না-বলা সেই অভিশাপ কি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে?
নাকি লুকানো বিষের জ্বালা আমার এই স্মৃতিতে?
মরচে পড়া শিকলগুলো কিসের কথা কয়?
রহস্যের এই গোলকধাঁধায় কেবল বাড়ে ভয়।
রক্তিম ওই চন্দ্রিমা আজ মেঘের আড়ালে ঢাকা,
শূন্য পটে একলা আমার গভীর দাহন আঁকা।
শব্দহীন এক পায়ের শব্দ পিছু হটে না কেন?
অমীমাংসিত সত্যটি আজ মরণ-ফাঁদ যেন।
নিশীথিনী কি গান গেয়ে যায় বিভীষিকার সুরে?
অজানার ওই মরীচিকা ডাকছে আমায় দূরে।
মৃত সেইসব গোলাপের দল ঝরছে অবেলায়,
রহস্য আজ জীবন আমার নিষ্ঠুর খেলায়।
আয়নার ওই ওপার থেকে কে বাড়ায় তার হাত?
কাটবে কি মোর একাকী এই ঘোর-লাগা রাত?
অন্ধকারের গহ্বর থেকে ফেরে না কোনো বাণী,
নিশ্চুপ এই পৃথিবী আজ জানে কি তার গ্লানি?
আয়নার ওপারে যে হাত—সে আজ আমারই ছায়া,
ছিঁড়ে গেছে সব মর্ত্য-বন্ধন, আদিম স্মৃতির মায়া।
নিভে যাওয়া শিখা হঠাৎ জ্বলে—দেখায় বিকৃত মুখের আভাস,
কবরের নীল স্তব্ধতা চিরে ভেসে আসে চাপা অট্টহাস।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
এই কবিতাটি ‘রহস্য’ বিষয়ের সঙ্গে গভীর ও সুনিপুণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিটি স্তবকে অজানা ও অদৃশ্যের উপস্থিতি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে, যা পাঠককে এক অনিশ্চিত ও শিহরণময় অনুভূতির মধ্যে নিয়ে যায়। মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা, ছায়ার চলাচল, কুহেলিকা ও নিঃশব্দ পরিবেশ—সব মিলিয়ে এক ভৌতিক আবহ নির্মিত হয়েছে। তবে এই রহস্য কেবল বাহ্যিক নয়; এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব। আয়নার প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে বাস্তব ও অবাস্তবের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হয়, প্রকৃত রহস্যটি বাইরের জগতে নয়, বরং মানুষের নিজের অন্তর্লোকের অন্ধকারেই নিহিত।
১৬ মার্চ - ২০১৯
গল্প/কবিতা:
৬ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি
“ ” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ , থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।