দাদী নানী আচল গুজে ঢেকিতে ধান বানতো,
দাদা গাছে উঠে রসের ঠিলে পেড়ে আনতো।
মেটো পথে সায়ের গেয়ে যেতো বিয়ের পালকি,
চার আনাতে দুধের মালাই পাওয়া যাবে আর কি?

সোনা মিয়ার গরুর গাড়ী আর এ পথে ছোটে না,
পঁচিশ পয়সা দিয়ে কেউ আর ননির খেয়ায় ওঠে না।
লাঙল চষে কৃষক এখন মাঠে তো আর দেয় না মই,
চাল দিয়ে আর যায়না পাওয়া হরেন বাবুর মিষ্টি দই।

ভাটিয়ালি ভুললো মাঝি জারি সারি গায়না কেউ,
পলি জমে মাঠ হয়েছে রোজ যেখানে ভাঙত ঢেউ।
শীতের রাতে হ্যাচাক জেলে যাত্রাপালা হয়না আর,
কাসা পিতল মাটির হাড়ি শোভা পাচ্ছে ঘরে কার?

পাটের ছালায় বসে খাওয়া কলার পাতায় মেজবানি,
নারিকেলের তেল বানাতো ঘুরিয়ে ঘোড়ার ঘানি।
শিল পাটাতে মশলা বেটে মাটির চুলায় ফুটত ভাত,
প্রদীপ জেলে কপাট এটে চিঠি লিখে কাটত রাত।

বর্ষা কালে ঝিলের ধারে উজান ওঠা টেংরা কই,
যতিন বালা ছন্দে ছন্দে পড়ত পালা গানের বই।
তালের পাতার পাখার বাতাস কতখানি শীতল হয়,
ফরমালিনের নবান্নতে সে সব স্মৃতি হারিয়ে যায়?