৪৮ থেকে ৭১ কেন পারল না ওরা?
আমাদের জানানো হয়েছে রফিক সালামের নাম,
শহীদ সাহেব আর শেরে বাংলার ইতিহাস।
আমরা পড়েছি ক্লাশ ১ থেকে ৭ পর্যন্ত, মতিউর থেকে হামিদুর।
আমরা শুনেছি ত্রিশ লাখ শহীদের কথা।
আসাদের খুনে লাল হয়ে যাওয়া পিচের রাস্তার গল্পও আমরা জানি।
শেখ মুজিবের দরাজ গলা আর ভাসানীর টুপির উত্তাপে
ঝাঁপিয়ে পরতে শুনেছি জোয়ান সব ছেলেদের এলএমজির উল্লাসে।

কী ছিল আমাদের, যা ওরা মারতে পারে নি,
কী ছিল বাংলার, যা ওরা ধর্ষণে শেষ করতে পারে নি!
কী ছিল রফিক-সালাম-বরকতে,
কী লুকিয়ে ছিল ভাসানীর ভাসান সমাবেশে,
কী সুপ্ত ছিল বীজ হয়ে আসাদের তাঁজা বুকের পাঁজরে,
কেন কাল রাতে পুরো বাঙালি মেরেও,
জাতির জনককে পাকড়াও করেও ঠাণ্ডা হয়নি মুক্তির বাতাস!

কারণ মানুষ মরে,
গুলিতে দেহগুলো ছিঁড়ে স্তব্ধ হয়ে পরে যায়,
রাস্তার দুই পাশে কুকুর শেয়ালের খাবার হয়ে পরে থাকে,
হাজার ঘষায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন জোনী নিয়ে আমগাছে ধর্ষিত বোনেরা ঝুলে থাকে।
হ্যাঁ, মানুষ মরে যায়!
কিন্তু সেই সব মানুষের ভিড়ে,
মাংসল শরীরের আর্তনাদের গভীরে ছিল - স্বাধীনতা!
একটা চেতনা।
একটা উন্মুক্ত হবার ভাবনা।

যে ভাবনা ছড়িয়ে দিয়েছিল মুজিবের গলা,
যে চেতনা উছলে উঠেছিল ভাসানীর ঈমানের জোরে।
সেই আকাঙ্ক্ষাই বড় হয়ে উঠেছিল রবের পতাকা উত্তোলনে,
ইউসুফ সাহেবের মুক্ত বাংলার স্বাধীন সরকারের শপথ পাঠে।

কারণ ইয়াহিয়া ঠিক ছিল,
গুলি করলে, বোম মারলে, গণ ধর্ষণে মানুষ মরে।
কিন্তু নয়াজী ভুলে গিয়েছিল,
মানুষ আর তার চেতনা এক না,
গুলিতে, আগুনে ঝলসে মানুষ তো খুন হয়ে যায়,
শহীদ হয়ে যায়,
কিন্তু চেতনা খুন হবে কিসে?
চেতনা মরবে কিসে?
'স্বাধীনতা' স্বপ্পটা সরে যাবে কোন বোমার ধোঁয়ায়?
তা তাদের জানা ছিল না।

চেতনা, আমার অন্তরে থাকা,
৪৮-৭১, কোটি লক্ষ লোকের অন্তরে থাকা,
'স্বাধীনতা',
সে কখন মরে না।
না মরেছিল ব্রিটিশে, না পাকিস্তানে, না মরবে পাকিস্তানের রেখে যাওয়া জারজ কিছু সন্তানদের ধর্ম-ধর্ম খেলায়।

কারণ চেতনার গায়ে কোন বুলেট লাগে না,
চিন্তাটা যে বুলেটপ্রুফ!