বিষম চিত্তের অন্তরীক্ষে এক গভীর প্রতীক্ষায়
পরিতাপের ছাপ নিয়ে অদৃশ্য মলীনতায় অদ্য উপস্থিত আমি

সকল পক্ষের হৃদস্পন্দন হয়েছে আজই দগ্ধ
কালের পরিক্রমায় চলমান অবলীলায় অনুভবে বড়ই একাকীত্ব

রিক্ত হস্তে হৃদয়ের মন্দিরে শুষ্ক হলো সকলি পুষ্প
সকল ছন্দ ছেদ করিয়া ক্রন্দন যেন বক্ষ ছিড়িল বাধিল মৃত্যু দ্বারে

ঝরা বকুলের অতৃপ্ত স্বর্ণ সুবাস বায়ুকে করিয়াছে ভারী
একাকীত্বের দগ্ধে তার আর্তনাদের ধ্বনি শুনিতেছো কি
অসমাপ্ত দন্ডের ফলাহার যেন দীগন্তের দীর্ঘ শ্বাসের বাতায়নে
কতদিন যে কহিনু অব্যক্ত অনুরক্ত,করিনু অব্যক্ত অভিমান
দেখিনু হেন রক্তিম সহিষ্ণু,নিবিড় কুনজে ঘেরা সে আভা
পুজিনু কতদিন সে মৃত্যুনজয়ী অসীম সরলতা
সকল বেদনে অপরিচিতা হয়ে আজই হারায়ছি নিজেকে
পরিবর্তনের কালের যাত্রার ধ্বনি অজানার পথে আজি আমি
সংসারের সকলি যা কিছু ছিল

উদ্বিগ্নেের জরার্কীণতায় ফেলিয়াছে চলিয়া গিয়াছে বড় একা করিয়া
অতীতের কুসুমকোমল দিনগুলি তীর গাথিয়া আজও কহে
এ কোন আধার দুয়ারে মোরে ফেলিয়া রক্তাক্ত করিয়া দিলে
চলিয়া যাহিতেছি অকূল পাথারে তীরেরও ওপারে
যেথায় আর পাবে না কো মোরে খুঁজে
যেথায় বহিতেছে কেবল স্তব্ধতা,যার কূলহীনতায় ব্যাকুল নিজ মন
যেথায় সকল দুয়ার গিয়াছে খুলিয়া ,রাখিনু পাহাড় সম বিপত্তির কোনো মূল
যেথা হইতে ফিরিবার সকল উপায় হইয়াছে রুদ্ধ
যেথায় একমাত্র বহিতেছে একাকীত্ব

যা মোর ধূলির ধন , যা মোর নয়নের জলে ভিজে

তব খোঁজে পার করিয়াছি সকল ভেলা

তেপান্তরের সকল যাত্রায় সে কোন খেলা

দিয়াছ বিদায় মোরে চলিয়াছি মরুভূমির আসরে
যেথায় বিস্তৃত করিয়াছে বিশাল অন্তঃসারশূন্যতা
যেথায় মরিতে হইবে কি তিলে তিলে নিত্য

কেন এমন অকুল প্রান্তরে মনের জ্যোতি হয়ে তুমি এলে
সে জ্যোতির নিরুত্তর এ আধার ও যেন গগনসম তারা
হায়রে একাকীত্ব, রূপান্তরের অমাবস্যায় আজি আমি পরিসমাপ্ত
কর্মের পুষ্প হবিনু শেষ,তার অশেষ রথযাত্রায় নিবৃত্ত হলো বেশ

কেমনে সহিব এ একাকীত্বের অগ্নি
জ্বালা নিভাতে বন্ধু বিদায় নিলাম ধরনী হতে
বিদায় কেন বলিতেছ, এ যে ছুটি
আবার আসিব ফিরিয়া কোনো এক বসন্তে কোকিল হইয়া,
করিব খেলা প্রকৃতির প্রেমে

বন্ধু বিদায় নিলাম একাকীত্বে