স্বাধীনতা শুধু যেন মায়ের মুখের গল্প হয়ে না থাকে, আমরা যেন, স্বাধীন জাতী হিসেবে পৃথীবির বুকে জায়গা করে নিতে পারি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - স্বাধীনতা দিবস (মার্চ ২০১৯)

স্বাধীনতার সুখ
স্বাধীনতা দিবস

সংখ্যা

Ayesha binte Salah uddin

comment ২  favorite ০  import_contacts ৩২
আজ বিকেলে রাজু তার মায়ের কাছে একটা গল্প শুনল, গল্প নয়, যেন ভয়ের ইতিহাস। রাজুর নানা ভাই তখন ১৭ বছরের এক যুবক। দেশে যুদ্ধ শুরু হল, সবাই দেশ ছেরে পালাচ্ছে। কিন্তু সবাই পালাচ্ছে না, বীর সন্তানেরা কি মাকে বিপদে রেখে পালিয়ে যেতে পারে? দেশ যে আমাদের মা! তার আলো, বাতাস, পানি সব পেয়ে আমরা বড় হয়েছি। মা ছাড়া কেই বা এমন ভালবাসতে পারে আমাদের? রাজুর নানা ভাই ঠিক করলেন যুদ্ধে যাবেন। দেশ মাকে উদ্ধার করবেন। তইরী হল মুক্তি বাহীনি, শুরু হল দেশ মাকে বাছানোর লড়াই। রাজুর মনে হল যেন সবকিছু তার চোখের সামনে ঘটছে, যেন সে নিজে যুদ্ধে যাচ্ছে। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আরও জানতে চাইল সে। মা বেশ বুঝলেন রাজুর আগ্রহটা। "তখন কি আমার মত ছেলেরাও যুদ্ধে যেত?" রাজুর প্রশ্ন শুনে মা অবাক হলেন। "না বাবা, তুমি খুব ভাল, তাই এই কথা জানতে চেয়েছ, কিন্তু ওই দানবদের সাথে লড়াই করা মুখের কথা নয়।" রাজুর মনে তার নানা ভাইএর জন্য খুব অহংকার হল, সে যে স্বাধীনতার এক অংশীদার। মা বললেন, কত রক্ত নদী পারি দিয়ে এই স্বাধীনতা লাভ করেছি আমরা। সব শুনে রাজুর মনে অনেক কথার ঢেউ উঠল। রাজু ঠিক করল, এইবার স্বাধীনতা দিবস এ সে আর তার বন্ধুরা মিলে গ্রামে যাবে, গ্রামের মানুষদের ওরা সচেতন করবে, সাহায্য করবে, স্বাধীন দেশকে স্বাধীন রাখতে কাজ করবে ওরা। তাই মাকে বলে রাজি করাল যে, তারা ১৬-২৬ মার্চ রাজুর এক বন্ধুর গ্রামে থাকবে, সেখানকার মানুষদের ওরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে স্বাধীনতাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। মা এই কথা শুনে খুব ই আনন্দিত হলেন। ১৫ ই মার্চ বন্ধুরা সবাই রওনা হল স্বপ্নদিঘি গ্রামে, অনেক দিন পর গ্রামে এসেছে তাই ঠিকানা খুঁজে পেতে দেরী হল তাদের, সবার সাথে পরিচয় করে দিলো বন্ধু নিলয়, নিলয়ের মামা-মামী ১০ বছর এই গ্রামে বাস করছেন। নিলয়ের মানাত ভাই পলাশ, সে গ্রামের একটি স্কুল এ পড়ে। খাওয়া শেষ করে সবাই বিশ্রাম করে নিল। বিকেলে সবাইকে গ্রাম দেখাতে নিয়ে গেল পলাশ। ওরা সবাই পরিকল্পনা করল কিভাবে ওদের কাজ শুরু করবে। রাফি অবশ্য আগেই একটা পরিকল্পনা করে এনেছিল, সেটা সবার সাথে আলচনা করে নিল। পরের দিন সকাল থেকে কাজ শুরু করল ওরা। সবাই নিজের কাজ বুঝে নিল, রাজু সবাইকে পড়তে ও লিখতে শেখাবে, মুনির সবাইকে চাষ এর আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কিত ধারনা দিবে, নিলয় তাদের পরিবার-পরিকল্পনা সম্পর্কিত ধারনা দিবে, সৌর চু্লা সম্পর্কিত কথা জানাবে, নাহিদ ও শান্ত ওদের সবাইকে সাহায্য করবে। এভাবেই তারা এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, একবার ভাবুন, যদি প্রতি পরিবারের একজন সদস্য এই ধরনের কাজে এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের সৎ প্রয়াশে স্বাধীনতাকেই রক্ষা করা হবে, আমরা স্বাধীনতা দিবসের সত্তিকারের সম্মান দিতে পারব।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement