রাহাদ সাহেব ব্যবসায়ী মানুষ। নিজের একটা বাড়ি তৈরী করার পর ছাদে ছাদ বাগান করেছেন তার স্ত্রী রুনা। মেয়ে আবদার করেছে ছাদে একটা দোলনা বসানোর জন্য। মেয়ের আবদার পূরন করতে একটা এন্টিকের দোলনা এনে বসানো হলো।
বেশ ভালই চলছিল সবকিছু। কিন্তু বিপত্তি বাধে এক রাদে যখন পরিবারের সবাই মিলে ছাদে খাওয়া দাওয়া করে। এর পর থেকেই ছাদে কারো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। কারো নূপুরের শব্দ। পড়শিরা বলে রাতে নাকি ছাদে দুটো সাদা অবয়ব দেখতে পাওয়া যায়। একটি ছোট অন্যটি বড়।
ইদানিং মেয়ে রামিসার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন রাহাদ-রুনা দম্পত্তি।
মেয়ে রামিসা সন্ধ্যার সময় দোলাতে বসবেই। তাকে বুঝিয়ে কাজ হচ্ছে না। সে বেশ মজা পায়। বিড়বিড় করে কথা বলে। দেখে মনে হয় তার কোন বান্ধবীর সাথে সে ফিসফিস করে কথা বলছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিল- ইদানিং রামিসা যা বলে তাই সত্যি হয়ে যায়।
সেদিন সকালে বলল, বাবা তুমি আজ বিকালে বনানীতে যাবে না, ওখানের কাজটা অন্য কাউকে দিয়ে করাও।
কেন যেন সেদিন রাহাত সাহেব বনানীতে যাননি। সন্ধ্যায় পরিচিত একজন ফোন দিয়ে জানালো যে, আমিন ফার্নিচার দোকানে হঠাৎ আগুন ধরে গেছে, দুজন আহত হয়েছে।
আরেকদিন বলল, বাবা সামনের শুক্রবারে তোমার বগুড়া গ্রামের বাড়ি যাওয়া ক্যান্সেল করো। তা না হলে বড় বিপদ হবে।
পরে দেখা গেলো বগুড়াগামী সেই বাস একসিডেন্ট করেছে।
রামিসা মাকে বলল, আজ দুপুরে শপিয়ে যেওনা। তার মা মেয়ের কথা না শুনে মার্কেটে গেলো। বাড়িতে এসে বলল, তোর কথা না শুনে গেলাম, আমার টাকাগুলো হারিয়ে গেলো।
এভাবে একের পর এক ঘটনা যখন ঘটেছে তখন স্বামী-স্ত্রী বুঝতে পারলো মেয়ের সাথে কিছু একটা আছে। তা না হলে বাচ্চা একটা মেয়ে যা বলে তাই ঘটে কিভাবে।
এন্টিকের সেই দোলনটার মধ্যে কি আছে জানতে হবে। কেন সেটা বতাস ছাড়াই হঠাৎ নড়ে উঠে, দুলে উঠে। কি সেই রহস্য।
হুজুর ডাকা হলো। তিনি একদিন পর জানালেন যে দুটো জ্বীন অনেক আগে থেকেই এই দোলনাটাতে থাকতো। বার বার হাত বদল হলেও তারা তাদের পছন্দের এই দোলনাটাকে কিছুই ছাড়তে পারছেনা। আর ছোট জ্বীনটা রামিসাকে পছন্দ করেছে, তার সাথে সে বন্ধু হয়ে উঠেছে। মূলত জ্বীন আগে থেকেই সব জানতে পারে বলে রামিছাকে জানাতো।
আর এভাবেই আপনারা ঘটনা ঘটার আগে অগ্রিম জেনে যেতেন এবং বিপদ থেকে বেঁচে যেতেন।
তারপর বড় এক হুজুরের মাধ্যমে বাড়ি,ছাদ ও দোলনা বন্দ করে নিরাপদ হলেন ব্যবসায়ী রাহাদ সাহেব।
মানুষ ও বুঝতে পারলো দোলনা রহস্যের আসল কাহিনি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
এন্টিকের দোলনা নিয়ে একটি পরিবারে যে রহস্যময় ঘটনা ঘটত সেটা গল্পে তুলে ধরা হয়েছে।
২৪ আগষ্ট - ২০২০
গল্প/কবিতা:
১২৫ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি
“ ” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ , থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।