তুমি-
বুস্তা ও গুলিস্তায়-কত ফুল ফুটিয়েছো;
একটি গোলাপ কলিও
দিলে না আমায়।

আমি-
মৃগনাভী কস্তুরী আতরের মৌভাসে,
বাসর সাজিয়ে বসে
তোমারই আশায়।

তুমি-
লোহিত সাগর ধরে, সিন্ধু নদের ধারে;
সাথে লয়ে প্রেম লগি
ভেলায় ভেসেছ।

আমি-
ফেলে পিছু সবকিছু-পারস্য গুলিস্তা;
এলাম তোমার কাছে-তোমারা পাকিস্তা;
আশিকী হৃদয় কাঁপে ‘দর্দ কা রিস্তা’।

তুমি-
সেফ্রন রেণু মেখে, দু’হাতে মেহেদী এঁকে
বাসর কাশ্মীরে কাজল এঁকেছো। তুমি-
পালিয়ে এসেছো; আমার ঘরে-

আমি-
ঘরেতে ফিরে দেখি, কত যে মধুর ডাকি
কতবার আঁখি চুমি;
নিরব নিথর তুমি-
ঘুমিয়ে পড়েছো। হায়, ঘুমিয়ে পড়েছো।

তুমি-
পারস্য যুবকেরে
ভালোবাসার অপরাধে
ভাইয়ের কঠোরতায় ‘অনার কিলিং’!

আমার-
দিল্ মনজিল দিল্, রোশনাই আশিকী দিল্,
কঠোরতা দেখে বলে-‘ধিক পাকিস্তা!
পাক দুনিয়ায় তোমারা-নাপাক দিল্!’

সেদিন-
গোলাপের পাঁপড়ি ছিঁড়ে, আতর ফলেছি বলে;
আঁখিজলে ধুঁয়ে ধুঁয়ে
দিলে না গোলাপ।

আজ-
ধোঁয়া জল ধোঁয়াশায়, আগরের কুয়াশায়
কবরে গোলাপ বাতি
জ্বেলেছি কতো! প্রিয়া-
নেবে তো গোলাপ কলি! আগর গোলাব।

তুমি-
দেবে কি গোলাপ?