আমাদের স্বাধীনতা দিবস, ছাব্বিশে মার্চ। ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম সেই রাত কেমন ছিল? একেকটা বাঙালি নিজের মত করে একেকটা গল্পের চরিত্র হয়ে ভালোই তো ছিল। সবুজ একটা ছবির থোকা থোকা ফুল হয়ে দিব্যি ছিল। মার্চের সেই কাল রাত পাকিস্তানি দানবের বুলেট, রাইফেল, মর্টার হয়ে শেষ করে দেয় সব বন্ধন। সেই রাতের কথা বলতে চেয়েছি এখানে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ মে ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ১৯টি

সমন্বিত স্কোর

২.৫৪

বিচারক স্কোরঃ ০.৮৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - স্বাধীনতা দিবস (মার্চ ২০১৯)

একটি ছবির গল্প
স্বাধীনতা দিবস

সংখ্যা

মোট ভোট ১১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৫৪

আহাদ আদনান

comment ৭  favorite ০  import_contacts ২৮৮
এখন সিরাজের মনে হচ্ছে এতটা বাড়াবাড়ি না করলেও চলত মানিকের সাথে। সিগারেটের গন্ধ ছেলেটা সহ্য করতে পারে না, বলে দিয়েছে ফস করে। ও কি আর জানে সুমনের বুকটা পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। রূপার বিয়ে হয়ে গেছে, রাতে বাসর। সেই রাগ গিয়ে পড়ল ছেলেটার উপর। কাল ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু একটা কাল রাত সব ওলট পালট করে দিবে কে জানত!
ছোট্ট একটা ঘর লাল লাল ফুলে, কাগজে সেজে বাসরের জন্য বসে আছে রূপা। বুক কাঁপছে। যাপিত আস্ত একটা জীবন এখন তার অজানা। সেই জীবনে সুমন নামে একটা ছেলে, ভার্সিটির একই ক্লাসে পড়ে, চোরের মত তাকিয়ে থাকত, একদিন একটা চিঠি, ভালোবাসি তোমাকে, এসব মনে রাখতে বয়েই গেছে। আনিস নামের একটা ছেলে, সরকারি অফিসের চাকুরে, একটা অনাগত সুন্দর তাকে উপহার দিবে, এই ভাবনায় রূপা মগ্ন হয়ে আছে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটা রাত বুলেটে রক্তাক্ত হয়ে যাবে, কে ভেবেছিল!
জীবন বাবুর দেওয়া ‘সোনার তরী’টা আনিস খুব যত্নে মেলে ধরে। চার ছেলেমেয়ে নিয়ে সারাক্ষণ খিটিমিটি লেগে থাকা ছাপোষা লোকটা এত রুচিশীল একটা উপহার দিবে বিয়েতে, আনিস ভাবেনি। রূপাকে আবৃত্তি করে শোনাবে নাকি একটা কবিতা? এমন রাত জীবনে একবারই আসে। একবারই এসেছিল সেই রাত।

দুপুরে বিয়েতে এসে তড়িঘড়ি করে চলে গেছেন জীবন বাবু। রাতের ট্রেনে যেতে হবে গ্রামের বাড়ি। হেডমাস্টার বাবুর ভীষণ অসুখ। আর দেখা হয় কি না হয়। সাথে মানিকও যাবে, মাস্টারের ছেলে। একদিকে বাবার টেলিগ্রাম, আবার ভার্সিটিতে এক বড় ভাইয়ের বকুনি, মানিক চুপ করে আছে। জীবন বাবু অভয় দেন। সেই রাতে তাদের আর বাড়ি যাওয়া হয় নি।
মানিক সিরাজের খুনসুটি, সিরাজ রূপার লুকোচুরি, রূপা আনিসের ভালবাসা, আনিস জীবন বাবুর আন্তরিকতা, জীবন বাবু মানিকের হৃদ্যতা, একেকটা বাঙালি নিজের মত করে একেকটা গল্পের চরিত্র হয়ে ভালোই তো ছিল। সবুজ একটা ছবির থোকা থোকা ফুল হয়ে দিব্যি ছিল। মার্চের একটা কাল রাত পাকিস্তানি দানবের বুলেট, রাইফেল, মর্টার হয়ে শেষ করে দেয় সব বন্ধন।
একটা অভিন্ন লাল রক্তের স্রোত সবুজ ছবিটার মাঝখানে টকটকে একটা সূর্যের মত জ্বলে ওঠে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement