সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না। জন্ম জন্মান্তর বেঁচে থাকে। ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৮ অক্টোবর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

২.৪৮

বিচারক স্কোরঃ ০.৬৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাবারা এমনই হয় (জুন ২০১৯)

অমরত্ব ভালবাসা
বাবারা এমনই হয়

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৪৮

Bristy Meghblika

comment ০  favorite ০  import_contacts ৮০
অবশেষে তাদের ভালবাসার শেষ পরিণতি হল বিয়ে। না সবার সামনে নয়, লুকিয়ে "অগ্নি" ও "গড" কে সাক্ষী রেখে। প্রায় হাজার বছর অর্থাৎ যুগ যুগান্তর ধরে ভালবাসার জল গড়িয়ে এই কলি যুগে তারা অমরত্ব লাভ করল। কিন্তু এক আশ্চর্য ব্যাপার! যুগ যুগান্তরের এই সম্পর্ককে কেউ কি মনে রাখতে পারে? গত জন্মে কি হয়েছে তাই বলা যায় না আর এইটা তো যুগের পর যুগ। অবাস্তব কাল্পনিক ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিন্তু না এটা সত্যিই বাস্তব। এবং আমি নিজেই এই ঘটনার দর্শক। প্রতিটি মুহূর্তে আমি তাদের এই ভালবাসার ঘটক ছিলাম বলেই.....আমার দেখা এই গল্পটা আপনাদের কাছে শেয়ার না করতে পারলে মনে শান্তি পাচ্ছি না। মনের ভিতরটা কেমন যেন খচখচ করছে। তাই আর দেরি না করে আজ কলম হাতে বসলাম তাদের ভালবাসার গল্প ইতিহাসের পাতায় লায়লা মজনু কিংবা শাহজাহানের ভালবাসার মতো তাদের ভালবাসাও খচিত থাক আমার কাগজ কলমে।।

চল বন্ধুরা তাদের ভালবাসার গল্পটা শোনাই।
আমি তাদের দুজনের প্রকৃত বন্ধু। তাই দুজনেই তাদের ভালবাসার সব কথা আমায় জানাত।
তাদের এই প্রেম প্রেম ভালোবাসার লুকোচুরি খেলাটা আমাকে সাক্ষী রেখেই শুরু করেছিল।
এই প্রেম প্রায় বছর তিনেক চলতে থাকে,
তারই মধ্যে অনেক ঘটনাই পরিলক্ষিত করেছি- যে তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল। যাকে বলা যায় আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন। যেন এই কলি যুগে তারা যুগল বন্দি হয়ে এসেছে রাধাকৃষ্ণের মত। তাদের এই যুগল বন্দি দেখে নিজেকে তাদের পরম প্রিয় সখী বৃন্দা বলে মনে হয়।

তাদের জন্ম থেকে এখন এই পর্যন্ত যা যা অন্ত মিল ঘটেছে তা বলতে গেলে হয়তো রামায়ণের কাহিনীর মত লম্বা হয়ে যাবে। তাই যা সব থেকে আশ্চর্য ঘটনা তাই বলছি। - - - - - -
সবার প্রথমেই তাদের নামের সঙ্গেই আশ্চর্য মিল রয়েছে। যেখানে দীপক আর আরতি। এই দুটি নামের বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যাবে যে - দীপক অর্থাৎ প্রদীপ জ্বালিয়েই কিন্তু ঠাকুরের আরতি করা হয়।। কি ঠিক বললাম তো।
এবার দেখ অন্য চমক------তাদের দুজনের আলাপ হয়েছিল ফোনের মাধ্যমে। ঠিক দুজনের উপযুক্ত বয়সে। তার আগে তাদের জীবনে কাউকে আসতে দেয় নি। আর এখন তো কেউ আসতেই পারবে না। অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তারা দুজন দুজনের কাছে এসেছে। কিভাবে? বলছি - মেয়েরা একটু বড় হলেই বিয়ের তোরজোর শুরু হয়। এমনকি আরতির বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল প্রায়, কিন্তু সেটা কোনও কারনে ভেঙে যায়। এদিকে দীপকের ও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। সেই সময় দীপক খুবই ভেঙে পড়েছিল। নিজেকে তার বড্ড একা লাগত। আর একা লাগার কারণে সে একজন ভালো বন্ধু ছেয়েছিল মনে মনে যাকে তার সব কথা দিলখুলে বলতে পারবে ঠিক সেই মুহূর্তেই আরতির আবির্ভাব। তারপর থেকে তাদের প্রেমের যাত্রা শুরু হয়।
তারা দুজনেই কথার ছলে বলে কৌশলে চলে যেত ফেলে আসা সময়ের দিকে অর্থাৎ ছেলেবেলাটা ঘুরে আসত। সেখানেও দেখা গেছে অদ্ভুত মিল। যা হল -- -- দুজনেই ছেলে বেলাতে জলে ডুবে মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েও ফিরে এসেছে। হয়তো বা আজকের এই দিনটির জন্য। আবার দুজনের মধ্যে কারুর পা তো কারুর মাথা কেটে গিয়ে পাশের বাড়ির কাকুর সাহায্য নিয়েছিল। অথচ দেখ কেউই কাউকে চিনত না জানত তাও দেখ দুজনের অজান্তেই কেমন অদ্ভুত লীলা চলছে।
আবার তাদের ভালবাসার মধ্যেও দ্বন্দ্ব চলত। তাদের পরিবারের জন্য। আসলে তারা দুজনেই দুজনকে চাইত ঠিকই কিন্তু বাবা মায়ের কথা ও শুনতে হবে তাই তাদের ভালবাসার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইত দীপক। কিন্তু পেরে উঠত না। কারণ কোনো এক অজানা অলৌকিক শক্তি দীপককে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিত যে আরতি ছাড়া অন্য কাউকে তার সাথে বিয়ে হতে পারবে না। তাই আবার ফিরে আসতেই হত দীপককে আরতির কাছে। আবার কোনো কারনে দীপকের জন্য একটু আরতি আঘাত পেলে বা মনে কষ্ট পেলেই সাথে সাথেই তার প্রতিক্রিয়া পেয়ে যেত। এই রকম হাজারো অদ্ভুত সংকেত মিলেছে। এই জন্য থেকে থেকে দীপক আরতিকে ভয় পায়। অথচ আরতি এসবের কিছুই জানে না সে নিশ্চিত থাকে। আর একটু উল্টো পাল্টা হতে গেলেই বিপদ হবে যার জন্য অলৌকিক শক্তি দীপকের নাজেহাল অবস্থা করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দীপকের এমনও হয়েছে যে নিজস্ব চিন্তা করার স্বাধীনতাও হারিয়েছে। এতে ক'রে দীপক কষ্ট পায়। আরতির কথা না মানলেই বিপদ। তাই যখনই কোনো কাজে হাত বাড়ায় আরতির পরামর্শ নিতে হয়।
এবার চল অন্য আরো অনেক অনেক বেশি চমক অপেক্ষা করছে - - - - চল শুরু করা যাক -


সেদিনটি ছিল খুব শুভ। গভীর রাত। চারিদিকে স্তব্ধ এমন সময় দীপক দেখতে পেল হাজার বছরের প্রেম কি ভাবে উজ্জীবিত হয়েছে। - দীপক আর আরতি তারা এক আলোকবর্ষ পেরিয়ে সৌরমন্ডলের বিভিন্ন গ্যালাক্সিতে আছেন। তারা দুজনেই বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। তবে স্টিলা অর্থাৎ আরতি বৈজ্ঞানিক হওয়ার সাথে সাথে পাইলটও ছিলেন। আর তাই স্টিলা তার ইস্টিমারকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এমন দ্রুতগামী করেন যে সেকেন্ডের মধ্যেই এক প্রান্ত থেকে অন্য আর এক প্রান্তে পারি দিতে পারেন। স্টিলা খুব কম বয়সী পাতলা গোলগাল ফুটফুটে ছিলেন। কিং - টমাস অর্থাৎ দীপক ওনার বয়স প্রায় চল্লিশ। দেখতে তিনিও খুব চৌখস ছিলেন। কিং-টমাস অন্য একটি গ্যালাক্সিতে থাকতেন সেখানে কোনোও দিন স্টিলা যেতেন না। তাকে ধরা ছোঁয়া যায় না। স্টিলা এমনই।
কিং-টমাস বিপদে পড়েন। কারণ তাদের কাছে খবর এসেছে যে কিং-টমাস সহ ওনার কিছু সহকর্মী অন্য একটি গ্যালাক্সিতে পারি দিতে হবে সেদিনই। তাই যে যার মতো করে বেরিয়ে পরেন নিজের নিজের ইস্টিমারকে নিয়ে। কিন্তু কিং-টমাস পড়ে রইলেন। ওনার ইস্টিমার খারাপ হয়ে গেছে। তাই দুশ্চিন্তা করে নিজের কক্ষে বসে রইলেন। এদিকে সময়ও ঘনিয়ে আসছে ইস্টিমার মেরামত হতে গেলেও অত দূরের গ্যালাক্সিতে পারি দিতে পারবেন না। এই বিপদ থেকে একমাত্র স্টিলাই পারেন। কিন্তু উনি তো নিজের কাজেই ব্যস্ত আর তাছাড়া এই গ্যালাক্সিতে তো উনি আসেন না কোনোদিন। এই ভাবেই হাত গুটিয়ে বসে রইলেন টমাস।
এখানেই আশ্চর্য! যিনি কখনো কোনদিন ওই গ্যালাক্সিতে আসা তো দূর কি বাত্ গ্যালাক্সির ধারের কাছেও আসেন না স্টিলা তবে আজ এসেছেন। স্টিলাকে দেখে টমাসের কিছু কলিক আশাবাদী হলেন এটা ভেবে যে - যদি স্টিলাকে বলে নিয়ে যেতে চান কিন্তু কে বলবে? বলার সাহস কার? কিন্তু এই কথাটা আবছা হলেও স্টিলার কানে পৌঁছয়। এবং তিনি পুরো বিষয়টি জানতে চান এবং টমাসের সঙ্গে দেখা করতে যান। এবার আরো একটু বেশি আশাবাদী হয়ে পরলেন কলিকরা। এই খবরটা টমাসকে জানালেন।
স্টিলা টমাসের সঙ্গে কথা বলার পর একটু ভেবে - টমাসকে নিয়ে যেতে রাজি হলেন। কিন্তু সময় একদমই কম.... এই সময় কি স্টিলা নিয়ে যেতে পারবেন? তবে আর কোনো চিন্তা না করে টমাস তার সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে স্টিলার ইস্টিমারে উঠলেন। স্টিলা সবাইকে টাটা দিয়ে এক নিমেষে স্টিমারকে এমন ভাবে ছাড়লেন যে টমাসের আগে আসা বন্ধুদের আবছা আবছা দেখতে পাচ্ছেন। এই অবস্থায় আরো আশাবাদী হলেন। যাক সময়ের আগে না হলেও ঠিক সময় পৌঁছতে পারবেন। এই ভাবতে ভাবতেই কখন জানি না সেই বন্ধুদেরকে পিছনে ফেলে সময়ের ঠিক পাঁচ মিনিট আগেই পৌঁছে গেলেন। তারপর গ্যালাক্সির শেষ প্রান্তে নামিয়ে টমাস স্টিলাকে ধন্যবাদ ও টাটা জানিয়ে বিদায় দিলেন।

এরপর আর কোনো যোগাযোগ নেই স্টিলা ও টমাসের সঙ্গে। তবে মাস ছয়েকের পর স্টিলা হঠাৎ সেখানে যান যেই গ্যালাক্সি থেকে টমাসকে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে সেদিনই ছিল টমাসের ঐ গ্যালাক্সিতে শেষ দিন। সেই দিন না যেতে পারলে আর কোনো দিন ঐ গ্যালাক্সিতে যেতে পারতেন না। একথাটি স্টিলা জানতেন না। তাই একটু অন্যরকম.... কিছুক্ষণ টমাসের কেবিনের দিকে চেয়ে রইলেন তারপর কাউকে কিছু না বলে সেই গ্যালাক্সি থেকে চলে যান।
এই খবরটা টমাসকে জানান হয়। এবং টমাসও তার প্রতি একটু দুর্বল হয়ে পড়েন।

তবে যাই হোক এই স্বপ্নটা যে স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে ভুল হবে। কারন এখানেও স্টিলা টমাসকে সাহায্য করেছে আর এই সময় দীপককে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত করেছে। আসলে যখনই দীপকের আরতির প্রয়োজন হয় তখনই অলৌকিক শক্তি তাকে পাঠিয়ে দেন। এই স্বপ্নটা ও অলৌকিক শক্তিই দেখিয়েছেন। যাতে করে দীপক আরতিকে দূরে সরাতে না পারে। ছেলের মন তো তাই কিছুকিছু
সময় দীপকের মাথায় শয়তান মন বাসা বাঁধতে চায় আর ঠিক সেই সময়েই অলৌকিক শক্তি তার শয়তান মনের সঙ্গে মোকাবিলা করে আবার সঠিক পথে পরিচালিত করেন।।
অবশেষে বলতেই পারি যে ভালবাসার কোনো মৃত্যু হয় না। জন্ম জন্মান্তর বেঁচে থাকে। আর তাই হয়তো বলা হয়েছে - - - -
"জন্ম মৃত্যু বিয়ে-
" তিন বিধাতা নিয়ে। "

বন্ধুরা---তোমাদের বলছি, এটা নিছক কল্পনা বা গল্প নয়। এটা তোমাদের কাছে গল্প হলেও সত্যি।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement