আমি ভয় পাই বিড়ালকে
আমি ভয় পাই কুকুরকে
আমি ভয় পাই সাপ খোপ রাক্ষস খোক্ষসকে,
বাঘ সিংহ হাতি গণ্ডারের সামনে আমি কখনও পড়ি নি
তবে ভয় পাই।
আর সবচেয়ে বেশি ভয় পাই মানুষকে।
যখনই সামনাসামনি হই
বুকের ভেতরে কেমন একটা করে
এই বুঝি সৌজন্য বিনিময় করতে করতে
ভালোবাসা পেতে পেতে কিংবা দিতে দিতে
কিছু কথাবার্তা বলতে বলতে শুনতে শুনতে
পাশাপাশি চলতে চলতে
একে অপরের দিকে দেখতে দেখতে
যদি কথার প্যাঁচে ফেলে
যদি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেয়
যদি চেপে ধরে যদি আঘাত করে
যদি শেষ করে দেয়
তাহলে আমি কি করব? কোথায় যাব?
কার কাছে দাঁড়াব?

তারপরেও সেই মানুষের কাছে আমাকে দাঁড়াতে হয়
নিজেকে দেখাতে হয় দেখতে হয়
নিজেকে চেনাতে হয় চিনতে হয়
নিজেকে শোনাতে হয় শুনতে হয়
সেই সাথে ভয়ও হয়।
কুকুর বিড়াল বাঘ সিংহ হাতি গণ্ডার
এরা শুধু বাঁচার জন্য ও খাদ্যের জন্য
তেড়ে আসে আক্রমন করে আমাকে ভয় দেখায়।
কিন্তু মানুষ স্বার্থের জন্য নিজের অহংকারের জন্য
নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অপব্যবহারের জন্য
পৃথিবীর বুকে ভয় কায়েম করে।
একে অপরের সাথে
লোকভয় রাজভয় রোগভয় ভোগভয়
মানভয় দানভয় উত্থানভয় পতনভয়
দীনতার ভয় হীনমন্যতার ভয় দেওয়া নেওয়া করে।
বড়লোককে দেখে গরীব ভয় পায়
বাবুকে দেখে সাধারণ ভয় পায়
রাজনীতিক দেখে জনগণ ভয় পায়
অফিসার দেখে কর্মচারী ভয় পায়
কর্মচারীদের দেখে পাবলিক ভয় পায়
প্রশাসক দেখে জনতা ভয় পায়।

এভাবে ভয়ের ঘুর্ণিপাকে ঘুরছে যুগান্তরের চাকা,
এই বুঝি আমার স্খলন হল
আমি চাপা পড়ে যাব দুনিয়ার দস্তুরে
আমি আর আমি থাকব না
সবাই হয়ে যাব তুমির দেশ
তারপর সে তারপর আমি এক অতীত।

এখন ভয়ে ভয়ে হাত ধুই
ঘষে ঘষে গায়ের ময়লা তুলি
জামা কাপড় সব জীবানুমুক্ত করি
তবু মনের ভেতরে থেকে যায় ভয়
এই বুঝি আমাকে আক্রমন করল
আমি শিকার হয়ে গেলাম জীবনের
আমি যে অনেক অনেক মানুষ পেরিয়ে
তারপরে ঘরে আসতে পেরেছি
সিনির সাথে দুদণ্ড বিশ্রামের আশায়।

তারপর সকাল হয়
আমার পাশে আমার মনের মানুষ
মন দেওয়া নেওয়া পরিবার পরিজন
তাদের মানুষ কূজন।
তখন আর ভয় করে না
আমি তখন ভয়হীন মানুষ রাজা।