বিষাদী মেয়েটি একলা চলছে কেনো?
দু'হাতে রঙিন মেহেদী পাতার বাটা
একাকী চপলা চলতে চলতে যেনো
প্রতিটি কদমে মাড়ায় বিষের কাঁটা

গোছানো খোঁপাতে নেই যে কদম গোঁজা
কাজলে কালিতে মুখটি কেমন লেপা
বিপুলা কপালে টিপটি নাই যে সোজা
মাধুরি মেশানো চরণ যুগল ক্ষ্যাপা

সহসা তরুণী ঢুকরে ঢুকরে কাঁদে
ঝরালো অঝোরে বারিষ নিটোল গালে
শাড়িটি গড়িয়ে পায়ের তলায় বাঁধে
সারাটি দেহ-ই কাঁপছে কাঁদন তালে

এতটা বিষাদী দেখতে পাই নি আগে
চলেছে কোথা সে বুঝতে পারছি না যে
বিষাদী চাহনি দেখতে বিষাদ জাগে
কী জানি বিষাদী চলছে কিসের কাজে

নাকে তে লতানো সোনার নোলক খুলি
বিষাদী সহসা ছিঁড়লো কিসের দুঃখে
মেহেদী মাখানো রঙিন দু'হাত তুলি
'বিধাতা' 'বিধাতা' বলছে করুণ মুখে

কী জানি কেন যে আমার চোখের কোণে
কেন বা জমেছে জলের ঝিলিক কণা
বিষাদী মেয়েটি হয়তো আমার মনে
নিজেকে করেছি হয়তো তার কল্পনা


আমাকে দেখেছি আরেক মেয়ের বেশে
বেদনা মাখিয়ে দেখছি আমার ছায়া
একাকী মনটি না পাই দোসর শেষে
নিজেকে নিজে-ই দেখায় খানিক মায়া

চারিদিকে কতো সুখের-ই আয়োজন
প্রেমালাপে কতো মধুর কথন ঝরে
অথচ বিষাদে আমার-ই ভাঙ্গা মন
দুয়ারে দুয়ারে সুখের বায়না ধরে।