নোবেল ছোট বেলা থেকেই অন্য সব ছেলেদের থেকে একটু আলাদা। তার আচারণও ছিল ভিন্ন ধরনের। সে যেন সব কিছু জেনে শুনেই এই পৃথিবীতে জম্মগ্রহন করেছে।
নোবেলের পিতা একজন সরকারী ছোটখাট কর্মচারী।যা বেতন পায় তাই দিয়ে কোন রকমে সংসার চালায়। মা গৃহীনি। নোবেলের আরও একজন ছোট বোন আছে । মা সখ করে নাম রেখেছে নোভা। এ যেন আরেক সুপার নোভা। যা কিছু শুনে বা দেখে তাই হবহু মনে রাখতে পারে।
নোবেলের বাবার ইচ্ছা যত কষ্টই হোক নোবেলকে তিনি ইঞ্জিনিয়ার এবং নোভাকে তিনি ডাক্তারী পড়াবেন।
নোবেল এবং নোভা বড় হতে লাগল।নোবেল দশম শ্রেণীতে বিজ্ঞানের ছাত্র আর নোভা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। স্কুলে তাদের দুজনেরই লেখাপড়ায় খুব মনোযোগী। মাঝে মাঝে নোবেলের মহাকাশ নিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত প্রশ্ন শিক্ষকদের খুব বিব্রত করত।এদের দুজনের মেধাই অন্য ছেলে মেয়েদের থেকে আলাদা।
নোবেল সবসময় মহাকাশ নিয়ে ভাবত। গ্রহ, নক্ষত্র,ব্লাকহোল ইত্যাদি ইত্যাদি।এগেুলো সে ইউটিউব দেখে দেখে আরও জানার ইচ্ছা মনের মাঝে লালন করতো। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে সে মহাকাশ নিয়ে গভেষণা করবে।
একদিন নোবেল ও তার ছোট বোন স্কুল থেকে বাড়ীর দিকে যাচ্ছিল, এমন সময় পথে একজন লোকের সাথে দেখা তাদের।
একজন খুব লম্বা লোক,তার মাথার চুল সব সাদা হয়ে গেছে । সাদা পোষাকে সারা শরীর ঢাকা। চোখে গোল গোল চশমা পরা। একটা কাপরের ব্যাগ লোকটার কাঁধে ঝুলছে। মুখে লম্বা দাঁড়ি। খুব গরম পড়েছিল সেদিন। তাই পথের মধ্যে একটা বট বৃক্ষের নীচে লোকটা এসে দাঁড়ায় ।
নোবেল আর তার ছোট বোন কাছে আসতেই লোকটি বললেন,“ কেমন আছ তোমরা ?“
তিনি যেন অনেক আগে থেকেই চিনতেন তাদেরকে।
একটু অবাক হলো নোবেল, পরে বলল, “ভাল আছি।“
“একটু দাঁড়াও এখানে,আজ যে রদ্রু উঠেছে?“বললেন আগন্তক।তা তোমরা কোন্ ক্লাসে পড়?
নোবেল বলল,“ আমি দশম শ্রেনীতে এবং আমার বোন নোভা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। “বড় হয়ে কি হতে চাও তোমরা? “বললেন আগন্তক।
“আমি ইঞ্জিনিয়ার আর নোভা ডাক্তার।“বলল নোবেল।
``বেশ ভাল।`` বললেন আগন্তক।
“আমি মহাকাশ নিয়ে গভেষণা করতে চাই।“অন্য গ্রহে জীবের অস্তিত্ব উদঘাটন করতে চাই ।“বলল নোবেল।
“তাই নাকি? তবে, যাবে আমার সাথে অন্য গ্রহে?“ বললেন আগন্তক।
একটু অবাক হয়েই নোবেল বলল,আপনি কে? আপনি কিভাবে আমাকে অন্যগ্রহে নিয়ে যাবেন?
আগন্তক বললেন,সে দেখা যাবে। আজ আমার সময় নেই অন্য একদিন কথা হবে।আমাকে স্মরণ করলেই আমি তোমাদের সামনে হাজির হয়ে যাবো। তবে তুমি ভেবে দেখো অন্যগ্রহে যাবে কি-না।
এই কথা বলে আগন্তক বিদায় নিলেন।তারপর দু`ভাইবোন বাড়ী চলে গেল।
নোবেলের মাথায় সব সময় চিন্তা, লোকটা কে? কেন উনি আমাকে অন্য গ্রহে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেন। আর কিভাবেই বা আমাকে নিয়ে যাবেন।সবসময় নোবেলের মাথায় এই কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে।
ছোটবেলা থেকেই নোবেলের মহাকাশ ভ্রমনের ইচ্ছা মনে মনে লালন করে আসছিল।যদি সে লেখাপড়া শিখে আমেরিকার নাসায় গভেষণা করতে পারতো?মঙ্গল গ্রহে ,চাঁদে যেতে পারতো? এগুলো সে সর্বক্ষন চিন্তা করে।
এমন কি সে মাঝে মাঝে স্বপ্নও দেখে ।কিন্তু কাওকে বলে না।কিন্ত আজকে তার সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করার জন্য সামনে এগিয়ে আসলো কে ঐ আগন্তক? উনি কি একজন মানুষ না কি অন্য গ্রহ থেকে আসা কেও।
“নোবেল খেয়ে যাও।“ খাবার টেবিলে ডাকলেন নোবেল মা।
“মা, আমি খাব না। ভাল লাগছে না আমার।“ বলল নোবেল।
“কেন খাবে না।শরীর খারাপ হয়েছে নাকি?“ মা বললেন।
“না মা,এমনি খাব না, মনটা ভল লাগছে না।“ বলল নোবেল।
এমন সময় নোবেলের ছোট বোন নোভা খাবার টেবিলে এসে হাজির।নোভা খুব কথা বলে।
“খাবে কি মা। আজ স্কুল থেকে আসার সময় একটা কান্ড ঘটেছে। ভাইয়া সেই কথাই সব সময় চিন্তা করছে।“ নোভা বলল।
“কি কান্ড ঘটেছে রে মা নোভা।“মা বললেন।
“চুপ নোভা! বেশী কথা বলিস, তাই না? মা, ওর কথা শুনো না।“ বলল নোবেল।
নোভা বেশ বাচাল। তাই মায়ের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে দিল।
“কে রে ঐ আগন্তক?“মা বললেন।
“আমি তো চিনতে পারিনি মা। আগেও কোনদিন দেখিনি।“বলল নোবেল।
“কি জানি বাপু,আজকাল কিন্তু অনেক ধরনের প্রতারক নেমেছে। কার মনে যে কি আছে কে জানে। তোরা কারো কথা শুনিস না বাবা।ক্ষতি করতে পারে।“মা বললেন।
তারপর মায়ের আকুতির পর নোবেল রাতের খাওয়া খেল।খাবার শেষ করে নোবেল পড়ার টেবিলে বসল।কিন্তু পড়ার টেবিলে বসেও নোবেলের ঐ একই চিন্তা কে ঐ আগন্তক? যে তাকে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মহাকাশ ভ্রমনের কথা বলল। আগন্তক কিভাবে তার মনের কথা জানলো? আর পারবে কি তাকে ভিনগ্রহে নিয়ে যেতে?ভাবতে ভাবতে নোবেলের তন্দ্রা পেল। সে আর পড়ার টেবিলে বসে থাকতে পারছে না।তাই লাইট বন্ধ করে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো।
ঘুমানোর পর সে স্বপ্নে দেখছে,কে একজন এসে তাকে একটা দ্রুতগামীযানে করে নতুন অন্য এক গ্রহে নিয়ে যাচ্ছে। যানটি আলোকের বেগে চলছে। ভয় করছে নোবেলের।যানে যাওয়ার সময় বাইরে তাকিয়ে দেখে, আকাশের তারাগুলি তড়িৎ গতিতে পিছন দিকে ছুটছে। তারপর যানটি একটা জায়গায় থামল। সেখানে তেমন কোন গাছপালা নেই।তবে আশেপাশে ফুলের বাগান আর চারপাশে অনেক ফলের গাছ। ফল ধরে আছে গাছে গাছে।হাত দিয়েই ফল ধরা যায়।
কে একজন ডাকল, নোবেল নেমে এসো। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে কেও নেই আশেপাশে।
তবে কে ডাকলো ? ভাবছে নোবেল।
আবার ডাকলো, এদিকে এসো। দুরে তাকাতেই নোবেল দেখল , সামনে একটা পাহার। পাহারের গুহা থেকেই তাকে ডাকার আওয়াজটা আসছে।
নোবেল ঐ পাহারের দিকে যেতেই দেখে পাহারের গুহা থেকে এক বিশাল আকৃতির দেহবিশিষ্ট সাদা পোষাকধারী সেই তার পূর্বের দেখা আগন্তক বেরুয়ে আসছে।
“কি , চিনতে পারছো আমাকে? বললেন আগন্তক।
“ভয়ে ভয়ে নোবেল বলল।“ হাঁ, চিনতে পারছি।
“কি, বলেছিলাম না? তোমাকে অন্য গ্রহ দেখাবো?তোমার স্বপ্ন ছিল মহাকাশ নিয়ে জানার, তাই তোমার সেই স্বপ্ন পূরন করলাম।“ বললেন আগন্তক।
“এটা কোন গ্রহ?“ বলল নোবেল।
“এটা মঙ্গল গ্রহ।তোমাকে এর পর আরও অন্যান্য গ্রহে নিয়ে যাব।যা তুমি এতদিন মনে মনে স্বপ্ন দেখতা।মানুষ একাগ্র চিত্তে যা ভাবে বা চায় তা একদিন না একদিন কোনভাবে না কোনভাবে পূরণ হয়ই।“ বললেন আগন্তক।
একথা বলে আগন্তক নোবেলকে বললেন,“ এসো আমার সাথে।“
নোবেল আগন্তকের সাথে কিছদুর আগাতে দেখতে পেল, অনেক প্রাণী দেখতে কিছুটা মানুষের মত হলেও ওরা মানুষ নয়।গায়ে কোন লোম নেই। মনে হয় শরীর পুরে গেছে। তবেতাদের মাথা অনেক বড়।অনেক বড় বড় চোখ দুইটা জ্বলজ্বল করছে।
প্রানীগুলো যেন তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। নোবেল ভয় পেয়ে গেল।
“কি, ভয় পাচ্ছো,নোবেল?“ বললেন আগন্তক।
“হাঁ, একটু একটু ভয় পাচ্ছি। তা ওরা কারা।“ বলল নোবেল।
“ওরা খুব বুদ্ধিমান প্রাণী। মানুষের থেকেও ওরা অনেক বুদ্ধিমান। ওরা এক নিমিষেই ওদের তৈরী যান্ত্রিক দ্রুতযানে পৃখিবী ছাড়াও অন্যান্য গ্রহে ঘুরে আসতে পারে।“ বলললেন আগন্তক।
“এ প্রাণীগুলোর নাম কি?“ বলল নোবেল।
“এদের নাম এলিয়ান।“ বললেন আগন্তক।
“ও আচ্ছা, আমরা বইতে পড়েছি। এরাই এলিয়ান?“ বলল নোবেল।
“হাঁ ওরাই এলিয়ান। এরাই তো বিশ্বব্রহ্মান্ডের সব গ্রহ ঘুরে দেখাবে তোমাকে। যদি তুমি যেতে চাও।“ আগন্তক বললেন।
“চাইব না কেন? এটা তো আমার সারা জীবনের স্বপ্ন।“ বলল নোবেল।
“ আচ্ছা আপনি কে? যে আমার সারা জীবনের স্বপ্ন সফল করার জন্য এগিয়ে এসেছেন?“ভয়ে ভয়ে আগন্তককে বলল নোবেল।
“ আমার পরিচয়টা না হয় পরেই বলব।তবে শুনো, মানুষ মনে মনে যা আশা করে অথবা মনের মধ্যে আশা লালন করে স্বপ্ন দেখে তা স্রষ্টা যে ভাবেই হোক পূরণ করেন।“ বললেন আগন্তক।
“আমার স্বপ্ন পূরনের জন্য না হয় স্রষ্টা আমার আশা পূরণ করছেন। কিন্তু এর মধ্যে আপনার ভূমিকা কি বা কেন আমার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য আপনি এগিয়ে এসেছেন?“ বলল নোবেল।
“স্রষ্টা মানুষের স্বপ্ন পূরন করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একজনকে দূত হিসাবে পাঠান। আমিই সেই স্রষ্টার নির্দেশ পালনকারী দূত। পৃথিবীতে মানুষের জীবদশা খুব অল্প সময়। এই সময়ের মধ্যে তাদের মনে লালন করা অনেক স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারে না।স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।আমরা শ্রষ্টার নির্দেশমত খুব অল্প সময়ে বিশ্বব্রহ্মান্ডের রূপ দেখাই ।“বললেন আগন্তক।
“আপনি তাহলে মানুষ নন?“ বলল নোবেল।
“ঠিকই ধরেছো।“বললেন আগন্তক।
“স্রষ্টা বাবা আদমকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছেন। মানুষকে তৈরী করেছেন মাটির নির্যাস খেকে। তবে ফেরেস্তাকে বানিয়েছেন আগুন দিয়ে। আর আমি হচ্ছি শ্রষ্টার প্রেরীত দুত অর্থাৎ শ্রষ্টার হুকুমের গোলাম।“আগন্তক আবারো বললেন।
“মানুষ শুধু স্বপ্নই দেখে ।স্বপ্ন খুব একটা বাস্তবায়ন করে যেতে পারে না জীবন দশায়।কারণ মানুষ সময়ের মূল্য দিতে জানে না।তুমি একমনে মহাকাশকে জানার জন্য স্বপ্ন দেখেছিলে এবং যদিও তুমি সময়কে মূল্যায়ন করো, তবুও তোমার জীবদশায় সব স্বপ্ন পূরণ করে যেতে নাও পারতে ।অনেক বৈজ্ঞানিকরাই তাদের গবেষণার চুড়ান্ত ফলাফলে পৌঁছাতে পারে নাই।তার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে।“ বললেন আগন্তক।
“আমি তো ভাবতেই পারছি না। আজ আমি বিশ্বব্রহ্মান্ড পরিক্রমন করতে পারব।“ বলল নোবেল।
তারপর এলিয়ানরা কাছে এসে কি যেন আগন্তককে বলল। ওদের ভাষা বুঝতে পারলাম না।আগন্তক বললেন, যাও ওদের সাথে। ওরা অন্যান্য গ্রহগুলোতে নিয়ে যাবে তোমাকে এবং দেখাবে।যা তুমি এতোদিন স্বপ্নেই শুধু দেখতা।
তারপর নোবেল এলিয়ানদের সাথে দ্রতযানে উঠে বসল। দ্রুতযান নিমিষেই অন্য এক গ্রহে গিয়ে পৌঁছাল।
এই গ্রহে শুধু পাথর আর পাথর। কোথাও কোন পানি নজরে পড়ল না।গাছপালাও নেই।মনে হয় একসময় পানি ছিল।শুকিয়ে গিয়াছে।
এই গ্রহে এসে এলিয়ানরা হাতের ইশারায় নোবেলকে নামতে বলল।অমনি নেমে পড়ল নোবেল।
ওদের ভাষা তো বুঝা যায় না। আর মানুষের ভাষাও তো ওরা বুঝবে না। কি করে জানা যাবে যে এটা কোন্ গ্রহ বা উপগ্রহ ।নোবেল ভাবতে লাগল।
ওদের মধ্য থেকে একজন নোবেলকে ইসারায় ডাক দিয়ে তার হাতে রাখা একখানা ম্যাপ দেখাল। তা থেকে নোবেলের বুঝতে আর বাকী রইল না যে এটা হচ্ছে চাঁদ।আনন্দে মনটা ভরে গেল নোবেলের।খুব সুন্দর অনুভূতি জাগছে নোবেলের মনে।চাঁদে পা রেখেছে নোবেল।নোবেল খুসিতে আত্মহারা হয়ে লাফ দিতেই দেখলো শুন্যে ভাসছে।একটু চমকে গেল নোবেল। পরে চিন্তা করল, নোবেল বইতে দেখেছে,যে পৃথিবী ও চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরন তো এক নয়।চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরন পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরনের ছয় ভাগের এক ভাগ। তাই এমনটি হচ্ছে।
তারপর নোবেল পা ফসকে পড়ে গেল।অমনি মা মা বলে চিৎকার করে উঠলো নোবেল এবং নোবেলের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
ঘুম থেকে জাগা পেয়ে নোবেল দেখল সূযের কিরণ জানালা দিয়ে উঁকি মারছে।
একি দেখলাম? এটা কি স্বপ্ন নাকি বাস্তবে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদে গেলাম?ভাবছে নোবেল।
“কি রে নোবেল, উঠ বাবা।বেলা হয়ে যাচ্ছে তো।“ মা ডাকলেন নোবেলকে।
চোখ মুছতে মুছতে বিছানা থেকে উঠে নোবেল ডাকল, মা?আমি একি স্বপ্নে দেখলাম মা?বলল নোবেল।
“স্বপ্নে কি দেখেছিস বাবা! বল আমাকে।“ মা বললেন।
নোবেল বলল,“আমি তো স্বপ্নে চাঁদে গিয়াছিলাম। সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখব, সেই সময় হঠাৎ করে..................।“আর বলতে পারছে না নোবেল।
“অ্যা বাবা, স্বপ্নে তুই চাঁদে গিয়াছিলি? কিভাবে গেলি বাবা?“মা বললেন।
“সে অনেক কথা মা। পরে সব বলব মা।“বলল নোবেল।
“মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে।তা আবার বাস্তবে সত্যিও হয়। তোর এ স্বপ্ন কি কোনদিন পূরণ করতে পারবি বাবা?“ বললেন নোবেলের মা।
“কেন পারব না মা? জীবনে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হয়।“ বলল নোবেল।
“আমরা গরীব মানুষ । তাই ভবিষ্যতে তুই লেখাপড়া শিখে মহাকাশ নিয়ে গভেষণা করে বড় বৈজ্ঞানিক হওয়ার স্বপ্ন কি সফল করতে পারবি?“মা বললেন।
“অবশ্যই পারব মা? জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে স্বপ্ন দেখার সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে তবেই সবার জীবনে দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।“বলল নোবেল।
“তুই ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কথা ভাবছিস্।“মা বললেন।
“হাঁ মা। আমি তাই ভাবছি।আজ সেই আগন্তকের জন্যই স্বপ্নে হলেও মহাকাশে যেতে পেরেছি। এখনও জানিনা কে সেই আগন্তক? কেও ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে আর কেও কেও জাগা অবস্থায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে।জীবনের সফলতা আনতে হলে সবারই স্বপ্ন দেখা উচিৎ। তা একদিন পূরণ হবেই হবে।আমি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লেখাপড়া শিখে আমার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করব।“বলল নোবেল।
মা বললেন,“আচ্ছা বাবা তুই জীবনে মানুষের মত মানুষ যেন হতে পারিস্ সেই কামনা করি। আর তোর জীবনের স্বপ্ন যেন পূরণ হয়। মানুষ যেন তোকে অনুসরণ করে তাদের জীবনের স্বপ্ন পূরণ করার অনুপ্রেরণা পায় ম্রষ্টার কাছে সেই প্রার্থনা করছি।“