উণমানুষ

উষ্ণতা সংখ্যা

মোস্তফা হাসান
  • 0
  • 0
  • ৬৮
(১)
পাছায় পুলিশের লাঠি পড়লে সবেগে দৌড় দেয় জলিল। আগুনে পুড়া গরম লোহার রড কেউ তার পাছায় চেপে ধরেছে বলে মনে হয়। খানিকদুরে গিয়ে পেছনে তাকায়। পুলিশের টহল দল গলির মোড় থেকে সবাইকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। হাতে সবার মোটা তেলচকচকে লাঠি। মুখে বিচ্ছিরি গালি, ‘শুয়োরের বাচ্চারা, করোনায় মরবে তবু আড্ডা মারা ছাড়বে না। মরিচের গুড়া ছিটালেও শালারা চোখ ডলতে ডলতে বাইর হয়ে আসবে।’ ‘ওদের কি ধারনা, সবাই ঘর থেকে বের হয় শুধু মোড়ে মোড়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য? পাচ টাকার পান মুখে গুজে দিয়ে সিগারেটের ধোয়া ছাড়তে?’ জলিল হাফাতে থাকে। ছেলেটা ভয় পেয়ে চারগলির মোড়টাতে দাড়িয়ে আছে। দাড়কাকের মত। বাবাকে দৌড়ে পালাতে দেখে ক্যামন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। পুলিশের লাঠির ঘায়ে নাকি সবাই বাপের নাম ভুলে যায়, জলিল কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিল তার ছেলের কথা। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটা মাস্ক কুড়িয়ে নিয়ে মুখে লাগিয়ে দিয়ে আবার গলির মাথায় ফিরে আসে সে। ছেলেটার হাত ধরে বলে, ‘আয় বাবা’। এবার মুখে মাস্ক আছে পুলিশে কিছু বলে না। পুলিশের টহল গাড়িটা চলে যায় সাইরেন বাজাতে বাজাতে।
গলির মুখ ফাকা হয়ে যায়। জলিল কিছুক্ষন অপেক্ষা করে। আবার পুলিশ ফিরে আসে কিনা সেটা দেখার জন্য। এদিক ওদিক তাকায় সে। তারপর অপেক্ষাকৃত বড় গলিটার ভিতর ঢুকে যায়। ছেলেটা হাটতে থাকে বাবার পিছু পিছু। ও ভাইগো, মাগো, বাবাগো বলে চিৎকার শুরু করে জলিল। দুইপাশের পুরাতন দালানগুলোর মাথা পর্যন্ত তাকায়। বাড়ির বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে হবে। ‘কয়দিন ধরে ছেলটাকে খেতে দিতে পারি না, ভাই। ওর মা বিছানায়। ওষুধ কিনতে পারি না বাবারা। কিছু সাহায্য দেন । কয়টা টাকা দেন ভাইগো। ছেলেটাকে খাইয়ে বাচায়। মাকে বাচায়।’ বাবাগো মাগো বলে গলা হাকায়। যতটা সম্ভব কান্না দিয়ে গলা ভিজিয়ে। মানুষ দুঃখ-কান্না বেশি পছন্দ করে। হাসি দেখলে কেউ কিছু দেবে না। কাদতে দেখলে দিবে। জানালা দিয়ে কেউ কেউ দশ বিশ টাকা ফেলে দেয়। ছেলেটা সেগুলো কুড়িয়ে নেয়। জলিল ছেলেটাকে সাথে আনে। জলিলের এতদিনে বিশ^াস জন্মেছে যে তার অসহায় চেহারার চেয়ে ছেলেটার মায়া মায়া চেহারা দেখে তাকে সবাই ভিক্ষা দেয়। মায়া মায়া চেহারায় বোধ আরো বেশি পাওয়ার থাকে? জলিল যখন ছোট ছিল ওরও হয়ত ওরকম চেহারা ছিল। এখন নেই। এখন ওকে দেখায় দুশো বছর না খাওয়া কঙ্কালসার মানুষের মত। রুক্ষ। কালো। ভাঙা চোওয়াল। কে বলবে ছেলেটা ওর!
‘ওই শালা, গলির মধ্যে চ্যাচাচ্চিস যে কুকুরের মত। তোদের জ¦ালায় ঘুমানও যায়না। ওইদিক যা।’ জলিল ওপরের দিকে তাকায়। পেটমোটা মধ্যবয়সী একটা লোক চারতলালা বারান্দায় দাড়িয়ে ঘেউ ঘেউ করছে। অন্তত তাই মনে হয় জলিলের। ‘ওইদিকে যাব? ওইদিকের মানুষ ঘুমায় না, শালা? আমি কোনদিকে যাই, তুই বলার কে শালা?’ মনে মনে গাল পাড়ে জলিল। পারলে সে জোরে জোরে শুনিয়ে দিত । ওপরতলায় থাকে বলে ওরা মানুষ, সে কয়টা ভিক্ষা চাইতে আসছে বলে মানুষ না? কাজ কাম নাই। থাকলে ওর পাছার ফুটার মধ্যে থার্মোমিটার ঢুকায়ে মাইপা দিতাম কে কত বড় শালা। গলায় আটকে থাকা থুতু ভক্ করে রাস্তায় ঝেড়ে ফেলে। যেন সমস্ত বিষ সে উগরে দিল পৃথিবীর উপর। ঝন করে দুটি কয়েন পড়ার শব্দ হয়। জলিল আতিপাতি খুজে। দেখে দুইটা পাচ টাকার কয়েন। একটা ওর ফেলা থুথুর উপর থপ করে পড়েছে। কুড়িয়ে নেয়। লুঙ্গিতে মুছে পকেটে পুরে। উপরে তাকায় আবার। কে ফেলল কয়েন দুটো। ‘ওই শালা, বললাম না ওইদিক যা।’ কয়েন দুটো ফেলে ক্ষ্যাপা ভাব দেখায় লোকটা। লোকটার পেটমোটা, মাথাটা তাহলে অতটা মোটা না। লোকটার প্রতি একটু প্রসন্ন হয় জলিল । বউয়ের সাথে ঠিক ক্যাচাল বাধাইছে। মেজাজ খারাপ। লোকটাকে তার আর ওতটা জঘন্য লাগে না এখন।
গলি থেকে গলিতে গলা ফেড়ে ভিক্ষা করে। ছেলেটা পিছর পিছন থাকে। একটু সন্ধ্যা লাগলে ভিক্ষা চাওয়া বন্ধ করে। দোকানপাট সব বন্ধ। বাড়ির গেটে দু একজন মহিলা কয়েকটা সিগারেটের প্যাক নিয়ে বসে আছে। ঘরে সবার টান পড়েছে। কোনভাবে দু দশটাকা রোজগার করতে পারলে ছেলেপুলেদের মুখে তিনবেলা খাবার জুটানো যায়। মালবোরো একটা সিগারেট কিনে ধরায় জলিল। সিগারেট বিক্রি করা মহিলাটা ক্রুর চোখে তাকায় জলিলের দিকে। একহাড়ি সোনার মহর যেন জলিল ভেলায় ভাসিয়ে দিচ্ছে।
শরম করে না? মহিলাটা বলে।
আপা যে কি কন? কিসের শরম? জলিল মাথা চুলকায়। ভান করে কিছু না বোঝার।
ভিক্ষা করা টাকা দিয়ে সিগারেট খান, আবার কন কিসের শরম? তাও আবার মালবোরো। আলগা ফুটানি! যান ফুটেন?
আচ্ছা, যাই আপা।
জলিল বেহায়ার মত হাসে। এখন সে হাসতে পারে। এখন ভিক্ষা চাচ্ছে না সে। নিজের টাকায় সিগারেট কিনে খাচ্ছে। নিজের টাকা দিয়ে সে একটা সিগারেট খেতে পারবে না? এতে মহিলার রাগ হওয়ার কারন কি? জলিল ছেলের হাত ধরে বলে, ‘চল্, যাই। আজ থাক। কালকে আবার আমুনে। অবেলা মাইনষের বিরক্ত করা ঠিক না।’ ছেলেটা বাবার হাত ধরে পাশে পাশে হাটতে থাকে। মিনিট দশেক হাটার পর জলিল বড় রাস্তায় উঠে আসে। তারপর পুব দিকে ফুটপাত ধরে এগুতে থাকে।
আমাদের বাসা তো এদিক না, বাবা। এদিক যাও ক্যান? ছেলেটা অনেকক্ষন পর কথা বলে।
একজনের কাছে টাকা পাই। দেখি দেয় কিনা। পা বাড়া।
ছেলেটাকে এবার পিছনে ঠেলে দিয়ে জলিল সামনে সামনে হাটে। পাশের গলিগুলোর দিকে বার বার তাকায়। কোন গলিটায় ঢুকবে চিনতে হবে। সবগুলো একরকমই দেখতে লাগে। দু মিনিট হাটার পর অন্ধকার সরু একটা গলির মধ্যে ঢুকে পড়ে।
ভয় পাস না। আয়। বলে ছেলেকে অভয় দেয়। পিছনে তাকায় না। আবছায়া গলিতে মানুষজন নাই। লকডাউন। অবশ্য এ গলিতে অন্য সময়ও সচারাচর মানুষ বেশি আসে না প্রয়োজন ছাড়া। পাশাপাশি অনেকগুলো আবাসিক হোটেল। তার একটাতে ঢুকে সে।
তুই এইখানটায় দাড়া। আমি যাব আর আসব। চুপ করে খাড়াবি। কোথাও নড়িস না। বলেই জলিল ভেতরে আরো অন্ধকারে হারিয়ে যায়। ছেলেটা দাড়িয়ে থাকে। দাড়কাকের মত। কতগুলো মশা তার খালি দুপা কামড়ে ধরেছে। এক পা আরেক পা’র সাথে ঘষে মশা তাড়ায়। এটুকু করতে যতটুকু নড়তে হয় ছেলেটি এর থেকে একচুলও বেশি নড়াচড়া করে না।
কত দিমু আইজক্যা? জলিল ফিসফিস করে বলে লোকটাকে। ভেতরে একটা ছোট অন্ধকার রুমে কথা বলছে দুজন। কোণায় আরো একজন আছে। দেখেছে জলিল। জড়সড় হয়ে বসে আছে কেউ। সিঙ্গেল একটা খাট পাতা। সিগারেটের ভোটকা গন্ধ । পানের পিক ফেলা দাগ দেয়ালে। জলিলের একটু বমি বমি ভাব হয়।
কয় কাম? লোকটা ফিসফিস করে না। স্বাভাবিক স্বরে কথা বলছে সে।
ধরেক, ওই এক..। জলিল জড়িয়ে যায়। আগেও এসেছে সে । কিন্তু জড়িয়ে যাওয়া ভাবটা সে পাল্টাতে পারে না।
র্ধ র্ফ কিরে, হালা! সাফ সাফ কথা ক! লোকটার সময় কম। তাড়াহুড়া করে।
আচ্ছা। এক কাম।
পাচশ দে।
আমার কাছে একশ আছে । আইজ এইটা রাখ।
এই শালা। এটা মাছ বাজার। দামাদামি করছিস। গরুর মাংসের কেজি কত জানিস?
জলিল কিছু বলে না।
আরে হালা। গরুর মাংসের দাম দিনকে দিন বাড়তেছে, আর মাইয়া মাইনষের মাংসের দাম কি কমতেছে রে?
পাচশ টাকাই আছে। পুরা। জলিল পাচ দশ বিশ টাকার জড়ানো অনেকগুলো নোট বের করে লোকটার হাতে দেয়।
এত খুচরা ক্যানরে হালা। ভিক্ষা করে আইছস নাকি?
জলিলের খুব ইচ্ছে হয় ওর দুই গালে দ্টুা থাপ্পড় লাগাই। ‘খচ্চর শালা, পুরা টাকাটা তো নিজের পকেটে পুরবি। মাইয়াগুলারে তো তুই ভিক্ষা দেওয়ার মত কয়টা টাকা দিবি! আমার থেকে বড় ভিক্ষুক তো তুই, হালার পুত।’ জলিলের খুব ইচ্ছে করে কথাগুলো ওকে শুনিয়ে বলে। কিন্তু সে ক্ষমতা তার নেই। মনে মনে তাই সবার চোদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে। সে ভিক্ষা করছে ঠিক। কিস্তু সে তো ভিক্ষুক না। পুলিশে রিক্সাটা থানায় না নিলে কি তার ভিক্ষা করা লাগত? শালার মুখে টাকাটা গুজে দিত তখন। ক্ষমতাহীন মানুষের একটাই কাজ। সব অন্যায় হাসি দিয়ে মেনে নেওয়া। কাষ্ঠ হোক সে হাসি, সমস্যা নাই। হাসতে হবে আর বলতে হবে, হুম, খুব খাসা। তারপর ভেতরের সব তীব্র জ¦লা আগুনটা নিভে যাবে।
একটা খাপ দিস। বলে দরজাটা লাগিয়ে দেয় জলিল।
ছেলেটা বাবার জন্য অপেক্ষা করে। আজ ভিক্ষা করে ভালোই টাকা পাওয়া গেছে। বাবা একটা লোকের কাছে টাকা আনতে গেছে। লোকটা টাকা দিলে মোটা টাকাই হবে। মার জন্য কিছুদিনের ওষুধ কেনা যাবে। অসুখটা বেড়েছে। অন্ধকার ধীরে ধীরে বাড়ে। বাড়ে মশার কামড়। কোথা থেকে এরা যেন টের পেয়ে যায় রক্তের খবর। ছুটে আসে দলবেধে। রক্ত চুষে চুষে খায় পেট ভর্তি করে। কিন্তু কখনও পেট ভর্তি হয় না। কতক্ষন দাড়িয়ে ছিল ছেলেটা বুঝতে পাওে না। দেখে বাবা অন্ধকারের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসছে। কাছে এলে চেহারাটা পরিষ্কার দেখতে পায়।
চল। জলিল দেখে ছেলেটা ঠিক ওই জায়গায় দাড়িয়ে আছে। একটু নড়ে নি। এটা ভাল না মন্দ বুঝে না সে।
টাকা পাইলা, বাবা?
না।
টাকা ক্যান দিল না বাবা।
টাকা একবার হাতে পড়লে ছাড়তে চাই না। একটু থেমে জলিল আবার বলে। সব হালায় শালা। বুঝলি।
না।
মার ওষুধ কিনবা না।
না। জলিলের মন খারাপ লাগে। শরীর ঠান্ডা হয়েছে। মনটা ঠান্ডা করবে সে কি দিয়ে। শেফালীর জন্য বুকের মধ্যে ব্যথা লাগে। ছয় বছর ধরে বিছানায়। কোমর থেকে প্যারালাইছিস। নড়তে পারে না। শেফালী যদি ভাল থাকত, সে কি এসব জায়গায় যাইত? ঠান্ডা হয়ে যাওয়া জীবনে একটু উষ্ণতার জন্য আসে সে এ জায়গায়। কঠিন ঠান্ডায়ও পুরুষ মানুষের ওটা গরম হয়। গরম হলে বরফ গলে আর ওই হালা লোহার রডের মত আরও শক্ত হয়। তখন পুরুষ মানুষের কি মাথা ঠিক থাকে? জলিলেরও থাকে না। তাই সে এ জায়গায় আসে। এসব যুক্তি সে তৈরি করেছে নিজেকে বোঝাতে। আজও আবারও তাতে শাণ দিয়ে সে নিজের প্রশ্নবিদ্ধ বিবেককে জবাই করে।
তোর মাকে কিছু বলিস না?
কি বলব না?
আমি একটা লোকের কাছে পাওনা টাকা আনতে গেছি?
বললে কি হবে?
তোর মা কষ্ট পাবে।
পাওনা টাকা আনতে গেলে কি কেউ কষ্ট পায়?
পায়। তুই যখন বড় হবি সব বুঝবি। মানুষ যে কত কিছুতে কষ্ট পাই।
ঝুপড়ি ঘর। টিনের চালা দেওয়া দুসারি মুখোমুখি ঘর। এক ঘর এক পরিবার। চল্লিশটা পরিবারের জন্য দুটা পায়খানা। দুটা রান্নাঘর। লাইন দিয়ে টয়লেট; পালা করে রান্না। শেফালী বিছানায় শোয়া। জলিল ঘরে ঢুকে। ছেলেটা পিছু পিছু।
আজ কত টাকা পাইলি রে, রবি?
একশ সাত টাকা। জলিল বলে। রবি আর কিছু না বলুক সে এটা চাচ্ছে। সবার ঘরে টানাটানি। কেউ কিছু দিবার চায় না।
ছয়শ সাত টাকা। আমি গুনছি। রবি বলে। বাবার মুখের দিকে চায়। জলিল চোখ টিপ দেয়। রবি চুপ করে মার দিকে চেয়ে থাকে। শেফালী পাশ ফিরে শোয়। অভিমান শয়ে শয়ে সে ব্যথাহীন বটে। বিছানায় পড়ে থাকতে থাকতে নিঃসাড় চলৎশক্তিহীন বটে। কিন্তু খোদাতালা তার দিব্য চোখ খুলে দিয়েছে। শেফারী সব দেখতে পায়। সব বুঝতে পারে।
যা, তোর মার জন্য পানি চাপ বালতিতে। গা ধুতে হবে। সারাদিন গোসল হয় নি। জলিল প্রসঙ্গ পাল্টায়।
রবি ঘর থেকে বের হয়ে গেলে জলিল শেফারীর পাশে সে বসে। বিছানা ভেজা। জলিল ঘরে ফিরতে দেরি করেলে এরকম হয়। জলিল শেফালীর গায়ে হাত দেয়। পাশ ঘুরতে ইঙ্গিত করে। শেফালী নিঃসাড় পড়ে থাকে।
ওঠ্। বিছানাটা পাল্টে দেয়।
শেফালীকে মেঝেতে নামিয়ে বিছানা পাল্টে দেয় জলিল। তারপর কোলে করে গোসলখানায় নিয়ে যায়। এইসময়টা গোসলখানাটা খালি থাকে। বউকে প্লাস্টিকের চেয়ারটায় বসিয়ে দিয়ে জলিল বাইরে এসে দাড়ায়। তার মনটা উদাস হয়। গত ছ’বছর ধরে একই রকম ভাবে শেফারীকে দেখতে দেখতে ক্লান্তি লাগে কি তার? ওর আবার সুস্থ স্বাভাবিক হওয়ার কোন লক্ষনও নেই। নেই আশাও। সে উদাস হয়, একি ভষ্যিৎ অনিশ্চয়তার জন্য। একটা সিগারেট ধরাতে ইচ্ছে করে। আনমনে পকেটে হাত দেয়। পকেট খালি। দুর শালা! সে পকেটেকে ঘারি দেয় না নিজেকে, স্পশ্ট কওে ভলতে পারবে না।
আমারে নেও। শেফালী গোসল শেষে বলে। জলিল ভেতরে ঢুকে কাপড় পালাটাতে সাহায্য করে।
একটা চাকরানী খুজব নাকি তোর জন্য? জলিল একটু হালকা হওয়ার জন্য বলে। ঠাট্ট।
শেফালীর কোথায় যেন একটু লাগে। সন্দেহের চোখে তাকায় জলিলের দিকে। ‘ওসব জায়গায় না গিয়ে তো একটা বিয়ে করলেই তো পারিস। তোর মত ভিক্ষুককে বাধা দিতে যাচ্ছে কে?’ তীব্র ভ্রুকুটি শেফালীর চোখে। চোখের ও শব্দের অবহেলা জলিলের বুকে ছরির মত বিদ্ধ হয়। ভিক্ষুক শব্দটা জলিলের অভিশপ্ত মনে হয়। সে অভিশপ্ত এখন।
আরেকটা মাইয়া বিয়ে করলে তোকে কি করব? তালাক দিব? জলিল শক্ত কন্ঠে বলে।
তালাক শব্দটা শুনে শেফালীর চোখে হঠাৎ কান্না চলে আসে। সে ফুপাতে থাকে। জলিল কিছু বলে না। ঘরে এসে থালায় খাবার নিয়ে শেফালীকে খাইয়ে দেয়। খাবারটা নোনতা নোনতা লাগে শেফালীর। ‘বহসা আচিস ক্যান রবি। খা। তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। সকালে কাজে বের হব।’ জলিল উচ্চকন্ঠে বলে। রবি নীরবে খেতে বসে। তারপর ঘুমিয়ে যায়। জলিলের ঘুম আসলেও সে ঘুমাতে পারবে না। মধ্য রাত অবধি শেফারীর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না চলবে। সে জানে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
ফয়জুল মহী চমৎকার মনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, ভালো লাগলো, শুভকামনা
সারোয়ার ভালো লাগল। ভোট রেখে গেলাম। আমার কবিতা পড়ার আমন্ত্রণ রইলো।

০১ ডিসেম্বর - ২০১৭ গল্প/কবিতা: ১ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাংলা - আমার চেতনা”
কবিতার বিষয় "প্রেম”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জানুয়ারী,২০২২