সেই রাতটা এখনও মনে পড়ে; উনিশ দশকের শেষ দিকে, বরিশাল সদর থেকে মা আমাকে নিয়ে হেঁটেই রওনা দিল, তাঁর বাড়ির দিকে। একটা নদী পাড় হতে হবে। তারপর পাঁচ মাইল হাঁটা লাগবে। তখন আমি ক্লাস টু’তে পড়ি। আমরা যখন রওনা দিলাম তখনও বিকেলের রোদ ছিল। মাঝ বয়সি পৌষালী শীত। তেমন কোন গরম কাপড়ও মায়ের শরীরে নেই, যা একটা পাতলা চাঁদর ছিল সেটাও আমাকে জড়িয়ে দিল।
সন্ধ্যে হয়েই গেলো, অথচ মা তখনও আমাকে নিয়ে হাঁটছে । কিছুক্ষণ কোলে নিয়েও হেঁটে ছিল। কত ধানের ক্ষেত, হাট, গরু, বড় বড় কড়াই গাছ আর রেইন ট্রি পিছনে ফেলে এসেছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। সামনে ষাটোর্ধ্ব এক জন লোক বাঁদুরের মতো ঝুলে কাছা বেঁধে খেজুর গাছ কাঁটছে, গাছের সাথে নিজেকে বেশ শক্ত করেই বেঁধেছে।
আচ্ছা মা উনি কি করে?
কেন এর আগে দেহো নায় ? বেশি কতা কইস না ‘রণ’ হারাডা রাস্তায় তোর বক বক শোনতে শোনতে মাথাডাই আমার গেছে।
মায়ের মনটা আজ ভালো নেই, তার বাড়িতে কি যেন একটা বিপত্তি ঘটেছে। আমি জানি না।
তবুও কও;
হেই বেডা খেজুর গাছ কাডে, খেজুর রস হাঁড়ি তে পরবে, রসের গুড় হবে তারপর পিডা খাইবে।
লোকটা মাকে ডাকলো, কে রে ফুলি’র মা নাকি ?
ফুলি আমার বড় বোনের নাম, আসলে ওর নাম নার্গিস আক্তার ফুলি । সবাই ফুলি বলেই ডাকে, আমিও ফুলি-বু, ফুলি-বু করি। ফুলি নামটা আপার পছন্দ না, তাই কতো কান মলা খেয়েছি। নার্গিস আপা বলতে হতো।
হয় দুদু; আপনে কেমন আছেন ?
আছি কোন রহম। এত দিন পর বাহের বাড়ি আইলি; ঐ হানে তোর তো কিছুই রাহে নায় অরা।
জানি দুদু; জানি। ঐ চশম খোড়ের বাচ্চারা আমার মোডা মোডা গাছগুলাও কাডছে। আল্লাহ ওগো ক্ষমা করবে ভাবছে, করবে না। এই ফুলি’র মায়ে’র অভিশাপ একটাও মিছা হইবে না, এইডা জাইন্না রাহেন। এ্যাহন যাই, বেশি রাইত করা যাইবে না, পোলাডার ঠান্ডা লাগবে। গেলাম দুদু; দোয়া কইরেন।গাছগুলা বেইচ্চাই আবার বরিশাল যামু।
সাবধানে যাইস;
এইডা বুঝি তর বড় পোলা ?
হয় দুদু;
কি রে বেডা রস খাবি নাকি?
একটা গ্লাস এনে সেদিন কাচা রস খেছিলাম, খুবই সুস্বাদু ছিল, ঝাঁঝালো আর মিষ্টি গন্ধ এখনও আমার প্রাণের তৃষ্ণা মেটায় ।সেদিন প্রাণ ভরে সবুজ শ্যামল গ্রামকে দেখেছি; আজ কেন সবই সাদা দেখছি ? টাকা হলেই কি সব সবুজ কেড়ে নেয়? মা আমার আজও বেঁচে আছেন তবে সেই রকম শারীরিক এবং মানসিক শক্তি নেই। মা একাই কোমড় বেঁধে আইনি ঝামেলা এবং গ্রামের লোভী মানুষগুলোর সাথে অনেক বছর লড়ে গেছেন ।
সন্ধ্যে হতেই চারিদিকে কেমন ঘোর অন্ধকার নেমে আসছে; অনেক কুয়াশা পড়েছে।অনেকে ঘুমিয়ে পড়েছে। দু’চারখানা ঘরে কুপি জ্বলছে তাও খুব স্পষ্ট নয়। মা আমাকে অন্ধকারেই কোলে চাপিয়ে জমির আল ধরে জ্বলন্ত কুপি বরাবর হাঁটছে।
মা; আর কত দূর ?
এই তো বাবা এসে গেছি।
খিদা লাগছে মা;
বাবা বাড়ি গিয়ে ভাত খামু দু’জনে, এই তো এসেই গেছি। আর মাত্র ক’য়েক মিনিটের পথ।
প্রায় দশ মিনিট হাঁটার পর মায়ের বাড়ি আসলাম। ভিশন অন্ধকার বাড়িটা । চারিদিকে প্রচুর গাছ। একটাই ঘর, কিন্তু ঘরে কোন আলো জ্বলছে না। মা আমাকে নিয়ে বাড়িটি’র পিছনে গেলেন। সেখান থেকে আস্তে করে একটা গোলপাতার বেড়া ফাঁক করে সরিয়ে, চুপি চুপি প্রবেশ করলেন। মাকে বললাম-
মা, এখানে কে থাকে ?
চুপ; আস্তে, একটাও কথা বলবি না।
গরম চুলোর পাশে কলাপাতা দিয়ে ঢাকা একটা প্লেট বের করলো। সেটাতে কিছু ভাত, আর আলু ভর্তা ছিল। মা সেগুলো মেখে আমাকে খাওয়াতে লাগলো, পাশের চুলোর আগুন তখনও লাল দগ দগে হয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে এখানে বেশিক্ষন হয়নি কউ একজন রান্না করে গেছে। বেশ তাপ দিচ্ছে। এতক্ষণে কিছুটা শীতের কাঁপনিটা কমলো। কয়েক মুঠো খেয়েছি অন্ধকারেই।বাকিটা মা খেয়েছে; কতটুকুই বা খাবার ছিল, মা হয়তো দু’মুঠোই চেটেপুটে খেয়েছে ।মাটির কলসের পানি খেয়ে শীতটা আবারো চেপে বসেছে। কিছুক্ষণ চুলাতে আমরা নিজেদের গরম করে নিয়েছিলাম।
মা ঘুমামু;
এই তো বাবা সোনা; এখনই ঘুমাবো ।


চুলোর পাশেই শান্ত হয়ে একটা বিড়াল চিত হয়ে সুয়ে ছিল, আমাদের দেখে মাথাটা জাগিয়ে হালকা করে চোখ বন্ধ অবস্থাতে ম্যায়াও ম্যায়াও করে নিজের শরীরটা চাটতে চাটতে আবার ঘুমিয়ে পরলো ।পাশেই মা ছালার কয়েকটা চট বিছিয়ে আমাকে নিয়ে সুয়ে পড়লো। মাথাতে কয়েক গোছা খড় দেয়া হলো। মা আমাকে নিজের টোকরের মধ্যে নিয়ে আচল দিয়ে ঢেকে দিলো, তারপর শান্তির ঘুম।
দু’চারটে কাকের ডাক শোনা মাত্রই মা সেখান থেকে আমাকে নিয়ে চুপি চুপি বের হলো। ঘুমের মধ্যে মা আমাকে কোথায় নিচ্ছে বুঝতেও পারি নি।
আমাকে কোল নিয়েই উঠনে গিয়ে জোরে জোরে মা ডাকছেন-
হায়দার এই হায়দার বেরিয়ে আয়; চশম খোরের বাচ্চা,
মায়ের চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো, সেদিন মাকে দেখে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। অল্প আলো ফুটেছে মাত্র, সে কি কুয়াশা, উঠোন থেকে ওপাশের ঘরই দেখা যাচ্ছে না।
কে? কে? হাকতে হাকতে কালো করে এক জন মাঝ বয়েসি যুবক বের হলো ,সাথে তার মা আর বৌ ।
কি’রে তোরা নাকি আমার গাছ কাটছো ?
হয় কাটছি; ক্যান আমাগো জায়গাতে গাছ লাগাইছো ?
শোন হায়দার বেশি বাড়াবাড়ি করিস না, গাছ কাটবি আমাকে কইতি,
তোমারে কইয়া কি হইবে? গাছ এহন আমাগো;
মা শাড়ির পিছন দিয়ে একটা ‘দা’ বের করলো;
কি তোগো গাছ? আমার বাপের লাগানো গাছ তোগো হইছে; এক কোপে তোর কল্লাখান আলাদা করুম।

আসে পাশের লোকজনেরাও আসতে লাগলো। অনেক পুরুষ মুরব্বি’র মধ্যেই মা একাই যুক্তি দিয়ে কথা বলে গেছে।বিচার শালিস হলো, জমিও মাপা হলো; মাকে গাছগুলো’র অর্ধেক দাম দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
মা ‘দাও’ খানা পেলো কোথায়? ভাতই বা কে বেড়ে রাখলো ? প্রশ্ন গুলো তখন মাকে করি নি।

যখন মায়ের গ্রামটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম, তখন মাকে প্রশ্ন করেছিলাম ।

আচ্ছা মা রাতে ভাত রাখছে কে ?
চুপ একদম চুপ; তোর মামি রাখছে; ওই বেয়দপটার মায়। তোর মামি খুব ভালো রে, তোর মাম আর মামাতো ভাইদের কারণে আমার সাথে কথা বলে না, ভয় পায় তো ওদের।

কিন্ত ‘দাও’ পেলে কোথায় ?
বোকা ছেলে, ওটাতো পাক ঘরেই ছিল; ওখান থেকেই রাতে আনছি ।ওদেরকে ভয় দেখাবো বলে।
আচ্ছা মা’ এই যে সরিষা ক্ষেত এটা কি আমাদের?
হু; ওই যে রাস্তার পাশে তাল গাছগুলো দেখচ্ছিস ওখান থেকে খাল ঘেষে ঘুরে এসেছে যে জমিগুলো সেগুলো সবটাই আমাদের।
এত্ত জমি আমাদের ?
হু বাবা;
মা দেখো কত্ত হলুদ ফুল! মা আমাদের কি কোন খেজুর গাছ নেই ?
আছে তো বাবা, চল দেখবি;

মা হাত ধরে আমাকে সেদিন খেজুর গাছ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল ।
গাছগুলো সিঁড়ির মতো হয়ে আছে, কোনটা বাঁকিয়ে উঠেছে।

ইস! কত্ত সুন্দর আমাদের মায়ের গ্রামটা, কিন্তু এখানে কেউ থাকি না। আম গাছগুলোও বেশ বড় বড়। বাঁশের ঝাড় আছে। ধান ক্ষেত দেখালো । আশে পাশের ঘরগুলোতে বসেই মা পান চাবাতে চাবাতে কথা বলে সময় কাটাচ্ছে। দুপুর হতেই মা খালে নেমে পড়লো ।মা গোসল করলো; আমিও কোন রকম পাড়ে বসেই গোসল করলাম। মা’তো ডুব মেরেই দু’চারখানা গলদা চিংড়ি তুললো। সেগুলো নিয়েই মা মোক্তার মামা’র বাড়ি রওনা হলো। মোক্তার মামা মায়ে’র পক্ষেই কথা বলে।তিনিও চান জমিটি মায়ে’রই হোক। এক সময়ে তিনি নাকি অনেক বছর মেম্বার ছিল। দুপুরে তাদের বাড়িতেই খেতে বলেছে। মায়ে’র জমি’র সবটাই মোক্তার মামা দেখাশুনা করে।বিনিময়ে চাষের অর্ধেক ফসল মাকে দেয়। মা সেগুলো আবার সদরে নিয়ে আসতো। শুনেছি, বাবার শিক্ষকতার টাকায় নাকি সংসার তেমন চলতো না। এছাড়া আমরা ভাই-বোনও তো কম নয়; আমার বড় আরো চারখানা বোন আছে ।

গরম গরম ভাতে চিংড়ি ভাপা দিয়ে গলা অব্দি খেলাম ।মাকে খুব ব্যস্ত দেখে আমি নিজেই সমবয়সিদের সাথে খেলতে নেমে গেলাম।কিন্তু মা মামা’র সাথে কি কথা বলছে? সেগুলো শুনতেই কান আর চোখ সেদিকেও রেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময়কে তখন গন্ডগোল বলতো। সেই গন্ডগোলের মধ্যে এমনই এক শীত কালে মা দু’বোন নিয়ে এই মোক্তার মামার বাড়ি এসে লুকিয়ে ছিল। যদিও লুকাতে হতো না, যদি না বাবা গণ সংগীত, রণ সংগীত গেয়ে গেয়ে বরিশাল সদর উত্তপ্ত না করতেন । বাধ্য হয়ে মা সবাইকে নিয়ে এই গ্রামেই চলে আসে। বাবাকে পাঠিয়ে দেন মায়েরই কোন এক বোনের বাড়ি। সেখানে বাবা পানের বরে কাজ করতেন, কিছু টাকাও নাকি পাঠাতো ।মা এত সুন্দর করে বাস্তব ঘটনাগুলোকে বলতেন যেন চোখের সামনেই ঘটনাগুলো ঘটছে। যদিও মা বহুবার ঘুমের সময় আমাকে এ ঘটনা বলেছে, শুনতে শুনতে আমি কতবার ঘুমিয়ে পরেছি।নতুন করে কি শুনবো; আবার খেলাতে মন দিলাম।মা আর মোক্তার চাচা খুব পান খান । পান চিবাতে চিবাতে অনেক গল্পই করছে-

মোক্তার ভাই আপনি যদি গন্ডগোলের সময় আমারে সাহায্য না করতেন, পোলপানগুলা নিয়া মরতে হইতো।
শোন ফুলি’র মা; তুই আমার আপন বুইনের নাহান, তোরে তো ছোড বেলা থেকেই দেখছি। তাছাড়া তোর জামাই শিক্ষক মানুষ। সৎ লোক। আমি তো আল্লাহ’র হুকুম পালন করছি মাত্র।

মোক্তার ভাই আপনিই ভরসা, আপনার উপরই এই জমি’র ভার। সব দেইখা রাখবেন। আমরা তো এখানে থাকতেই পারি না, ওই জল্লাদ্দের যন্ত্রণায়। মাইগো স্কুল ওগো বাবার স্কুল। কেউ এইহানে আইতে চায় না।আমিতো এই জমি ভিডার মায়া ছাড়তে পারি না, বলেই কাঁদতে শুরু করলো মা। আমি তাইলে গেলাম আইজ।
যাও বুইন; এ বেলা না গেলে যাইতে আবার রাইত হইবে।

রণ; চল আমরা এখন বাসায যামু।
কেন মা? আর কিছুক্ষণ থাকি না।
আমার মা’য়ের গ্রাম; আমার গ্রাম, শীতের সময়ে কত রূপ! সূর্যটাযেন সকালে হলুদ তেল মেখে উঁকি দেয়। সরিষা ক্ষেতে রোদের আলো পড়তেই যেন চোখ ঝলসে যায়। বর্ষার সময়ে অন্য রকম হয়ে যায়। নদী-নালা সবই প্রায় ডুবু ডুবু ।দেশিও টক মিষ্টি ফলের বাহার।
আমি আর মা আবার শহরের দিকে রওনা দিলাম। মুখ গম্ভীর দেখে মা বুঝতে পারে-
মন খারাপ ‘রণ’ ? আমাগো তো এইহানে থাকার মতো কোন ঘর নাই । একদিন ঠিক ঘরতুলে আমরা সবাই এইহানে থামুক। মন খারপ করিস না।


মাথাটা বাঁ দিকে কাত করে আবার হেঁটে চলি.......পিছনে দিকে পরে থাকে মায়ে’র আদরের গ্রাম,সবুজে ঘেরা গ্রাম,মায়ে’র স্মৃতি বিজরিত ছোট্ট খাল টা আর পরিচিত অনেক মানুষ।
আমাদের জীবনটাও শহরের কংক্রিটের আদলে সীমাবদ্ধ। সেখানে খোলা চোখে আকাশ দেখা যায় না , দূরে সেই চোখ ঝলসানো হলুদ সরষে ক্ষেত ধূসর প্রায় । শুনেছি খালটা ভরাট করে অনেক দোকান, ঘর আর স্কুল-মাদ্রাসা গড়ে ওঠেছে।জোর জুলুম করে মায়ে’র বাড়িটি সেই কবেই বেদখল করে নিয়েছে । যা কিছু অংশ ছিল তা মা আমাদের চাপেই বিক্রী করতে বাধ্য হয়েছে।
এখন আমি সরকারের চাকর। সে সময়ের কষ্ট আর মজাগুলো মনে রাখার মতো যথেষ্ট বয়স ছিল আমার । আমি মনে করি কষ্টের আর মজার অতীতকে সত্যিকার মানুষের মনে রাখাটা খুবই প্রয়োজন। তাতে করে তাদের বর্তমানকে আপন করতে খুব বেশি সময় লাগে না। তাই বলে আমিও যে সত্যিকারের মানুষ সেটাও বা বলি কি করে ?
এই তো সেদিন একজন ভিক্ষুক কে ভিক্ষা দেই নি অথচ আমারই সাথের কর্মস্থলের লোকগুলো চকচকে বিশ টাকার নোট বের করে দিল; কই আমি তো সেটা করতে পারলাম না। যদিও ভিক্ষুকটিকে দেয়ার মতো যথেষ্ট বিশ টাকার নোট আমার মানি ব্যাগেও ছিল।ভিক্ষুকটাতো খেটেই খেতে পারে। তেমন অচল না, তাই আমি দেই নি ।ওরা যখন টাকা দিচ্ছিল আমি যে লজ্জা পাই নি তাও কিন্তু নয়; তবু নিজেকে সামলে নিয়েছি।
বিভিন্ন অনাচারে প্রতিবাদ করাটা বর্তমান যুগে শুধু মানুষের কাজ না। তাই এখন আর রাস্তাঘাটে, অফিসে, এমন কি দেশ গোল্লায় গেলেও প্রতিবাদ করি না। প্রতিবাদ করাটা সত্যিকারের মানুষের কাজ, আমি তো শুধুই মানুষ।সত্যিকারের মানুষেরা সর্বাঙ্গ সর্ব কাজে ব্যবহার করে।শুধু মানুষেরা সর্বাঙ্গ সব কাজে ব্যবহার করে না।তাই আমিও অনেকের মতো শুধুই মানুষ হয়ে রইলাম।
ইদানিং আমাকে প্রায়ই কাটা চামুচ দিয়ে খাবার খুটে খুটে খেতে হয়; পা-দু’খানার ব্যবহার তেমন হয় না বললেই চলে। বাসায় টয়লেট পর্যন্ত একটু কষ্ট করেই হেঁটে যেতে হয়। সরকারি চাকুরীজীবিরা সত্যিই শুধু মানুষ।এরা কখনই সত্যিকারের মানুষ হতে পারে না; বলতে গেলে রোবট মানুষ।টাকার পিছনে ছুটতে গিয়ে শীত, বর্ষা, গরম কোনটারই অনুভব পাই না। আমি ইচ্ছে করলেই সমুদ্র, পাহাড় দেখতে পারবো না; শুধু মানুষের চোখ দিয়ে অসাধারণ কিছুই দেখা সম্ভব না। আজ আর গ্রামের সেই অজ পাড়া গাঁয়ে থাকতেও পারবো না, ইচ্ছে করলেও শীতের দিনে খেঁজুরের রসের পিঠাও খেতে পারি না; হলুদ সরষে ক্ষেত কিংবা গরম দিনে বাহারি রঙের বড় বড় গাছে ফুটে থাকা ফুল সবই সাদা থানের মতো মনে হয় । এখন আমার অনেক অর্থ। শীতকালেও এসি’র মধ্যে থাকতে হয়। হয়তো অর্থের আলাদা একটা গরম আছে। এখনও সেই দিনগুলো মনে করে কোন রকম কাঁচের পুতুলের মতো বেঁচে আছি ।এখন তো কাঁঠের কিংবা মাটির পুতুল খুঁজেই পাওয়া যায় না। সবই চকচকে কাঁচের পুতুল।