পিরিতি,
শতকাল শতবর্ষের শতাধিক সর্বাধিক ঘটনার রটে তুমি ।
শত যুগ শত কাল শত বর্ষীয়মান সময়ে আবির্ভাব তুমি ।
শত বর্ষায় শত হেমন্তে শত বৈশাখের আলিঙ্গন ভরা তুমি ।
শত গোধূলি লগনে শত মুক্ত গগনে শত পাহাড়ি কৃষ্ণ চূড়ায় তুমি ।
শত ক্লান্তহীনতায় শত ঐশ্বর্যতায় শত রুপকথায় তুমি ।
শত মফস্সলে শত শত বিজ্ঞানে শত নতুনত্বে তুমি ।

পিরিতি,
কাল অকাল সমাজ সংস্কার সংস্কৃতি বেঁধে ধরা দিয়েছো ।
বর্ণ গোত্র শ্রেণীর বিভাজনে রূপ নিয়েছো ।
কুসংস্কার পৌরানিক মতভেদ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছো ।
মুসলিম হিন্দু বৌদ্ব খ্রিস্টান হতে তোমার জন্ম দিয়েছো ।
শালিস নালিস শাস্তি হুমকিকেও জয় করেছো ।
পরাধীন পরিকল্পিত পরিহাসে নিজেকে আগলে রেখেছো ।
ভয়ভীতি লজ্জা মানহানির পর্দা থেকে উন্মুক্ত হয়েছো ।

পিরিতি,
বয়স বয়োজ্যেষ্ঠতাকে ভেদ করে রয়েছো তোমারি পন্থায় ।
উঁচু-নিচু ধনী-গরিবকে এক করে ছদ্মবেশে আছো মহিমায় ।
খান-বাহাদুর দেওয়ান-সরকার মিলিয়ে নিজেকে রেখেছো উচ্চতায় ।
শ্রেণী-বৈষম্য মারামারি-হানাহানিকে রপ্ত করে আছো অভিনেতায় ।
জেল জরিমানা বিচার কারাগারকে উপেক্ষা করে রয়েছো স্বাধীনতায় ।
আইন মামলা পুলিশের হাত থেকে ঘুরছো মানবতায় ।
দেশ-বিদেশ শহর-গ্রামে ছড়িয়ে পরেছো আলাপচারিতায় ।

পিরিতি,
পরকীয়া তালাক বহু বিবাহ প্রথা তোমারি ছায়াতলে ।
সম্পর্ক আত্মীয়তা ঘনিষ্ঠতার যোগ-বিয়োগ তোমারি অন্তরালে ।
খুন ধর্ষণ আত্মহত্যা তোমারি মনস্থলে ।
ঝগড়া বিভেদ হিংসা প্রতিহিংসা তোমারি ফাঁদের জালে ।
ন্যায় অন্যায় ঘাত প্রতিঘাত তোমারি মন্ত্ররালে ।
পাপ অভিশাপ ঘৃনা বঞ্চনা তোমারি কোলে ।
পাগল সন্ত্রাস মাদকাসক্ত তোমারি সৃষ্টির অনুকূলে ।

পিরিতি,
তুমি গেঁথে আছো কারো চোখের পাতায় ।
এঁকে আছো কারো লুকানো খাতায় ।
স্মৃতি হয়ে আছো কারো ডায়েরির পৃষ্ঠায় ।
হয়ে আছো কারো মধ্যমণি ফ্রেমে ।
পরে আছো কারো মিষ্টি প্রেমে ।
থেমে আছো কারো প্রেমহীন কর্মে ।

পিরিতি,
হয়েছো কখনও হারামী ।
হয়েছো কখনও আসামি ।
হয়েছো কখনও মৃত্যুর একমাত্র কারণ ।
রাঙিয়ে দিয়েছো কখনও ভক্তের আহাজারি ।
ভাঙ্গিয়া দিয়েছো কখনও সম্পকের বাহাদুরি ।
হয়েছো কখনও ভক্তের অক্ষণে মরণ ।

পিরিতি,
আমি দেখেছি তোমায় কখনও বন্ধুর অনুতাপে ।
আমি দেখেছি তোমায় পাশাপাশি অন্য কারো পাপে ।
আমি দেখেছি তোমায় মেঘমালায় আর অদূর স্বপ্নচুরাতে ।
আমি দেখেছি তোমায় নীলিমায় আর মেঠোপথে ।
আমি দেখেছি তোমায় মধ্যে বয়সী নারী পুরুষের হাসিতে ।
আমি দেখেছি তোমায় বৃদ্ধ বয়সী বুড়ো-বুড়ির ছলনাতে ।

পিরিতি,
তুমি রাঙিয়ে দিয়েছো পৃথিবী ।
এসেছো বারে বারে !
তুমি মাতিয়ে রেখেছো যুগল ।
ফিরে আসবে আবার চিরতরে ।
তুমি সাজিয়ে নিয়েছো তোমায় ।
আসবে বলে প্রত্যেকটি প্রেমভীরুর স্মরনে ।

পিরিতি,
আমি এখনও তোমারই অপেক্ষায় ।
এখনও পথ চেয়ে আছি প্রতীক্ষায় ।
এখনও বসে থাকি জানালার পাশে ।
ভাবি শুধু তোমারই শুভাস কখন আসে ।
পিড়িতি ,আমি ভাল আছি ।
তুমিও ভাল থেক ।
কখনও যদি মনে পরে আড়ালে এসে দেখ ।