এটি একটি গোয়েন্দা বিষয়ক গল্প।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ আগস্ট ১৯৯৮
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

২.৬৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৪৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - পার্থিব (আগস্ট ২০১৮)

সর্বশেষ গন্তব্য
পার্থিব

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৬৭

Ehsan Khan

comment ১  favorite ০  import_contacts ৬৩
দশতলা উঁচু ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে রুপম,আজ তার চিরমুক্তির দিন,আজকের পর থেকে আর কেউই কখনো তাকে আর অপমান করতে পারবেনা, আজকের পর থেকে তার অতীত তাকে আর কুড়েকুড়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর যন্ত্রণা দেবেনা। আজ তার খুশির দিন, শতবেদনাকে পেছনে ফেলে সে এগিয়ে যাচ্ছে মুক্তির পথে।

১.
আজ ভার্সিটির প্রথম ক্লাস, আর প্রথম দিনেই ক্লাসে যেতে রুপমের লেইট হয়ে গেলো,

সে" বাসা থেকে ঠিক সময়েই রওনা দিয়েছিল, কিন্তু যাওয়ার পথে তার সামনে এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক মহিলাকে এক ধনী গাড়িওয়ালা,ভিক্ষা চাওয়ার অপরাধে ধাক্কা দিয়েছিল,,এবং সেই ধাক্কার ফলে পড়ে গিয়ে মহিলাটির মাথা ফেটে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো,,তাই সে মহিলাটিকে ডাক্তারখানায় নিয়ে গিয়েছিল। এই জন্যই তার ভার্সিটি পৌছাতে লেইট হয়ে গেছে।
আর এর জন্যই তাকে প্রথমদিনই সকলের সামনে স্যার প্রচুর অপমান করলো,, সে তার দেরি হওয়ার কারণ বলাতে স্যার তাকে মিথ্যুক বলে আখ্যায়িত করে আরো বেশি অপমান করলো।
পুরো ক্লাস জুড়ে হাসির একটা রোল পড়ে গেলো,,,সবাই প্রথম দিনই রুপমের পার্সোনালিটি সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা পেয়ে গেলো। স্কুল কলেজের মত ভার্সিটিতেও সে প্রথমদদিনই জোকার ও মিথ্যাবাদী হিসাবে পরিচিত হলো।
অতঃপর রুপমের ভার্সিটি লাইফের দুইমাস পার হলো,,কিন্তু তার কারো সাথেই বন্ধুত্ব হলোনা,প্রথম থেকেই স্কুল ও কলেজ লাইফের মতোই কোনো এক অজানা কারণে ভার্সিটি লাইফেও রুপমকে সবাই এড়িয়ে চলতো,নিঃসঙ্গতাই ছিলো রুপমের ভাগ্যলিখন,,, এবং এইটাকে সে মেনেও নিয়েছিলো।
একা থাকলেও ভালই চলছিল রুপমের জীবন,, সে শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো,,,,
হঠাৎ একদিন ভার্সিটির ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দুইটা দলের মাঝে ঝামেলা বাঁধলো,,,রুপমের চোখের সামনে দুই দলের সংঘর্ষে দুইজন মানুষ গুলিতে মারা গেলো,সবাই পালালেও রুপম নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সেখানে।
সাথে সাথে পুলিশ এসে লাশ দুইটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো এবং রুপমের কাছ থেকে ঘটনা শুনে তার নাম্বার রেখে দিয়ে বললো,"__ প্রয়োজন পড়লে ফোন দিলেই থানাই চলে আসবেন।
তার একটু পরেই রুপম দেখলো একটু দূরেই একটি মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে,রুপম মেয়েটিকে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।
অতঃপর জ্ঞান ফেরার পর মেয়েটি কাউকে কিছু না বলেই,,,সজোরে কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতাল থেকে দৌড়ে পালালো,,,রুপম হতবাক হয়ে শুধু তাকিয়ে রইলো মেয়েটির চলে যাওয়ার দিকে।
ওই ঘটনার পর থেকে না চাইতেও রুপমের ভাবনা জুড়ে শুরু ওই মেয়েটার প্রতিচ্ছবি ভাসতো,,,,,মেয়েটার মায়াভরা মুখটা রুপমকে উদাসীন করে দিয়েছিল,, সাথে কিছু ভাবনাও তাকে অস্থির করে তুলেছিল,,, মেয়েটা কিছু না বলে কেনোই বা কাঁদতে কাঁদতে পালালো? মেয়েটার কিসের এতো ভয়?? কিসের এতো কষ্ট?? মেয়েটাকি কোনো বড় বিপদে আছে??।

সে মেয়েটাকে পাগলের মত খুঁজতে লাগলো,

এরই মধ্যে পুলিশের ডাক আসলো,রুপমকে থানাই ডেকে নিয়ে পুলিশ নানান রকম জেরা করতে লাগলো,ওইখানে খুনির কাউকে রুপম চেনে কিনা জানতে তাইলো,রুপম কিছুই বলতে পারলোনা,কারণ রুপম কাউকেই চেনেনা। পুলিশ তাকে ছেড়ে দিলো।

সেদিন রাতে রুপম বাজারে গিয়েছিল কিছু কেনাকাটা করতে,ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। আর আসার পথেই তাকে বেশকিছু লোকজন. অস্ত্রহাতে তাড়া করে, আর বলে," আমাদের নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার ফল আজকে মিটাবো,

রুপম কোনরকমে দৌড়িয়ে পালাতে পালাতে তাড়াহুড়া করে এক বাড়ির পাশের ঝোঁপে লুকিয়ে পড়ে, এবং সেখানেই ঘুমিয়ে রাত পার করে দেয়,পরদিন সকালে সেই বাড়িরই মেয়ে রুপমকে দেখতে পেয়ে ডেকে ঘুম থেকে তোলে।

রুপম চোখ মেলেই হতবাক হতে তাকিয়ে দেখে,যেই মেয়েটিকে সে" এতোদিন ধরে পাগলের মত খুঁজছিলো,আজ সেই মেয়েটিই তার চোখের সামনে দাঁড়ানো।

রুপম তড়িঘড়ি করে উঠে হন্তদন্ত হয়ে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলো,"__আপনি এখানে??" আপনাকে আমি পাগলের মত দিনরাত এক করে খুঁজেছি,এতদিন কোথায় ছিলেন?"।

মেয়েটি অবাক চোখে রুপমের দিকে তাকিয়ে বললো,"__কে আপনি? আর আমাকে কেন খুঁজছিলেন?"।

রুপম একটু লজ্জা পেলো,তার ডাইরেক্ট এভাবে বলাটা ঠিক হয়নি,,অতঃপর সে" নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললো, গতদিন আমি আপনাকে ভার্সিটি থেকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপালে নিয়ে গেছিলাম,, কিন্তু আপনি জ্ঞান ফিরে পেয়েই কাউকে কিছু না বলেই কাঁদতে কাঁদতে চলে গেছিলেন, তাই আপনাকে খুঁজছিলাম! ভাবছিলাম আপনার কোন বিপদ হয়নি তো?"। তাহ সেদিন কি হয়েছিলো আপনার? কেনই বা ওইভাবে দৌড়ালেন?।

মেয়েটি তখন বললো,"__ উত্তরটা জানা কি খুব জরুরি?

রুপম বললো,"__ অবশ্যই জরুরি, আমি আপনাকে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তাই আছি।

মেয়েটি বললো, কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানাই ভালো,আর তাছাড়াও অচেনা কাউকে নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করেও লাভ নেই। সেদিনের উপকারের জন্য ধন্যবাদ,বাড়ির সামনে এসেছেন,চাইলে এক কাপ চাঁ খেয়ে যেতে পারেন আর খেতে না চাইলে আপনি এখন আসতে পারেন বাই।

রুপম বললো,"__আচ্ছা ঠিক আছে ভালো থাকবেন বাই। এই বলেই সে" চলে আসে,,এই ঘটনার পর রুপমের মেয়েটার প্রতি ভালবাসা ও কৌতুহল আরোবেশি বাড়তে থাকে,,,সে ভাবতে থাকে মেয়েটার কিসের এত দুঃখ?,,, সে" কেনই বা বলতে চাইছে না? আমাকে যে করেই হোক জানতেই হবে,,,তাকে ভাল যখন একবার বেসেছি,, তাহলে তার সব দুঃখ দূর করে সুখে পরিণত করার দায়িত্ব আমার।

অতঃপর রুপম,,মেয়েটার বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছে প্রচুর খোঁজখবর নিতে থাকে।কিন্তু তেমন কোন প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পায়না ,, অবশেষে নিজে লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েটার বাড়ির আশেপাশে থেকে,, মেয়েটাকে ফলো করতে থাকে,,,,সে" মেয়েটাকে কখনোই বাহিরে বেরুতে দেখতোনা,,শুধু দূরথেকে দেখতো জানালার পাশে বসে মেয়েটা,, একটা ডায়রিতে প্রতিদিন কিছুনা কিছু লিখতো।

অবশেষে রুপম ভাবে,,এই ডায়রিটা পড়তে পারলেই, মেয়েটার বিষয়ে হয়তো সব কিছু জানতে পারবে,,তাই সে" অনেক কষ্টে মেয়েটার বাড়ির কাজের মেয়েকে পটিয়ে,, টাকা দিয়ে ডায়রিটা চুরি করাই,,এবং পরিশেষে সে" ডায়রিটা পড়ার সুযোগ পাই।

২.

-------ডায়রি --------
_______________
আমি সাদিয়া,আমরা তিন ভাইবোন ছিলাম, দুইবোন আর এক ভাই,ভাইয়া সবার বড় তার পরে আপু,এবং আমি সবার ছোট। আমার বাবা ছিলের যশোর থানার এস আই,ছোটবেলা থেকে বাবার আদর্শ মেনেই বড় হয়েছি,বাবাকে কখনোই কোনরকম ছোটবড় অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে দেখিনি,তিনি এক কথারই মানুষ ছিলেন,

আমরা পরিবারের সকলেই বাবার বাধ্যগত ছিলাম।। বাবা আমাকে সবথেকে বেশি ভালবাসতেন।

সবিই ভালো চলছিল আমাদের পরিবারে,অনেক সুখেই ছিলাম আমরা। কিন্তু হঠাৎ একদিন সবকিছুইই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো,

তখন আমি মাত্র ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি,আপু ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে আর ভাইয়া ফাইনাল ইয়ারে পড়ে।

একদিন কলেজ থেকে বাসাই ফেরামাত্রই দেখি বাসার ফোনে বাবার কল। আপু, ভাইয়া কেউ বাসাই ছিলোনা,আর মা রান্নাঘরে ছিলো,তাই আমিই কলটা রিসিভ করি,আর কলটা রিসিভ করে হ্যালো বলতেই,,,, বাবা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,মা" তোর ভাইয়া কোথায়?? ওর ফোনটা তো বন্ধ! তোর ভাইয়াকে এখুনি বল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই শহর ছেড়ে যেন সবাইকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এখানে থাকলে ওরা তোদেরকে বাঁচতে দেবেনা। এই বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাবা ফোন কেটে দিলো।

ভয়ে আমার বুকের ভেতর ধুক করে কেঁপে উঠলো,,,,,
সাথেসাথেই আমি পুরো বিষয়টা একেক করে পরিবারের সবাইকে জানালাম,,, ভাইয়া থানাই খোঁজ নিয়ে বাবাকে পেলোনা,,,,,কেন জানি,,সেদিন থানা থেকেও তেমন কোন রেস্পন্স দিচ্ছিলো না।

সেদিন ভাইয়া অনেক দৌড়াদৌড়ি করেও বাবার কোন হদিশ পাইনি,,,,আমরা অনেক দুশ্চিন্তাইই ছিলাম। পরের দিন থানা থেকে ফোন দিয়ে সকলকে যেতে বললো,,আমরা সাথেসাথেই গেলাম,,,,

গিয়ে দেখলাম থানার সামনে বাবার ছিন্নকরা কাঁটা মাথাটা পড়ে আছে,,, বডিটা নেই,,,থানা থেকে জানালো বডি পাওয়া যাইনি,, শুধু মাথাটাই পাশের এক ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেদিনের ঘটনা সচক্ষে দেখে আমরা কেউই সহ্য করতে পারিনি।

মা ছিলো হার্ট এর পেশেন্ট,,,তিনি বাবার কাটা মাথা দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারিনি,,,,মা সেখানেই হার্ট এটাক করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সেদিন মায়েরও মৃত্যু হয়।

আমাদের সোনার সংসারের ইতি সেদিন থেকেই শুরু হয়।

বাবার মৃত্যুর পর বাবার পোস্টেই ভাইয়ার চাকরি হয়,আর ভাইয়ার চাকরি জীবনের প্রথম মিশনটা ছিলো "বাবার খুনিদের খুঁজে শাস্তি দেয়া"।

ভাইয়া ডিউটিতে থাকতো, আর আমরা দুইবোন বাড়িতে থাকতাম,আপুর ভার্সিটি এবং আমার কলেজ যাওয়া বন্ধ ছিলো,বাড়িতে প্রচুর পুলিশি গার্ডও ছিলো।

তবুও ভাইয়াকে বলেছিলাম," বাবার সাবধান বাণীমত আমাদেরকে নিয়ে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে। কিন্তু ভাইয়া ছিলো অনেক জেদি,সে" বাবার খুনিদের না খুঁজে এই শহর ছেড়ে কোথাও যাবেনা,এভাবে দুইমাস পার হয়ে গেলো,ভাইয়া তার মিশন অনুযায়ী কাজ করছে,আমরা মোটামুটি স্বাভাবিক হলাম।

আবার কলেজে যেতে শুরু করলাম। হঠাৎ একদিন এক বড় রাজনৈতিক নেতার ছেলের বিয়ে উপলক্ষে নিরাপত্তা রক্ষার্থে,ভাইয়ার সেই বাড়িতে ডিউটি ছিলো, আর আমি গিয়েছিলাম কলেজে,আপু সেদিন ভার্সিটি না গিয়ে একাই বাড়িতে ছিলো।

কলেজ ছুটির পর আমি বাড়িতে ঢুকতেই দেখি,, গার্ডে থাকা ছয়জন পুলিশের কাটা মাথা গেটের সামনে পড়ে আছে,,ঠিক যেমন বাবার কাটা মাথাটা ছিলো। আর একটু দূরে আছে তাদের বাকি বডি। আমার মনের ভেতরটা আবার কিছু হারানোর ভয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে উঠলো ,এই অনুভূতিটা বাবার সেই লাস্ট ফোনকলেও হয়েছিলো।

আমি পাগলের মত দৌড়িয়ে আপুর রুমে গেলাম,গিয়ে দেখলাম আপু সিলিং ফ্যানের সাথে গলাই দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। এইটা দেখে আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি,, সাথেসাথে জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরলো ভাইয়ার কান্নাই,,, দেখলাম ভাইয়া আপুর লাশের পাশে বসে কাঁদছে। আমার বুকের ভেতরটা তখন ফেটে চৌরির হয়ে যাচ্ছিলো।

অতঃপর আপুর লাশকে পোস্ট মডেম এর জন্য পাঠানো হলো,,তারপর পোস্ট মডেমের রিপোর্টে আসলো, ১২ জন পশু মিলে পালাক্রমে আপুকে শেষ করেছে, তখন বুঝলাম
এর পরে আপুর আর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার মত ক্ষমতা ছিলোনা,তাইতো সে নিজেকে মুক্তি দিয়েছে।

এই ঘটনার পরে ভাইয়া আর নিজের জেদ নিয়ে অটুট থাকতে পারেনি,,, ভাইয়া ট্রান্সফার নিয়ে যশোর শহর ছেড়ে ঢাকাই চলে আসে।

ঢাকাই আসার পর থেকে ভাইয়া কখনো আমাকে একা কোথাও ছাড়তোনা,,,,কলেজেও যেতে দিতোনা,,এখানকার কলেজে শুধু ভর্তি করিয়েই রেখেছিল। আর বাসাই টিচার রেখে আমাকে পড়াতো।

অতঃপর ঢাকা বোর্ডেই আমার ইন্টার পরিক্ষা হলো,,এবং এতকিছুর পরেও আমার ভালো রেজাল্ট হওয়াতে,, ভাইয়া আমাকে ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দিলো,,এবং প্রতিদিন সাথে করে ভার্সিটিতে দিয়ে এবং নিয়ে আসতো,,, সবকিছু ভুলে আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছিলাম,,

কিন্তু সেইটা আর সম্ভব হলোনা,আমাদের কপালে অন্য কিছুই লেখা ছিলো,,,,,

সেদিন ভাইয়ার ডিউটি ছিলোনা তাই সিভিল ড্রেসেই ভাইয়া আমাকে ভার্সিটিতে নিয়ে গিয়েছিল,সময়মত পৌঁছেদিয়ে,,ভাইয়া চলে যাচ্ছিলো আর আমি ক্লাসে গিয়েছিলাম,,

হঠাৎ খুব চিল্লাপাল্লা শুনে আমি ক্লাস থেকে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসলাম, এসে দেখলাম,,প্রচুর লোকের ভিড়,,এবং তারমধ্যে ভাইয়াও আছে,,,আমি ভাইয়াকে ডাকতে যাবো,,আর ঠিক তখনি আমার চোখের সামনে কিছু লোক ভাইয়াকে গুলি করলো,

এইটা দেখে আমার শরীর পুরো নিস্পন্দ হয়ে গিয়েছিল,,,,মনে হচ্ছিলো যেন চিরতরে পায়ের নিচ থেকে মাটিটা সরে যাচ্ছে,সেখানেই আমি আবার জ্ঞান হারালাম। তারপর চোখ খুলতেই দেখি আমি হাসপাতালে,তখনই চেতনা ফিরতেই আমার ভাইয়ার কথা মনে পড়লো। আর সাথেসাথে আমার বুকটা হুঁ হুঁ করে কেঁপে উঠলো। আমি অবচেতন হয়েই হাসপাতাল থেকে দৌড়ালাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।

ভার্সিটিতে গিয়ে কাউকেই পেলাম না,সোজা থানাই গিয়ে জানলাম ভাইয়া আর পৃথিবীতে নেই,তৃতীয় বারের মত স্বজন হারানো ব্যথাই,হৃদয়ের ভেতরটা এক বিষাদী আত্মচিৎকারে ভেঙে পড়লো,,,,আমি প্রায় পাগলের মত হয়ে উঠলাম,, বাঁচার ইচ্চাটাই হারিয়ে গেলো।

একেক করে জীবন থেকে সবাই হারিয়ে গেলো,,,,,,ভাইয়াটা ছিলো আমার বাঁচার শেষ আশা। সেও চলে গেলো চিরতরে।

আগে প্রচুর আশা নিয়ে ভাবতাম,,, আমার কষ্টগুলো একদিন শেষ হবে,,,অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন একটা হিরোর আবির্ভাব ঘটবে আমার জীবনে,, সে" পিষাচগুলোকে শাস্তি দেবে,,,,আমার দুঃখ গুলোকে সুখে পরিণত করবে।

কিন্তু এখন বুঝি এগুলো নিতান্তই স্বপ্ন,,, তাই আর কিছুই ভাবিনা,,, মনের ভাবনাগুলোকে মনের মাঝেই জীবন্ত কবর দিয়ে দিই।

এখন প্রতিনিয়ত শুধু সময় গুনি,,,কখন আমার জীবনটা শেষ হবে,,,,এই বুকভরা ব্যথা নিয়ে আর কতদিন আমাকে বাঁচতে হবে?? আর কতদিন??

এখন আমি দুঃসম্পর্কের এক চাচার বাসাই আশ্রিতা হয়ে বেঁচে আছি। এই চাচাদের কোন ছেলেমেয়ে নেই,, তাই তারা আমাকে নিজের মেয়ের মতই ভালবাসে,,,।।।।।।
এখন সারাদিন ঘরে আটকা হয়ে থাকি। কারো সাথেই তেমন প্রয়োজন ছাড়া কথা বলিনা,,,
নিঃসঙ্গতা দূর করতে, সময় পার করতে,,, আমার এই প্রিয় ডায়রিটাতে নিজের মনের জমানো কথাগুলো প্রকাশ করি।

৩.

ডায়রিটা পড়ার পর রুপমের চোখদিয়ে অঝোর ধারায় পানি ঝরতে থাকে,,, সে বলে,"__এতদিন ভাবতাম আমার হৃদয়টা সর্বোপরি বিষাদময়,,, আমিই পৃথিবীরর শ্রেষ্ঠ নিঃসঙ্গ জীব! কিন্তু আজ বুঝতে পারছি কষ্ট কাকে বলে,,,,প্রকৃত নিঃসঙ্গতা কি আজ বুঝতে পারছি,,,,,মেয়েটা এতোটা অসহায়ত্ত্ব,,,এতোটা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে তা তাকে দেখে বুঝতে পারিনি,,,

হ্যাঁ__ হয়তো তার ভাবনার মতো কোন অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন হিরো আমি কখনোইই হতে পারবোনা,, কিন্তু তার কষ্টের ভাগিদার অবশ্যই হতে পারবো,,,,, তার দুঃখ অবশ্যই আমি দূর করতে পারবো,,,,এবং আমি তা করবই!!

তার পরিবারের খুনিদের আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে,,,এইরূপ জঘন্য পিশাচদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই,,,তাদেরকে মরতে হবে,,,হ্যাঁ তাদের মরতে হবে,,,আমিই তাদেরকে খুঁজে খুঁজে মারবো।

রুপম প্রচণ্ড আক্রোশ নিয়ে সাদিয়ার পরিবারের খুনিদের খুঁজতে থাকে,,,সাদিয়ার ডায়রিতে লেখা ঠিকানা থেকেই সে,,যশোরে যায়,প্রায় দেড়মাস ধরে অনেক কষ্টে খোঁজখবর করার পর রুপম ঢাকাই ফিরে আসে,এবং সরাসরি সাদিয়ার বাসাই অর্থাৎ সাদিয়ার সেই চাচাদের বাসাই উপস্থিত হয়।
......
রুপমকে দেখে সাদিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে,"__ আপনি???" আবার কি মনে করে আসলেন??।

রুপম বললো,"__সাদিয়া আপনার সাথে আমার খুব জরুরি কথা বলার আছে,,,,।

সাদিয়া,"__ আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে?

রুপম,"__ আপনার ডায়রি পড়ে জেনেছি!

সাদিয়া,"__ তার মানে আমার ডায়রিটা আপনিই চুরি করেছিলেন?" কেন এমন করলেন,,,, ডায়রি মানুষের পার্সোনাল জিনিস,, এই কাজটা আপনি মোটেও ঠিক করেননি।

রুপম,"__ দয়াকরে আমার পুরো কথাটা শুনুন,,, আমি আপনার উপকারের জন্যই এসেছি।

সাদিয়া,"___আচ্ছা বলুন কি বলতে চান?"

রুপম,"__ তাহলে মন দিয়ে শুনুন,,, আপনি জানেন যে" আপনার ওইদিন হাসপাতাল থেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে আসাই আমি অনেক দুশ্চিন্তা ও কৌতুহলি ছিলাম,,,ধীরেধীরে আপনার বিষয়ে জানার আগ্রহ আমার বাড়তে থাকে,,

আপনাকে দ্বিতীয়দিন এই বাড়িতে দেখার পরেও আপনি আমাকে কিছুই বলেন নাই,,তাতে আপনার প্রতি আমার আগ্রহ আরো অনেক বেশি বেড়ে যায়,,তাই আমি আপনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার অন্যকোন মাধ্যম না পেয়ে আপনার ডায়রিটা চুরি করে নিয়ে পড়ি,,, এবং আপনার সকল বিষয়ে জেনে যাই,,,,

অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত নিই,,আপনার পরিবারের খুনিদের খুঁজে বের করার,,সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে,,আপনাদের যশোরের বাসাতে যাই,,,,সেখান থেকেই খুনিকে খোঁজা শুরু করি,,,

আমি প্রথমেই আপনার বাবার কাটা মাথাটার ফরেনসিক রিপোর্ট কালেক্ট করি,এর জন্য ডাক্তারকে সরাসরি না বলে ফরেনসিকে থাকা এক সহকারী নার্সকে কিছু টাকাদিয়ে গোপনে কাজটা করি,,ডাক্তারকে সরাসরি বলতে ঝামেলা হতেপারে,,সন্দেহ করতে পারে,,,তাই নার্সকে দিয়ে কাজ করাই,,,কারণ আমি জানি ফরেনসিক রিপোর্টেই এমন অনেক তথ্য থাকে যার মাধ্যমে খুনি খোঁজার পথ পাওয়া যায়।


অতঃপর সেই রিপোর্টে জানতে পারি অতি ধারালো কিছু দিয়ে এক কোপে মাথাটা কাটা হয়েছিল।

তারপর একই মাধ্যমে আপনাদের বাসার গার্ডে থাকা পুলিশদেরও ফরেনসিক রিপোর্ট কালেক্ট করে জানতে পারি,, সবাইকে একই পদ্ধতিতে খুন করা হয়েছে,,,তারমানে খুনি একজন,,,,

কিন্তু আবার আপনার বোনের ফরেনসিক রিপোর্টে তার শরিরে ১২ জনের বির্য পাওয়া যায়,,আর তাছাড়াও ছয়জন গার্ডকে একজনের পক্ষে মারা সম্ভব না,,,তাতে বুঝলাম,,,,এদের আসল লিডার সারাসরি এসেছিল এবং সাথে লোকজন সহকারী হিসাবে ছিলো,,,

তাই লিডারকে নিশ্চিত করার জন্য আমি আপনার বোনের ফরেনসিক রিপোর্টটা মার্ক করলাম,,,

অতঃপর আপনার বাবার থানাই গিয়ে,,
কয়েকজন কনস্টেবলকে টাকা খাইয়ে,,গোপনে জিজ্ঞাস করলাম, কেউ ই সঠিক কার্যকরী কোন তথ্য দিতে পারলোনা,,,

যখন ফিরে আসছিলাম,,, ঠিক তখন একজন প্রায় বৃদ্ধ কনস্টেবল আমাকে ডেকে তার নাম্বার দিয়ে রাতে তার বাড়িতে যেতে বললো,,আমি গেলাম,,তারপর সে বললো,সে আপনার বাবার অনেক কাছের একজন লোক ছিলো,আপনার বাবা তাকে খুব ভালবাসতো,বন্ধুসুলভ ব্যাবহার করতো,

খুন হওয়ার দিন আপনার বাবা অনেক চিন্তাই ছিলো,আর তাকে বলেছিল,আজকের এই মিশনটা সফল হলে,এই শহরের বিশিষ্ট এক নেতা সহ ঢাকার এক বড় মন্ত্রীরও পদচ্যুতি ঘটবে,দেশ থেকে দুইটা অসৎ নেতা সরবে, অনেক হাজার হাজার জনগণ বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবে।

সে আমাকে এতোটুকুই বলতে পেরেছিলো।

সেইটা শুনে আমি বুঝলাম তারমানে এখনে,, অনেক বড় দলের হাত আছে ,,,,,, অতঃপর শহরের বড়বড় নেতাদের লিস্ট বানালাম,,,
এবং সব নেতাদের বাড়ির ড্রাইভার আর কাজের লোকদের টাকাপয়সার মাধ্যমে হাত করে,,,খবর জানতে থাকলাম,,, তাদের মধ্যে একজনের কাছে আসল ঘটনা জানতে পারলাম,,,,,

সে প্রথমে বলতে চাইছিলোনা,,পরে টাকার পরিমাণ বাড়াতে,জানালো সেই নেতার পরিবারের সাথে ঢাকার এক মন্ত্রীর অনেক বেশি খাতির,,,এবং এই নেতার ছেলে আর ওই মন্ত্রীরর ছেলে অনেক ক্লোজ বন্ধু,মন্ত্রীর ছেলে যখনি এই নেতার বাড়িতে আসে,,তখন নেতার ছেলেই পছন্দমত এলাকা থেকে একেক করে মেয়ে ধরে এনে,,,দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে,,,,পরে কিছু টাকা দিয়ে আর ভয় দেখিয়ে,,,, মেয়ের পরিবারকে চুপ করিয়ে দেয়,,,,,

এবং মাঝেমাঝে নেতার ছেলের কাজ শেষে এই ধর্ষণে ওই নেতা এসেও যোগ দেয়,,,

তেমতি একদিন ধর্ষণের সময় ধর্ষিতা মেয়েটি কৌশলে তার মোবাইলে সব রেকর্ডস করে রাখে,,সেদিন নেতার ছেলেদের সাথে নেতাও যোগ দিয়েছিল ,,,,
এবং সেই মেয়ে সেই রেকর্ডিং আপনার বাবাকে দেওয়ার জন্য রাতে ফোন করে তার বাড়িতে ডাকে,,এবং আপনার বাবাও যায় সেই রাতে।

কারণ" এই ভিডিও প্রকাশ পেলে নেতা,, নেতার ছেলে আর মন্ত্রী ছেলে তিনজনেরই ফাঁসি অথবা জেল হবে,,,আর এতে তাদের আরো হাজারও কুকীর্তি সামনে চলে আসবে।।।

কিন্তু কোন মাধ্যমে নেতার ছেলেরা জেনে যায় কথাটা,,আর সেদিনই তারা,,, আপনার বাবাকে সেই মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথেই তাড়া করে আর তখনি তিনি আপনার ভাইয়ার এবং আপনাদের বাসার নাম্বরে ফোন দিয়েছিলো সেদিন। অতঃপর তারা আপনার বাবাকে মেরে ফেলে,,

সেই নেতা নিজ হাতে আপনার বাবার গলা কাটে গরু কাটা ছুরি দিয়ে,,,তারপর তারা সেই মেয়ের বাড়িতে গিয়েও একইভাবে সেই মেয়ে সহ তার পরিবারককে গলা কেটে খুন করে।

সেই নেতা একসময় প্রফেশনাল কিলার ছিলো,
আর তার খুন করার মাধ্যমই ভিক্টিমের গলা কেটে ফেলা,,,,

অতঃপর তারা আপনার বাবার বডি ও সেই মেয়ে সহ মেয়ের পরিবারের লাশ একটা ডোবার পাশেই পুতে দেয় পরদিন শুধু আপনার বাবার মাথাটা আলাদাভাবে নরম জায়গাইই পোতার ফলে ডোবার পানিতে ভেসে ওঠে।,,

সে আমাকে এতটুকুই বলতে পারে,,অতঃপর আমি পুরো বিষয়টা সাজাতে থাকি,,,আমি ভাবি আপনার বোনের মৃত্যুরর দিনই কেন আপনার ভাইয়াকে অন্যত্র ডিউটিতে পাঠানো হলো,,সেদিন কি আদৌ কোন নেতার ছেলের বিয়ে ছিলো!! ,,নাকি সবি নাটক ছিলো,,,

পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি হ্যাঁ,, সেদিন এক নেতার ছেলের বিয়ে ছিলো,,কিন্তু নেতাটি নিন্মপদের ছিলো,,তাহলে তার ছেলের বিয়েতে স্পেশাল পুলিশ গার্ডের দরকার কেনো হবে???"

তখন পুরো বিষয়টা লাইন অনুযায়ী সাজাতে থাকি,,,,
(ভিডিও রেকর্ডিং!,,, আপনার বাবার খুন!,,,আপনাদের বাড়ির গার্ডগুলোকে খুন করে আপনার বোনকে ধর্ষণ করে খুন! ফরেনসিক রিপোর্ট! নিন্মপদের নেতার ছেলের বিয়ে!) অতঃপর বুঝতে পারি,,,

সেদিন আপনার বাবাকে মারার পরে তারা আপনার বাবার কাছে সেই রেকর্ডিং ভিডিও মোবাইলটা পায়না,,,শুধু আপনার বাবার ফোনটা পায়,,,,তখন তারা ভাবে,",,,,"নিশ্চয়,,,আপনার বাবা ফোনটা কাউকে আসার পথেই হস্তান্তর করেছে,,,এবং তাদের সন্ধেহ ছিলো,,,আপনার ভাই যেহেতু যথেষ্ট যোগ্য,,তাই আপনার বাবা বিপদ হবে বুঝতে পেরে,,,,আসার পথে বিশ্বাসযোগ্য হিসাবে নিজের ছেলেকেই ফোন দিয়ে তার কাছে ডেকে,,,সেই ভিডিও রেকর্ডিং করা ফোনটা দিয়ে অন্যস্থানে পাঠিয়েছে,,

কারণ আপনার বাবার ফোনের লাস্ট কল লিস্টে আপনার ভাইয়ার এবং আপনাদের বাসার নাম্বারই প্রথমে ছিলো,,আর বাসাই আপনার বাবা ছাড়া পুরুষ মানুষ আপনার ভাইয়াই আছে"। তাই তারা আপনার বাবাকে মারায় নিশ্চিন্ত হয়নি,,,,
আপনার ভাইয়াকে নজরে রাখতো আর ভাবতো সে" বাড়িতেই সেই ফোনটা রেখেছে,,,

তারপর আপনার ভাইয়া নিজেও পুলিশের চাকরি পেলো ,,তাই তারা সরাসরি কিছু না করে সুযোগের অপেক্ষাই থাকলো,,,কিন্তু তারা কোন সুযোগ পাচ্ছিলো না,,,তাই তারা সুযোগ তৈরি করলো,,,

আপনার ভাইয়াকে সেদিন তারা একটি সাধারণ নেতার ছেলের বিয়ের পার্টিতে গার্ড বানিয়ে পাঠালো,,,আপনার ভাইয়ার থানার ওসিও ওদের দলে ছিলো,,,তাই তার আদেশেই আপনার ভাইয়া সেদিন গিয়েছিল।

এমনকি এই ওসি আপনার বাবার খুনের সাথেও মিলিত ছিলো,,তাইতো সে,,আপনার বাবার খুনের দিন তেমন রেস্পন্স দিচ্ছিলোনা।

আর ওসির যে ওদের সাথে মিলিত ছিলো এই ধারণাটা শিওর হওয়ার জন্য আমি,,আপনার বাবার সেই বন্ধু কনস্টেবল ভদ্রলোকের কাছে শুনে জানি যে",,সেদিন ওসি সাহেব একপ্রকার জোর করেই আপনার ভাইয়াকে,, বিয়ের অনুষ্ঠানের স্পেশাল গার্ড হিসাবে পাঠিয়েছিল।

আপনার ভাইয়াকে পাঠিয়ে সেদিন তারা আসলো আপনাদের বাড়ি তল্লাশি নিতে,,এবং সাথে সেই নেতাও এসেছিলো,,,এবং নেতা নিজ হাতেই গার্ড পুলিশদেরকে মারে,,,এবং অনেক খুঁজেও তারা যখন কিছুই পায়নি তখন হতাস হয়ে ছিলো,,,আর সেই নেতা ছিলো,,, নারীলোভি,,তাই সে আপনার আপুকে সেদিন ধর্ষণ করে,,এবং তার সাথে আসা নেতার লোকেরাও ধর্ষণ করে।

আমি এইটা শিওর হওয়ার জন্য আপনার আপুর ফরেনসিকে থাকা ১২ জনের বির্যের রিপোর্টের সাথে এই নেতার ডিএনএ কালেক্ট করে মিলিয়ে পরিক্ষা করি এবং ফলাফল পজিটিভ অর্থাৎ আমার ধারণা ১০০% সত্যি হয়।

ওই ঘটনার পরে আপনার ভাইয়া যশোর ছাড়লেও ঢাকায় আসে, আর ঢাকাই ছিলো সেই মন্ত্রী,, তার পাওয়ারও বেশি,,,মন্ত্রীরর ছেলেও এর সাথে জড়িত বলেই,,মন্ত্রী তার ছেলেকে বাঁচাতে,,,, সুযোগ সন্ধানে থাকে,,আপনার ভাইকে আর আপনাকে মারলেই তারা সমস্ত চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারবে,,,
তারা তাই আর রেকর্ডিং না খুঁজে,, আপনার ভাইকে মারার প্লানে থাকে,,,,,,

এইটা যদিও আমার ধারণা তবুও যুক্তি ও একই কথা বলে,,যাইহোক,,, এদিকে আপনার ভাইও যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিলো,,সে অবশ্যই পুরো ঘটনা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলো,,,কিন্তু তার কাছে কোন প্রমাণ ছিলোনা,,,,,,

তাই সে,,, আন্দাজেই একটা ঘা দেওয়ার চেষ্টাই সেই মন্ত্রীকে একটা গোপন সিম থেকে ফোন দেয়,,আর ডাইরেক্ট ফোনে রোমাল চেপে কন্ঠস্বরে পালটিয়ে , থ্রেটের সুরে জানাই আপনারা যশোর থানার এস আই কে খুন করিয়েছেন!,,, কেন করিয়েছেন!,,, সেই ভিডিও এবং সকল তথ্য আমার কাছে আছে,,,,,,ভিডিওটা ভাইরাল করতে না চাইলে,,,আমার সাথে ধানমন্ডী লেকে এসে দেখা করুন,,,সাথে ১ কোটি টাকাও আনবেন।

এইটা আপনার ভাইয়া করেছিল,,কারণ যদি তার ধারণা সত্যি হয় তাহলে মন্ত্রী আসবে,,আর আসলেই সে প্রমাণ পেয়ে যাবে,,,কারণ তার ফোনে কল রেকর্ডিং করা আছে,,,আর টাকার কথা বলেছিল,, যাতে ওদের সন্দেহ না হয়।

কিন্তু সেই সিমটা ছিলো,,,আপনার ভাইয়ার এক বন্ধুর আইডি থেকে রেজিস্ট্রেশন করা

অতঃপর মন্ত্রী সরাসরি সিম অফিস থেকে সিম এর রেজিস্ট্রেশন কারীর নাম জেনে যায়,,আর খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এইটা আপনার ভাইয়ার বন্ধু,,

তাই তারা আর কোন অপেক্ষা করেনা,,,

সেদিন তারা আপনার ভাইয়ার বলা ঠিকানার না গিয়ে পরেরদিনই আপনার ভাইয়াকে মারার প্লান বানাই,,আর আপনার ভাইয়া সেদিন অপেক্ষা করার পরেও মন্ত্রী না আসাই,, ভাবে তার ধারণা ভুল,,

তাই সে বাসাই ফিরে আসে আর পরেরদিন,,,, আপনাকে ভার্সিটিটে দিয়ে আসে,,আর সেদিনই মন্ত্রীর প্লান অনুসারে ভার্সিটিতে ঝামেলা বাঁধে তার বানানো দুইদলের ভিতর,, আর তারা আপনার ভাইয়ের সেই বন্ধুর ওপরেও সন্ধেও করে,,এবং তাকেও মেরে ফেলার প্লান করে তাই তারা প্লান করে আপনার ভাইয়ার বন্ধুকে মিথ্যা খবর দিয়ে ভার্সিটি তে নিয়ে আসে,,,,,বলে যে তার ভাইয়ের সাথে নাকি কাদের ঝামেলা বেধেছে ভার্সিটিতে,,
কারণ" আপনার ভার্সিটিতে আপনার ভাইয়ের সেই বন্ধুর এক ছোটভাই ও পড়তো,,,,

অতঃপর আপনাকে দিয়ে যাওয়ার পথে আপনার ভাইয়ের সাথে তার বন্ধুর দেখা হয় এবং তারপরই মন্ত্রীর সাজানো ঝামেলা শুরু হয়,,আর সেইটা দেখে আপনার ভাই ও তার বন্ধু এগিয়ে যায়,,,,এবং প্লান মত তারা গুলি করে আপনার ভাই ও তার বন্ধুকে মেরে ফেলে,,,।


আমার এই ধারণাটার প্রমাণও আমি,,ভার্সিটি থেকেই পাই,,আপনার ভাইয়ার বন্ধুর ভাইয়ের কাছে শুনে জানতে পারি,,তাকে তার ভাই সেদিন ফোন দিয়ে বলেছিল," সে নাকি ভার্সিটিতে আসছে,,,, ঝামেলা মেটাতে,,,এতোটুকুই বলে ফোন কেটেছিল।। আর ঝামেলা হওয়ার সময় আপনার ভাইয়া ও তার বন্ধু ২ জনেরই ফোন পড়ে যায়,,এবং ২ টি ফোনই গাছের শিকড়ের পাশে ভাঙা অবস্থাই পড়ে ছিলো,,,আর সেইটা থেকে কল রেকর্ড শুনে আমি পুরো বিষয়টা ক্লিয়ার ভাবেই বুঝতে পারি।

এই পশুগুলোই হলো আপনার পরিবারের খুনিরা,,,কিন্তু আমাদের হাতে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ নেই,,আর যা প্রমাণ আছে তা ওদের মত পাওয়াফুল লোকেদের শাস্তি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়,,,,তাইই আমাদের নিজেদেরইই এইসব খুনিদের শাস্তি দিয়ে হবে,,,

এই বলে রুপম থামলো,,
তখন সাদিয়ার দুইচোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে,,আর চোখ লাল টকটকে রক্তবর্ণ হয়ে আছে,

সাদিয়া বললো,"__ অবশ্যই ওই পশুগুলো শাস্তি পাবে,,আমি নিজ হাতে মারবো ওদের,,,ওদের বেঁচে থাকার অধিকার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে তবুও ওরা অনেকদিন এক্সট্রা বেঁচেছে,,,
কিন্তু আর না,,এইবার ওদের মরতেই হবে,,, ওরা মরবেই!!!
কিন্তু আপনি আমার জন্য এতোকিছু কেন করলেন,,এখানে আপনার স্বার্থইই বা কি? এখনকার মানুষররা স্বার্থ ছাড়া কিছুই করেনা,,, তাহলে আপনি কেন আমার জন্য এত্তোকিছু করলেন,,,?

রুপম বললো,"__ জানিনা স্বার্থ কি,,তবে আমার মনে হয়েছে কাজটা করি,,তাইই করেছি,,আর এখন মনে হচ্ছে ওদেরকে শেষ করতে আপনাকে সাহায্য করতে হবে,,,আমি তাই ই করবো,,,,
আর তাছাড়াও একরকম বলতে পারেন ওদেরকে না মারলে আমিও বাঁচতে পারবোনা।

সাদিয়া বললো,"__মানে?

রুপম বললো,"__মানে হচ্ছে সেদিন আমার সামনে আপনার ভাইয়া খুন হলো,,সবাই পালিয়েছিল কিন্তু আমি পালাইনি,,আপনার ভাইয়ার লাশের কাছে ছিলাম,, তাই দূর থেকে মন্ত্রীরর লোকেরা দেখে ভেবেছিল আমিও আপনার ভাইয়ের বন্ধু এবং আপনার ভাইয়া আমাকে মৃত্যুর আগে হয়তো সেই ভিডিও রেকর্ডিং মোবাইলটা দিয়ে গেছে,,,

আর তারপর আমি আপনাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম,,এতে ওদের সন্দেহ আরো তীব্র হয়েছিলো,,,এবং ওরা আমার ওপরে নজর রাখছিল, আর তারপর আমাকে যখন পুলিশ ডেকেছিল,, তখন অরা নিশ্চিত হলো আমি পুলিশকে সেই রেকর্ডিং এর কথা বলতেই গিয়েছিলাম,,,

আর তাইতো ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল সেদিন অস্ত্রহাতে তাড়া করেছিলো,, কিন্তু আপনার ডায়রি পড়ে আমি দেড়মাস ঢাকা ছেড়ে নিখোঁজ থাকাই ওরা আমাকে কিছু করতে পারেনি,,, ,,

কিন্তু আবার যখন দেখবে তখন আবার মারতে আসবে,,,তাই কিছু না করে মরার থেকে আপনার সাহায্য করতে গিয়েই না হয় মরার ঝুঁকিটা নিলাম।

অতঃপর সাদিয়া বললো,"__ শুধুমাত্র আমার জন্যই আপনার এতো বড় বিপদ হলো,,

আর তখনইই রুপম তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,"__ ওভাবে বলবেন না,,,পিছনের কথা না ভেবে সামনের কথা নিয়ে ভাবুন। আর পারলে আমাকে ফ্রেন্ড মনে করবেন।

সাদিয়া বললো,"__ আপনার মত বন্ধু পাশে থাকলে আর চিন্তা কি,,আমরা অবশ্যই পারবো,,,ওই নরপিশাচদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে।


৪.
অনতিবিলম্বে রুপম ও সাদিয়া দুইজনই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথমে যশরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল,,,

তাদের প্রধান লক্ষ্য পুরো গ্রুপটার শুরু থেকে শেষ করা,

তাদের দুইজনেরই যেহেতু একসঙ্গে কাজ করতে হবে,,তাই তারা পরামর্শ করে নিজেদের সুবিধার্থে চুক্তিগত বিবাহ করে ম্যারেজ সার্টিফিকেট বানাই,,, যাতে তাদের কোন ঝামেলায় না পড়তে হয়,,এবং তাদের চুক্তি অনুযায়ী,,মিশনের কাজ শেষে তারা ডিভোর্স নিয়ে নিবে।

অতঃপর তারা যশরে গিয়ে সেই খুনি নেতার নির্বাচন ওয়ার্ডেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করে,,এবং সুযোগ সন্ধানে থাকে।

প্রথমে নেতার গ্রুপের হেড গুলাকে তারা সনাক্ত করতে থাকে,,,,,ইন্টারনেট থেকে তাদের বিষয়ে যাবতীয় খবরাখবর ও ছবি সংগ্রহ করে দেখে এদের মধ্যে নেতার সাথে সবসময় দশজন থাকে আর ,,,,,

এই দশজনই সবসময় নেতার গার্ড হিসাবে থাকে,,,,আবার সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও এই দশজনই সামলাই।
তাই এদের লাইফ ডিটেইলস সংগ্রহ করে দেখে এরা প্রত্যেকেই হাই লেভেলের সন্ত্রাসী,,,,

রুপম আর সাদিয়ার বুঝতে বাকি থাকেনা,,, যে" এই দশজন ও সাথে নেতা ও তার ছেলে মিলে মোট বারোজনই সাদিয়ার বাবার খুনি ও তার বোনের ধর্ষক।

অতঃপর তারা মার্ক করে,,,যশরের মিশনে তাদের এই বারোজনকে সাথে ওসি,মোট তেরোজনকে মারতে হবে,,,বাকি কাজ ঢাকাই গিয়ে করতে হবে।

অতঃপর তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী,,,তারা নেতার সাথে থাকা দশজন ও ওসিকে প্রথমে টার্গেট করে,,,,পরপর দুদিনেই তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী সাতজনকে মেরে ফেলে,,,,

তখনি সারা দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে,এতো পাওয়ারফুল সাতজন নেতাকর্মীদের মৃত্যুতে পুরো যশোর জুড়ে হরতাল জাড়ি হয় সাথে অলিখিত কার্ফুিউ ও জারি হয়ে যায়,,

সারা শহরে সর্বত্র পুলিশি রেড এলার্ট চালু হয় সাথে বিভিন্ন কুসংস্কার ও ছড়িয়ে পড়ে,,,কারণ এতো পাওয়ারফুল নেতাকর্মীদদের দুইদিনে মারা কোন সাধারণের পক্ষে সম্ভব না।

অতঃপর নেতা সহ তার বাকি কর্মীরা ও ওসি সাবধান হয়ে যায়। প্রচুর সিকিউরিটি নিয়ে থাকে তারা,,,

এদিকে রুমপ ও সাদিয়া,,,কিছুদিন তাদের মিশন থামিয়ে রাখে,এভাবে দুই মাস পার হওয়ার পরে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়,সব মানুষ আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে,এবং নেতার কর্মীরাও তাদের সিকিউরিটি কমিয়ে দেয়,এর মধ্যে দুজন গাঁ ঢাকাও দিয়েছিল,, তারা আবার ফিরে আসে,,,

অতঃপর রুপম সাদিয়া,, আবার তাদের মিশন চালু করে,,কিন্তু তারা কিছুতেই এইবার আর সুযোগ পাচ্ছেনা,,, কারণ এবার সবাই সাবধান হয়ে আছে,,,আগে এদের কোন ভয় ছিলোনা,,এদের ওপরে কেউ ছিলোনা বিধেয় বুক ফুলিয়ে চলতো এরা,,কিন্তু এখন এদের চলাফেরাইই অতি সাবধানতা ও সাথে এখনো প্রচুর গার্ড এদের,,,

তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় এঁদের অন্যভাবে মারতে হবে,,,,,

সাদিয়া নিজের ঝুঁকি নিয়ে নেতার বাড়িতে কৌশলে কাজের বুয়া হিসাবে কাজ নেয়,এবং সুযোগ সন্ধানী হয়ে পুরো একমাস কাজ করার পরে,,, এক রাতে সাদিয়া সুযোগ পায়,,,

সেদিন নেতা ও তার ছেলেসহ তার বাকি তিনজন কর্মীদের ও ওসির স্পেশাল মিটিং হয় নেতার বাড়িতে,

সেদিন নেতার বাড়িতে কাজের লোক ও মিটিং এ অংশগ্রহণকারী ছয়জন ছাড়া কেউই ছিলোনা,,,তাই সাদিয়া তাদের প্রত্যেকের চা নাস্তার মাধ্যে কৌশলে এমন বিষ মিশিয়ে দেয়,,যার কার্যক্ষমতা সেবনের দুঘণ্টা পর শুরু হয় এবং কার্যক্ষমতা শুরুর সাথেসাথেই নিশ্চিত মৃত্?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement