যেহেতু 'বিশেষ সংখ্যা'র জন্য লেখা চাওয়া হয়েছে, তাই একটি প্রবন্ধ পাঠালাম। জানি না, এটা নির্বাচিত হবে কি-না। উল্লেখ্য, আমি একজন প্রাবন্ধিক ও রম্য গল্পকার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। ধন্যবাদ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ জুন ২০১৯

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাংলা ভাষা (ফেব্রুয়ারী ২০১৯)

জাতিসংঘে বাংলা ভাষা চাই
বাংলা ভাষা

সংখ্যা

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান

comment ০  favorite ০  import_contacts ১১৪
আমরা পৃথিবীর প্রথম জাতি, যারা প্রাণ দিয়েছি মাতৃভাষার জন্য। মোড়ল দেশগুলোর বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো আমাদের 'মাতৃভাষা দিবস' একুশে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষাগুলির মধ্যে বাংলা ভাষার স্থান পঞ্চম হলেও বাংলা ভাষা বেশ অবহেলিত। এই ভাষার 'প্রাপ্য সম্মান' দিতে অনেকেই নারাজ।

জাতিসংঘের রাষ্ট্রভাষা মোট ছয়টি। সেগুলো হলো: ইংরেজি, চাইনিজ বা মান্দারিন, আরবি, স্প্যানিশ, ফরাসি ও রুশ। ইংরেজি ভাষায় পৃথিবীর ৫২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কথা বলে। আরবী ভাষায় বলে প্রায় ৪৬ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ। অন্যদিকে চীনা ভাষায় প্রায় ১৩৯ কোটি মানুষ কথা বলে। এছাড়া জাতিসংঘের অন্য রাষ্ট্রভাষার মধ্যে স্প্যানিশ ভাষায় ৩৮ কোটি, রুশ ভাষায় ১৫ কোটি ও ফরাসি ভাষায় ২৫ কোটি মানুষ কথা বলে।
বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি। দিনদিন এই সংখ্যাটা বাড়ছে। জাতিসংঘের অন্যান্য ভাষাগুলোর দিকে লক্ষ করলে বোঝা যাচ্ছে, ভাষাভাষীর দিক দিয়ে ইংরেজি, আরবি, চীনা ও স্প্যানিশ ভাষার পরে এবং ফরাসি ও রুশ ভাষার আগে বাংলা ভাষার অবস্থান। আরেকবার লক্ষ করি, রুশ ভাষায় কথা বলে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ। অন্যদিকে, ফরাসি ভাষার ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা প্রায় ২৫ কোটি। কিন্তু বাংলা ভাষায় কথা বলে, এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি। প্রশ্ন হচ্ছে, জাতিসংঘের রাষ্ট্রভাষা কীভাবে নির্ধারিত হয়? ক্ষমতার জোরে না সর্বাধিক প্রচলিত ভাষার ভিত্তিতে? উত্তরটা হচ্ছে, সর্বাধিক প্রচলিত ভাষায় ভিত্তিতেই জাতিসংঘ তাদের রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ করে। কিন্তু আদৌ কি সেটা হচ্ছে? বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষের চেয়ে রুশ ভাষা ও ফরাসি ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা যথাক্রমে ২০ কোটি ও ১০ কোটি কম। অথচ, ভাষাদুটো জাতিসংঘের রাষ্ট্রভাষা! নিঃসন্দেহে এ কথাটা বলা যায়, ভেটো ক্ষমতার অধিকারী মোড়ল দেশ দুটো (রাশিয়া ও ফ্রান্স) তাদের তুলনামূলক কম প্রচলিত ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করে সর্বাধিক প্রচলিত ভাষাকে (বাংলা) ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। জাতিসংঘের রাষ্ট্রভাষা 'বাংলা' করার দাবি অযৌক্তিক নয়, পুরোপুরি যৌক্তিক। আশার কথা হচ্ছে, ইতিমধ্যে সরকারও এই ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। খুব শীঘ্রই আমরা সুসংবাদ পাব, এই কামনা করি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement