লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

ভালবাসার গল্প
ভালবাসা

সংখ্যা

ছায়া মানবী শুক্লা

comment ৩৪  favorite ১  import_contacts ৫,৪২১
আশীষ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র। সারাদিনই পড়াশোনা, বন্ধু বান্ধব আর গান নিয়ে সময় কাটে তার। আশীষ যেমন পড়াশোনায় মেধাবী তেমনি গানও করে দারুন. সময় পেলেই গীটার নিয়ে বসে পড়ে. আর শুরু করে দেয় হৃদয় ছোয়া যত গান. বাবা মায়ের অতি আদরের একমাত্র সন্তান সে.
আশীষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হচ্ছে শায়লা. একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে দুজনের মাঝে গড়ে উঠে বন্ধুত্ব.
আশীষ তার জীবনের ঘটে যাওয়া আনন্দ বেদনার সবকিছুই ভাগ করে শায়লার সাথে.
শায়লা হচ্ছে উচ্চবিত্ত ঘরের সুন্দরী মেয়ে. উচ্চবিত্ত হলেও শায়লার মনে কোনো অহংকার নেই. তবে শায়লা খুবই বাস্তব চিন্তাধারার মেয়ে.
এভাবেই দিন কাটতে থাকে. একটা সময় আশীষ শায়লার প্রতি নিজের দুর্বলতা বুঝতে পারে. শায়লাকে সে বলতে চেষ্টা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই বলতে পারে না. এদিকে শায়লা ও আশীষের মনের অবস্থা কিছুটা বুঝতে পারে.
একদিন শায়লার জেরার মুখে আশীষ তার মনের কথা বলে দেয়. শায়লাও আর মানা করে না. সেদিন থেকে আশীষ এর জীবন আরো আনন্দময় হয়ে উঠে. ধীরে ধীরে দুজনের ভালবাসা আরো গভীর হয়. দুজনেই ভালবাসার নীল আকাশে মুক্ত পাখীর মত উড়ে বেড়ায়.
এরই মধ্যে একদিন আশীষ ক্লাস এ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে. ওকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়. কিছুদিন পর জানা যায় আশীষের ক্যান্সার ধরা পড়েছে. ও আর বেশিদিন বাঁচবে না. আশীষের মা বাবা পাগলের মত হয়ে যায়. শায়লা এ খবরে খুবই মর্মাহত হয়. একদিন শায়লা হাসপাতালে যায় আশীষের সাথে দেখা করতে. বাস্তববাদী হওয়ার কারণে শায়লা সেদিন আশীষ কে মানা করে দেয়. আশীষ কে তার ভালবাসা ফিরিয়ে দেয়. শায়লা এরপর পরই বিদেশ চলে যায়. আশীষ এ ঘটনায় আরো ভেঙ্গে পড়ে.

আশীষ ভাবতে থাকে যাকে সে এত ভালবাসল আজ সেই তাকে ছেড়ে চলে গেল. জীবনের শেষ কয়েকটা দিন আশীষ চেয়েছিল সবচেয়ে প্রিয় মানুষ শায়লা কে নিয়ে কাটাবে. আজ সেই শায়লা তাকে একা করে চলে গেল.
আশীষ কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসলো. সেখানে সে শায়লা কে নিয়ে একটা গান লিখল এবং সুর করলো.
''ও আমার ভালবাসা,
তোমায় আমি অনেক ভালবাসি,
অনেক ভালবাসি,
তোমার ভালবাসায় আমি ধন্য হতে চেয়েছি .
আমি এমন একটি সূর্য দেখেছি যার কোনো রশ্মি নেই,
আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখেছি যার কোনো বাস্তবতা নেই,
তুমি আমার প্রিয়তমা, কখনো জানলে না, কখনো বুঝলে না,
আমার ভালবাসা আর আমার কষ্ট.
তাই নিজের অজান্তেই আজ মনে মনে বলি,
আমি অনুভব করি, আমি একা সবচাইতে একা.........
গানটা তৈরী করার ১৫ দিন পরই আশীষ মারা যায়
কয়েক মাস পর শায়লা দেশে ফিরে আসে. দেশে ফিরেই শায়লা আশীষের মৃত্যুর খবর জানতে পারে আর শায়লা খুঁজে পায় সেই গানটি যেটা আশীষ শুধুমাত্র শায়লার জন্য তৈরী করেছিল. পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর এবং বেদনাময় উপহার .
যখন শায়লা গান তা সুনে তখন সে বুঝতে পারে যে সে কি ভুলটাই না করেছে আশীষ কে মানা করে. শায়লা কিছুদিন পরই আত্মহত্যা করে.
আর এভাবেই শেষ হয় ভালবাসার গল্প ..............

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement