মুখভরা বিরহের যন্ত্রণা নিয়ে,রাতের আকাশে চেয়ে আছে সায়েমা।
কথায় আছে সুখের দিন গুল খুব দ্রুত চলে যায়।
তার পর আসে দুঃখের কালিমাখা আধার। সায়েমার বেলাতেও যেন ঠিক তা-ই। কতো সুন্দর ভাবেই না কাটছিল তাদের জীবন।বুঝলেন নাতো,চলুন ঘুরে আসি দুই বছর পিছনে ২০১৭ তে।

সায়েমা আর সজিব একই গাঁয়ের। দূজনে স্কুল বা কলেজে যায়।তবে কেউ আগে কাউকে চিনতো না,কারন একি গাঁয়ের হলেও গাঁয়ের পূর্ব -পশ্চিমে ছিল বাড়ীর ব্যাবধান।তো একদিন পশ্চিম পাড়াতে বিশাল মেলা বসলো।সজীব ততটা মেলায় যাওয়া পছন্দ করতো না। তবে বন্ধুদের টানাটানিতে না গিয়েও পারলো না।যে কথা, সে কাজ সব বন্ধুরা মিলে মেলায় হাজির।অনেক ঘুরাঘুরির পর এবার বাড়ি যাবার পালা।হঠাৎ একটা আওয়াজ কানে ভেসে এলো সবার!কে যেন কাদুঁ কাদু্ঁ সুরে বলছে থামাও থামাও!বন্ধরা বললো ওটা নাগোরদোলায় কাছ থেকে।
তার পর সবাই গেল সেখানে, সেখানে কিছু মেয়ে নাগরদোলায় চেপে দোলাচ্ছে,আর তাদের কেউ ভয়ে চিৎকার করছে,আর বাকিরা বলছে চালিয়ে যাও ভালো লাগছে।তো এ দেখে সজিব নাগরদোলা চালোককে বললো থামাও মেয়েটা ভয় পাচ্ছে ওকে নামিয়ে,আবার চালও।তারপর সজীবের জোড়াজুড়িতে লোকটি নাগোরদোলা থামিয়ে মেয়েটিকে নিচে নামালো।চাঁদনি রাতের হালকা আলো আর লাইটের উজ্জ্বল আলোতে সজীব মেয়েটিকে দেখতে পায়।মেয়েটি তখনও ভয়ে কাপছে,মুখ ভয় ও রাগে লাল হয়ে আছে।সজীবের সহযোগিতার জন্য, তাকে ধন্যবাদ দিয়ে মেয়েটি সোজা
বাড়িতে চলে যায়।সে মেয়েটিই হলো আজকের সায়মা।বান্ধবীরা তার ভীতির কথা জেনেই একপ্রকার জোর করেই চাপিয়েছিল নাগরদোলায়।

তার পর,নাটক বা সিনেমার মতোই অনেকটা।
জোৎছনায় মাখা, ভীত ও রাগান্বিত মুখের চাহনি,আর
শীতল কন্ঠের আওয়াজে পাগল প্রায় সজীব।
ওদিন আর রাতে ঘুম হলো না।হবেই কি করে মেয়েটির চিন্তায় যে সে বিভোর। সকাল হতেই চলে বন্ধুদের বাড়ি,মেয়েটি দিশা খুজতে।বন্ধুরা একটু দর্শি টাইপের, তাই তারা মেয়েটাকে চিনতো।তার পর থেকে মেয়েটির নাম জনলো ছায়েমা।মজার বেপার তারা একি রাস্তায় ছায়েমা স্কুলে ও সীব কলেজে যেত।
তার নাটকের মতো অপেক্ষা করতে করতে একদিন দেখা।ঐ দিনের উছিলায় কথার শুরু, আর এ শুরু থেকে মাঝে মাঝে মাঠে ঘাটে কিংবা রাস্তায় দেখা দেখি।আর দেখা দেখিতে প্রেমের গভিরতা বেড়ে চলে দিন দিন।আর এ খবর বন্ধু বান্ধব থেকে পাড়াপ্রতিবেশি এক কথায় গাঁ জুড়ে কানাকানি।
তারপর কি আর গায়েঁ যা হয় সম্মান বাঁচাতে দুই পরিবারের সম্মতিতে হলো বিবাহ দু'জনের।

এরপর তাদের আর পায় কে।ঘুরাঘুরি, সিনেমা আর পার্কের বেঞ্চে চুটিয়ে প্রেম নিজেদের মতোন করে।
কেউ এখন আর বলার নেই। কিছুদিন পর সজীবে বাবা বলে এবার কোন কাজে লেগে যেতে।যেহেতু সে এখন বিবাহিত, সেও ভাবলো একটা কাজ নিতেই হবে।ততদিনে তারা দুজনে এসএসসি আর এইচএসসি দেওয়া শেষ। যে কথা সে কাজ, কোন এক ব্যাংকে ডাটা ওপরেটরের কাজ নেয়।ব্যাংক ছিলো গাঁয়ের থেকে একটু দূরে যার ফলে গাড়িতেই,আসা- যাওয়া।এমনি করে চলতে গেল, বেস কিছু দিন আর সন্তান হওয়ার খুশির খবরও পেয়েও গেলো তারা।তাই সজীব ভাবলো গাড়ীতে আর ব্যাংকে যাওয়া নয়। এবার নিজেই বাইক কিনে বাড়ি ও ব্যাংকে আসা-যাওয়া করবে।তাহলে সন্তান ও ছায়েমাকে একটু বেশি সময় দিতে পারবে।তাই কিছু দিন পর বাইকও কেনা হয়ে গেল, আর তাতেই আসা যাওয়া।যে দিন তাদের বাবুটা দুনিয়ায় আসবে সে সকালে হঠাৎ সায়েমার পেটে বেথা শুরু হয়।তাই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডাক্তারখানা ।তারপর আসে সেই খুশির সংবাদ, সজীব একটি ফুটফুটে ছেলের বাবা হয়েছে।যেহেতু সজীবের চাকরি আছে পরদিন তাই, সে নিজ কাজে চলে যায়।এক কথায় বাধ্য হয়েই।এক দিনেই ছেলের প্রতি তার মায়া বেড়ে গিয়েছিল তাই মন যেতে সায় দিচ্ছিলো না।কি আর করার , প্রাইভেট ব্যংক যেতে হবেই।কাজে গিয়েও তা আর কাজে মন বসেনা,কখন যে, সে আবার তার বাবুটাকে কোলে নিয়ে আদর করবে সে আশাতেই থাকে।সায়েমা ডাক্তারখানা থেকে বাড়িতে ফেড়ার পর, দু'জন মিলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা করে। এভাবে চলে যায় কিছু দিন

একদিন কাজ থেকে ফিরার পথে, ক্লান শরীর আর ছেলে অসুস্থ শুনে একটু অন্যমনস্ক। কথায় আছে বিপদ যখন আসে বলে কয়ে আসে না।একটি ট্রাকের
গতি হারিয়ে তার বাইকের সাথে ধাক্কা।
যা হবার তাই হলো!দূর্ঘটনায় শজীবের মাতায় ভেঙে চুরমার আর রাস্তায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো।
কতো আশা কতো সপ্নের এক নিমিষেই রাস্তায় মিশে গেল।শিশুটির মাত্র চল্লিশ দিন বয়স।

কান্না আর কষ্টে পাথর ছিলো ছায়েমা কয়েক মাস।শেষে অনেকে বোঝানোর পর সন্তানে দিকে তাগিয়ে, সজীবের সাথে সন্তান কে নিয়ে সপ্ন পূরণ করতে সে নিজেকে শক্ত করে।সে আজ চায় সজীবের দেখা সপ্ন তার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করবে।

কিছুদিন পর মেয়ের কথা ভেবে ছায়েমার পরিবার তাকে বাড়িতে নিতে আসে।তাকে অন্য জায়গা বিয়ে দেবে বলে।সজীবের বাবা মাও অনেক ভালো ছিলো। তাই তারাও না করলো না।
কিন্ত ছায়েমা তার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছে। সে সকলকে বলেদিয়েছে তার নিয়তি।সে সজীবে ভালোবাসাকে আকরে ধরে বেচে থাকতে চায় আজীবন।এর পরও নানা বাধা এসেছিলো তার জীবনে।একটি সমাজে একলা যুবতী বিধবার নারীর যা হয় আর কি।তবুও শত ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে।ছায়েমা আজো আকাশে দিকে তাকিয়ে ঐ তাঁরার মাঝে সজীবকে খুঁজে নেয়।এভাবেই সজীবের সৃতিগুলআর শেষ ভালোবাসা সজীব ও ছায়েমার ছেলেকে নিয়ে জীবন চলে ছায়েমার।
তাদের ভালোবাসা মরেও অমর হয়ে আছে আজও।

মনে পারে গেলঃ সুশীল গঙ্গপাধ্যায়ের ভালোবাসি ভালোবাসি কবিতাংশঃযেখানে বলা হয় যদি ভালোবাসার মানুষটি যদি পৃথিবী ছেড়ে মাটির নিচে চলে যায়।আর তখন তার প্রিয়তমা তাকে চিৎকার করে ডেকে বলবে যে ভালোবাসো?সে কী বলবে ভালবাসি। ছায়েমার চরিত্রটা যে সে চরিত্রের অনুরূপ।

শুনেছি ভালোবাসা পরিস্থিতির কারনে রং বদলায়।
সজীব -ছায়েমার ভালোবাসা প্রমান করলো, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো রং বদলায়। বেঁচে থাকুক ভালোবাসা চিরকাল।?