গল্পটি কাল্পনিক কিন্তু গল্পের মাঝে শিশুদের জন্য নিজেকে মাতৃসেবাই বিলিয়ে দেয়ার কথা লিখিত হয়েছে । প্রিয়ন্তিনী এক তরুণী যার যৌবন উৎসর্গকৃত হলো শিশুদের সেবাই ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ অক্টোবর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

২.২

বিচারক স্কোরঃ ১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - শিশু (সেপ্টেম্বর ২০১৯)

প্রিয়ন্তিনীর সেবার মশাল
শিশু

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.২

রকি গৌড়ি

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৯৮
হাজার হাজার শিশুরা তুলোর মতন ভূষণ পরা । তাদের হাস্যোজ্বল মুখ জোছনার হাজার চাঁদের চেয়ে লাবণ্যময় দেখাচ্ছে। তাদের পেছনে এক লন্ঠনধারিণী দাড়িয়ে আছে স্ট্যাচু অফ লির্বাটির মতো ভঙ্গিমায়। চোখে তার স্বপ্ন পলাশ ফুটে আছে । চুলগুলো তার মেলে আছে শত অস্ত্রের ফলার মতো। পাহাড়ী নদীর মতো তার যৌবেনের স্নিগ্ধ আলো নিগূঢ় ভাঁজের আঙিনায় মিশে আছে উর্বরতায় । শিশুরা তার মহিমায় মুগ্ধ নয়নে দৃষ্টি রেখে বলল,আমাদের সাথে খেলবে। আমাদের ভালোবাসবে ।
সেই লন্ঠনধারিণী তার রুপের ঝর্ণার মতো জ্বলতে থাকা লণ্ঠন ছুঁড়ে দিলে আকাশে নীল ঠোঁটের মতন চুম্বন করার অপেক্ষায় থাকা মেঘের দিকে । নীল ঠোঁটের চুম্বনে মিশে গেছে লন্ঠনের তৃষিত পুরো শরীর ।আকাশ জুড়ে শুভ সকালের সূচনা হলো । শিশুদের আকুল আহ্বানের মূর্ছনায় শিশুদের অন্তরে অন্তর রেখে দুটো হাত আঁকড়ে ধরার মতো প্রসারিত করে শিশুদের কাছে ডাকল
সেই মেয়ে । শিশুরাও তার কাছে এলো । তখন মহালিঙ্গনের সমুদ্রস্রোতে জাগড়িত হলো সমাজের
সকল অসেচতন চোখ । দমকা হাওয়ার মতো একটা মশা কানের কাছে উড়ে যেতেই ঘুম ভাঙল
প্রিয়ন্তিনীর । প্রিয়ন্তিনী বাবা মার একমাত্র সন্তান । সবেমাত্র বিয়ে পাশ করল । বিয়ের পিঁড়িতে
বসাতো দূরে রইল তার আশে-পাশেও সে নেই । স্বপ্নের রুপবতী লণ্ঠনধারিণী সেই । তার
ই্চ্ছে সে শিশুদের নিয়ে কাজ করবে । সেই আহ্ববান তার স্বপ্নে খেলা করে রীতিমত । তবে
কিভাবে সে শিশুদের সেবা করবে, শিশুদের তার কাছে টেনে নেবে? প্রশ্নোত্তর খুঁজে ।
পত্রিকার পাতায় পড়ে তাবীব মাহমুদের ভাইরাল হওয়া গালিবয়ের জীবনী । গালিবয় রানা
সত্যি অসাধারণ । এমনি অনেক প্রতিভা ছড়িয়ে আছে সারাদেশে । যারা একটু ভালবাসা
সহযোগিতা পেলে জেগে উঠতে পারে অবহেলার মরুভূমি থেকে । প্রিয়ন্তিনীর স্বপ্ন সে
পথে-ঘাটে পড়ে থাকা শিশুদের তার সেবা ও ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলবে । একদিন
প্রিয়ন্তিনী তার বান্ধবী জেসীকার কাছে ইচ্ছের বিষয়টা জানাই । জেসীকা প্রফুল্লচিত্তে বলল
আরে! সেতো ভাল কথা । কাল আমার বাসায় আসবি তোকে নিয়ে এক জায়গায় যাবো ।
প্রিয়ন্তিনী প্রবল আগ্রহে জানতে চাইল, কোথায় নিয়ে যাবি? জেসিকা বলল দেখিস
নিশ্চয় তোর স্বপ্ন পূরণের দেশে । দেশে? সে আবার কোন দেশ?
তুই গেলেই দেখতে পাবি । প্রিয়ন্তিনী তার বাসায় আসল । সন্ধ্যা পেরিয়ে শুরু হলো প্রিয়ন্তিনীর রাতের ব্যকুল সময়ের স্বপ্নজ্বালা । আবার সেই আহ্ববান । ঘুম ভাঙে তার শিশির জলবিন্দুর পাতায়

পূজিত র্সূযত্যাজে । নিজেকে সতেজতার স্নানে ভিঁজিয়ে । সেজেগুজে রওনা হয় জেসীকার বাসায় ।
জেসীকাও প্রস্তুত হয়ে একসাথে রওনা হয় একাট জায়গায় । তারপর তারা একটি প্রাচীর ঘেরা বড়
আঙিনায় প্রবেশ করে । প্রায় শত শত শিশুরা খেলা করছে সেই বড় আঙিনায় । ঘাস-গাছপাতা –
সবুজ পাতার দেশে । মাদার তেরেজার মতো পোশাক পড়া কিছু নারী তাদের সাথে খেলা করছে ।
তাদেরকে দেখতেই এগিয়ে এলো একজন নারী । পরনে তার সাদা শাড়ি । মাথায় চুল সাদা রঙের কাপড়ে ঢাকা ও নীল পাড় আছে।জেসীকা ওনার কাছে প্রিয়ন্তিনীর ই্চ্ছের কথা প্রকাশ করল । তিনি তখন বললেন হ্যাঁ আমাদের সাথে কাজ করতে পারে । তবে আমাদের কিছু প্রক্রিয়া আছে । আমরা যারা মানবতার জন্য কাজ করি আমরা শুধু এই পথেই হাঁটি । আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়না । এই কথা জেনে প্রিয়ন্তিনীর দিকে তাকাতেই দেখে সে তার পাশে নেই দূরে বাচ্চাদের সাথে খেলা করছে । তারপর প্রিয়ন্তিনীকে ডেকে সব কথা জানায় । প্রিয়ন্তিনী হাসিমুখে বলে ঠিকাছে কাল আমরা আবার আসছি । তারপর দুজন সেখান থেকে প্রস্থান করে । প্রিয়ন্তিনী বাবা মার কাছে সব কথা বলে । বাবা মা অমত পোষণ করে । কিন্তু একটা সময় বাবা মা মেয়ের প্রবল বাসনা জানতে পেরে তাকে আর বাধা দেয়নি ।
তারপর একদিন প্রিয়ন্তিনীর বাবা মা প্রিয়ন্তিনিীকে নিয়ে আসে সেই শিশুদের রক্ষাকেন্দ্রে । বাবা মা
খুব চিন্তায় আছে মেয়েকে একলা রেখে যেতে । প্রিয়ন্তিনী বলল বাবা মা আমার জীবনের জন্য
তোমাদের অনেক ধন্যবাদ । আমি তোমাদের যে কষ্ট দিয়েছি তার জন্য দুঃখিত । বাবা মা বলল
তুই আমাদের মাথা উঁচু করেছিস মা । মানব সেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে । তোর জন্য অনেক আর্শীবাদ রইল । তোকে একা রেখে যেতে ইচ্ছে করছেনা মা । একটুপর অবাক হয়ে
দেখে জেসীকা সাদা শাড়ি নীল পাড় মাথায় তার সামনে এসে দাড়িঁয়েছে । বন্ধু আমি আছি তোর
সাথে । বাবা মা এ দেখে নিশ্চিন্ত হলো । একটু পর দেখল শত শত শিশু প্রিয়ন্তিনীর সামনে এসে
দাড়িঁয়েছে । তারা শুভ্রপোশাক পড়া । তাদের প্রত্যেকের হাতে প্রজ্বলিত মোমবাতি । প্রিয়ন্তিনীকে
স্বাগত জানাচ্ছে । সকল শিশুরা একত্রে বলে উঠল আমাদের সাথে খেলবে। আমাদের ভালোবাসবে । প্রিয়ন্তিনী সেই স্বপ্নের মতো নিজের দুহাত প্রসারিত করে সবাইকে আপন করে নেয় । মেঘের সাথে প্রিয়ন্তিনীর স্বপ্নের পবিত্র চুম্বন হলো । শিশুদের সেবাই মাতৃত্বের হলো পূর্ণতা ।



advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • কাজী প্রিয়াংকা সিলমী
    কাজী প্রিয়াংকা সিলমী শুরুটা চমকপ্রদ, কিন্তু তারপর যেন তাড়াহুড়া করে শেষ হয়ে গেল। শুভেচ্ছা।
    প্রত্যুত্তর . ২ সেপ্টেম্বর
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী গল্পটি অনেক ভালো লেগেছে রকি দা। আপনার লেখার প্রতি পাঠক আলাদা একটা আকর্ষণ পাবে। কারণ শুরুটা অন্যরকম ভাব দিয়ে শুরু। যা হোক, এ গল্পে প্রিয়ন্তীর অবশেষে স্বপ্নের চুম্বন হলো। সুন্দর লেখাটির জন্য অনেক শুভ কামনা।।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ সেপ্টেম্বর
  • নাজমুল হুসাইন
    নাজমুল হুসাইন চমৎকার ভাবে শুরু করেছেন,কিন্তু শেষের দিকে গল্পটি দ্রুত শেষ করেছেন,আমার মনে হয় গল্প যে ভাবে নিজেকে সমাপ্তির দিকে নিয়ে যেতে চায় সেভাবেই যেতে দেয়া উচিৎ,তা সে যত বড়ই হোক।কিছুটা বিরুপ মন্তব্যের জন্য দুঃখিত প্রিয় লেখক, মন্দ অর্থে গ্রহন করবেন না আশা করি,এটি আমার...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৯ সেপ্টেম্বর

advertisement