শীতের রোদের হাতছানি

বৃষ্টি ও বিরহ সংখ্যা

ashraf uddin ahmed
মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.২৪
  • 0
  • 0
  • ২৫৯
আমড়াগাছের ডালে একটা কাক ক্ষণে-ক্ষণে ডেকে যাচ্ছে, শীতের দুপুরবেলা, রোদ মাথার ওপর থাকলেও কেমন যেন শীতের ভাবটা বেশ জানান দিচ্ছে, কোথায় যেন ঘুঘু ডেকে মরছে, বাঁশঝাড়ের সবুজ পাতাদের কানে-কানে কথা বলাবলি বেশ স্পষ্ট এখন। ওদিকের রতনপুরের সড়ক ধরে ইয়াজু মোল্লা নিজের কেনা বাইকে চড়ে বাড়ি ফেরে, দুপুরের আহারের সময় হলেও তার কিন্তু দুপুর-বিকেল-রাত্রি বলে কোনো কথা নেই, খাওয়াটাকে সে অতো পাত্তা দেয় না, রতনপুরের বাজারে তার লুঙ্গি-গামছা-ছিটকাপড়ের ব্যবসা, সপ্তাহে দু’ দিন হাটবারে তো কথাই নেই, অন্যবারেও তার দোকান দেদারসে চলে, তার কাছে ব্যবসা মানে আল্লাহ’র হালাল রিজিক, দোকানে তার দু’ দুটো কাজের লোক, দিন নেই, রাত্রি নেই আল্লাহ তাকে হাত উজার করে দিয়েছে, আর তাই গতবছর সে হজ পালন করেছে, তারপর থেকে হাজিদের মতো পোষাকটাকে আর ছাড়েনি, সৌদি পোষাক গায়ে জড়ানো মানে আল্লাহ-রসুলের রাস্তায় থাকা মনে করে ইয়াজুদ্দি, নিজেকে সে এখন খাসবান্দা ভাবতে শুরু করে দিয়েছে ক্রমে-ক্রমে।
আজকে দুপুরবেলা বাড়ি ফেরার কারণ শুধু যে দুপুরের খানা তা নয়, রেজিনার একমাত্র ছোটবোন আলতাবানু অনেক বছর পরে বোন-দুলাভায়ের বাড়ি বেড়াতে এসেছে এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ করেই যতীন বাগদীর মোটরচালিত যান মানে ভটভটিতে চড়ে রসুলডাঙা থেকে নয় ক্রোশ দূরে জাহানারাবাগে এসেছে, খবরটা যতীনকে দিয়েই রেজিনা জানিয়েছে স্বামী ইয়াজুদ্দিকে।
খবর শুনেই মন তার উছাটন হয়ে ওঠে,একমাত্র শালিকা বলেই নয়, দুলাভাই হিসেবে তার যে কর্তব্যবোধ, সেটা জানান দিতেই মাছ-মাংস-মুরগী বাইকে চড়িয়ে বাড়ি ফেরে, বাড়ির ভেতরে তখন অনেক গল্প-কথা আর হাসাহাসি,ইয়াজু স্বাভাবিকের চেয়ে একটু নরোম গলার শব্দ দেয়, আলতাবানু ঘর থেকে দাওয়ায় বেরিয়ে আসে, ইয়াজু নিস্পলক তাকিয়ে থাকে,ভাবতেই তার মাথা আউলা-ঝাউলা হয়ে যায়, তার একমাত্র শালিকা আলতা, এতো সুন্দরী এতো বড়টি হয়ে গেলো অথচ সে কোনো খবর রাখেনি। এমন ডাসা পেয়ারার মতো চিবুক-শরীর দেখে নিজেকে ঢেকে কোথায় লুকিয়ে রাখবে, ভেবে পায় না। মনে-মনে ভাবে তা তো টাকা-পয়সা সম্পদ-সস্পত্তি কোনো কিছুই কমতি নেই, সংসারে যেদিকে তাকাবে, সবখানে সুখ যেন উথলে পড়ছে, গোয়াল ভরা গাই-গরু-বাছুর, দীঘি ভরা মাছ, ক্ষেতভরা ফসল, ঘর ভরা ধান-চাল-ভুট্টা,আনাজ-পাতি ফল-ফলালি, বাড়ির দাওয়ায় রবি শস্য, সরিষা-পেয়াজ-রসুন-আদা-ছোলা, অথচ তারপরও কেমন যেন অন্ধকার, রেজিনার একটা বাচ্চা আসেনি আজো, অথচ ডাক্তার-কবিরাজ-হেকিম সবই দেখিয়ে একটা জিনিস প্রমাণ হয়েছে, দোষ কিন্তু রেজিনার নয়, সবাই স্পষ্ট জানিয়েছে, দোষটা হলো ইয়াজুদ্দির জন্মগত। তারপরও সে তাদের কথা বিশ্বাস করতে পারে না। অনেকদিন থেকে মনে-মনে ভেবে রেখেছে, আবার চেষ্টা করবে হজ কাফেলার সময় বরজাহান হাজী বলেছিলো, বাল-বাচ্চা হলো আল্লাহ পাকের নেয়ামত...
ইয়াজু জানায়, কিন্তু হাজী সাহেব, দোষ তো আমার, ডাক্তার বলে।
রাখো মিয়া দোষ, কার দোষ কে জানে, মহান আল্লাহ’র দুনিয়ায় কার ভেতরের খবর কে জানে, আর মানুষকে আল্লাহ’র সঙ্গে শরীক করা গুনাহ, কবীরা গুনাহ---
কিন্তু আমি কি করতে পারি?
কি করতে বলছি জানো না,তার কেরামতি বোঝে কার সাধ্যি, তুমি আবার বিয়ে করে দেখো না!
যদি তারপরও...
আহা চেষ্টা করবে না, মানুষকে সবুর করতে বলেছে, এবং একমাত্র সবুর কন্যেওয়ালাই দিদার পায়।
বরজাহান হাজীর কথাটা অনেক ভেবেছে কিন্তু কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি। কারো সঙ্গে এ’ বিষয়ে কথা বলবে তাও পারেনি। একরাত্রে রেজিনাকে বলতেই সে কি কান্নাকাটি, সতীন আসলে বিষ খেয়ে মরবে বলেও ভয় দেখায়। কিন্তু এখন আলতাবানুকে দেখে মনটা কেমন ভরে ওঠে কানাই-কানাই, দু’বোন বেশ থাকবে সংসারে, মা-মেয়ের মতো, দূর ছাঁই আসতাগফেরুল্লাহ, দু’ বোনের মতোই।
যা হোক কথাটা এখন তুললেও কোনো ক্ষতি নেই। রেজিনাও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, বিয়ে তাকে করতেই হবে, আলতার পাশে তাকে নেহাৎ মন্দ লাগবে না। পুরুষ মানুষের আবার বয়স বলে কোনো কথা আছে, তাছাড়া তার মতো এমন জামাতা পাবে ওদেও বাপ-ভাই। দরকার হলে ওর ছোটভাইটা, যে বেকার হয়ে বাপের অন্ন ধ্বংস করছে, তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেবে নিজে খরচা করে, আর বুড়ো শ্বশুরকে লাখ তিনেক টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলবে, এবার আপনি আল্লাহ পাকের ঘর আর রসুল (সা) রওজা মোবারক জিয়ারত করে আসেন, এতে নিশ্চয় মাছ ঠিকই বড়শি গিলবেই, কারণ টাকাই পৃথিবীর সম্মানের উৎস। এতেই শ্বশুরের মন যেমন গরবে তেমনি আলতাবানুর মন সরস হবে আর ছোট শালাটারও একটা হিল্লে হবে, তখন কৃতজ্ঞতায় বুদবুদ ছাড়বে, প্রতিবাদি চেহারাটা সমূলে ধ্বংস হবে। আর রেজিনারও কোনো আশ্রয়হীন হওয়ার ভয় নেই, বাপ-ভায়ের সুখ-শান্তি দেখে আলতাকে আপসে বরণ করে নেবে, কোনো উচ্চবাক্য করার ক্ষমতা পাবে না।
আচমকা আলতা বানু চমমকিয়ে কথা বলে ওঠে, কি দুলাভাই কথা বলা থেমে গেলো যে, নাকি আমার ওপর হেভি ক্ষেপে আছেন...
চোখের তারায় ঝিলিক তুলে ইয়াজু জানায়, ক্ষেপে তো আছি রে শালিকা, আর কেনো বা ক্ষেপবো না বলো দেখি।
কেনো-কেনো আমি এসে বিপদে ফেলেছি, তাহলে চলে যাচ্ছি, ডাকো বুবু তোমার যতীনকে!
ইয়াজু বুঝতে পারে শালিকা তার বেশ ফক্কর টাইপের হয়েছে, কলেজে ওঠার আগেই আজকালকার মেয়েরা যে কি ইঁচড়ে পাকা হয়ে যায়, তারই প্রমাণ আলতা বানু। কথা ঘুরিয়ে সেও বলে, বিপদ আমার, কিসের বিপদ গো! আগে আমাকে জানালে আমি গিয়ে বাইকে চড়িয়ে নিয়ে আসতাম আমার একমাত্র শালিকাকে...
ওওও এই কথা! তা এসেই যখন পরেছি, বাইক তো আছেই,আর আমিও আছি, কি বলেন!
আর বলতে হবে না, বুঝে গেছি...
তারপর দুজনের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা চলে কিছুসময়। শালিকা-দুলাভাইয়ের রঙ্গরসিকতার কথা শুনে রেজিনা মুখ টিপে হেসে কাপড়ে মুখ লুকিয়ে বাড়ির ভেতর চলে যায়। দুপুরের রেশমি নরোম রোদটুকু আলতার চোখে-মুখে পরে আরো খানিক খোলতাই দেখায়, গোয়ালঘরের ভেতর থেকে একটা বাছুর বেরিয়ে খানিক ছুটে আবার ঢুকে যায়, ওপাশে দীঘিটার দিকে যে পাকুড়গাছ, সেখানে কতোগুলো কাক জটলা করছে, নিজেদের মধ্যে কতো গল্প তাদের,বাতাবি লেবু গাছের মাথায় শীতের রোদ লুটোপুটি খায়, টিনের চালে কয়েকটি চড়–ঁইপাখি কিচিরমিচির করছে, আলতাবানু-রেজিনা ভাত বেড়ে দেয় ইয়াজু হাজিকে, আসলে আলতা তার বোনকে সহযোগিতা করে হাতে-হাতে, কিন্তু ইয়াজু নাছোরবান্দা, একসঙ্গে খেতে হবে দু’ বোনকে, তারপর তারা একসঙ্গে টেবিল-চেয়ারে খেতে থাকে, ইয়াজুর নজর সবসময় আলতার দিকে হলেও রেজিনা কিন্তু ওসবে তেমন পাত্তা দেয় না, কারণ সে জানে তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করার কোনো মুরোদ নেই, আর আলতার মতো মেয়েকে ঘায়েল করাও চাট্টিখানি কথা নয়।
বিকেলের পরপর ইয়াজু দোকান থেকে ফিরে আসে আলতার জন্য নানান খাবার নিয়ে, আপেল থেকে মোঘলাই পরোটা-চপ-পিয়াজি দেখে আলতার মন কেমন ভালো হয়ে যায়। সত্যিই মানুষটা একমাত্র শালিকার যতœ নিতে জানে, বাড়ির অন্য লোকেরা বিশেষ করে ইয়াজুর ভাবী-বোন ভাইয়েরা দেখে আনন্দে গড়িয়ে পরে, মানুষটা যে আদর-আপ্যায়ন করতেও জানে তা দেখে আত্মীয়-স্বজনেরা খুশি হয়, এভাবে যতœ-আর্তির ফলে আলতা যেন খানিকটা মূগ্ধ হয় দুলাভাইয়ের প্রতি।
দুলাভাই, আপনি একি কান্ড করেছেন, বাজারের সমস্ত যে...
তা আর পারলাম কোথায়? ইচ্ছে করে আমার একমাত্র শালিকার জন্য রতনপুর বাজারটাই তুলে নিয়ে...
থাক্--থাক তাহলে বড়পা কিন্তু মাইন্ড করবে!
মাইন্ড করার কি আছে, আমার শালিকাকে ভালো-ভালো...
ওই হয়েছে, জাহানারাবাগে আমার আর থাকা চলবে না।
কেনো-কেনো, কে তাড়াবে।
আপনি---
আমি তাড়াবো তোমাকে, তুমি জানো না শালিকা মানে আধাঘরওয়ালী...
রেজিনা মাথায় ঘোমটা দিয়ে মুখ টিপে হেসে বলে, কে নিষেধ করে আধা-ঘরওয়ালী জানতে, পুরোপুরি ঘরওয়ালী করলেই তো...
সুযোগ পেয়ে ইয়াজু একচোখ মেরে আলতা বানুকে শুধোয়, কি সখী এমন ঘর পাবে না গো!
পাপড়ি ঠোঁট বাঁকিয়ে আলতা উত্তর দেয়, ঘর-বর দেখে কি হবে মিঞা, মনের মিল না হলে পারানির কি থাকে?
বাবাহ্ জানো তবে কথা বটে...
কেনো কথা বুঝি আপনাদের ঘ’টেই থাকে---
না বাবা, ঘাট মানছি, তুমিও পারো বটে রাঁধিকা।
কয়েকদিন পরে এক বিকেলে আলতাদীঘির ভাঙা-বিধ্বস্ত দীঘির পাড়ে দু’জনকে হাত ধরাধরি অবস্থায় হাঁটতে দেখা যায়। ইয়াজু শালিকাকে সাততল্লাটে ছুটিয়ে নিয়ে বেড়ায় বাইকে চড়িয়ে,বাইকে দুলাভাইয়ের পেছনে বসে আলতাবানু নিজেকে রাণী ভাবে, কখনো উত্তম-সুচিত্রা’র ‘এই পথ যদি না শেষ হয়...গানটি গুনগুনিয়ে গেয়ে দিন কাটিয়ে দেয়, রেজিনার কোনো বারণ নেই। আবার কখনো হয়তো ইয়াজু হালকাভাবেই গেয়ে ওঠে,‘আমার স্বপ্ন দেখা রাজকন্যা থাকে/ সাত সাগর আর তেরো নদী পাড়ে...
তখন আলতাবানু পিঠে দুটো কিল বসিয়ে দুষ্টমি হাসি দিয়ে একটু রাগ দেখিয়ে বলে, সখ কতো মিঞার, ময়ুরপঙ্খি ভিড়িয়ে দেখে আসবে, কোন্ সে প্রেমিকা...
তারপর দুজনের হাসি-হাসি আর হাসি।
ফাল্গুনের এক মিষ্টি সকালে ইয়াজুদ্দি একদিন শুনতে পায় আলতাবানু মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে যেন গল্প করছে আর হাসাহাসি। রেজিনাকে বলতেই বিপরীত ফল হয়, কারণ আলতাবানু প্রেম করে ওরই খালাতো ভাই সোহেলের সঙ্গে, যা পারিবারিকভাবে সবাই জানে। সোহেল ডিভিতে আমেরিকা গেছে, সেটেল হয়েছে, দু’ তিন বছর অন্তর দেশে আসে, এবার দেশে ফিরলে আলতাবানুর সঙ্গে বিয়ে করে এবং চিরস্থায়ীভাবে নিয়ে যাবে সুদূর মুল্লুকে, কথাটা শুনে ইয়াজুদ্দির মাথা গরম হয়ে যায়, তার সে আগের রূপে পৌঁছে যায়, রেজিনাকে কড়াভাবে শাসন করে বলে, তোমার বাপকে ডেকে পাঠাও, আমি আলতাকে বিয়ে করবো...
রেজিনার মাথায় যেন কেউ বাঁশ মেরে অজ্ঞান করে দিলো, কি বলে মানুষটি, মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি কি এভাবেই লোপ পায়। আলতার মতো অতোটুকু মেয়ের কথা কিভাবে সে ভাবতে পারলো, রেজিনার সঙ্গে বয়সে পনেরো বছরের ছোট হবে আর রেজিনার চেয়ে অনন্ত কুড়ি/বাইশ বছরের বড় ইয়াজু, অথচ মানুষটা টাকার গরমে সাপের পা দেখে ফেলেছে এমন একটা ভাব করছে যেন বা।
ইয়াজুদ্দি সেদিন মোতালেব মাওলানাকে কথাটা বলতেই, তোবা-তোবা বলে ওঠেন তিনি।
কি হয়েছে, বিয়ে করতে দোষ কোথায়?
দোষ না, কি বলছো, দোষ-গুণ কি বোঝ মিঞা...
শরীয়তে বিয়ে করতে নিষেধ কোথায়?
তাই বলে আপন মায়ের পেটের দু’বোন একই স্বামীর ঘর করতে পারবে না, এটাই শরীয়তের বিধান।
বিয়ে করা যাবে না বলছেন...
হ্যাঁ বিয়ে হবে, যদি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে---
ইয়াজু থেমে যায় একসময়, সে রেজিনাকে ফেলতে যেমন পারবে না, তেমনি আলতাকে ভুলবে কি করে, একটা দ্বিধার মধ্যে জড়িয়ে যায়, বাইকের গতি কমিয়ে ইয়াজু ভাবতে থাকে, রেজিনাকে বউ করা আজ কতো বছর হলো, অথচ রেজিনা কোনোদিন তাকে এতোটুকু অশ্রদ্ধা-অপমান করেনি, যেমন যেভাবে রেখেছে সেখানেই থেকেছে, তাকে কি পায়ে ঠেলা যায়। শারীরিক অক্ষমতার কথা জেনেও রেজিনা তো ছেড়ে যায়নি, তবে কেনো সে আজ তাকে দূরে সরিয়ে দেবে, ভাঙা কুলো যে অসময়ে কতো কাজ দেয় তা তো গেরস্থই বোঝে ভালো। ইয়াজু একসময় বাইক থামিয়ে দাঁড়ায় সড়কের পাশের উন্মুক্ত মাঠের ধারের মেহগনি গাছের নীচে, নরাম রোদে মানুষ উষ্ণতা নিয়ে যে যার মতো ঠিকানায় ফিরছে, তাকে আর বেশিসময় নষ্ট করলে চলবে না, দোকানে অনেক কাষ্টমার, ছেলেরা সামলাতে পারবে না। বেলা পরে গেছে, আরেকটু পরে সূর্যও ডুবে যাবে, নতুরহাটের মানুষজন ফিরে যাচ্ছে যার-যার বাড়ি, হাট ফেরত মানুষগুলোর মুখ দেখতে দেখতে ইয়াজুর মনে অনেক না বলা কথা ভাসে, মানুষ সত্যিই দিনকে দিন কেমন বদলে যাচ্ছে, এভাবে বদলে যেতে-যেতে একদিন হয়তো মানুষ শুধুই যন্ত্রে পরিণত হবে, তখন কেমন লাগবে দুনিয়াটাকে তা কল্পনা করতে চাইলোও সময় বড় অল্প, এরই মধ্যে তাকে দোকানে যেতেই হবে। বাইকে গতি উঠে গেছে, কোথাও থামবে না, থামতে ইচ্ছেও নেই, সমানের খালপারের সরু মাটি ফেলা রাস্তাটুকু পার হলেই বাইকের গতি আরো বাড়িয়ে দেওয়া যাবে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
ফয়জুল মহী চমৎকার অনুভূতির উপস্থাপন।

০৭ জুলাই - ২০২১ গল্প/কবিতা: ২ টি

সমন্বিত স্কোর

৫.২৪

বিচারক স্কোরঃ ২.২৪ / ৭.০ পাঠক স্কোরঃ ৩ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "ডিজিটাল ভালবাসা”
কবিতার বিষয় "ডিজিটাল ভালবাসা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ অক্টোবর,২০২১