লাশ পোড়া গন্ধ, পুরোটা শশ্মান জুড়ে শুধু লাশ পোড়া গন্ধ
আবার সচল করে তুলছে আমার পঞ্চইন্দ্রিয়কে
বহুদিন পর।
যে ইন্দ্রিয়ানুভূতিগুলো ক্ষয়ে গিয়েছিল কালের আঘাতে
কন্সট্রাকশনের আওয়াজে আওয়াজে আর পাথর কাটা শব্দে যা হয়েছে বধির,
ফ্লাডলাইটের বানভাসি আলোয় যা গিয়েছিল ভেসে
সেই ইন্দ্রিয়ানুভূতিগুলো
আজ আবার সচল করে তুলছে আমার পঞ্চইন্দ্রিয়কে, বহুদিন পর।
গোলচত্বর থেকে গোঙালো একটি বিরহী চকোরী
২০ হার্জ শব্দ করে, আমি তা শুনতে পেলাম।
আমি শুনতে পেলাম সামনের মর্গ থেকে মাতাল ডোমদের গান।
সেদ্ধ হতে থাকা লাশের দেহ থেকে নির্গত অচেনা
অথচ বহুদিনের পরিচিত ঘ্রাণ
শিকারী কুকুর হয়ে শুঁকলাম।
আমি দেখতে পেলাম মর্গের সামনে সাজিয়ে রাখা সার সার কঙ্কাল।
আর তার সামনে হাঁটুগেড়ে বসে থাকা শেয়ালের চোখের আলোয়
আমি এ অন্ধকারটাকে আরো স্পষ্ট দেখতে পেলাম।
ঐ তো একটি কুকুর নদীর তীরে ছুটে গেল
বেওয়ারিশ লাশ; শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠা আরেকটি বেওয়ারিশ লাশ।
আমার মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে অন্ধকার।
আমার সামনে দন্ডায়মান এক সাকী
যার নগ্ন হাত দুটো ঝলসে যাবে সূর্যের আলোয়
এই রাত্রির পর।