আমাদের গ্রাম বাংলায় এমন অনেক দুখিনী মা'ই আছে, যাদের দু;খের করুন কাহিনী অগোচরেই থেকে যায়। তবুও আমার জানা একটি ঘটনা রূপক আকারে কবিতায় আবদ্ধ করলাম। কাকতালীয়ভাবে তা কারো না কারো জীবনে দেখা বাস্তব চিত্রের মিলে যেতে পারে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ জুলাই ১৯৭৬
গল্প/কবিতা: ৮টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১৮

বিচারক স্কোরঃ ২.৩৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - মা (মে ২০১৯)

জনম দুখিনী মা
মা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১৮

মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী

comment ৪  favorite ০  import_contacts ২৯৭
ঐ দেখা যায় একটি পাড়া, ঐ যে একটি বাড়ি;
ঐ বাড়িতে বসত করে জনম দুখিনী এক নারী।
সেই দুখিনীর বয়স এখন একশত বছর প্রায়;
জীর্ণ শীর্ণ দেহ তার, চোখের জ্যোতিও নাই।
শুনেছি, সেই ছোট্টবেলা হয়েছিল তার বিয়ে;
দিন মজুরী করতো স্বামী অন্যের বাড়ি গিয়ে।
একে একে হয়েছে তার চারটি ছেলে মেয়ে;
দিন কেটে যায় অনটনে খেয়ে বা না খেয়ে।
বহু কষ্টে ছেলে মেয়েদের তুলেছে বড় করে;
মেয়ে দুটিকে বিবাহ দিয়েই গেলো স্বামীটা মরে।
তারপরে সে পেটের দায়ে ভুলে শরম-লাজ
বাড়ি বাড়ি দিন-রজনী করেছে ‘ঝি’ এর কাজ।
এরপরে তার ছেলে দু’টিও করেছে বিয়ে-সাদী;
হয়েছে সে যে একে একে চার নাতীনের দাদী।
এখন তো ছেলেদের ঘরে সুখেই থাকার কথা;
কিন্তু হায়! পোড়া কপাল! ঘুচেনি তার ব্যথা।
ছেলেরা এখন রয়েছে সুখেই মহা ধুমধামে;
থাকে ইটের পাঁকা ঘরে, ঘুমায় বেশ আরামে।
তাদের ঘরের একটি কোণে ঠাঁই হয়নি তার;
ঠাঁই হয়েছে গোয়াল ঘরে, কিযে বলি আর!
অন্ধকারে মশার কামড়ে ছটফট করে কাঁদে
তা দেখিয়াও ছেলে-বউদের বিবেকে নাহি বাঁধে।
দু’বেলা দু’মুঠো ভাত এখন জুটেনা তার ভালে
এমন দুখিনী এই জগতে দেখিনি কোন কালে।
ভেবে দেখেনা ছেলে-বউরা, তারাও বুড়ো হবে;
তখন তাদের ছেলে-বউরাও পাশে নাহি রবে।
বুঝবে যেদিন হয়তো সেদিন রবেনা মাতা ভবে;
কাঁদবে সেদিন অন্তবিহীন, কাঁদলে কী লাভ হবে?

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement