে আনা। কোথাও আগুন লাগলে তারা বলত, “এটি হয়তো সূচনা।” কোথাও বিমান উড়লে তারা বলত, “এটি নিঃসন্দেহে শেষ সংকেত।” কোথাও কোনো রাষ্ট্রনেতা কাশলেও তারা বলত, “কূটনৈতিক বিস্ফোরণ আসন্ন।”
একদিন সকালে উচ্চারণনগরের সবচেয়ে বড় পত্রিকা “দৈনিক ধ্বংস” প্রথম পাতায় ছাপাল—“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দরজায় কড়া নাড়ছে!” তার নিচে ছোট করে লেখা ছিল, “সূত্র: আমাদের কল্পনা।” কিন্তু ছোট লেখাটা কেউ পড়ল না। কারণ ঢাকনাপুরের মানুষ কেবল বড় বড় অক্ষর পড়ত। ছোট অক্ষর পড়তে গেলে ধৈর্য লাগে, আর ধৈর্য তাদের জাতীয় চরিত্রের বিরুদ্ধে ছিল।
পত্রিকার খবর বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের সব জায়গায় হুলুস্থুল পড়ে গেল। মুদি দোকানে ভিড়, ব্যাংকে ভিড়, ওষুধের দোকানে ভিড়। যে লোক গতকাল পর্যন্ত আধা কেজি চাল কিনত, সে আজ দশ বস্তা কিনল। যে লোক মাসে একবার সাবান কিনত, সে আজ পঞ্চাশটা সাবান কিনল। কারণ সে জানত না, যুদ্ধ হলে সাবান লাগবে কি না; কিন্তু সাবান ছাড়া যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়া যায় না।
ঢাকনাপুরে একজন খুব বিখ্যাত মানুষ ছিল। তার নাম ছিল আতঙ্কচন্দ্র। তিনি ছিলেন “জাতীয় আতঙ্ক ভবন”-এর প্রধান। তার গোঁফ ছিল এত বড় যে আলাদা করে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার উপক্রম হয়েছিল। তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় টেলিভিশনে এসে বলতেন, “আমার নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, পৃথিবী আর বেশিদিন টিকবে না।”
কেউ তাকে জিজ্ঞেস করত না, সূত্রটা কে। কারণ ঢাকনাপুরে সূত্রের চেয়ে ভয় বেশি বিশ্বাসযোগ্য ছিল।
সেদিন সন্ধ্যায় আতঙ্কচন্দ্র টেলিভিশনে এসে খুব গম্ভীর মুখে বললেন, “বিশ্বের তিনটি বড় দেশ তাদের সেনাদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে। এটি স্পষ্ট লক্ষণ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর কেবল সময়ের ব্যাপার।”
পাশে বসা উপস্থাপক মাথা নাড়লেন, যেন তিনি নিজেই যুদ্ধের সঙ্গে সকালের নাস্তা করে এসেছেন।
আতঙ্কচন্দ্র আরও বললেন, “আমরা নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্য পেয়েছি যে, যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে ইন্টারনেট বন্ধ হবে।”
এই কথা শোনার পর ঢাকনাপুরে সবাই সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে ঢুকে খবরটি শেয়ার করতে লাগল। এক ঘণ্টার মধ্যে এত মানুষ “ইন্টারনেট বন্ধ হবে” লিখে পোস্ট দিল যে, সত্যিই ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেল। মানুষ তখন আরও নিশ্চিত হলো—“দেখেছ? শুরু হয়ে গেছে!”
শহরের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী গুদামলাল তখন তার বিশাল গুদামে দাঁড়িয়ে হাসছিল। সে চাল, ডাল, তেল, লবণ—সব মজুত করে রেখেছে। যুদ্ধ লাগুক বা না লাগুক, ভয় লাগলেই তার লাভ। সে বলল, “মানুষ যখন ভয় পায়, তখন তারা জিনিস কেনে। আর যখন জিনিস কেনে, তখন আমি মানুষকে আরও ভয় পাইয়ে দিই।”
তার পাশের লোকটা জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু যুদ্ধ যদি না লাগে?”
গুদামলাল কাঁধ ঝাঁকাল। “তাহলে নতুন ভয় বানাব।”
ঢাকনাপুরের রাজপ্রাসাদে তখন জরুরি বৈঠক বসেছে। রাজা আশঙ্কানন্দ সিংহাসনে বসে আছেন। তিনি এমন এক রাজা, যিনি নিজের ছায়া দেখেও প্রহরী ডাকতেন। তার মাথায় সোনার মুকুট, কিন্তু মুকুটের নিচে ভয়।
মন্ত্রীমণ্ডলী একে একে পরামর্শ দিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বললেন, “যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের শহরের সব পুকুরে নৌকা নামাতে হবে।”
রাজা অবাক হয়ে বললেন, “কিন্তু শত্রু তো আকাশপথে আসবে!”
মন্ত্রী বললেন, “তাই তো বলছি, তারা যখন আকাশে থাকবে, আমরা পানিতে থাকব।”
অর্থমন্ত্রী বললেন, “সব মানুষের টাকা ব্যাংকে রাখা বিপজ্জনক। তাই আমরা সবার টাকা সাময়িকভাবে সরকারের কাছে রাখব।”
রাজা খুশি হলেন। তিনি ভাবলেন, যুদ্ধ না হলেও টাকা তো থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী একটু সাহস করে বললেন, “মহারাজ, আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার যে সত্যিই যুদ্ধ হবে কি না।”
এই কথা শোনামাত্র সভায় নীরবতা নেমে এল। যেন কেউ খুব অশ্লীল কথা বলে ফেলেছে।
আতঙ্কচন্দ্র চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে বললেন, “আপনি কি দেশের শত্রু? আপনি কি বলতে চান, ভয় পাওয়া ভুল?”
শিক্ষামন্ত্রী তোতলাতে লাগলেন। “না… আমি শুধু বলছিলাম…”
কিন্তু ঢাকনাপুরে “আমি শুধু বলছিলাম” সবচেয়ে দুর্বল বাক্য ছিল। কারণ সেখানে মানুষ কথা শেষ হওয়ার আগেই রায় দিয়ে দিত।
এরপর শুরু হলো “জাতীয় যুদ্ধ প্রস্তুতি সপ্তাহ”। স্কুল-কলেজ বন্ধ। অফিসে কাজ বন্ধ। সবাইকে বলা হলো, ঘরে খাবার মজুত রাখতে, মোমবাতি কিনতে, টর্চ কিনতে, ব্যাটারি কিনতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, সবাইকে দশটা করে বাঁশ কিনতে বলা হলো। কেন, কেউ জানত না। কিন্তু নির্দেশ এসেছে, তাই সবাই বাঁশ কিনল।
এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকনাপুরে বাঁশের দাম সোনার দামের চেয়ে বেড়ে গেল। যাদের বাড়িতে আগে থেকেই বাঁশ ছিল, তারা রাতারাতি ধনী হয়ে গেল। একজন লোক তো নিজের শ্বশুরবাড়ির পুরোনো বেড়া খুলে বাজারে বিক্রি করে দিল।
এদিকে শহরের এক কোণে, পুরোনো লাইব্রেরির ভাঙা বারান্দায় বসে ছিলেন বৃদ্ধ শিক্ষক যুক্তিরঞ্জন। তিনি আগে ইতিহাস পড়াতেন। এখন কেউ তাকে খুব একটা ডাকে না। কারণ তিনি কথা বলার আগে ভাবতেন, আর ঢাকনাপুরে এই অভ্যাস সন্দেহজনক বলে গণ্য হতো।
তার কাছে কয়েকজন কিশোর এল। তারা খুব উত্তেজিত।
“স্যার, শুনেছেন? তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়ে যাবে!”
যুক্তিরঞ্জন তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কে বলেছে?”
“সবাই বলছে!”
বৃদ্ধ হেসে ফেললেন। “সবাই তো একসময় বলত, পৃথিবী চ্যাপ্টা।”
কিশোররা চুপ করে গেল।
তিনি আবার বললেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তোমরা যুদ্ধের মতো আচরণ করছ। একে বলে ভয়কে সত্যি বানিয়ে ফেলা।”
কিন্তু তার কথা কেউ শুনল না। কারণ তখন শহরে নতুন গুজব ছড়িয়েছে—যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে কবুতর উধাও হয়ে যাবে। ফলে মানুষ কবুতর ধরে খাঁচায় ভরে রাখতে শুরু করল। যাতে পরে প্রমাণ করা যায়, “দেখেছ? কবুতর নেই!”
দুই দিন পর সত্যিই শহরে কবুতর দেখা গেল না। কারণ সব কবুতর খাঁচায়। তখন আতঙ্কচন্দ্র টেলিভিশনে এসে বললেন, “আমি আগেই বলেছিলাম!”
এরপর নতুন খবর এল—শত্রুরা নাকি ছদ্মবেশে শহরে ঢুকে পড়েছে। তারা নাকি সাধারণ মানুষের মতো দেখতে। ফলে সবাই সবাইকে সন্দেহ করতে শুরু করল। নাপিত মুদিকে সন্দেহ করল। মুদি ডাক্তারকে সন্দেহ করল। ডাক্তার নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করল।
একদিন একজন লোক বাজারে গিয়ে শুধু বলেছিল, “আমার মনে হয়, যুদ্ধ নাও হতে পারে।” সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে থানায় নেওয়া হলো। অভিযোগ: “অতিরিক্ত যুক্তিবাদ।”
থানার দেয়ালে লেখা ছিল: “সন্দেহ করো, নইলে সন্দেহভাজন হও।”
এদিকে রাজা আশঙ্কানন্দ ঘোষণা দিলেন যে, শত্রুরা যেকোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। তাই রাত বারোটায় জাতীয় সাইরেন বাজানো হবে। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সেই রাতে পুরো ঢাকনাপুর নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করল। ঘড়ির কাঁটা বারোটায় পৌঁছাল। সাইরেন বেজে উঠল। মানুষ চিৎকার করতে করতে দৌড়াতে লাগল। কেউ বিছানার নিচে ঢুকল, কেউ পানির ট্যাংকে, কেউ চালের বস্তার ভেতরে।
একজন লোক এত ভয় পেল যে, নিজের বাড়ির ছাদে উঠে শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্য বাঁশ নাড়াতে লাগল। তার পাশের লোকও তাই করল। তারপর আরেকজন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো শহরের ছাদে হাজার হাজার মানুষ বাঁশ নাড়াতে লাগল। দূর থেকে দেখতে মনে হচ্ছিল, যেন ঢাকনাপুরে কোনো অদ্ভুত বাঁশ উৎসব চলছে।
সকাল হলে জানা গেল, সাইরেনটি ভুলে বেজে গেছে। আসলে ইঁদুর তার কেটে দিয়েছিল।
রাজা খুব রেগে গেলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, “এই ইঁদুর নিশ্চয়ই শত্রুর চর!”
তারপর একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন হলো। কমিটির কাজ: ইঁদুরটি কোন দেশের হয়ে কাজ করছিল তা বের করা।
এই সময় হঠাৎ একদিন পৃথিবীর বড় দেশগুলোর নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে জানালেন—“না, আমরা যুদ্ধ করছি না। আমরা কেবল আলোচনা করছি।”
ঢাকনাপুরে এই খবর কেউ বিশ্বাস করল না। কারণ এতদিন ধরে তারা যে ভয় জমিয়ে রেখেছে, তা এক ঘোষণায় ফুরিয়ে যায় না।
আতঙ্কচন্দ্র টেলিভিশনে এসে বললেন, “এটি শত্রুর নতুন কৌশল। তারা বলছে যুদ্ধ হবে না, যাতে আমরা অসতর্ক হয়ে যাই।”
গুদামলালও খুশি। কারণ তার গুদামে তখনো অর্ধেক চাল বাকি।
কিন্তু ধীরে ধীরে অদ্ভুত কিছু হতে লাগল। মানুষ দেখল, আকাশে এখনো সূর্য উঠছে। স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা ঘরে বিরক্ত। বাঁশ কিনতে গিয়ে অনেকের মাসের বাজারের টাকা শেষ। যে লোক পাঁচ বস্তা চাল কিনেছিল, তার বাড়িতে পোকা ধরেছে। যে লোক ব্যাংক থেকে সব টাকা তুলেছিল, সে এখন সেগুলো কোথায় লুকাবে বুঝতে পারছে না।
একদিন শহরের মোড়ে বৃদ্ধ যুক্তিরঞ্জন দাঁড়িয়ে একটা বোর্ড টাঙালেন। তাতে লেখা:
“যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে—
এক. নিজেরাই একে অন্যকে সন্দেহ করেছি।
দুই. নিজেরাই বাজার খালি করেছি।
তিন. নিজেরাই ভয়কে রাজা বানিয়েছি।”
বোর্ডের নিচে আরেকটি লাইন:
“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি কখনো হয়, তার আগে আমাদের মাথার ভেতরে যে যুদ্ধ শুরু হয়, সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।”
প্রথমে কেউ থামল না। তারপর একজন পড়ল। তারপর আরেকজন। তারপর কয়েকজন দাঁড়িয়ে রইল।
এক শিশু তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, “বাবা, যুদ্ধ কোথায়?”
বাবা অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল, “মনে হয়, আমাদের ভেতরেই।”
পরদিন “দৈনিক ধ্বংস” নতুন শিরোনাম ছাপাল—“যুদ্ধ হয়নি: বিশেষ কারণ অনুসন্ধান।”
ভেতরের পাতায় ছোট করে লেখা ছিল, “সম্ভবত পৃথিবী শেষ হওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত।”
কিন্তু ছোট অক্ষর আজও কেউ পড়ল না।
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
“শেষ বাঁশির আগে” গল্পে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সরাসরি ঘটেনি; বরং তার আশঙ্কা, গুজব ও মানসিক অভিঘাতকে রূপক ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। এ কারণেই গল্পটির সঙ্গে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিষয়গত সামঞ্জস্য খুব গভীর।
গল্পে “ঢাকনাপুর” আসলে এমন একটি সমাজের প্রতীক, যেখানে বাস্তব যুদ্ধের আগেই মানুষ ভয়, গুজব ও সন্দেহের কারণে ভেতর থেকে ভেঙে পড়ে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বর্তমান পৃথিবীতে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক বক্তব্য ও মানুষের আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, গল্পেও ঠিক তেমনভাবে “জাতীয় আতঙ্ক ভবন”, “দৈনিক ধ্বংস”, “আতঙ্কচন্দ্র” ও “গুদামলাল”–এর মাধ্যমে সেই আতঙ্ক-ব্যবসা দেখানো হয়েছে।
গল্পে কয়েকটি দিক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাস্তব আশঙ্কার সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়—
• মানুষ যুদ্ধের খবর শুনেই খাদ্য, টাকা, ওষুধ মজুত করতে শুরু করে—যেমন বাস্তব পৃথিবীতেও যুদ্ধের গুজব বা সংকটে মানুষ panic buying শুরু করে।
• সংবাদমাধ্যম বড় বড় শিরোনামে ভয় ছড়ায়, কিন্তু ছোট অক্ষরের সত্য কেউ পড়ে না—এটি বর্তমান “WW3” আতঙ্কের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিচ্ছবি।
• “শত্রু সাধারণ মানুষের মতো দেখতে”—এই ধারণা দেখায়, বড় যুদ্ধের আশঙ্কা মানুষকে একে অপরের প্রতি সন্দেহপ্রবণ করে তোলে।
• যুদ্ধের আগে “মাথার ভেতরের যুদ্ধ” শুরু হয়—এটাই গল্পের মূল রূপক। অর্থাৎ, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক শুধু বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়; বরং ভয়, বিভ্রান্তি, গুজব ও মানবিকতার পতন।
“শেষ বাঁশির আগে” নামটিও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে প্রতীকীভাবে মানানসই। “শেষ বাঁশি” বলতে বোঝানো হয়েছে সেই চূড়ান্ত সংকেত বা বিপর্যয়ের মুহূর্ত, যা এখনো আসেনি। কিন্তু তার আগেই মানুষ নিজেদের মধ্যে এমন আচরণ করছে, যেন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। অর্থাৎ, গল্পটি বলছে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়তো এখনো হয়নি, কিন্তু তার আতঙ্ক ইতিমধ্যে মানুষের চিন্তা, সমাজ ও সম্পর্কের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
১১ আগষ্ট - ২০২৩
গল্প/কবিতা:
৩৪ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
আগামী সংখ্যার বিষয়
গল্পের বিষয় "বাবা”
কবিতার বিষয় "বাবা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে,২০২৬