স্নিগ্ধ উষার রক্তিম লাল আভা ক্ষনিক বাদে আত্মপ্রকাশ করবে। সুবহে সাদিক চলমান। মসজিদ থেকে বের হয়নি ধর্মপ্রাণ নামাজীরা। ঘুম ভাঙলো আমার। দিনের শুরুতে উঠতে পেরে সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া সহ নামাজ আদায় করে উঠতে না উঠতেই জুবায়ের এসে হাজির।

ও সেটাতো বলা হলো না। সে সম্পর্কে আমার ফুফাতো ভাই। সমবয়সী-সমক্লাসী। ছুটলাম মক্তবে। আব্বু-আম্মু বলছেন, “মক্তব মিস করা ঠিক না”। এসে গোসল খাওয়া সেরে বাহারি ডিজাইনের বৈশাখী ফতুয়া পরে বের হতেই জনসাধারণের প্রশংসা শুনতে পেলাম। পড়ি ক্লাস সিক্সে। যা বুঝি অনেক। স্কুল ছুটি তাই আমাদের আর পায় কে?

স্কুলের মাঠে মেলা। বসেছে বৈশাখী মেলা বলে কথা। নাগরদোলা, ট্রেন, মুদিদোকান, কসমেটিক্স, মাটির জিনিসপত্র আর হরেক রকম পণ্য নিয়ে দোকানিরা বৈশাখের আমেজ কে বাড়িয়ে তুলেছে। দুজন মিলে ঘুরছি আর খাচ্ছি যা মনে চাচ্ছে। বাড়িতে সবাই চিন্তা করছে আমাদের দেরি দেখে। আমরা দুপুরে ফিরলাম না চিন্তা করলাম দুপুরের ঘোড়া দৌড় দেখতে যাব। যেই ভাবা সেই কাজ। দুরন্ত বয়সের ছাপ লেগে আছে মনে। আমরা দুপুরে একটু দূরে ঘোড়া দৌড় এর মাঠে গেলাম। ঘোড়ার ছুটছে তো ছুটছে। কোনো ঘোড়া ছুটছে, কোনো ঘোড়া রেস থেকে ঝরে যাচ্ছে। দেখতে বেশ ভালই লাগছে।

এদিকে আসর ঘনিয়ে এসেছে। পেটে অন্নাভাব চলছে। ঘোড়া দৌড় শেষ। পুরস্কার রাত্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর বিতরণ করা হবে বলে ঘোষণা করা হলো। চললাম বাড়ির পানে। জুবায়েরের অনেক ভয় করছে। তার আব্বার চোখরাঙানি অনেক ভয়ঙ্কর। যাই হোক বাড়ির পথে রওনা হলাম। যানবাহন সে সময় অপ্রতুল। তাই হেঁটেই বাসায় যেতে হচ্ছে। বাড়ি পৌছতেই মাগরিবের আজান পড়ে গেলো। আমরা ভদ্র ছেলের মত মসজিদের দিকে গেলাম নামাজের জন্য। নামাজ পড়লাম প্রভুর কাছে মিনতি করলাম। তিনি যেন এইবারের মতো আমাদের ক্ষমা করে দেন। আমাদের উপরে যেন কোন ধরনের রাগ দেশ না হয় আমাদের দেরি করার কারণে। এ জন্য অনেক দোয়া দুরুদ পরলাম।

নামাজ শেষ করে বের হলাম। বাসার দিকে হাঁটছি। বাসায় ঢুকছি আর হৃদকম্পন অনুভব হচ্ছে। ঢুকতেই মা বললেন, “এসেছিস বাবা তোর জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম। দুপুরে তোকে রেখে খেতে পারিনি আমি। চল দুজনে খেয়ে নিব”। আমি মায়ের কথা শুনেতো পুরো অবাক! আজ যেখানে বকুনির ভয় ছিল শতভাগ। সেখানে মায়ের কথায় ভালোবাসার অভিপ্রায় শুনতে পেয়ে আমি অভিভূত। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম। মন বলে উঠলো কিসের বকাবকি? আছে পহেলা বৈশাখ বলে কথা।