বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী - বর্তমানে ঘটছে না বা ঘটার সম্ভাবনা নেই, কিন্তু দূর ভবিষ্যতে ঘটতে পারে। আবার নাও পারে। কিন্তু বিষয়বস্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হতে হবে। আমার এই গল্পটিও ভবিষ্যতের একটা সময়কাল নিয়ে কল্পনাপ্রসূত কাহিনী, যা ঘটে যাওয়া বিচিত্র নয়।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী (নভেম্বর ২০১৮)

যন্ত্রের ভালবাসা
বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী

সংখ্যা

আহসানুল হক শোভন

comment ০  favorite ০  import_contacts ১৩
এক.
“মবিন, তোমার জাদুমাখা হাতে সুন্দর করে এককাপ কফি বানিয়ে নিয়ে এস।” নিকোবার-টেন তার রিনরিনে কন্ঠে মবিনের উদ্দেশ্যে বলে উঠল।

মবিন, তোমার জাদুমাখা হাতে সুন্দর করে এককাপ কফি বানিয়ে নিয়ে এস, ব্যা..ব্যা..ব্যা। মবিন নিকোবার-টেনের কথাগুলো ঘৃণা ভরে মুখ ভেঙচে মনে মনে বলে। নিকোবার-টেন তার রিনরিনে কন্ঠে কথাগুলো বললেও ওটা আসলে আদেশ। রোবটরা মানুষকে কিছু বলা মানেই আদেশ। সে আদেশ পালন না করে মানুষের কোন গতি নেই।

হারামজাদী, কফি বানাতে বলেছিস। কিন্তু খেতে তো পারবি না। কাপটা সামনে নিয়ে বার কয়েক ঠোঁটছোঁয়াবি। পরে আমাকেই খেতে হবে। মানুষ হওয়া কি এতই সোজা? পারলে মানুষের মত ভরপেট খেয়ে কেজিখানেক হেগে দেখা। পারবি? এই জনমে কখনই সম্ভব না।কথাটা চিন্তা করে জিভে কামড় দেয় মবিন। রোবটদের আবার এ জনম সে জনম কী? যান্ত্রিক শরীরের ওপর নারীদের মত পেলব চামড়া জড়ানো নিকোবার টেনকে হারামজাদী বলে গালি দেয়াটাও বোধহয় যুক্তিযুক্ত হয়নি। হারামজাদা বলাটা উচিৎ ছিল। না, না, তাইবা কী করে হয়? শালাদের (নাকি শালীদের) তো কোন জেন্ডারই নেই। ওদের হারামজাদা বললেইকী, আর হারামজাদী বললেই বা কী? কফি বানানোর মেশিন থাকতেও আমার হাতে বানানো কফি খাবার শখ। আফসোস! তোরা যদি সত্যি সত্যি খেতে পারতি।তাহলে এতদিনে কফিতে বিষ মিশিয়েসব কয়টাকে মেরে ফেলতাম।

মবিনদুধ (দুধের মত দেখতে হলেও আসলে দুধ নয়)আর চিনি কম দিয়ে এককাপ কফি বানিয়ে নিকোবার-টেনের সামনে নিয়ে যায়। চিনি কম দেয়ার কারণ, নিকোবার-টেন কফির কাপে বার কয়েক ঠোঁট ছোঁয়ানোর পর কফিটামবিনকে খেতে হবে। মবিন চিনি কম খায়। ওদের বংশে ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে।

নিকোবার-টেন একটা ভার্চুয়াল গেম খেলায় ব্যস্ত। ঘরে একপাশের দেয়াল জুড়ে গেমের বিশালস্ক্রিন। সে স্ক্রিনে নিকোবার-টেন লেজার গান দিয়ে অ্যামাজন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মানুষদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করছে। রোজ রোজ নিকোবার-টেনের মানুষ মারা দেখতে মবিনের অসহ্য লাগে। ইচ্ছে করে নিকোবার-টেনকে মাথার ওপর তুলে একটা আছাড় মেরে ওর মাদারবোর্ড ভেঙে চুরমার করে দিতে। তারপরই মনে পড়ে, মবিন ওদের দাস। শুধু মবিনই নয়, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই এখন রোবটদের দাস। রোবটরা যা বলে, মানুষদের তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হয়। বাধ্য হয়ে মবিনও তাই করে।

দুই.
কপাল আর নাকের ডগার ঘাম মুছে মবিনের দিকে এগিয়ে আসে নিকোবার-টেন। খেলতে খেলতে ঘেমে গেছে। যদিও ঘামগুলো কৃত্রিম। মানুষের সবকিছু নকল করার প্রয়াস আর কী! অবশ্য নিকোবার-টেনের চেহারাটা সুন্দর। কোন মেয়ের মুখাবয়ব ক্লোন করে লাগিয়েছে, কে জানে! নিকোবার-টেন মিষ্টি হেসে মবিনের সামনে এসে বসে। শর্ট স্কার্টের নিচ দিয়ে ভেতরের অনেক কিছুই দেখা যাচ্ছে। মেয়েটা.. থুক্কু আবারও ভুল হল। রোবটটা মবিনকে প্রায়ই বিভিন্নভাবে সিডিউস করার চেষ্টা করে। মবিন পাত্তা দেয় না। পাত্তা দিলেই বা কীহত? চামড়ার আবরণের ভেতর কলকব্জা ছাড়া আর কিছু নেই।

“আচ্ছা মবিন, এখানে থাকতে তোমার কেমন লাগে?” কফির কাপে টকটকে লাল ঠোঁট ছুঁইয়ে জানতে চায় নিকোবার-টেন।
“ভাল।” মবিন মুখ গোমড়া করে উত্তর দেয়। কেন যে সেদিন প্রজাপতির পেছনে ছুটতে ছুটতে অ্যামাজনের ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। তা না হলে আজ এই যন্ত্রগুলোর সাথেদিন কাটাতেহত না। রুমকির সাথে গাছের মগডালে বসে প্রেম করতে পারত।
“আমি জানি তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সেন্সর তোমার কন্ঠের ভাইব্রেশন ডিটেক্ট করতে পারছে।”

এই হারামী রোবটগুলোর কাছে সত্য গোপন করাটাও বেশ কষ্টকর। এরা গলার কম্পন থেকে সত্য মিথ্যা আঁচ করে ফেলতে পারে।

“অ্যামাজনে কি তোমার প্রিয়জনেরা ছিল?”
“হুম।”
“তারা কারা?”
“বাবা, মা, ভাই, বোন, আর..”
“আর কে?”
“আর রুমকি।”
“রুমকি কে?”
“বাবা-মা আর ভাই-বোনের মতই একজন মানুষ।”
“ভালবাসার মানুষ?”

তোরা ভালোবাসার কী বুঝিস? বুঝলে আমাকে ধরে এনে বন্দি করে রাখতি? সমগ্র মানবজাতীর ওপর এভাবে হামলা চালাতে পারতি? আমরাই তোদের তৈরি করেছিলাম। এখন আমাদের ওপরই তোরা হুকুম চালাস।

“মবিন, তুমি কিছু ভাবছ।”
“কই, না! কিছু ভাবছি না।”
“তোমার ব্রেইনের একটা অংশ সচল হয়ে উঠেছে। আমি জানি না, তুমি কীভাবছ। তবে সেদিন আর খুব বেশি দূরে নেই, যেদিন আমরা মানুষের মনের ভাবনাগুলোও পড়ে ফেলার যন্ত্র তৈরি করে ফেলতে পারব।”

কথাটা শুনে খুব খুশি হয়েছে, মবিন তার চেহারায় এমন একটা ভাব ফুটিয়ে তোলে। যদিওভেতরে ভেতরে বেশ ভড়কে গেছে। রোবটেরা যদি ওদের ভাবনাগুলো সব বুঝে ফেলে, তাহলে একান্ত নিজের বলে আর কিছু থাকবে না। এর চাইতে মরে যাওয়াও অনেক ভাল। কিন্তুএখন সেটাও সম্ভব না। রোবট শাষিত এই সমাজে চাইলেও মানুষ মরে যেতে পারে না।

“আচ্ছা, তোমরা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছ কেন? আমাদের ছাড়াও তো তোমাদের চলবে।”
“সেটা আমি জানি না। হয়ত আব্বু বলতে পারবে। আব্বুকে জিজ্ঞেস করব?”
“না, না, তার কোন প্রয়োজন নেই।” মবিন আঁতকে উঠে দুই পাশে ঘনঘন মাথা নাড়ে।

নিকোবার-টেনের বাবা নিকোবার-এক্সকে এসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে মবিনের কপালে দুঃখ আছে। এ ধরণের প্রশ্ন শুনলে নিকোবার-এক্স ধরে নিবেন, মবিন অবাধ্য হয়ে উঠেছে। তা না হলে, এমন সব প্রশ্ন ওর মাথায় আসে কী করে? আর অবাধ্য দাসদের বাধ্য করতে ব্রেইনে একধরণের শক দেয়া হয়। এর আগে মবিনকেও দেয়া হয়েছিল। সেই দুঃসহ স্মৃতি মবিন আরেকবার পেতে চায় না।

“মবিন তুমি কী জানো, আমি তোমাকে কতটা..”নিকোবার টেন তার কথা শেষ করার আগেই স্যাঁৎ করে রুমের একপাশের দেয়াল সরে গেল। ৭০২ তলার পাশে একটা ফ্লাইং সসার ভাসছে। সসারের ওপরের ঢাকনাটা খোলা। ভেতর থেকে নিকোবার-এক্স আর তার স্ত্রী নিকোবার-ওয়াই নেমে এলেন। তাদের পিছু পিছু আকাশে ভাসতে থাকা পেঁজা তুলার মত কিছু মেঘ ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। নিমেষেই ঘরের ছাদে ভাঁজ হয়ে থাকা ইলেকট্রনিক হাত দুটো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে রুমে ঢোকা মেঘগুলো পরিষ্কার করে ফেলল।

তিন.
২৪৩৩ সাল। ২৩৯৫ সালে রোবট বিদ্রোহের পর পরই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ রোবটদের হাতে বন্দি হয়। রোবটদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কিছু মানুষ কয়েকটা এ্যারোপ্লেন নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। অ্যামাজন জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়ে যাবার সময় রোবটদের মিসাইলের আঘাতে প্লেনগুলো অ্যামাজনের গহীণ অরণ্যে ক্র্যাশ করে। মোট তিনটি যাত্রীবাহী বিমানে মানুষের সংখ্যা ছিল ছয়শোরও কিছু বেশি। তাদের মধ্যে মবিনের পরিবারও ছিল। মবিনের জন্ম অ্যামাজনজঙ্গলে। তার বাবা-মা যতটুকু পেরেছেন, মবিন আর তার ভাইবোনদের শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করেছেন।

অবাক কাণ্ডটাহল, রোবটরা পুরো পৃথিবী দখল করে নিলেও কোন এক অজানা কারণে অ্যামাজনেপ্রবেশের চেষ্টা চালায়নি। যদি কেউ ভুল করে অ্যামাজনের বাইরে বেরোয়, টহলরত রোবটরাতাদের ধরে নিয়ে যায়। রোবটরা চাইলেই জঙ্গলের ওপর একটা আনবিক বোমা ফেলে পুরো অ্যামাজনের অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে পারে। রোবটদের পৃথিবী দখলের প্রায় আটত্রিশ বছর হয়ে গেল, এখনও ওরা সে চেষ্টা চালায়নি। মবিনের ধারণা, ওরা সম্ভবতজঙ্গলের মানুষদের জীবিত ধরতে চায়। তারা চাইলেই জঙ্গলের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। হাতে তৈরি তীর-ধনুক আর বন্দুকের গুলিতে ওদের তেমন ক্ষতি হবে না। অ্যামাজনে আটকে পড়া মানুষদের দলনেতা জিমদাল খানের সেই ঘোষনাটির কারণে সম্ভবতএখনও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেনি।

জিমদাল খান ছিলেন তুরস্কের অধিবাসী। মাথায় বেজায় বুদ্ধি। তিনি বুঝতেপেরেছিলেন, রোবটরা তাদের জ্যান্ত ধরতে চায়। আর তাই জঙ্গলে ঢুকেই তিনি রোবটদের ভার্চুয়াল ফ্রিকোয়েন্সিতে ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলেন, রোবটরা যদি জঙ্গলে ঢোকার চেষ্টা করে তাহলে জীবিত সব মানুষ আত্মহত্যা করবে। এরপর রোবটরা আর অ্যামাজনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়নি।

পঁয়ত্রিশ বছর যাবৎ অ্যামাজনে আটকে থাকার পর গত তিনবছর ধরে অন্যগ্রহের সঙ্গে সাহায্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই রোবটরা আগেভাগে টের পেয়ে ওদের যোগাযোগের ফ্রিকোয়েন্সি নষ্ট করে দিচ্ছে। মবিন ধরা পড়ার অল্প কিছুদিন আগে রোবটদের রাডার এড়িয়ে ফ্রিকোয়েন্সি পাঠানোর একটা পদ্ধতি বের করা হয়েছিল। মবিন সেটার প্রয়োগ দেখে যেতে পারেনি। তার আগেই প্রজাপতির পেছনে ছুটতে ছুটতে অ্যামাজনের সীমানার বাইরে গিয়ে রোবটদের হাতে ধরা পড়ে। ওরইবাকী দোষ! রুমকি এত করে একটা প্রজাপতি চাইছিল। রুমকি ওর কাছে কিছু চেয়েছে আর মবিন সেটা দেয়নি, এমন কখনই হয়নি।

নিকোবার-এক্স মানুষরূপী দাসের জন্য রিকুইজিশন দিয়ে রেখেছিলেন। মবিন ধরা পড়ার পর নিকোবার-এক্সের বাসায় তাকে দাস হিসেবে পাঠানো হয়। অবশ্য নিকোবার-এক্সের বাসায় মবিনকে তেমন কোন কাজ করতে হয় না। সব কাজ করার জন্য মেশিন রয়েছে। মবিনের মূল কাজ হল, নিকোবার-এক্সের মেয়ে নিকোবার-টেনকে সঙ্গ দেয়া। তবে একটা কথা মবিন ভেবে পায় না, রোবটদের সন্তান হয় কী করে! নাকি ওরা অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিয়ে আসে। নিকোবার-টেনকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল। নিকোবার-টেন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। উল্টো মন খারাপ করে বসেছে।

রোবটদের নিয়ে এই আরেক জ্বালা। ওরা মানুষের আবেগ অনুভূতি নিজেদের ভেতর ঢুকিয়েছে। কিন্তু কোনটা কখনকীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার কিছুই জানে না। হাসির কোন কথা বললে কেঁদে ফেলে। আবার গালমন্দ করলে বোকার মত হাসে। একেকটা মহাবেকুব। সেদিন আকাশে ভাসতে থাকা ভার্চুয়াল নিউজপেপারে দেখল, রোবটরা নাকি তাদের পেটে মানুষের মত পাকস্থলী স্থাপন করবে।ফাজলামি করার আর জায়গা পায় না! কয়েকদিন পর দেখা যাবে, স্যানিটারি ল্যাট্রিন বানিয়ে ন্যাংটো হয়ে বসে শৌচকর্ম করছে। শালাদের তো আবার লাজলজ্জার বালাই নেই। পায়খানা করার সময় ল্যাট্রিনের দরজাও খুলে রাখবে। ছিঃ!

চার.
“মবিন, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।” মেয়েদের মতঢুলুঢুলু চোখে ওর দিকে তাকিয়ে নিকোবার-টেন বলে ওঠে।

তোর ভালবাসার মুখে আমি ইয়ে করি। মবিন মনে মনে বলে। নিকোবার-টেনের মুখে ভালবাসি কথাটা মবিন এ পর্যন্ত অনেকবার শুনেছে। কিন্তু কখনও দুই চোখে রুমকির মত আবেগ ফুটে উঠতে দেখেনি। দেখবে কীভাবে? রোবটরা চাইলেও এসব অনুভূতি মানুষের কাছ থেকে কপি করে নিজেদের ভেতর ঢোকাতে পারবে না। এসব অনুভূতি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। তোদের মত সামান্য রোবটদের ছেলের হাতের মোয়া নয়।

“মবিন, তুমি কিছু বলছ না কেন?”
“কীবলব?”
“তুমিও আমাকে ভালবাসো, সেটা বল।”
“ভালবাসা এত সহজব্যাপার নয়, নিকোবার-টেন।”
“ভালবাসা তাহলে কেমন? তুমি আমাকে শিখিয়ে দাও। যত কঠিনই হোক, আমি ঠিক শিখে নিতে পারব।”
“না, পারবে না। এটা শিখে নেয়ার মত কোন জিনিস নয়।”
“মবিন! তোমার হয়ত জানা নেই, আমি কতটা উন্নত প্রজাতির রোবট। আমার মেমোরিতে সাধারণ রোবটদের চাইতে জায়গা অনেক বেশি। রোবট সমাজে আমার মর্যাদা অনেক ওপরে। তুমি কখনও আমার সঙ্গে বাইরে বেরোওনি, তাই এসব জানো না।”
“আহা, ব্যাপারটা এরকম..” বলতে গিয়েও মবিন থেমে যায়।

মবিন এই ৭০২ তলা থেকে পালানোর অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিচের দিকে তাকালেই ভয়ে কলিজা শুকিয়ে আসে। তাছাড়া, আকাশে রোবটরা সসার নিয়ে দিনমান পাহারা দিয়ে বেড়ায়। এখান থেকে পালানো এত সোজানয়। নিকোবার-টেনকে ব্যবহার করে যদি একবার বাইরে বের হতে পারে, তাহলে পালানোর একটা রাস্তা হয়ত খুঁজে বের করতে পারবে।


“আহা..উঁহুম!” গলা খাঁকারি দিয়ে মবিন তার গলা পরিষ্কার করে। এখন নিকোবার-টেনের কাছে বানিয়ে বানিয়ে কিছু মিথ্যা বলতে হবে। গলার স্বরে কম্পন তোলা যাবে না। তাহলে নিকোবার-টেন ওর বলা মিথ্যাগুলো স্ক্যান করে ধরে ফেলবে।
“শোনো, কাউকে ভালবাসলে তার জন্য অনেক কিছু করতে হয়।”
“যেমন? আমাকে উদাহরণ দিয়ে বোঝাও।”
“যেমন ধরো;যে মেয়েটাকে আমি ভালবাসতাম, সে আমার কাছে সামান্য একটা প্রজাপতি চেয়েছিল। রুমকির জন্য আমি প্রজাপতির পেছনে ছুটতে গিয়ে তোমাদের হাতে ধরা পড়ি। ধরা পড়ার পরও আমার ততটা দুঃখ হয়নি, যতটা দুঃখ হয়েছিল রুমকির হাতে প্রজাপতিটা তুলে দিতে না পারায়।”
“তুমি ধরা পড়ার সময় তোমার হাতে সেই প্রজাপতিটা ছিল?”
“হ্যাঁ, ছিল।”
“সেটা এখন কোথায়?”
“জানি না। হয়ত কোথাও উড়ে চলে গেছে। কিংবা ঘাসের ওপর মরে পড়ে রয়েছে।”
“আচ্ছা, আমি যদি তোমাকে একটা প্রজাপতি এনে দিই, তাহলে তুমি আমাকে ভালবাসবে?”
“না।”
“কেন?”
“আমি তো প্রজাপতি চাইনি। রুমকি চেয়েছিল। আমাকে প্রজাপতি এনে দেবার পর সেটা রুমকির হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেদিতে হবে।”
“সেটাও যদি করে দেই, তাহলে তুমি আমায় ভালবাসবে?”
“তুমি আমাকে রুমকির কাছে প্রজাপতি পৌঁছেদেবার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে?” মবিনের চোখ জোড়া চকচক করে ওঠে।
“যদি পারি, তাহলে আমায় ভালবাসবে?” নিকোবার-টেন একই কথা বারবার আওড়ে যাচ্ছে।
“হ্যাঁ, বাসব।”

নিকোবার-টেন মবিনের চোখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। সত্যিকারের কোন মেয়ে হলে, এতক্ষণে মাথায় হাত দিয়ে নিজের নামে দিব্যি দিয়ে বসতো। রোবটরা এসব করবে না। নিকোবার-টেন নিশ্চয়ই তার চোখের সেন্সর দিয়ে মবিনের চোখ জোড়া এক্সরে করে দেখছে, মবিন সত্যি বলছে কিনা। উত্তেজনায় মবিনের হৃৎপিণ্ডটা ধ্বকধ্বক করে লাফাতে থাকে। ওর পরিকল্পনা সফল হবে তো?

“ঠিক আছে, আমি তোমাকে অ্যামাজনে নিয়েরুমকির কাছে প্রজাপতি পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করব। তাহলে তুমি আমাকে ভালবাসবে?”

রোবটরাকোন প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেলে সেই প্রশ্ন আর দ্বিতীয়বারকরে না। দ্বিতীয়বার করার কোন প্রয়োজন নেই। আগের উত্তরটাই ওদের মেমোরিতে স্টোর হয়ে থাকে। মবিন জানে না, নিকোবার-টেন হঠাৎ রোবট সমাজের এই নিয়ম কেন ভঙ্গ করল।

“হ্যাঁ, বাসব।”আটকে রাখা নিঃশ্বাসটা ধীরে ধীরে ছেড়ে বলে ওঠে মবিন। নিকোবার টেনকে এখন আর আগেরমত খারাপ লাগছে না। রোবট হলেও মেয়েটা দয়া-মায়ার অনুভূতিগুলোর সাথেনিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।

পাঁচ.
শোঁশোঁশব্দে নিকোবার-টেনের ফ্লাইং সসারটা মেঘের ভেতর দিয়ে উড়ে চলেছে। এই গতিতে চলতে থাকলে অ্যামাজনে পৌঁছাতে মিনিট দশেকের বেশি সময় লাগার কথা না।এখনও ভাসমানকোন চেকপোস্টে ওদের আটকায়নি। এর পেছনে অবশ্য অন্য কারণ রয়েছে। সসারটা নিকোবার-টেনের বাবা নিকোবার-এক্সের। নিকোবার-এক্স রোবট সমাজের উচ্চপদস্থ একজন রোবট বিজ্ঞানী। রোবট সমাজে তার কদর দেশেরএকজন মন্ত্রীর সমান। এ কারণেই তার ফ্লাইং সসারটা কেউ আটকানোর সাহস করছে না। তাছাড়া চেকপোস্টের অনেক দূরে থাকতেই রাডারে নিকোবার-টেনের পরিচয় ভেসে উঠছে। চেকপোস্টের সাধারণ সৈনিক রোবটদের তুলনায় নিকোবার-টেন অনেক উন্নত প্রজাতির রোবট। ওকে আটকানোর ক্ষমতা সাধারণ রোবটদের দেয়া হয়নি।

নিকোবার-এক্স ব্যক্তিগত গবেষণাগারে একটা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রোবটদের পেটে পাকস্থলী সংযোজনের ব্যাপারটার সাথে তিনি নিজেও জড়িত। গবেষণায় সামনে এগোনোরনতুন একটা পথ দেখতে পেয়ে তিনি রোবট বিজ্ঞানী মেলানি-থাউজ্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করলেন। তথ্যটা জানার পর মেলানি-থাউজ্যান্ডও উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। তিনি নিকোবার-এক্সকে তখনই রোবটদের সেন্ট্রাল গবেষণাগারে চলে আসতে বললেন। নিকোবার-এক্স গবেষণাগার থেকে বের হয়ে তার সসারে উঠতে গিয়ে দেখলেন, সসারটা জায়গামত নেই। সসারের কথা নিকোবার-ওয়াইকে জিজ্ঞেস করার জন্য নিকোবার-ওয়াইয়ের রুমে গেলেন। নিকোবার-ওয়াই সসারের ব্যাপারে কিছু জানেন না। তিনি অন্য আরেকটা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নিকোবার-টেন তার রুমে নেই। তারসাথে মবিন নামের মানুষরূপী দাসটাও উধাও!

সসারের সম্মুখভাগের ডিসপ্লেতে বার বার নিকোবার-এক্সের পাঠানো বার্তা ভেসে উঠছে। তিনি নিকোবার-টেনকে অবিলম্বে সসার নিয়ে ফিরে আসার নির্দেশদিচ্ছেন। তা না হলে তিনি রোবট সিকিওরড ফোর্সকে জানাতে বাধ্য হবেন। আর একবার রোবট সিকিওরড ফোর্সে জানালে ঘটনার ওপর তার আর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। রোবট সিকিওরড ফোর্স অবাধ্যতার জন্য নিকোবার-টেনকে চিরতরে বিকল করে ফেলবে।মবিনকেও মেরে ফেলতে পারে। এই শাস্তি তিনি কোনভাবেই ঠেকাতে পারবেন না।

নিকোবার-টেন তার বাবার কোন বার্তারই উত্তর দিলো না। সসার অ্যামাজনের ওপর চলে আসা মাত্র নিচে ল্যান্ড করালো। আশপাশে বেশ কিছু প্রজাপতি উড়তে দেখা যাচ্ছে। নিকোবার-টেনের ছুঁড়ে দেয়া গ্লুতে একটা প্রজাপতি আটকা পড়ল। নিকোবার-টেন প্রজাপতিটা মবিনের হাতে দিয়ে মিষ্টি করে হেসে বলল, “যাও, তোমার রুমকিকে দিয়ে এস।”
“জঙ্গলে ঢোকার পর যদি আমি আর ফিরে না আসি?”মবিন জানে না, হুট করে কেন বোকার মত কথাটা বলে বসল।

নিকোবার-টেন মবিনের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসল। দূরের আকাশে কালো কয়েকটা বিন্দু ফুটে উঠেছে। ধীরে ধীরে বিন্দুগুলো টেনিস বলের আকার ধারণ করছে। মবিন জানে, ওগুলো কী। রোবট সিকিওরড ফোর্সের সসার। ওরা সম্ভবত নিকোবার-টেনকে বিকল করে ফেলবে। আর তার নিজের ভাগ্যে কী ঘটবে, সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।

“মবিন, আর দেরী কর না। জলদি জঙ্গলে ঢুকে পড়। রোবট সিকিওরড ফোর্সের সদস্যরা মাটিতে নেমে আসার পর আমি তাদের ঠেকাতে পারব না।”
“তোমার কী হবে?”
“আমাকে নিয়ে তোমার ভাবতেহবে না।”নিকোবার-টেনঅভয় দেয়ার সুরে বলে ওঠে। একমাত্র মানুষেরাই এভাবে অভয় দেয়ার সুরে কথা বলতে পারে। মবিন এর আগে কোন রোবটকে এভাবে কথা বলতে শোনেনি।

শেষবারের মত নিকোবার-টেনের দিকে তাকিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে পড়ল মবিন। নিকোবার-টেন এখন আর মবিনের দিকে তাকিয়ে নেই। তার দৃষ্টি ছুটে আসা সসারগুলোর দিকে। নিকোবার-টেনের হাতে তার বাবা নিকোবার-এক্সের লেজার গানটা শোভা পাচ্ছে।

ছয়.
“মবিন, তুমি ফিরে এসেছ?” শুকিয়ে কাঠি হয়ে যাওয়া রুমকি ছুটে এসে মবিনকে জড়িয়ে ধরে। রুমকিকে দেখে চিনতে অনেক কষ্ট হয়েছে মবিনের।
“তুই কী করে পালিয়ে এলি, বাবা?” মবিনের মা এতদিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছেন।
“সে অনেক কথা, মা। পরে বলব।”
“বাইরে কিসের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে? ওরা কি তোকে ধাওয়া করে জঙ্গল পর্যন্ত চলে এসেছে?” মবিনের বাবার কন্ঠে উদ্বেগ।
“ভয় পাবার কিছু নেই। ওরা জঙ্গলের ভেতরে ঢুকবে না।”
জিমদাল খান তার গমগমে কন্ঠে ঘোষনা দিলেন, “মবিন তুমি জেনে হয়ত খুশি হবে, ওদের রাজত্ব আর বেশিদিন নেই। আমরা অন্য গ্রহের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। সাহায্য চলে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

খবরটা শোনার পরও মবিন কেন জানি খুব একটা খুশি হতে পারল না। ওর মনের আকাশে নিকোবার-টেনের জন্য দুঃশ্চিন্তার কালো মেঘ খেলা করছে। জঙ্গলের বাইরে থেকে এখন আর কোনআওয়াজ ভেসে আসছে না। বেশ অনেকক্ষণ হল আকাশে লেজার গানের আলোকরাজিও বন্ধ হয়ে গেছে।

“জিমদাল খান, আমি কিছুক্ষণের জন্য জঙ্গলের বাইরে যেতে চাই।”
“একী বলছিস তুই, বাবা? জঙ্গলের বাইরে গেলে তুই আবারও ধরা পড়ে যাবি!”
“যে রোবটটা নিজেকে এতবড় ঝুঁকির মুখে ফেলে আমাকে এখান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে, তার পরিণতি আমাকে জানতেই হবে।”
“অসম্ভব! তোমাকে আমি কোনভাবেই যেতে দিব না।”রুমকির গলায় দৃঢ়তার সুর।
“রুমকি, উপকারীকে বিপদের মুখে ফেলে আসা মানবধর্ম নয়। আমি যদি এখন না যাই, বাকি জীবনটা এই যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকতে আমার ভীষণ কষ্ট হবে।”
“বেশ! তবে আমিও তোমার সাথেযাব। ধরা যদি পড়ি, এবার দুজন একসাথেইপড়ব।”

মবিন আর কালক্ষেপণ না করে জঙ্গলের বাইরে যাবার জন্য ছুট লাগালো। জঙ্গলের বাইরে এসে আশেপাশে সসারগুলোর দেখা পেল না। রোবট সিকিওরড ফোর্সের সবাই চলে গেছে। একটু দূরে দলা পাকানো কালো রঙের একটা বস্তু পড়ে রয়েছে। বস্তুটা থেকে এখনও ধোঁয়া উড়ছে। মবিন ধীরে ধীরে কাছে এগিয়ে গেল। নিকোবার-টেনের অপরূপ শরীরটার বিন্দুমাত্রও আর অবশিষ্ট নেই। লেজার গানের তাপে মাথার চুলগুলো পুড়ে গেছে। শরীরের চামড়া পুড়ে ভেতরের যন্ত্রাংশ বাইরে বেরিয়ে এসেছে। প্রচণ্ড তাপের কারণে ধাতব শরীরটা কুঁকড়ে গিয়েছে। তারপরও মুখ দেখে নিকোবার-টেনকে এখনও চেনা যায়। নিকোবার-টেনের দূরবস্থা দেখে মবিনের চোখ দুটো জলে ভরে ওঠে। সে ধীরপায়ে সামনে গিয়ে নিকোবার-টেনের ভাঙাচোরা শরীরের ওপর হাত রাখে। শরীরটা এখনও অনেক গরম। ঠান্ডা হয়নি। মবিনের হাতের স্পর্শ পেয়ে নিকোবার-টেনের একটা চোখের কুৎসিত আলো জ্বলে ওঠে। আরেকটা চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

“তুমি আগে থেকেই সব জানতে, তাই না?” কান্নাভেজা গলায় মবিন বলে ওঠে।
“মবিন, আমার সেন্সরগুলো অনেক উন্নত। সেদিন তোমার গলার টোন আর চোখের দৃষ্টি এক্সরে করে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তুমি আমাকে মিথ্যা বলছ।”
“তাহলে সব জেনেশুনেও কেন এতবড় ঝুঁকি নিলে?”
“তুমি বলেছিলে, কাউকে ভালবাসলে তার জন্য কিছু করে দেখাতে হয়। আমি তোমার জন্য কিছু একটা করে দেখাতে চেয়েছিলাম। জানি না, আমার মাদারবোর্ডটা জ্বলে যাবার পরও এখনওকীভাবে সচল আছি। হয়ত তোমার অপেক্ষাতেই এই সময়টুকু টিকে ছিলাম।”
“আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে, নিকোবার-টেন। এই যন্ত্রণা আমাকে বাকি জীবনটা বয়ে বেড়াতে হবে।”
“কেঁদো না, মবিন। বিকল হয়ে যাওয়ায় আমার কোন আফসোস নেই। হয়ত আমার শরীরটা রিসাইকেল করে কিছুদিন পর আরেকটা নিকোবার-টেন তৈরিকরা হবে।তবু এই যান্ত্রিক শরীরটা বিকল হয়ে যাবার আগে একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছে করছে।”
“বল, কী জানতে চাও।”
“মবিন, আমি কি তোমার ভালবাসা পেয়েছি?”

মবিন এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। দুই হাত দিয়ে নিকোবার-টেনের যান্ত্রিক শরীরটা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিকোবার-টেনের প্রশ্নের উত্তর রুমকির সামনে সেদিতে পারবে না। মানুষ সম্পর্কে রোবটদেরএকটা ব্যাপার জানা নেই,আর তা হল- মানুষ কখনই তার ভালবাসার মানুষটার ভাগাভাগি মেনে নিতে পারে না।কোন অবস্থাতেই না। মবিনের দেয়া উত্তর রুমকি কখনই সহ্য করতে পারবে না। হোক নিকোবার-টেন একটা রোবট, তবুও।

নিকোবার-টেনের অবশিষ্ট চোখের কুৎসিত আলোটাও এখন নিভে গেছে। নিকোবার-টেনের কঠিন প্রশ্নটার উত্তর দেয়া থেকে মবিন বেঁচে গেল। নিকোবার-টেনের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে না পারার কষ্ট বাকি জীবনটা মবিনকে কুরে কুরে খাবে। এই কষ্টের কথা কেউ কোনদিন জানবে না। ওর ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রুমকি নামের প্রিয় মানুষটিও না।

--সমাপ্ত--

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement