গরিবের ঘরে জন্মানোই যেনো আজন্ম পাপ।
আর তা যদি হয় মেয়ে, বর্তমান সমাজে বলা যায় চির অভিসাপ।যৌতুক প্রথা,আর কিছু ভ্রান্ত ভুল ধারনা,যা কন্যা শিশুকে অবহেলা পাত্রী ও বোঝা মনে করা হয়।এ যেনো স্বাধীনতা আর ন্যায্য অধিকার হরন।তা আর পরিবার আর সমাজ থেকে।দেশ স্বাধীন হয়েও যেনো,
পরিবার ও সমাজে নারী পরাধীনার স্পষ্ট ছাপ।

তবুও প্রকৃতির নিয়মেই গরিব পরবিবারে জন্মালো মেয়ে! নাম তার সখিনা।যেদিন সখিনা জন্মালো সবাই খুব খুশি ছিলো, কারন পরিবারের প্রথম সন্তান।দাদা-দাদি, নানা-নানী পাড়া প্রতিবেশী সবাই। আর বাবা-মা তো আরো বেশি। সবার আদরেই বড়ো হতে লাগলো সখিনা।সখিনা যখন হাটা- চলা ও কথা বলতে শিখলো।তখন তাদের পরিবারে এলো আরে এক কন্যা সোহানা।আর তখন থেকেই শুরু আসল জীবনের গল্প,সখিনাদের স্বাদিনতা।

বাবা দিনমজুর,দৈনিক যা কাজ করে, তাই সংসারে ভরনপোষণে শেষ হয়ে যায়।এমিতেই দুই মেয়ে তারপর তিন নম্বরটি যদি হয় মেয়ে।তাহলে আর কে পায়।তাই হলো সখিনার বেলায়।তৃতীয় বোন পেয়ে সে তো খুশি।কিন্তু বাবার বাড়লো যেনো মাথার বোঝা।
রিতি মতো সংসার চালাতে হিমশিম সখিনার বাবার।তাই মা না পেরে অন্যের বাড়িতে কাজ নেয়।আর সংসারের কাজ এসে পরে ছয় বছর বয়েসি সখিনার ঘাড়ে।ভর্তি তো হয়েছিল স্কুলে , কিছু যাওয়া আসাও হয়েছিল। যখনি সংসারের কাজ সামলানো ভার এসে পরলো।আর তার উপরে দ্বিতীয় বোন তার সাথেই বাসায় থাকে।মা তো সকাল যায় কাজে মাগরিবে বাড়ি ফেরে।বাবা কাজের খোঁজে ঘোরে ফিরে।সব মিলিয়ে সখিনার এ বয়স থেকেই ব্যাস্ত জীবন শুরু।কষ্ট হলেও ঘরের সব কাজ সামলিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা।এভাবেই পঞ্চম শ্রেনী অবদি লেখাপড়া।সখিনার পড়ালেখার অনেক শখ।আর সবার মতো সেও স্বপ্ন দেখে পড়াশোনা করে জীবনে বড়ো কিছু করার।

প্রাথমিকে পাস করার পর এবার মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পালা।তা নিয়ে নানা বাধা বিপত্তি। অর্থের অভাব আর পরিবারের কাজের দায়িত্ব। আর বাবা মাও আর তাকে লেখা পড়া করাতে ইচ্ছুক নন।তবুও সখিনা নিজের জোড়ে কোন রকমে অন্যের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে,মাধ্যমিকে ভর্তি হয়।কিন্তু নিয়মিত যাওয়া হয়ে উঠেনা।কারন তার বিদ্যালয়টা বাসা থেকে অনেক দূর।আর বাসার কাজ সামলে সঠিক সময়ে পৌছাতে সে হিমশিম খেয়ে যায়।
তার উপর যদি হয়।পরিবার আর আর্থিক সমস্যা।
তাই পড়াশোনা আর হলোনা। এক নিমিশেই নিশ্বেস হয়েগেলো কিছু সপ্ন কিছু আশা।তার পর চলতে থাকে দু বছর এভাবেই।

যখন সখিনার বয়স তেরোতে আসে,তখন তার বাবা মা ঠিক করে তার বিবাহ দিবে।রীতিমতো পাত্রও ঠিক, তার থেকে প্রায় দিগুণ বয়সের লোকের সাথে তার বিবান ঠিক হয়।যার কি,না আগের বই ছেড়ে চলে গেছে।আর তার বাবা মা এজন্যই বিবাহতে রাজি, ছেলে বিয়েতে কোন টাকা নিবেনা খরচ দিয়েই বিয়ে করে নেবে।সখিনা রাজি নন, তখনি পরিবার থেকে নানা রকম চাপ দিতে লাগলো।তখন তার কথা কেই বুঝতেই চাইলোনা।সখিনা ভেবেছিল নিজে কর্ম করে কিছু একটা করবে। তবুও নানা চাপ ও তাপের পর সখিনা হার মেনে নিলে জীবনের কাছে।আর যা হবার তাই হলো, সখিনার বিয়ে হয়ে গেলো।এভাবে কয়েক বছর পর তার দ্বিতীয় বোনেরও বিয়ে হয়ে গেলো।

সখিনার গল্প হয়তো ওখানে শেষ। কিন্তু এমন হাজারো সখিনা আমাদের পরিবার ও সমাজে রয়েছে।যারা চায় নিজের মতো করে বাঁচতে। নিজের মেধা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে।নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এ আশাগুল শুধুই দূরাশা।শতকরা ৭০%মেয়েরা আমাদের সমাজে লেখা পড়া করার সুযোগ পেলেও।মাধ্যমিকে এসে ঝরে যায় ৫০%।আর বাকি ২০%নানাবিধ প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হয়ে এগিয়ে যায়।তবুও শেষে অবদি বাকি থাকে হাতেগুনা কিছু যারা। নিজ ও পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পুর্ন সাপোর্ট পায়।

এর মূল কারনেই রয়েছে, আমারদের সমাজে অপসয়ংস্কৃতি, নানা কু প্রথা।অনেকেই কন্যা সন্তানকে পরিবারের বোঝা মনে করেন।তারা ভাবেন মেয়ে সন্তান বেশি ঘরে রেখে লাভ নেই। শুধু শুধুই টাকা নষ্ট,আর যৌতুকের ভয়তো আছেই।আর এ ধারনা কারনে অধিকাংশ পরিবারে পিতা- মাতার অবহেলার পাত্রী হয়ে ওঠে মেয়েরা। ভালো জামা কাপড়, খাওয়া দাওয়া। আর লেখা পড়াতো বলা হয় নদীতে টাকা ফেলিতেছি। তারা লেখা পরে কী করবে
ঐ সংসারে উনুন সামলানো ছাড়া।আর চাকরি পাওয়া কী অতো সহজ ।কত জনেই লেখাপড়া করলো, দেখতেছিনা কতো কী করলো।শুধু শুধু কষ্টের টাকাগুল অকাজের পিছনে গেলো।এ ধারনাগুল প্রত্যেকটা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে আছে।
যার জন্য আজও মেয়েরা।স্বাধীন দেশে থেকেও একটা পরাধীন চক্রের মধ্যে বন্দি হয়ে আছে।

ছোট বেলা থেকেই ঘরের কাজে জড়িয়ে দেওয়া।নান সময়ে নানা রকম অমানুষিক ব্যাবহার।যা পরিবার থেকেই শুরু হয়।আর তা দেখে সমাজে নান কানাঘুষা তো আছেই।এ যেনো বাড়ি স্কুল ও বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ জীবন।ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,শিক্ষক,পরিচালক পুলিশ, উকল জজ,ও ব্যালিস্টর ইত্যাদি স্থানে নিম্নবিত্ত ঘরের মেয়েদের কল্পনাও করা কষ্টের।
আর কোন মতে যদি কেউ ঐ স্থানে পৌঁছায় তাহলে,সমালোচিত খবর হয়ে যায়।

একটু বদলানোর দরকার, আমাদের ভ্রান্ত ধারণা, কু প্রথা ও সমাজে কিছু বিষাক্ত নিতি।মেয়েদের শুধু কোন রকমে বড়ো অন্যের হাতে তুলে দেওয়া নয়।
তাদের নিজের স্বপ্নগুলকে পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হোক। তাদের প্রতি অন্তত একটু যত্নশীল হওয়া উচিত।উচিত তাদের বোঝার তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দিয়ে একটু পরিবর্তন হোক।

তাই আসু বলি,
নারী সন্তানের যত্ন নিই,সুন্দর স্বাধীন জীবন দেই।