পৌষ এসেছে বাংলায় , এনেছে রমনীর মুখে হাসি,
হাতের নিপুনতা
উনুন পাশের আনন্দ ভাপাপিঠা ধোঁয়া ওঠা ।
মাছের ঝোল দিয়ে খাও , আর খেজুরের গুঁড় দিয়েও খাও ,
আহ কী আয়েশ !
আরও মজাদার খেজুর রসের পায়েস।
খেজুরের রস ওয়ালার হাঁকে ভাঙ্গে ভোরের অলসতা
মৌ মৌ গন্ধ তার বাড়ায় ব্যাকুলতা ।
ঘাসের ডগার শিশির কণার হাসি
বাঙ্গালীর মন চিরোদিনই করে উদাসি।
শেষ হয়েছে ফসল তোলা, গোলা গেছে ভরে
বাংলার ঘরে ঘরে পৌষের উৎসব থামবে কী করে ?
মুড়ির নাড়ু আর তেল পিঠা আকাশ বাতাস করেছে সুবাসিত
আত্মীয় স্বজন ডেকেছে সবাই আছে যার যত।
শহরেও গলি মোড়ে বসেছে দোকান , বানাইছে কত পিঠাপুলি
নিজে খেয়ে নিয়ে যায় স্বজনের লাগি।
বেড়ে চলেছে লাউয়ের ডগা লাউ ধরেছে শত শত
মাঠ জুড়ে সব্জির সমারোহ শিমও যে ধরেছে কত!
বাঁধাকপি,ফুল কপি, শাক শব্জি আরো মেলা
কৃষক বধু আনে তুলে ভরে তার ডালা ।
ক্রেতারাও কিনে ব্যাগ ভরে ভরে
এমন যদি থাকত সারা বছর ধরে !
আহ ! ধনের পাতার চাটনি ! কী যে স্বাদ না !
যে খায় না ! সে বুঝবে না !
সরষে ফুল মারছে উঁকি হলুদ গাঁদার সাথে পাল্লা দিয়ে
কত কবি লিখছেন কবিতা পৌষের রুপ নিয়ে।
গোলাপ , ডালিয়া আরো নাম জানা অজানা কত ফুল
এসেছে পৌষের সাথে, হেসে না পায় কুল।
কমলা, আপেল,জলপাই ,কচি বরই, কচি তেঁতুল ,
আরো দেশি বিদেশি নানা ফল
শান্ত রয়েছে খালবিল ,নদী্ পুকুরের জল ।
বিদেশী পাখি ও হাঁসেরা নিয়েছে ঠাঁই বাংলার খাল বিল আর নদীর তীরে
আহ কী অপরুপ ! আমি দেখি ফিরে ফিরে ।
ভ্রোমরের গুন গুন আর মৌমাছির নাচে,
ঝরে যায় মলিন পাতা যত আছে ।
পৌষ এনেছে নব পল্লবের নব বারতা
মুছে যাক মলিনতা ফিরে আসুক নবিনতা ।
কনকনে শীত পড়েছে বটে আছে তো লেপ , কম্বল আর নকশি কাঁথা
যার নাই তারে দেই ভাই দু একটা ।
পৌষের উৎসব করি ভাগাভাগি
এসেছে এ উৎসব বাংলায় সকল বাঙ্গালীর লাগি।