দুই প্রজন্মের কৈশোরের তুলনা এই কবিতায়। পূর্ববর্তীর অতিবাহিত সময় পরবর্তী সন্তান কল্পনাও করতে পারেনা। আবার এই সময়ের শহুরে কৈশোর তাঁদের কাছে মনে হয় এক ধরনের অসুস্থতা। এই অসুখ নিয়ে কি এখনকার কিশোররা অসুখি? নাকি এটাই তাদের সুখ?
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - কৈশোর (সেপ্টেম্বর ২০১৯)

বন্দিত্বের সুখ-অসুখ
কৈশোর

সংখ্যা

Mili Tani

comment ৬  favorite ০  import_contacts ১৬৫
এমন করে তোমরা নাকি নদীর জলে ভাসতে,
কাশের বনে বিকেল হলে আড্ডা দিতে আসতে,
জ্যৈষ্ঠ মাসে আমের ডালে চুপি চুপি উঠতে,
কাটা ঘুড়ি উড়ে গেলে পিছু পিছু ছুটতে?
এমন করে তোমরা নাকি কাদা মাঠে খেলতে,
প্রজাপতির মতন করে কিশোর পাখা মেলতে,
মাঘের ভোরে সবাই মিলে গালিমপুরের মাঠটায়,
ওম পোহাতে কেঁপে কেঁপে মিহি আগুন ভাপটায়?
কৈশোরের রঙ করেছিলে লালে নীলে ঝলমল,
সেই কথাটা পড়লে মনে চোখ কেন হয় টলমল?
তোমরা নাকি কচি চোখে স্বপ্ন দেখতে জানতে,
নেই হতাশা নেই পরাজয় এই মন্ত্র মানতে?
আমরা দেখো দামি খাঁচায় মহাসুখে বন্দি,
বইয়ের বোঝা, টাচ স্ক্রিনে দাসত্বের কি সন্ধি।
এসি রুমে, কৃষি বইয়ে ‘কয় প্রকারের মাটি’,
একুরিয়ামে বাতি জ্বেলে শুধুই সাঁতার কাটি।
কিশোর নাকি কচি বুড়ো ঠিক পাইনা ঠাহর
বুক ফুলিয়ে গর্ব আমার, ‘মিথ্যে কথার শহর’।
লা লিগাতে পিজা হাতে রাতের পর রাতে,
ক্লাসে এসে ঝিম মারি রানী-ক্ষেতের ধাতে,
কেও যদিবা পড়ে গেলে ম্যানহোলের ওই গর্তে,
না বাঁচিয়ে ভিডিও করি ভাইরালের শর্তে।
মাঠে নেমে কে’বা খেলে লাইক শেয়ারের কালে,
গণ্ডা গণ্ডা গোল হয়ে যায় ভার্চুয়াল এই জালে।

বাবা বলেন চল ঘুরে আয় গালিমপুরের বিলে,
ছেলে বলে কি সর্বনাশ চোখ নিয়েছে চিলে,
তাই, নেই স্বপ্ন নেই বর্ণ নেই কৈশোরের উচ্ছ্বাস
এসি থেকে বাইরে এলে নেব কি করে নিঃশ্বাস?

আর হবে কি এই ছেলেরা কোনদিনও দামাল,
‘সনি’ শিখে ওরা বলে, কামাল হুয়া কামাল।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement