গল্পের বিষয় ছিলো একটি বিয়ে। এখানে অভাবের তাড়নায় বাবা তার মেয়েকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। সেই বিয়ে নিয়ে বাধে আরো ঝামেলা। বিয়েই ডেকে আনে ঘোর অমানিশা।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - একটি বিয়ে (আগস্ট ২০১৯)

অভাবের বিয়ে
একটি বিয়ে

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৮

Mahbubur Rahman

comment ৩  favorite ১  import_contacts ২৩২
কাশিপুর গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে পরী। শুধু নাম নয়, রুপ আর গুন সব দিক থেকেই সে পরী। গ্রামের যুবক ছেলেদের হৃদকম্পন, অন্য সকলের গায়ের জ্বালা ধরার কারন। সে যেখান থেকে হেটে যায় সেখানে হয়তো মুক্তা ঝড়ে, অমাবস্যার রাতও যেনো জ্যোৎস্নাশোভিত হয়ে যায় তার রুপের যাদুতে। তার কাজল কালো চোখে নিজের জীবনের জন্ম মৃত্যু দেখে ফেলে অনেকেই। তার ভ্রমর কালো কেশ যেনো শত পুরুষের সঞ্জীবনী শক্তি। শত সহস্র প্রেম নিবেদন তার পায়ের উপর পড়ে থাকে প্রতিনিয়ত। তবে তার কোনোটাই তার প্রতি ভালবাসা নয়, তার রুপের প্রতি মোহ। তার পারিবারিক অর্থনৈতিক দোটানার প্রতি করুনাও বলা চলে। সবাই বলে আমার সাথে বিয়ে হলে অভাব থাকবে না, কেউ বলে তুমি অনেক বড়লোক হয়ে যাবে। কিন্তু একদিন কেউ আসলো না যে,হাত বাড়িয়ে বলবে ভালবাসি। দু'জনে মিলে হাজারো রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেয়ার স্বপ্ন কেউ দেখালো না। অবশ্য একজন সে স্বপ্ন দেখে, তার নাম রমিজ। ছেলেটা শান্ত, সহজ-সরল প্রকৃতির। সে হয়তো সত্যিই পরীকে ভালবাসে কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না। আর পরীও পাত্তা দেয় না। কারন গরীবদের জীবনে ভালবাসা পাপ। তাই সে জানে এসব করলে তার বাবা অনেক কস্ট পাবে হয়তো। রমিজ একদিন গিয়েছিল পরীর বাবার কাছে, মুখফুটে না বলতে পারলেও ইনিয়েবিনিয়ে যা বলার বলেছে। পরীর বাবা একদম চরম শাসানো শাসিয়ে দিয়েছে রমিজ কে। ঋণের দ্বায়ে মানুষটা নুয়ে পড়ছে দিনদিন। যাদের কাছে ধারদেনা আছে তারা প্রত্যেকে এসে তাগেদা দেয়, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলেই দেনা মওকুফ হবার ইঙ্গিত দেয়। পরীর বাবা সব বোঝে কিন্তু কি করবে বুঝে পায় না। একদিন সকালে গ্রামের মহাজন বাসায় এসে হাজির। তার দেনা শোধ না করলে আজকের মধ্যে ঘরছাড়া হতে হবে। তবে এক শর্তে ঋণ মওকুফ হতে পারে তা হচ্ছে পরীর সাথে তার বিয়ে দিতে হবে। তার ছেলের সাথে দিতে হবে বললেও হয়তো মানা যেতো কারন মহাজনের ছেলে নাসিম আর পরীর জন্ম একই বছরে। কান্নায় ভূলন্ঠিত হওয়া ছাড়া পরীর বাবার আর কিছুই করার রইলো না। মহাজন দুপুর পর্যন্ত সময় দিয়ে গেলো এর মধ্যে যেকোনো একটা সমাধান করতে হবে। তাদের বাড়ি ছেড়ে পালানোর সুযোগ থাকছে না কারন বাড়িতে মহাজন পাহারাদার বসিয়ে গেছে। প্রায় দুপুর হয়ে আসলো, পরীর বাবা তার মেয়ের দিকে তাকাতেই পারলো না, কোনো কথা বলা তো অনেক পরের হিসাব। কিন্তু মুখ খুললো পরী। বাবার কাঁধে হাত রেখে সে বললো, তোমার কস্ট আর দেখা যাচ্ছে না। আমি মহাজনের সাথে বিয়ে করতে রাজি, তবু তোমার কান্না দেখতে চাই না। তার বাবা বলল "না মা, আমি বাপ হয়ে তোর এত বড় ক্ষতি হতে দেবো না, প্রয়োজনে মহাজনের হাতে জীবন দিবো" পরী বলে উঠলো, "আমার কসম, তুমি যদি রাজি না হও তাহলে আমার মরা মুখ দেখবা" সে রাজি হয়েছে কিনা জানিনা তবে মহাজনের কাছে বিয়েতে রাজি হবার খবর পৌঁছে গেল। বাড়িতে একে একে বিয়ের সামগ্রী আসতে লাগলো। সে কি আয়োজন, পরীদের কিছুই করা লাগলো না। রমিজ একবার উঁকি দিতে এসেছিলো কিন্তু মহাজনের লাঠিয়ালের ধাওয়া খেয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, পরীকে অপরুপ রুপে সাজানো হয়েছে। মহাজন বিয়ের বহর নিয়ে চলে এসেছে। বিয়ে ঠিক যখনই শুরু হতে যাবে তখনই বাদ সাধলো মহাজনের ছেলে নাসিম। সে পুলিশ নিয়ে হাজির। মায়ের অমতে বিয়ে করছে বলে সে বাবাকে ঠেকাতে এসেছে। মহাজন দৌঁড়ে জায়গা ছেড়ে পালালো। মহাজনের টাকা শোধ করে দেয়ার কথা দিলো নাসিম। কিন্তু বিপদ তাতেও গেলো না,পরীর বাবা এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। সে বলতে লাগলো, "গরীব ঘরের মেয়ের বিয়ে ভাঙার চেয়ে বড় অপয়া আর কিছু হতে পারে না। আমার মেয়েটার কি হবে?" নাসিম বললো, "কিছুই হবে না, আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে বিয়ে আমি করবো" উপস্থিত সকলেই তখন জয়ধ্বনি তুললো, গ্রামের সবাই রাজি পরীর বাবা রাজি তো হলেনই বরং খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। একই মঞ্চে বিয়ে হলো নাসিম আর পরীর। পরী খুশি হতে পেরেছে কিনা কে জানে। অবশ্য গরীব ঘরের মেয়ের আবার খুশি! বিয়ে হচ্ছিলো বাবার সাথে! তার চেয়ে তো ভাল হয়েছে। বিয়ের পরদিন নাসিম পরীকে নিয়ে শহরে চলে গেলো। শহরে তার বিরাট ব্যবসা,বিরাট আলিশান বাড়ি। সেখানেই রাজরানি হয়ে থাকবে পরী, গরীবের বেটির এত সুখ সইবে কিনা কে জানে! সেখানে যাওয়ার পর খারাপ লাগছিলো না পরীর, চাকর-বাকরের আদর আপ্যায়ন আর পায়ের উপর পা তুলে খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেলো সে। বাবা মাঝে একদিন এসে ঘুরে গেছে, বাবাকে বলেছিলো থেকে যেতে কিন্তু থাকলো না। গ্রামের মানুষগুলোর এই এক আবেগ! বাপদাদার ভিটেমাটি তারা ছাড়বেই না। মৃত্যু পর্যন্ত আগলে রাখবে। এভাবেই দিন চলতে চলতে একদিন দুর্দিন ঠিকই আসলো। একরাতে নাসিম আসলো অনেক দেরী করে, গভীর রাতে। দরজা দিয়ে ঢোকার সাথে সাথে বিকট গন্ধ আসতে লাগলো। পরী গ্রামের মেয়ে হলেও বুঝতে পারলো এটা মদের গন্ধ। পরী নাসিমকে জিজ্ঞেস করলো, "এত দেরী করে ফিরলে যে, তাও আবার মদ খেয়ে!" নাসিম সাথে সাথে পরীর গালে সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিলো আর বললো, "তার কৈফিয়ত তোর কাছে দিতে হবে ফকিন্নির বাচ্চা। ফকিন্নি ফকিন্নির মত থাকবি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে একদম খুন করে ফেলবো" পরী কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না তার আগেই নাসিম ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপর। মারার জন্য নয়, ভালবাসার জন্য। তবে আদর সোহাগের মিশ্রিত ভালবাসা নয়, কোমল ভালবাসা নয়। উগ্রতাকে ভেদ করে তারও উপরের কোনো ভালবাসার স্পর্শ নিয়ে। যে স্পর্শ প্রেমানুভুতি জন্মায় না, জন্মায় বেদনা, আর রোমহষর্ক অভিজ্ঞতা। পরীর কোনো ক্ষমতাই ছিলো না সেই করাল গ্রাস থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নেওয়ার। সেই রাত ছিলো পরীর জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকার রাত। সেই রাত ভোর হলো যেনো সহস্র রাতের পর। সকালে নাসিম অবশ্য পরীর কাছে ক্ষমা চাইলো। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মদ খেয়েছে আর নিজের অজান্তে-বেখেয়ালে এসব করে ফেলেছে। পরী এক বাক্যেই গলে গেলো। সে ভাবলো এমন হতেই পারে। নাসিম জানালো আজ তার এক বন্ধু আর আর তার বউ আসবে বেড়াতে তাই ঠিকঠাক মত রান্নাবান্না করতে বললো তাকে। সে খুশি মনেই রান্না করলো। দুপুর বেলা দুইজন আসলো। কিন্তু মেয়েটাকে দেখে ছেলেটার বউ বলে মনে হয়নি। চেহারা আর পোষাক দেখে কোনোভাবেই এই মেয়েকে বৌ বলা যাবেনা কিন্তু পরী কিছু বললো না। চুপচাপ তাদের আপ্যায়ন করতে লাগলো। খাওয়াদাওয়া শেষে টিভিরুমে সবাই গল্প করছিলো, পরী একটু নিজের ঘরে ফ্রেশ হবার জন্য গেলো। দরজায় কড়া নাড়তেই পরী ভাবলো যে নাসিম এসেছে কিন্তু সে দরজা খুলে একদম হতভম্ব হয়ে গেলো। এ যে নাসিমের বন্ধু, সে দ্রুত দরজা লাগাতে গেলো কিন্তু সেই ছেলে ধাক্কা দিয়ে রুমে ঢুকে গেলো। ঢুকেই অসভ্যতা শুরু করলো। দরজা খোলাই ছিলো। পরী চিৎকার দিতে শুরু করলো। সে আশা করছিলো যত দ্রুত সম্ভব নাসিম চলে আসবে কিন্তু এত জোরে চিৎকার করার পরেও সেই চিৎকার নাসিমের কানে যাচ্ছে না। আর নাসিমের বন্ধুও বর্বর হয়ে উঠছে। একসময় সে বলে বলে উঠলো, "তোমার স্বামী আসবে না, সে ওই ঘরে ওই মেয়েটার সাথে দরজা বন্ধ করে!! হা হা হা!!" পরী বললো, "সে না আপনার বৌ?" ছেলেটা শুধু হা হা করে চিৎকার দিয়ে উঠলো, আর কিছুই বললো না। ঘন্টাখানেক পর যখন ঝড় শেষ হলো তখন নাসিম আসলো। এসে বললো একটা পার্টিতে যেতে হবে তৈরি হয়ে নাও। নিশ্চয়ই আদিমকালের ড্রেস পড়লে হবে না, এই নাও এগুলো পড়ো। বলে একটা জিন্স আর টপস ছুড়ে মারলো তার দিকে। পরী জানে সে এখান থেকে বাঁচতে পারবে না কারন সে জল্লাদের জেলখানায় এসে পড়েছে। সে নাসিমের কথামতো কাজ করলো। পার্টি হাউজে নাচ-গান চলছে, সে কি আলো! সেখানে হঠাৎ একটা ঘোষণা হলো, আজকের রাত সবার জন্য আলাদা, কেউ তার নিজের বৌ-গার্লফ্রেন্ডের সাথে থাকবে না, লটারি হবে। যে যার ভাগে পড়বে সে তার সাথে থাকবে। লটারি হলো, পরীকে এক অপরিচিত ছেলে নিয়ে যাচ্ছে কোনো এক কোনায়, নাসিমের সাথে আরেকজন। এমন সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে পরী দিলো এক দৌঁড়। সে জানে আজ তাকে পালাতেই হবে। তার পিছনে সেই ছেলেটা, পিছনে নাসিম! পরী দৌঁড়াচ্ছে, শকুনেরা পিছনে। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এক সময় তারা পিছন থেকে মিলিয়ে গেলো, পরী তবুও দৌঁড়াচ্ছে। সে হঠাৎ একটা সিএনজির সামনে পড়লো। সিএনজি ড্রাইভার কোনোমতে গাড়ি দাঁড় করালো। সে দৌঁড়ে এসে পরীকে ধরলো। পরী বললো, "বাঁচালেন কেনো? মেরে ফেলুন আমায়,আমার বাঁচার ইচ্ছা বা অধিকার নাই।" এই কথা বলার সাথে সাথে সিএনজি ড্রাইভার পরীকে টেনে বুকে নিলো কারন সে আর কেউ নয় সেই রমিজ। পরীকে ধরে তুললো সিএনজিতে আর সিএনজি সোজা নিয়ে গেলো কাজী অফিসের দিকে। পরীও সিদ্ধান্ত নিলো, রাজরানি নয় সিএনজি ড্রাইভারের বৌ হয়েই বাঁচবে সে, শুধু তার বাবাকে উদ্ধার করতে হবে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement