একটি পৌরাণিক বিবাহের সাথে এক আধুনিক বিবাহের মেল বন্ধন এই গল্পটি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২২ জুলাই ১৯৬৬
গল্প/কবিতা: ১২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.২৪

বিচারক স্কোরঃ ২.২৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - একটি বিয়ে (আগস্ট ২০১৯)

অথ বিবাহ কথা
একটি বিয়ে

সংখ্যা

মোট ভোট ১০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.২৪

সুপ্রিয় ঘোষাল

comment ৫  favorite ০  import_contacts ১৭৪
এক
ঘরে ফেরা ইস্তক অর্জুনের মেজাজটা অ্যাসিড হয়ে আছে। মাকে খিদে নেই বলে রাগ করে শুয়ে পড়েছে সে। খালি পেটে শালা ঘুমও আসছে না। পাশে শুয়ে মেজভাইটা নাক ডাকিয়ে নিঃসাড়ে ঘুমোচ্ছে। এ ব্যাটা আরেক যন্তর। মনে হয় তার ভাগের উদবৃত্ত খাবারটাও মেরে দিয়েছে। রান্না,খাওয়া আর মল্লযুদ্ধ ছাড়া কিছুই এ ব্যাটার নিরেট মাথায় ঢোকে না। আর বড় ভাই তো ধর্মপুত্তুর। সব সময় ন্যায়-নীতি আউড়ে বেড়াচ্ছে। আরে এখন তোর ন্যায়-নীতি কোথায় রইল? আর সব থেকে গা জ্বালা করে শালা দাঁতকেলা যমজ দুটোকে দেখলে। সতীন মরার পর থেকে মায়ের সব পক্ষপাত ওই ব্যাটা দুটো অকাল কুষ্মান্ডের ওপর। গুণের বেলায় বেগুন আর ভাগের বেলায় সবাই সমান। বাঃ এতো দারুণ বিচার।
তাও মেজভাইটা একটু আধটু যুদ্ধুটুদ্ধু করতে পারে। দিলটাও দরাজ। বড়ভায়ের মুরোদ দেখে তো আচার্য সটান বলে দিলেন ‘ বৎস তির চালানো তোমার কম্ম নয়। ধনুর্বাণ রাখো, এইটে নাও ভল্ল – বল্লম। এটা নিয়েই প্র্যাকটিস করো। ক্ষত্রিয়ের ব্যাটা একটু-আধটু লড়তে না জানলে, রাজাই বা হবে কীকরে আর লড়াইটাই বা করবে ক্যামনে? সব সময় তো জ্ঞান দিয়ে চলেনা বাছা। লোকে প্যাঁদাতে এলে লড়াই তো একটু করতেই হবে। তাই বল্লমটা যদি পারো একটু ঘোরাও, রথটথ একটু আধটু চালাতে শেখো। আর তির ছোঁড়াটাও একটু আধটু প্র্যাকটিস করো। তাহলে অন্তত বেঘোরে মরতে হবে না। সব সময় মেজ আর সেজ ভায়েদের ভরসায় কাটালে চলবে? আর বাছা তাস-পাশাটা একটু কম খেলো। ক্ষত্রিয়ের ব্যাটা একটু আধটু খেলবে ঠিক আছে । কিন্তু বাজি রেখে জুয়া খেলাটা বন্ধ করো’। আচার্য তো বললেন, কিন্তু কে কার কথা শোনে?
তবে আচার্য মশাই ভালোবাসেন বটে তাকে। মেজভাই আর জ্যাঠতুতো বড়ভাইটাকে পাঠিয়ে দিলেন কেষ্টোর দাদা বলরামের কাছে গদা আর মল্লযুদ্ধ শিখতে। আর পড়ে রইলেন তাকে নিয়ে। যুদ্ধের যত রকম প্যাঁচ পয়জার, অস্ত্রজ্ঞান, অস্ত্রবিদ্যে ছাড়াও আর যা যা বিদ্যে পেটে ছিল, যা কিছু তিনি শিখে ছিলেন গুরু পরশুরামের কাছ থেকে, সব কিছু উজাড় করে দিতে লাগলেন তাকে। তার নিজের স্বার্থও অবশ্য একটা ছিল। তবে সেটা গৌণ হয়ে যায় তাঁর ভালোবাসার কাছে। নিজের ছেলেকেও তিনি এতো কিছু শেখাননি। এর জন্যে কিছু অন্যায় যে করেননি তাও নয়। এমনকি সেই নিষাদরাজের ব্যাটা কী যেন নাম -- হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে – একলব্য। তার প্রতি কী অন্যায় অবিচার। ইশ! এটা ভাবলে অর্জুনের মাথা লজ্জায় হেঁট হয়ে যায়। একটু দুঃখও যে হয় না তাও নয়। যখন সে তাঁর অস্ত্রবিদ্যা শিখতে এলো, গুরুদেব সটান বলে দিলেন – ‘তুমি জাতে নিষাদ, ব্যাধের পুত্র অর্থাৎ দলিত। অস্ত্রশিক্ষা তোমার ধম্ম বা কম্ম কোনোটাই নয়। সুতরাং বাপু বিদেয় হও’। সে যখন বলল যে ব্যাধেরা শিকারী আর শিকার করতেও তো অস্ত্রধারণ করতে হয়। আর আমার বাবা তো মহারাজ জরাসন্ধের সেনাপতি। তখন সব ঘৃণা যেন উজাড় করে দিয়ে বললেন – ‘আমি ক্ষত্রিয়কুমার ছাড়া অন্য কাউকে অস্ত্রবিদ্যা দান করি না’। মানে এদের সঙ্গে তোমাকে নিলে ভীষ্ম আমার চাকরিটি খাবে। আমাকে আবার না খেতে পেয়ে ছেলেপুলে নিয়ে ঘটিহারা হয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে হবে রাস্তায় রাস্তায়। সে বালক হয়তো বলতে পারত – ‘আচার্য, আপনি তো ব্রাহ্মণ । তাহলে নিজের ছেলেকে কেন অস্ত্রশিক্ষা দিচ্ছেন আর নিজেই বা অস্ত্রশিক্ষা করে শিক্ষক হলেন কেন? আর যার কাছে শিখলেন তিনিও তো জাতে বামুন। অস্ত্র চালানো তো বামুনেরও কাম নয়?’ না সে এসব সে বলেনি। বরং দূর থেকে প্রনাম জানিয়ে সে চলে গিয়েছিল। তারপরেও তার প্রতি যে আচরণ গুরুদেব করলেন সেটা গর্হিত বললেও কম বলা হয়। গুরুদক্ষিণা হিসেবে চেয়ে বসলেন কিনা তার ডানহাতের বুড়ো আঙুল। গুরু না হয়েই গুরুদক্ষিণে? এ তো না বিইয়ে কানাইয়ের মা। আর সে ছেলেও তেমনি, এক কথায় কেটে দিলে নিজের ডানহাতের বুড়ো আঙুল। এসব অবশ্যই অস্ত্রবিদ্যায় অর্জুনকে ভারতসেরা করবার জন্যেই। কিন্তু খচখচানিটা তো থেকেই যায়। গুরুদেবের আচরণ তো সারা ভারত জুড়ে দলিতদের প্রতি উচ্চবর্ণের লোকেদের আচরণ যেমন সেই রকমই, বরং তার থেকেও খারাপ।
আর ওই ব্যাটা সুমন্ত্র সারথির ছেলে কর্ণ। ছোটবেলা থেকেই অর্জুনের পোঁদে লাগার চেষ্টা। শালা দেমাক দেখো? কার কাছে শিখেছে না পরশুরাম। গুরুকে বলেছিল ব্রাহ্মণ সন্তান, ক্ষত্রিয় নয়। যেদিন ধরা পড়ল সব চালাকি খতম। তুই ব্যাটা লড়তে আসিস অর্জুনের সঙ্গে।তবে ওর রকম সকম,হাবভাব, চেহারা ছবি, সব কিছু দেখলে কিন্তু ক্ষত্রিয় বলেই যেন মনে হয়। কে জানে শালার রক্তে কোনও ভেজাল আছে কিনা?এখন তো আবার দুর্যোধনের বন্ধু হয়েছে। ওর কৃপায় আবার রাজাও হয়েছে অঙ্গরাজ্যের। আরে শালা যতই রাজা হোস, আছিস তো সেই সূতপুত্রই। আচার্য তো অস্ত্র পরীক্ষার দিন লড়তেই দিলেন না। বললেন – ‘সারথির ছেলে রাজকুমার অর্জুনের সাথে লড়বে? ফুঃ। আচার্যের মনে কি কিছু সন্দেহ ছিল? যে আমি ওর সাথে এঁটে উঠতে পারব না। ওকে লড়তে দিতেই পারতেন আমার সাথে। দেখা যেত কে বড় কে ছোট। সেদিনেই ফয়সালা হয়ে যেত। আসলে আচার্য ভয় পান এই বুঝি ভীষ্ম চটে গেল। চাকরি বাঁচানোর তাগিদই সারাক্ষণ মাথায় ঘোরে ওনার। অনেক কষ্টে যোগাড় করা সুখের চাকরি বলে কথা।
তাছাড়া বেচারা আচার্যের কি দুকখু নেই। খুব আছে। ভরদ্বাজ ঋষির ছেলে। মা নেই। আর কী অপমানটাই না তাঁকে করেছিল ছোটবেলার বন্ধু পাঞ্চালরাজ দ্রুপদ। বলেছিল নিজেকে রাজার সমকক্ষ ভেবো না। তুমি গরীব ব্রাহ্মণ ভিক্ষা চাও দিতে পারি কিন্তু নিজেকে রাজার বন্ধু ভাবার ভুল জীবনে আর দ্বিতীয়বার করো না। তা দ্রোনাচার্য শোধ নিলেন বটে। ছাত্র অর্জুনকে দিয়ে দ্রুপদকে হারালেন। বেদম ক্যালানি খাওয়ালেন। পুরনো অপমানের শোধ তো তুললেনই উপরন্তু আর্ধেক রাজত্ব ফেরত দিয়ে তাকে পাল্টা অপমান করতেও ছাড়লেন না।

দ্রুপদ নামটা মনে পড়তেই আবার বুকের ব্যথার জায়গাটা টনটন করে উঠল। দ্রৌপদী, পাঞ্চালী, পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা।আর্যাবর্তের সবচেয়ে কাঙ্খিতা নারী। উফ কি ব্যথা মাইরি!
কুমারী চাপি পাঞ্চালী বেদীমধ্যাৎ সমুত্থিতা ।
সুভগা দর্শনীয়াঙ্গী স্বসিতায়তলোচনা ।
শ্যামা পদ্মপলাশাক্ষী নীলকুঞ্চিতমূর্ধজা ।
তাম্রতুঙ্গনখী সুভ্রূশ্চারুপীনপয়োধরা ।

তিনি সৌভাগ্যশালিনী, সুদর্শনা এবং কৃষ্ণ আয়তচক্ষুক্তা। তিনি শ্যামাঙ্গী, পদ্মপলাশলোচনা, কুঞ্চিত কাল কেশবতী, তাম্র বর্ণের নখ, সুন্দর ভুরু আর স্তনযুক্তা।
এই সুলক্ষণা কন্যা মানুষ তো বটেই এমন কী দেবতা, দানব ও যক্ষদের আকাঙ্খিতা। আর অর্জুনকে জামাই করবেন বলে কী ছকটাই না কষেছিলেন রাজা দ্রুপদ – শূণ্যে ঘুরন্ত মাছের চোখে, নিচের পাত্রে রাখা জলে প্রতিবিম্ব দেখে, যে তির বিদ্ধ করতে পারবে, তাকেই তিনি কন্যা দান করবেন। বোঝাই যাচ্ছে পুরো ছকটাই অর্জুনের জন্যে। উদ্দেশ্য সেই একটাই দ্রোনাচার্য যে অপমান করেছেন তার শোধ তুলতে হবে। কিন্তু আবার ব্যাটা সেই হাড় হাভাতে কর্ণটা। পুরো মালটা কাঁচিয়ে দেয় আর কি। তবে যেই না প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেল অমনি দ্রৌপদী সটান বলে দিল –‘ সরি, আমি সূতপুত্রের গলায় মালা দিতে পারব না’। ভাগ্যিস বলেছিল। কারণ ও শালাকে বিশ্বাস নেই। ছোটবেলা থেকেই অর্জুনের পোঁদে লাগার তালে। ও ব্যাটা দাঁওটা মেরে দিতেও পারত হয়তো । তবে মনে হয় পাঞ্চালী কিছু একটা আন্দাজ করেছিল। না হলে এভাবে বাধা সে দিত কি? তাহলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ওর পক্ষপাত অর্জুনের ওপর। সেবার আচার্য আর এবার দ্রৌপদী তার মান বাঁচাল। তারপর, কে না জানে বাকি কাজ অর্জুনের বাঁয়ে হাত কা খেল। তারপর শালা আবার এক বিপত্তি। তারা তো ছদ্মবেশে বনবাসী বামুন। ক্ষত্রিয় কন্যা সে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তো ক্ষত্রিয়রা একেবারে খচে বোম। কেন বাজারে কি ক্ষত্রিয় কম পড়িয়াছে? শালা বেপাড়ার ছেলে এসে পাড়ার মেয়ে তুলে নিয়ে চলে গেল। ভাগ্যিস দ্রৌপদী বরমাল্যটা তার গলায় আগেই দিয়েছিল।
কিন্তু শেষ রক্ষে আর হল কই। ভাবতেই আমাশার পেট মোচড় দেওয়া ব্যথার মত বুকের কাছটা থেকে থেকে ব্যথা করে উঠছে। না দেখে, না শুনে মা ওমনি দড়াম করে বলে দিলো – ‘ যা এনেছ পাঁচজনে ভাগ করে নাও’। ইশ। মাইরি আর কি? মানে এখন দু-বচ্ছর অপেক্ষা। সব কিছু করলাম কিনা আমি, আর ক্ষীর খাবে সব্বাই। গলা ভেঙে কান্না আর গোঙানি বেরিয়ে আসে অর্জুনের।
দুই
হঠাৎ ঘুমের মধ্যে ধাক্কা খেয়ে ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসে অর্জুন। মানে অর্জুন ঘোষ। মায়ের ধাক্কা। ‘আজ্জু ওঠ। এখনো ঘুমুচ্ছিস? আজ না তোর বিয়ে? বিয়ের দিন কেউ এত বেলা অবধি ঘুমোয়’? মায়ের ধাক্কা আর আর বকুনিতে স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফেরে অর্জুন। আজ তার বিয়ে সত্যি! বিশ্বাসই হচ্ছে না। প্রেমবিবাহ তাদের। পাত্রী অফিসের সুন্দরী রিশেপসনিস্ট পাঞ্চালী মৈত্র। পাঁচ বছরের প্রেম আর পাঞ্চালীর বাবার পাঁচ হাজার জিজ্ঞাসা পেরিয়ে আজ তার লক্ষভেদ। কিন্তু তাও যাচ্ছিল কেঁচে। অকাল বিধবা কলেজের অধ্যাপিকা কাবেরী ঘোষ তার দুই ছেলেকে একা হাতে মানুষ করেছেন। বড় ছেলে অর্জুন তার নয়নের মণি – মেধাবী, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং অত্যন্ত সুপুরুষ। তিনি চেয়েছিলেন বড় ছেলের বিয়ে তাঁর নিজের পছন্দ করা পাত্রীর সঙ্গে দিতে। এদিকে বড় ছেলে যে তলায় তলায় অফিসের রিসেপশনিস্টের সঙ্গে প্রেম করে বেড়াচ্ছে সেটা তিনি ঘূণাক্ষরেও টের পাননি। যখন পেলেন তখন একেবারে বেঁকে বসলেন। একই অফিসে চাকরি করা মেয়ের সঙ্গে বিয়ে? নৈব নৈব চ। এদিকে পাঞ্চালীর প্রেম নিবেদক অন্তত বিয়াল্লিশজন সব সময় তার আসেপাশে ঘুরঘুর করে। তাদের সবাইকে বাদ দিয়ে পাঞ্চালী তাকেই পছন্দ করেছে। এখন যদি মায়ের গোঁয়ার্তুমিতে সবটা ঘেঁটে যায় তাহলে? শেষে তাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করল দুজন --বড়পিসি আর পাঞ্চালী স্বয়ং। বেগতিক বুঝে সে একদিন ফোন করল বড়পিসিকে। তাকে অভয় দিয়ে জামশেদপুর থেকে পিসি এসে হাজির। একথা সে কথার পর আসল কথায় হাজির হল পিসি। বলল ‘বৌদি তুমি আমাদের ফ্যামিলির সব থেকে মডার্ন মানুষ। দর্শনের অধ্যাপিকা বলে কথা। তোমাকে এক বাক্যে সারা দেশ চেনে তুমি কিনা শেষে’। কদিন ধরে চলল তার বরফ গলানোর পালা তারপর পিসি অর্জুনকে বললেন –‘ মেয়েটার সাথে আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দে তো’। তারপর ফোনে খানিক গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর চলল দুজনের। একদিন অফিস থেকে ফিরে অর্জুনের ভিরমি খাবার যোগাড়। বেল দিতে পিসি এসে দরজা খুলে ইশারায় তাকে রান্না ঘরে যেতে বলল। ধীর পায়ে রান্না ঘরে গিয়ে দেখল মা লুচি ভাজছেন আর লুচি যে বেলছে সে রুমাদি নয়। অর্জুন কি ভুল দেখছে। আরে এ যে পাঞ্চালী। এ তো ভুতের থেকেও ভৌতিক। সব পিসির কৃপা। মিরাকেল। ব্যাস সানাইয়ের সুর আপনিই বেজে উঠল তার কানে।
মা বেরিয়ে যেতেই পিসি এসে ঘরে ঢুকল।‘কি রে রেডি হবি না’? বলতে বলতেই মোবাইলটা বেজে উঠল – ‘ ওপার থেকে পাঞ্চালীর গলা – ‘কি হল এখনও ঘুমোচ্ছ? উফ কি ঘুম রে বাবা। শোনো ডার্ক ব্লু স্যুটটা পরবে কিন্তু আর তার সাথে একটু লাই্ট কালারের টাই। তোমার যা বুদ্ধি! এখন রাখছি। আর হ্যাঁ সহদেব এসে গেছে। আমাদের হানিমুনের টিকিটটা গিফট দিয়েছেন বড়পিসি । এখন রাখছি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও’।
সহদেব অর্জুনের ছোট ভাই অপূর্বর ডাকনাম। কথা শেষ করে খানিক হতভম্বের মতো বসে থাকে অর্জুন। সব যেন স্বপ্ন তার কাছে। পিসি মুচকি হেসে তাকে তাড়া দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। সে মনে মনে বলে বড়পিসি জিন্দাবাদ।
ম্যারেজ রেজিস্ট্রার বোধহয় এতক্ষণে চলে এসেছে পাঞ্চালীদের বাড়িতে। এখনই রেডি হতে হবে তাকে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement