স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ (মে ২০২৬)

Lubna Negar
  • 0
  • ৫৯
পশ্চিমে সূর্য অস্তগামী । আর একটা দিনের অবসান হল। নওসাদ সেদিকে বিমর্ষভাবে তাকিয়ে আছে। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে সূর্যাস্তের দৃশ্য অতি মনোরম। কিন্তু নওসাদের জন্য এই দৃশ্য অশনি সংকেতের মতো। সাত দিন ধরে তার নৌকা ঘাটে বাঁধা। আজ সমস্ত দিন চেষ্টা করে সে এক লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছে। এক লিটার তেলের দাম ১৭০ টাকা। তার ছোট নৌকায় প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। গত সাত দিন ধরে নৌকা ঘাটে বাঁধা। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তার উপার্জন বন্ধ। সোজা কথায় না খেয়ে থাকা লাগবে।

পড়ন্ত বিকালে বাড়ি ফিরছে নওসাদ। এতক্ষণ নদীর তীরে থাকায় বাড়ির কথা তেমন মনে পড়েনি। নদীর তীরে ফুরফুরে শীতল হাওয়া বয়। অন্য মাঝিদের সাথে গল্পগুজব করা যায়। কিন্তু বাড়ি মানে সংসারের অন্তহীন হিসাব। তিনদিন ধরে বাজার নাই। বাড়ি ফিরতেই রওশন আগে সেই খোঁজ করবে। নওসাদের বুড়ি মা আর ছোট ছেলে মিলে মাঠ থেকে শাকপাতা তুলে আনে। বিলের জল থেকে শালুক তোলে। ভাগ্য ভাল হলে ছিপ দিয়ে কিছু মাছ ধরা যায়। কিন্তু ঘরে চাল বাড়ন্ত। সেই সাথে দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে তেল এবং লবণ। নওসাদ এইসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চায়। হিসাবের ভারে তার মস্তিস্ক ক্লান্ত।

লাখে লাখে ইসরাইলি সৈন্য মরতাছে। ইরান আমেরিকার মধ্যে ধর্ম যুদ্ধ চলতাছে। মুসলিম উম্মাহদের ভয় নাই। এই যুদ্ধে আমরা জিতবো। গনি মিঞার চায়ের দোকান থেকে কিছু উত্তেজিত সংলাপ শোনা যায়।
ঘাটের অদূরে গনি মিঞার চায়ের দোকান। দোকানটা বেড়ার দেয়াল হলেও উপরে টিনের ছাউনি। দোকানের ভিতরে কয়েক সারি কাঠের বেঞ্চি পাতা। একপাশে কাঠের স্টল। স্টলের দুই সারিতে বয়াম ভরা বিস্কুট সাজানো। সামনে ঝুলছে কলা আর বনরুটি। স্টলের পাশে স্টোভে কেটলি বসানো। ভিতরে দুধ চা ফুটছে। সকাল থেকে কেটলিটা স্টোভের উপর বসানো থাকে। নওসাদের মনে হয়, কেটলিতে দুই তিনদিনের বাসী চা একবারে ফোটে।

চায়ের দোকান আজ গম গম করছে। অধিকাংশ কাস্টমার স্থানীয় মৎস্যজীবী, প্রান্তিক কৃষক এবং ভূমিহীন দিনমজুর। তারা নিয়মিত পত্রিকা বা টেলিভিশনে খবর না দেখলেও চলমান রাজনীতি সম্পর্কে বেশ খবর রাখে। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে প্যারিসের এক ইউটিউবারের বক্তব্য শোনে। চব্বিশের অভ্যুথানের পর থেকে বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। চায়ের দোকানে ভিড় করা মানুষগুলো তার ব্যাতিক্রম নয়। কথা বলছিল বারেক আলি। প্রান্তিক কৃষক। নিজের জমির আয়ে সারা বছর খোরাকি জোটে না। সে বলে, কি দিন আইলো। পেঁয়াজে মণ প্রতি দাম সাতশো টাকা। এই টাকায় গেরস্থ নিজে চলবো কেমনে? মজুরি বা দিব কেমনে? অথচ শহরের বাজারে পেঁয়াজের দামে আগুন লাগছে।

তিনু সামসের বয়স পঞ্চাশের বেশি। ধর্মবেত্তা হিসেবে সুপরিচিত। তিনি বলেন, খোদার গজব পড়ছে। ইহুদিরা মুসলমানদের মারতাছে। ভারতীয় হিন্দি সিরিয়ালে দেশ সয়লাব। মানুষ দ্বীনের কথা ভুলে গেছে। এইসব অনাচার ধর্মে সইবে না। বেশিরভাগ মানুষ তিনু সামসের কথায় একমত হয়ে মাথা নাড়ে। উৎসাহ পেয়ে তিনু সামস আবার বলে, মেয়েরা যেদিন বেপর্দা হইয়া ঘর থন বাইর হইছে সেদিন থেকে গজব শুরু হইছে। সিনেমায় ছোট কাপড় পরে শরীর দেখায়। তওবা তওবা।

একটা তীক্ষ্ণ কণ্ঠ বলে ওঠে, মেয়েরা সিনেমায় শরীর দেখায় সেটা খারাপ। কিন্তু যে ব্যবস্থা মেয়েদের পণ্যে পরিণত করে সেটা আরও খারাপ। মেয়েরা ঘর থেকে বের হয়েছে কাজের সন্ধানে। প্রতিটা মানুষের কর্মসংস্থান করার অধিকার আছে। কথাগুলো যেন মৌচাকে ঢিল ছুড়ল। সবাই বক্তার খোঁজে দোকানের পেছন দিকে তাকায়। সবার পেছনে বেঞ্চে বসে আছে সুরুজ আলি। কথাগুলো সে বলেছে। সে আরও বলে, ইরান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ নিয়ে আমাদের পুলকিত হবার কিছু নেই। ধর্মযুদ্ধের আড়ালে এগুলো আসলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। উনিশ শতকের নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়। এক মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একা মোড়ল। কিন্তু একুশ শতকে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। চীন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে চীন কে হুমকি হিসেবে ধরে নেয়। চীনের সাথে যুক্ত হয় রাশিয়া আর ইরান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, রাশিয়া,এবং ইরান বেশ কিছু সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এইসব বিষয়গুলো তার পরাশক্তি হিসেবে অবস্থানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। সেই সাথে ইরানের খনিজ তেল দখলের অভিসন্ধি তো আছে।

সুরুজের কথা শেষ হলে কিছুক্ষণ সবাই চুপ করে থাকে। নীরবতা ভেঙ্গে নওসাদ প্রশ্ন করে, আমেরিকা ইরানের মদ্ধি যুদ্ধ বাঁধলি আমাগো সমস্যা হইব কেন? সুরুজ বলে, নওসাদ চাচা, কোন দেশের অর্থনীতি এককভাবে চলে না। আমাদের মিল কারখানা চালু রাখার জন্য দরকার বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় খনিজ তেল থেকে। যানবাহন চলাচলের জন্য দরকার পেট্রোল। এইসব তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করতে হয়। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। সেই প্রভাব আমাদের দেশে সর্বক্ষেত্রে পড়বে।

তিনু সামস এতক্ষণ চুপ করে ছিল। সুরুজের বাস্তবভিত্তিক কথা তার ভাল লাগছিল না। সে কথার মোড় ঘোরাবার জন্য বলে, আসল কথা হইলো ধর্মে আমাদের পূর্ণ ঈমান নাই। এই গুলান কেয়ামতের আলামত। খোদা আমাদের শাস্তি দিতাছেন।
কৌতুকের সুরে সুরুজ প্রশ্ন করে, শাস্তি যদি দিতে হয় তো সবার আগে ট্রাম্প কে দেয়া উচিত। গজব আমেরিকায় পড়া দরকার। ইরানের নিরীহ মানুষদের অপরাধ কি?
চুপ ব্যাটা পাগল। নাফরমানি কথা বলিস না। বেয়াদবি করলে এইবার তোরে খুঁটির সাথে বান্ধে রাখমু।
তিনু সামসের হুমকিতে সুরুজ ভয় পায় কিনা বোঝা গেল না। সে বলে, ভাগ্য বা অতিপ্রাকৃত শক্তিকে দায়ী না করে সমাজব্যাবস্থার অভ্যন্তরে মানুষ কে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে। বর্তমান বিশ্বব্যাবস্থা হল পুঁজিবাদী। আমরা যদি কেন্দ্র এবং প্রান্তের কথা বিবেচনা করি তাহলে বলতে হয়, বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রে বা নেতৃত্বে আছে যুক্তরাষ্ট্র , ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলো। বাংলাদেশের মতো প্রান্তে অবস্থিত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে তারা শোষণ করছে। সামন্তবাদি আর্থসামাজিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পুঁজিবাদ গড়ে উঠেছে। সামন্তবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিল ভুমিদাস। আর নারীরা ছিল ঘরোয়া ঝি। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমজীবী মানুষ জমি থেকে উৎখাত হয়ে মুক্ত মজুরে পরিণত হয়। বেচে থাকতে হলে তাদের শ্রম বিক্রি করতে হবে। পুঁজিবাদের অবশ্যাম্ভী অনুষঙ্গ হল মন্দা এবং যুদ্ধ। নির্দিষ্ট কয়েক বছর পর পর এই অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেয়। তখন মিল কারখানা থেকে লক্ষ লক্ষ কর্মী ছাটাই হয়। পুঁজিবাদ যুদ্ধ ছাড়া টিকতে পারে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল বাজার দখলের লড়াই। বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যতদিন এই লুণ্ঠনতন্ত্রের আধিপত্য থাকবে ততদিন যুদ্ধ বাঁধবে।

এইবার কথা বলে শহিদ। কলেজের ছাত্র। বর্তমান প্রজন্মের প্রতিনিধি। সে বলে, সুরুজ ভাই মিনা আপারে ভুলতে পারেন নাই। সমাজের সর্বত্র যুদ্ধ খুঁজে বেড়ান। এখন বিয়ে শাদি করেন। দ্বীনের পথে আসেন। মাথা থেকে দ্বন্ধ দূর হইব। শহিদ স্পষ্টত সুরুজের কথাগুলো বুঝতে পারে নাই। স্রেফ একটা ট্যাগ লাগিয়ে দেয়। মানুষ যখন কোনও কথার বিপরীতে যুক্তি উত্থাপন করতে না পারে তখন তার সহজ কৌশল হল গালাগালি বা ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া। এতে কাজ হয়। স্টলের লোকজন সুরুজকে নিয়ে হাসাহাসি, ব্যঙ্গ বিদ্রপ শুরু করে। সবচেয়ে খুশি হয় তিনু সামস। সে বলে, তৌহিদি জনতার দায়িত্ব এই পাগল কে শায়েস্তা করা।

বছর দুয়েক আগে কলেজ পড়ুয়া সুরুজ তার সহপাঠী মিনার প্রেমে পড়েছিল। মিনা স্থানীয় আড়তদারের মেয়ে। সুরুজ নাকি তাকে সমর সেনের কবিতা শোনাত। ধনাঢ্য পিতার কন্যা হিসেবে এই ধরণের প্রেম মিনার জন্য আকস্মিক নয়। স্থানীয় অনেক যুবকের সাথে তার ঐ সম্পর্ক ছিল। বছর না ঘুরতে মিনার সাথে সৌদি প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর বিয়ে হয়ে যায়। গ্রামের তরুণদের হৃদয় ভঙ্গ হয়েছিল বৈকি। কিন্তু শীঘ্রই তারা মিয়া খলিফা আর সানি লিওনের মধ্যে কে বেশি সুন্দরী সেই আলোচনায় মেতে ওঠে। মিনার কথা ভুলে যায়। কেবল সুরুজ ব্যপার টা সহজে মানতে পারে নাই। কোন এক পড়ন্ত বিকালে ফুলেস্বরি নদীর তীরে বসে সুরুজ মিনা কে নতুন পৃথিবী গড়ে তোলার কথা বলতো। আনাতোলি গ্রামসির বই থেকে উদাহরণ টেনে সুরুজ বলত, অধিপতি শ্রেণি শুধু বলপ্রয়োগে শোষণ করে না। তারা নিপীড়িত শ্রেণির মধ্যে সম্মতি উৎপাদন করে টিকে থাকে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, মতাদর্শ এগুলো প্রচলিত বৈষম্যমুলক সমাজের পক্ষে কথা বলে।

মিনা চলে যাবার পর সুরুজ নিঃস্পৃহ হয়ে পড়ে। বছর খানেক হল সে আর কলেজে যায় না। দিনের বেলায় রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায়। আপন মনে বিড় বিড় করে কথা বলে। জন সমাগম দেখলে সেখানে ঢুকে যায়। মানুষ কে নতুন জীবনের জন্য লড়াইয়ের কথা বলে। সাধারন মানুষ তার নাম দিয়েছে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। আর মাছের আড়তদার এবং তিনু সামসের মতো লোকেরা তাকে পাগল বলে।

নওসাদ যখন বাড়ি ফেরে তখন রাত প্রায় নয়টা বাজে। এর মধ্যে গ্রামের রাস্তা নির্জন হয়ে গেছে। রওশন কোনও কথা না বলে তাকে ভাত বেড়ে দেয়। নওসাদ একটু অবাক হয়। রওশন অন্যদিনের মতো ঝগড়া করে না। দুটো কাঁচা মরিচ আর একটা পেঁয়াজ দিয়ে নওসাদ ভাত মাখে। খেতে খেতে জিজ্ঞাসা করে, বাবু খাইছে? রওশন বলে, হ। মা কই? নওসাদ প্রশ্ন করে। ঘুমাইছে। রওশন উত্তর দেয়। আবার নীরবতা । পাশে সুমিদের বাড়ি থেকে টেলিভিশন চলার শব্দ শোনা যায়। অন্যদিন রওশন ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল দেখতে চলে যায়। আজ সে অন্যমনস্ক।
নওসাদ মাথা তুলে প্রশ্ন করে, কি হইছে তোর? রওশন বলে, রাবেয়া ফোন দিছিল। ঢাকা থন আইতাছে। রাবেয়া নওসাদের বড় মেয়ে। দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। স্বামী ঢাকায় ট্যাক্সি চালায়। রওশন আবার বলে, জামাই কইছে পেট্রোল সংকটের কারণে তার আয় কমে গেছে। সে বায়তুল মোকারাম মসজিদের সামনে ফলের দোকান দিবো। ছয় লাখ টাকা চায়। বাকী টাকা নিজে জোগাড় করবো। কথাটা শুনে নওসাদের মাথায় আগুন ধরে যায়। রাবেয়ার বিয়ের সময় তাকে শাড়ি, অলংকার ছাড়াও নগদ দুই লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এই টাকা সে মাছের আড়তদারের কাছ থেকে ধার করেছিল। সেই ধার এখনও শোধ হয় নাই। নওসাদ গলা উঁচিয়ে বলে, আব্দারের আর শেষ নাই। বিয়ার সময় দুই লাখ টাকা দিছি। মাইয়ারে কও গার্মেন্টসে চাকরি কইরা সংসার চালাইতে। রওশন আস্তে আস্তে বলে, রাবেয়ার দুই বছর বিয়া হইছে। অহনো বাচ্চা হয় নাই। জামাই আগে গায় হাত তুলছে। অহন তালাকের কথা কয়।

নওসাদের মাথায় একটা অন্ধ রাগ বাসা বাধে। সে ভাতের থালা ফেলে উঠে চলে যায়। গরীবের মধ্যে সে গরীব। মাছ বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে তার অন্ন জুটবে না। ছয় মাসের মধ্যে তার আড়তদারের ঋণ শোধ করতে হবে। নয়ত সে নওসাদ কে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করবে। কোথায় যাবে সে? কার কাছে অভিযোগ জানাবে? দেশে অভ্যুথান হয়। ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। পৃথিবীর রথী মহারথীরা ক্ষমতার দ্বন্ধ আর দুনিয়া ভাগ করায় ব্যস্ত। কিন্তু এইসব কারণে নওসাদের কি লাভ হবে? তার বুড়ি মা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে। বাবুর স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ স্টার জলসার সিরিয়াল ঠিকই চলবে। অলিম্পিকের আসর বসবে। সুন্দরী প্রতিযোগিতা হবে। জাতিসংঘে শান্তি আলোচনা চলবে।

নওসাদ এক মনে হাঁটছিল। মাথার ভিতর চিন্তার তোলপাড় চলায় সময় আন্দাজ করতে পারে নাই। এক ঝলক ঠাণ্ডা বাতাসের স্পর্শ তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনে। সারাদিনের গুমোটভাবটা কেটে গেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তাড়াতাড়ি সে বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। রাতের বেলা বৃষ্টিতে ভেজার কোনও মানে হয় না। ফেরার সময় মাঝপথে শুরু হয় তুমুল ঝড় বৃষ্টি। বৃষ্টির ছাট থেকে বাচার জন্য নওসাদ গনি মিঞার চায়ের দোকানে ছাউনির নিচে দাড়ায়। দোকান এখন নির্জন। কোন জনপ্রাণীর সাড়া নেই। সহসা বিদ্যুৎ চমকায়। তীব্র আলোর ঝলকানিতে নওসাদ দেখতে পায়, দোকানের খুঁটির সাথে কাকে যেন বেঁধে রাখা হয়েছে। সে ভয় পেয়ে যায়। উচ্চ স্বরে প্রশ্ন করে, কিডা? দোকানের সামনে কি করে? ক্ষীণ স্বরে উত্তর আসে, চাচা আমি। শহিদরা আমাকে বেঁধে রেখেছে। বিস্মিত সুরে নওসাদ প্রশ্ন করে, সুরুজ? ওরা তোমারে বান্ধে রাখছে? তারপর অসন্তুষ্টভাবে বলে, তুমি সবার সাথে তর্ক কর। মুরব্বী মানো না।

নওসাদ অন্ধকারেও টের পায় সুরুজের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে। বিষণ্ণ হেসে সে বলে, সারাজীবন তো নিয়ম রীতি, আদব কায়দা মেনে চললাম। কিন্তু কি লাভ হল? নওসাদ বলে, তুমি দুনিয়া বদলাতি চাও। এইটা অসম্ভব কথা। সুরুজ উত্তর দেয়, ভাগ্যের হাতে মার না খেয়ে যদি রুখে দাঁড়ান যায়, পরিবর্তনের চেষ্টা করা যায়, সেটা মন্দ কি? নওসাদের মুখে সহসা কথা যোগায় না। কয়েক মুহূর্ত সে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর এগিয়ে এসে সুরুজের বাঁধন খুলে দেয়।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও ঝড় থেমে গেছে। পূর্ব দিকের আকাশ আলোকিত হতে শুরু করেছে। সূর্যোদয়ের বেশি দেরি নেই। সুরুজ সেই দিকে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছে। সেই পথের দিকে তাকিয়ে নওসাদ ভাবে, হয়ত সুরুজ অসম্ভব কল্পনা করে। হোক অসম্ভব। তবু তো কেউ নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখে। এই স্বপ্নই তো মানুষ কে বেচে থাকতে, লড়াই করতে অনুপ্রেরণা যোগায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
ফয়জুল মহী খুব সুন্দর লিখেছেন কবি

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

পশ্চিমে সূর্য অস্তগামী । আর একটা দিনের অবসান হল। নওসাদ সেদিকে বিমর্ষভাবে তাকিয়ে আছে। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে সূর্যাস্তের দৃশ্য অতি মনোরম

০৩ মার্চ - ২০১৯ গল্প/কবিতা: ৪২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাবা”
কবিতার বিষয় "বাবা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে,২০২৬