একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ যন্ত্র ছাড়া আকাশে ভাসবে।
লাগবেনা কোন পাখা, থাকবে না কোন চাকা।
শুধু মনোবিজ্ঞানের যাদুর ছোয়ায় পাখির পরিচয়।
সেদিন বেশি দূরে নয়,
যদিও ঘুমের রাজ্যে মাঝে মাঝে
মনের মতো শূন্যে ভাসা হয়।

একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ অস্ত্র ছাড়া প্রাণঘাতী যুদ্ধ চালাবে।
লাগবেনা কোন সৈন্য, থাকবেনা কোন চিহ্ন,
শুধু অদৃশ্য শক্তির কাছে হবে পরাজয়।
সেদিন বেশি দূরে নয়,
যদিও চীনা ভাইরাসে প্রমানিত,
আজ অস্থির বিশ্বময়।

একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ বন্ধু ছাড়া প্রযুক্তির দোলনাতে দোলবে।
লাগেবে না খেলার মাঠ, থাকবেনা স্কুলের পাঠ।
শুধূ ভার্চুয়ালের ঘোড়ায় চেপে জীবন গতিময়।
সেদিন বেশি দুরে নয়
যদিও আজিকেই মোবাইল আসক্তির
কুফলে বিষাক্ত পরিনয়।

একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ মানবিকতা ছাড়া রোবটের ন্যায় চলবে।
লাগবেনা কোন সামাজিকতা , থাকবেনা কোন আত্নীয়তা।
শুধু স্বার্থপরতার মুকুটপড়ে দিব্যজ্ঞানে পাষান হৃদয়।
সেদিন বেশি দূরে নয়
যদিও অন্যায় দেখে আজিকেই চলে
জীবন্ত লাশের অভিনয়।

একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ মেঘ ছাড়া কৃত্রিম বৃষ্টি ঝড়াবে,
লাগবেনা কোন গাছ, থাকবেনা কোন বনায়নের কাজ।
শুধু বোতল ভর্তি অক্সিজেন কাধেঁ চেপে বেঁচে থাকার যুদ্ধজয়।
সেদিন বেশি দূরে নয়
যদিও যান্ত্রিকতার অবদানে আজিকেই হাসপাতালে
আইসিইউতে নিশ্বাস কেনাবেচা হয়।

একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ কোন মাধ্যম ছাড়াই হাজার মাইল দূরের কথা শুনবে।
সেদিন বেশি দূরে নয়
যদিও স্যাটেলাইটের অবদানে অনুরুপ বেতার বার্তা প্রেরিত হয়।

একদিন আসবে
যেদিন মানুষ মনুষত্ব হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য লড়বে,
সেদিন বেশি দূরে নয়,
যদিও পারমানবিক অস্ত্রের কাছে আজিকেই মাথা নত হয়।


একদিন আসবে,
যেদিন মানুষ না খেয়ে বছরের পর বছর বাঁচবে।
লাগবেনা ক্ষুদার আবেশ, থাকবেনা ক্লান্তির রেশ।
শূধূ খেতে হবে একটি টেবলেট যাতে শক্তি হয়।
সেদিন বেশি দূরে নয়,
যদিও মহাকাশ ভ্রমনে আজিকেও কিছুটা
ঔষধ প্রয়োগ হয়।

একদিন আসবে
যেদিন মানুষ পরিশ্রম ছাড়াই মাঠ ভরা ফসল ফলাবে।
লাগবেনা কোন কল, থাকবেনা কোন লোকবল,
শুধু বীজ বপনের অপেক্ষা,
সেদিন বেশি দূরে নয়
যদিও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে ক্ষুধার রাজ্যে মহাপ্রলয়।


অসমাপ্ত