মারিয়োঁর মা এবং...

মা (মে ২০২২)

Jamal Uddin Ahmed
  • 0
  • ৩৬
মারিয়োঁ অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে তার মায়ের খোঁজ পেয়েছে। বাংলাদেশের এক অজ-পাড়াগাঁয়ে তার মা এখনও বেঁচে আছেন এই সংবাদ সংগ্রহ করা চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু সেই অসাধ্য সাধন সে করে ফেলেছে। এ দুরূহ যাত্রায় তার সুইস স্বামী মারিয়োঁকে আন্তরিকভাবে সাহায্য করেছে। আগে আরও দুবার যখন সে মায়ের সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছিল তখন তার স্বামীও সাথে ছিল। ছেচল্লিশ বছর কি কম সময়। ততদিনে তার একটি বাংলা শব্দও আর স্মৃতিতে নেই। এমন কি তার মূল নামটিও সে ভুলে গিয়েছিল। মায়ের খোঁজ পাওয়ার পর যখন বিজয়ীর বেশে মারিয়োঁ আবার বাংলাদেশে উড়ে আসে এবং ঝড়ের বেগে ছুটে গিয়ে মায়ের বুকে আছড়ে পড়ে তখনই সে জানতে পারে তার নাম ছিল কুলসুম। সে শুধু এটুকুই জানত যে ছোটবেলায় তার পরিবার গ্রাম থেকে শহরে এসেছিল এবং এক সময় সে হারিয়ে যায়।

মেহরাব ফেসবুকে এই ভিডিও ক্লিপটি বেশ কয়েকবার লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছে। এবং যতবারই হারানো পরিবারের সাথে মারিয়োঁর পুনর্মিলনের আবেগঘন দৃশ্যটি সে দেখেছে ততবারই তার চোখ ফেটে কান্না এসেছে।

দশ বছর আগে রুমানার চরম অনীহা থাকা সত্ত্বেও আকবর সাহেব জোর করে মেয়ে এবং জামাইকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাবার পর মেহরাব একবারের জন্যও দেশে আসেনি। পরিবারের সাথে এমন ভয়ংকর সম্পর্ক থাকলে সে দেশে এসেই বা করবে কী? কার কাছে যাবে? হাসান সাহেব ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করে বলে দিয়েছিলেন, ‘তুই আমার মরা মুখও দেখতে আসবি না বলে দিলাম।’ অবশ্য সে দেশে থাকলে পিতার শেষকৃত্যে কেউ না কেউ হয়তো তাকে ডেকে আনত। অন্তত তার মা তার কাছে কাউকে পাঠাতেন। কিন্তু সে আর হল কই।

মেহরাব জানতো তার রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার পিতা রুমানাকে পুত্রবধূ করে আনবেন না। বড় বোন ফারাহ্‌র বেলায় সে বাপের মেজাজ দেখেছে। ফারাহ্‌ শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে পরিবারের পছন্দ করা বুয়েটের প্রকৌশলীকেই স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছে। এখন অবশ্য তারা সুখেই আছে। কিন্তু রুমানার ইতিহাস ভিন্ন। তাই নর্থ-সাউথের সহপাঠী রুমানাকে গোপনেই বিয়ে করে ফেলেছিল মেহরাব।

বাপে খেদানো ছেলে হওয়ার কারণে বিচ্ছিন্নতার একটা চিনচিনে ব্যথা মেহরাবের মনে থাকলেও তা তেমন প্রকট ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা ছোবল দিয়ে এভাবে অসময়ে বাপকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তার ভেতরে কেমন এক শূন্যতা জায়গা করে নিয়েছে। বাপ মারা যাবার পরই কেবল ফারাহ্‌ ফেসবুকে মেহরাবের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। বাপের জন্য ভাই-বোন মিলে কান্নাকাটিও করেছে প্রথম প্রথম। হয়তো আরও আগে ফারাহ্‌ সাহস করে ভাইয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার স্বামী ফরহাদ তাকে নিরুৎসাহিত করেছে। ফরহাদের মনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু দৃশ্যত সে কড়া মেজাজি শ্বশুরের ভয় দেখিয়েছে ফারাহ্‌কে।

হালিমা অতি সজ্জন এবং উদার মহিলা না হলে স্বামীর মেয়ে আর জামাইকে বাংলাদেশ থেকে তুলে এনে নিজের নির্ঝঞ্ঝাট পরিবারে আপনজনের মতো জায়গা দিতেন না নিশ্চয়ই। মালয়েশিয়ার মেয়েদের এটি একটি গুণও বটে; যাকে ভালবাসবে তাকে প্রাণ উজাড় করে দেবে। আকবর সাহেব সমস্যার কথা খুলে বলতেই হালিমা দ্বিরুক্তি না করেই বলেছেন, ‘অবশ্যই, নিয়ে আস ওদের; আমাদের পরিবার আরোও বড় হবে। আমাদের কোনো ছেলে নেই, সংসারে একটা ছেলেও পাওয়া যাবে।’

আকবর সাহেব আন্তরিকভাবেই নিয়ে আসতে চাইলেও রুমানার খটকা আর ভয় ছিল তার সৎ মা আর সৎ বোনকে নিয়ে যদিও তাদের সাথে অডিও-ভিডিওতে তার অনিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, রুমানা স্বামীকে নিয়ে এসে যখন বাপের সংসারে যোগ দিল তখন তার সৎ মা হালিমা এবং সৎবোন রহিমা যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠল। রহিমা তার মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে একা একা বেড়ে উঠে তখন প্রি-ইউনিভার্সিটি লেভেলে পড়ছিল। এর পর লম্বা সময় পার হয়ে গিয়েছে; রহিমা মালাক্কার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পড়া শেষ করে নিজের পছন্দ-করা বরের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে। এখন সে স্বামী ও এক পুত্রসন্তানসহ কুয়ালালামপুরেই থাকে। এদিকে রুমানাও এক ছেলে এবং এক মেয়ের মা হয়েছে। যেহেতু মেহরাব এবং রুমানাকে অন্য কোথাও যেতে হয়নি কিংবা হালিমাই যেতে দেননি তাই তারা প্রথম দিন থেকেই মালাক্কার বিশাল বাড়িতেই দিব্যি আছে। ফলে বাড়িতে রহিমার অনুপস্থিতি তত অনুভূত হয় না।

আকবর সাহেব তার ভিলাসম দুটি গেষ্টহাউস মেহরাবের হাতে ছেড়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। তিনি এখন ফুল টাইম তার স্বপ্নের ইলেক্ট্রিক্যাল গুডস্‌ মানুফ্যাকচারিং ফ্যাক্টরিতে ব্যস্ত থাকেন।যদিও রহিমার হাতে ফ্যাক্টরির দায়িত্ব তুলে দেবেন বলে তাকে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বিয়ের পর তো রহিমার মালাক্কায় থাকাই হল না।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দর লোকেশনের জন্য খোর পর্যটকদের প্রথম পছন্দ আকবর সাহেবের গেষ্টহাউস। মেহরাব বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি শ্বশুরের গেষ্টহাউসে সময় দেয়। সময় পেলে রুমানাও তার সাথে যায়। তবে বাচ্চাদের স্কুলে দেয়ার পর থেকে দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় ছুটির দিন ছাড়া সে খুব একটা বেরোয় না। হালিমা অবশ্য আগের মতোই সকালের দায়িত্ব পালন করেন।

সেদিন দুপুরে হালিমা বাড়ি ফিরে দেখেন একা ঘরে বসে মেহরাব চোখ মুছছে। সে তখন মারিয়োঁর ভিডিও ক্লিপটি আবার দেখেছে।

হালিমা মেহরাবকে ছেলের মতোই স্নেহ করেন। দশ বছর সময় ধরে আপন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলে কারুর মানসিক অবস্থা কী হতে পারে হালিমা তা উপলব্ধি করতে পারেন। তাছাড়া এক বছর আগে মেহরাব তার বাপকে হারিয়েছে; এখন মায়ের স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে। সে কাঁদলেও তা অমূলক নয়। হালিমা মেহরাবকে সান্ত্বনা দিয়ে তার পাশে বসে রুমানার খোঁজ নেন, যদিও তিনি জানেন রুমানা তুতুল-মিতুলদের স্কুলে গিয়েছে।

ইংরেজি তো সবাই জানেই, তবে আকবর সাহেবের পরিবার মোটামুটি একটি বহুভাষিক পরিমণ্ডল। হালিমা আকবর সাহেবের কাছ থেকে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কিছু বাংলা শিখেছিলেন। তবে রুমানারা আসার পর থেকে চলনসই বাংলা তার রপ্ত হয়ে গিয়েছে; তিনি ড্রাইভার এবং গভর্নেস ব্যতীত সবার সাথে বাংলা বলার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে মালয় ভাষা ইতিমধ্যে সবার কাছে ডালভাত। তাই বাড়িতে ভাষা প্রয়োগে সবাই স্বাধীন।

মেহরাব চোখ মুছে বলে, ‘মা, আপনি রেস্ট নেন। রুমানা ফিরে এলে আমরা একসাথে লাঞ্চ করব।’

হালিমা বোঝেন মেহরাব কথা ঘুরিয়ে পালাতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘বাবা, তুমি তো জান, তোমার কষ্টের জন্য আমিও কিছুটা দায়ী।’

‘এসব কী বলেন মা?’, মেহরাব বলে।

‘শোনো, বিশ্বাস কর, আমি কিন্তু রুমানা আর তার মায়ের কথা জানতাম না।’ হালিমা বলেন, ‘লোকটা মালয়েশিয়ায় এসে কিছু একটা করার জন্য পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। আমি যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতাম সে ওখানে অবৈধভাবে কাজ করত। সেখানেই তার সাথে আমার পরিচয়…।’

মেহরাব ত্রস্ত হয়ে বলে, ‘মা, এসব তো জানি। আপনি বাবাকে বিয়ে না করলে বাবা আজ এ পর্যায়ে আসতে পারতেন না। তাছাড়া রুমানাদের কথা জানার পরও আপনি যে ধৈর্যের সাথে সব সামলেছেন এটা আমাদের দেশে হলে অন্য রকম হত।’

হালিমা বলেন, ‘রুমানার মায়ের জন্য আমার খুব দুঃখ হয়। আমাদের বিয়ের কথা জেনে সে ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করল! আমি যখন জানলাম তখন কী করতে পারতাম? আকবরকে তাড়িয়ে দিলে সে কি তার স্ত্রীকে ফিরে পেত? আর এই অসহায় মানুষটাকে আমি তাড়াতাম কীভাবে? ওকে যে আমি ভালবেসে বিয়ে করেছি। তার একটা সন্তান পেটে ধরেছি।’

মেহরাব অধৈর্য হয়ে বলে, ‘মা, প্লিজ আপনি রেস্ট নেন।’

‘আমার সাথে আকবরের বিয়ে হবার কারণে রুমানার মা আত্মহত্যা করল আর সে কারণেই তো রুমানা তোমাদের ঘরে উঠতে পারল না; উলটা তুমিই ঘরহারা হয়ে গেলে।’একথা বলতে বলতে হালিমা সিঁড়ি বেয়ে তার বেডরুমের দিকে চলে যান।

মেহরাব তার বিয়ের আগে থেকেই আকবর সাহেবের ব্যাপারে জেনে আসছে; আর মালয়েশিয়ায় আসার পর তো শ্বশুরের সাথে সরাসরি সম্পৃক্তই হয়েছে। আকবর সাহেবকে সে একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ হিসেবেই জানে। আসলে মালয়েশিয়ান মেয়ে হালিমাকে বিয়ের পিছনে আকবর সাহেবের ভালবাসার জোর কতটুকু ছিল আর দেশে ফেলে আসা বউ-বাচ্চার প্রতি দায়িত্ববোধ কতটুকু ছিল তা মেহরাবের কাছে পরিষ্কার না হলেও এটা সে বুঝতে পারে রুমানাকে তিনি প্রচণ্ড ভালবাসেন। তার এই ভালবাসার জোর হালিমাকেও প্রভাবিত করেছে। তাই তো রুমানাকে বিয়ে করে মেহরাব অসহায় হয়ে পড়লে হালিমার পরামর্শেই আকবর সাহেব তাদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসেন।

রাত বারোটার দিকে মেহরাব ফিরে এলে রোজকার মতো রুমানা এক গ্লাস দুধ এগিয়ে দেয়। সাধারণত মেহরাব রাতের বেলায় গেষ্টহাউসে হালকা কিছু খেয়ে নেয়। শোবার আগে শুধু এক গ্লাস দুধ ছাড়া আর কিছু খায় না। ইদানীং মায়ের জন্য সে বেশ উচাটন। প্রয়োজনের বেশি কথাও বলে না। রুমানা জিজ্ঞেস করে, ‘আপুর সাথে কথা বলেছ আজ?’

ফারাহ্‌র সাথে ক’দিন থেকে ঘনঘন যোগাযোগ হচ্ছে মেহরাবের। সে বলে, ‘হুম। মায়ের শরীরটা আরোও খারাপ হয়েছে।’

রুমানা মেহরাবের এই জটিল পরিস্থিতিতে কী করবে তা ঠিক করতে পারে না। সে উঠে এসে মেহরাবের চুলে বিলি কেটে বলে, ‘আমি শুধু তোমার দুঃখের বোঝাই বাড়িয়ে গেলাম। একটা কাজ কর না, তুমি একবার দেশে যাও।’

মেহরাব তড়িদগতিতে মাথা ঘুরিয়ে রুমানার মুখের দিকে তাকায়। কিছু বলতে গিয়েও মুখে কথা আটকে যায়। রুমানার কথার উত্তরে শুধু মাথা নাড়ায়।

মেহরাব নিজ থেকেই ফারাহ্‌র কাছে কথাটা পেড়েছিল। কিন্তু ফারাহ্‌র কথায় সে হতাশ হয়েছে। মা নিশ্চয়ই ছেলের বিরহে এতটা বছর কাতর ছিলেন। লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক চোখের পানি ছেড়েছেন। কিন্তু মহামারীতে স্বামীকে হারানোর পর তিনি অন্যরকম হয়ে গিয়েছেন। ফারাহ্‌র বিভিন্ন ধরণের প্রবোধের উত্তরে বলেছেন, ‘তোর বাপ যখন মৃত্যুর আগে ছেলের মুখ দেখল না, আমিও দেখব না। খবরদার, ওকে আসতে বলবি না।’ আসলে রাগটা ছেলের ওপর নাকি তার বাপের ওপর তা তার কথা থেকে পরিষ্কার বোঝাও যায় না। তবে কারণ এ-ও হতে পারে, হাসান সাহেব মৌখিকভাবে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসার দুই ফ্ল্যাটের একটি রুমানাকে আর অন্যটি তার মাকে দিয়ে গিয়েছেন। তাছাড়া ব্যাংকের টাকাও তার মায়ের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার জন্য রেখে গিয়েছেন। মেহরাবের কথা কিছু বলে যাননি।

রুমানা তার পিতার এমন রূঢ় সিদ্ধান্তের কথা মেহরাবকে বলেনি। তাছাড়া মায়ের জটিল মানসিকতার কথাও সে সেভাবে উপস্থাপন করেনি। সে শুধু বলেছে, ‘দেখ ভাই, এমুহূর্তে মায়ের সাথে তোর দেখা হলে আবেগ-উত্তেজনায় তার কি না কি হয়ে যায়। তার চেয়ে বরং দোয়া কর, মা সেরে উঠলে আমরা মাকে বুঝাব। তখন নাহয় তুই তোর বউ-বাচ্চা নিয়ে এসে একবার ঘুরে যাবি।’

রুমানা আর ঘাটায় না। মেহরাবকে বলে, ‘আচ্ছা, আমি একবার কথা বলব আপুর সাথে; তুমি চেঞ্জ করে শুয়ে পড়।’

সকাল বেলা মেহরাব ঘুমে থাকতেই রুমানা ফোন করে বসে ফারাহ্‌কে।

ফারাহ্‌ জিজ্ঞেস করে, ‘তুতুল-মিতুল কেমন আছে?’

‘ওরা ভাল আছে আপু।’ রুমানা বলে, ‘কিন্তু আপনার ভাইকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

ফারাহ্‌ বলে, ‘আমি জানি। কিন্তু আমি কী করব বল; আমি তো কোনো দিশা পাচ্ছি না।’

রুমানা একটু নিচু কণ্ঠে বলে, ‘মা কি খুব রেগে আছেন?’

‘ব্যাপারটা তোকে কেমনে বুঝাই’, ফারাহ্‌কে একটু দ্বিধান্বিত শোনায়। ‘আমি চেষ্টা করছি, মায়ের শরীরটা একটু ভাল হলে তাকে বুঝাব। মেহরাব আসতে পারলে হয়তো পরিস্থিতি ভালর দিকে মোড় নিতে পারে।’

রুমানা কান্না কান্না কণ্ঠে বলে, ‘আমার জন্যই আজ এই অবস্থা, আপু। আমি কী করতে পারতাম, বলেন।’

‘চুপ কর তো’, ফারাহ্‌ ধমক লাগায়। ‘তুই কী করতে পারতি? আমার বাবাই তো ভয়ঙ্কর ডিক্টেটর ছিলেন। যুগ সময়ের কোনো ধার ধারতেন না। যাক ওসব কথা। তুই চিন্তা করিস না। দেখি আল্লাহ্‌ কী করেন।’

আকবর সাহেব সেদিন আর বাইরে যাননি। হালিমা গিয়েছিলেন গেষ্টহাউসে। তিনি ফিরে এলে সবাই একসাথে লাঞ্চ করতে বসে যায়। এরকম সুযোগ হরহামেশা হয় না।

খাওয়াদাওয়ার ফাঁকে আকবর সাহেবই কথা তোলেন। তিনি বলেন, ‘যে যাই বলুক, আমার মনে হয় এ মুহূর্তে মেহরাবের দেশে যাওয়া উচিৎ। শুনেছি বেয়াইনের শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।’ কথাটা বলে তিনি সবার মুখের দিকে তাকান।

মেহরাব রুমানা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেও কিছু বলে না। মুখ খোলেন হালিমা। তিনি স্বামীর কথায় সায় দিয়ে বলেন, ‘আমিও তাই মনে করি।’

মিতুল-তুতুল বাংলার চেয়ে মালয় ভাষায় বেশি পারদর্শী। তবুও বাংলা ভালই বোঝে। নানার মুখে বাবার কথা শুনে সে সরলভাবে বলে, ‘আমি বাবার সাথে যাব।’

রুমানা বলে, ‘তুই কোথায় যাবি?’

‘কেন? বাবার সাথে বিদেশে যাব।’ মিতুলের কথা থেকে বোঝা যায় তার মূল দেশ যে বাংলাদেশ তা সে এখনও বুঝতে পারেনি।

ছেলের কথা শুনে মেহরাব একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

এ পর্যায়ে রুমানা যোগ করে, ‘বাবা যখন বলছেন, তুমি আর সাতপাঁচ না ভেবে তাড়াতাড়ি টিকেট কেটে ফেল। দেরি কর না।’

মেহরাব টেবিল থেকে উঠতে উঠতে বলে, ‘আমাকে একটু ভাবতে দাও।’

আকবর সাহেব বলেন, ‘এ নিয়ে আর ভাবাভাবির দরকার নেই। তুমি সোজা তোমার মাকে দেখতে চলে যাও। পরে যা হবার হবে।’

মেহরাব মনস্থির করতে দু’তিনদিন সময় নিয়ে নেয়। এদিকে রুমানা ফারাহ্‌র সাথে দৈনিক কথা বলছে। তবে মেহরাবের যাওয়ার ব্যাপারে কিছুই বলছে না, পাছে ফারাহ্‌ যদি সায় না দেয়। এদিকে শাশুড়ির শরীর যে ক্রমে আরোও খারাপ হচ্ছে সে কথা মেহরাবকে সরাসরি না বললেও তাকে দেশে যাওয়ার জন্য তাড়া দিয়ে যাচ্ছে সে। ইতিমধ্যে আকবর সাহেব নিজেই মেহরাবের জন্য একটি মালাক্কা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা টিকেট কেটে ফেলেন। কুয়ালামপুরে তিন ঘণ্টা দেরি করতে হবে ঢাকার ফ্লাইটের জন্য। ঢাকায় পৌঁছুতে রাত এগারটা হয়ে যাবে।

মেহরাবের আর করার কিছু থাকে না। নির্দিষ্ট দিনে পরিবারের সবাই মিলে তাকে মালাক্কা বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে আসে। এবং শেষপর্যন্ত রাতের বেলা দুরুদুরু বুক নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পরই মেহরাব যেন একেবারে নেতিয়ে পড়ে।

দেশে যখন এসেই পড়েছে তখন তো কারুর না কারুর সাথে কথা বলতে হবে। সাহস করে মেহরাব এয়ারপোর্ট থেকে ফারাহ্‌কে কল দেয়।

ফারাহ্‌ কল রিসিভ করতেই মেহরাব বলে, ‘আপু আমি এসে পড়েছি; এয়ারপোর্টে আছি।’

ফারাহ্‌ অনেক কষ্ট করেও কান্না সামলাতে পারে না। সে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘তুই এসেছিস, ভাই?’

মেহরাব জিজ্ঞেস করে, ‘মা কেমন আছেন?’

ফারাহ্‌ বলে, ‘আমি মায়ের বাসায় আছি। তুই একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা এখানে চলে আয়।’

‘মা কেমন আছেন, বললে না যে’, মেহরাব বলে।

ফারাহ্‌ অনেক কষ্টে বলে, ‘তুই এলেই দেখবি। তুই আয়। আমি রাখলাম।’

মেহরাব বুঝে গিয়েছে মায়ের অবস্থা নিশ্চয়ই সঙ্কটাপন্ন। নইলে ফারাহ্‌ মায়ের বাসায় কেন, আর কেনই বা সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলল? সে দেরি না করে একটা ট্যাক্সি নিয়ে মিরপুর ডিওএইসএসের উদ্দেশে রওয়ানা করে।

নিকটাত্মীয় এবং আকবর সাহেবের বন্ধুবান্ধব যারা ছিল প্রায় সবাই জড় হয়েছিল। তবে ফরহাদকেই অধিক ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। কান্নাকাটির হুলস্থূল আর দ্বিধাদ্বন্ধের জন্য মেহরাবকে কিংবা রুমানাকে মায়ের খবরটি তৎক্ষণাৎ জানায়নি ফারাহ্‌। দুপুর বারটায় মা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলে আত্মীয়স্বজন লাশ তাড়াতাড়ি দাফনের পক্ষে ছিল। রুমানাসহ কেউ কেউ মেহরাবের প্রসঙ্গ তুললেও ফরহাদ এবং অন্যরা গরমের দিনে লাশ ধরে রাখার পক্ষে ছিল না। তাছাড়া রুগির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে কিছু কাজ তারা এগিয়েই রেখেছিল – বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে কবর বুকিং, গোসলসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য সেন্ট্রাল মসজিদের হুজুরের সাথে কথা বলা, কাফনের কাপড় এবং আতর-সুগন্ধি যোগাড় করা, ইত্যাদি কাজ আগেভাগে করে রাখায় শেষকৃত্যের কাজটি হুড়োহুড়ি ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

মায়ের লাশ বাসা থেকে বের করে নেয়ার পর ফারাহ্‌ আর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছিল না। সে বেশি কান্নাকাটি করছিল তার উপর্যুপরি ভুলের জন্য। হাজার হোক, নিজের ভাই। বাপকে যেমন দেখতে পেল না, তেমনি মায়ের মুখটিও দেখতে পেল না। ফারাহ্‌ কেঁদেকেটে রুমানাকেই ফোন করল। ফারাহ্‌র কান্না শুনে রুমানা আর শাশুড়ির কথা জিজ্ঞেস না করেই উচ্চস্বরে কাঁদতে আরম্ভ করে দিল। কিন্তু তাদের দুজনের কান্নার মাত্রা আরোও বেড়ে গেল যখন রুমানা বলল যে মেহরাব তখন দেশের পথে আছে। কারণ ততক্ষণে মায়ের লাশ গোরস্থানে পৌঁছে গিয়েছে। ফারাহ্‌ শুধু বলতে পারল, ‘সে আসবেই যখন তবে কেন একদিন আগে এল না।’

এয়ারপোর্ট থেকে ফোন আসার আগে থেকেই ফরহাদ আরোও দুয়েকজন আত্মীয় নিয়ে মেহরাবের জন্য শ্বশুরের বাসায় অপেক্ষা করছিল। স্বভাবতই মেহরাবের আকস্মিক উপস্থিতি সামাল দেয়া একটা কঠিন ব্যাপার। এবং হলও তাই। মেহরাব বাসায় আসার সাথে সাথে ছোট চাচা, বড় মামা, ফারাহ্‌ এবং ফরহাদ মেহরাবকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করলেন। কিন্তু মেহরাব ফারাহ্‌কে লক্ষ্য করে বারবার একটা অভিযোগই করে যাচ্ছিল, ‘কেন তুমি আমাকে আসতে দিলে না, আমি তো আসতে চেয়েছিলাম।’ এই সহজ প্রশ্নের জটিল উত্তর ফারাহ্‌র পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিল না।

সান্ত্বনা প্রবোধ যা-ই দেয়া হোক না কেন মেহরাবের বুকের আগুন নেভানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ফরহাদ শালাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘তোর দুঃখ বুঝি ভাই, কিন্তু কপালের লিখন কেউ তো খণ্ডাতে পারে না। এখন বাবা-মায়ের জন্য মন খুলে দোয়া কর। আল্লাহ্‌ নিশ্চয়ই বেহেশতে সবাইকে একত্রিত করবেন।’

মেহরাব সপ্তাহ খানেক দেশে থেকে যতটুকু সম্ভব দোয়া-দরুদ, দান-খয়রাত করেছে। প্রতিদিন মা-বাবার কবরে গিয়ে কান্নাকাটি করেছে। এ ক’দিন ফারাহ্‌ও ভাইয়ের সাথে থেকেছে; চোখ মুছতে মুছতে বাবা-মা’র স্মৃতি রোমন্থন করেছে। ভাগ্নে-ভাগ্নিরা হঠাৎ করে মামাকে পেয়ে শোকের আবহের মধ্যেও আনন্দিত হয়েছে।

মেহরাবের মালয়েশিয়ার ফিরে যাবার আগের দিন ফারাহ্‌ই ছোটচাচা এবং বড়মামাকে তাদের সাথে দুটো ডালভাত খাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। তারা এলে সবাই মিলে মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে গল্পগুজব করল। মেহরাবও ততদিনে অনেকটা শান্ত হয়েছে। মামা-চাচার প্রশ্নের উত্তরে সে তার মালয়েশিয়ার সংসার এবং কাজকর্মের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়। এসব আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ছোটচাচাই বললেন, ‘মেহরাব কাল চলে যাবে, ফ্ল্যাট একটা তো ভাড়া দেয়া আছেই, আর এটাও এখন খালি হয়ে গেল, তোমরা কি এসব নিয়ে কিছু ভেবেছ?’

ছোটচাচার প্রশ্নের উত্তরে সবাই কয়েক মুহূর্ত নীরব হয়ে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই মেহরাব আমতা আমতা করে বলল, ‘চাচা, এ ব্যাপারে তো আমার বলার কিছুই নেই। বলতে গেলে আমার কিছু নেইও। আপনারা তো জানেন …’

মেহরাব কথা শেষ করার আগেই বড়মামা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি। ফারাহ্‌, তুমি কী বল?’

ফারাহ্‌ কিছু বলার আগে ফরহাদ কিছু বলার জন্য উশখুশ করলে ছোটচাচা হাত তুলে বললেন, ‘ফারাহ্‌ বলুক।’

ফারাহ্‌ থতমত খেয়ে বলল, ‘আসলে আমি কী বলব চাচা? আপনারা তো আমাদের পরিবারের দুঃখজনক ইতিহাস জানেন। আপনারাই এ ব্যাপারে আমাদের উপদেশ দিন। তবে আজ সবকিছু গোছাতে গিয়ে আম্মার টেবিলের ড্রয়ারে মুখ বন্ধ-করা একটা খাম পেয়েছি। মায়ের হাতেই মেহরাবের নাম লেখা…।’ একথা বলে ফারাহ্‌ কেঁদে ফেলে।

বড়মামা জিজ্ঞেস করেন, ‘কী আছে খামে?’

ফারাহ্‌ চোখ মুছতে মুছতে বলে, ‘আমি ওটা খুলিনি; মেহরাবকে দেয়ার সাহসও পাইনি। এখন আপনাদের সামনেই তাকে খামটি দিতে চাই।’ বলে, ফারাহ্‌ তার হাতে ধরা খামটি মেহরাবের দিকে এগিয়ে দেয়।

ইতিমধ্যে মেহরাবের চোখও ভিজে গিয়েছে। খামটি হাতে নিয়ে সে বলে, ‘কী আর থাকবে খামে, আমার জন্য মায়ের অভিশাপ ছাড়া আর কী আছে?’

বড়মামা বলেন, ‘যা-ই থাক, খুলে ফেল। মনে হচ্ছে তোমার উদ্দেশে কিছু লিখে রেখেছে রাবেয়া।’ সে মুহূর্তে বড়মামাকেও চোখ মুছতে দেখা যায়।

মেহরাব খামের ভেতরে দু’পৃষ্ঠার একটা চিঠি পায়। মায়ের চিঠি যে স্নেহ-ভালবাসার ফুলের ডালি হবে সেকথা মানব জাতির অজানা নয়। কিন্তু মেহরাবের কাছে লেখা চিঠি দুঃখের নীল সুতো দিয়ে গাঁথা ভালবাসার ফুলের মালা। মেহরাব মায়ের হাতের গুটিগুটি লেখা পড়তে গিয়ে চিঠির ওপর টপটপ করে চোখের জল ফেলতে থাকে।

চিঠি পড়া শেষ করে মেহরাব অসাড়ের মতো সোফায় মাথা এলিয়ে দিয়ে বিলাপ করতে থাকে, ‘মা, আমার এসব দরকার নেই, এসব দিয়ে আমি কী করব? বাবা আমার না, তুমি আমার না, এসব দিয়ে আমার কী হবে?’

ফারাহ্‌ তখন মেহরাবের হাত থেকে মায়ের চিঠিখানি নিয়ে বলে, ‘দে তো দেখি মা কী লিখেছে তোকে?’

ফারাহ্‌ চিঠিখানি পড়তে থাকলে মেহরাব নির্বিকার থাকে। তখন ছোটচাচা বলেন, ‘ইম্পরট্যান্ট কিছু লেখা থাকলে বল শুনি।’

ফরহাদ তখন উদগ্রীব হবে বলে, ‘দাও, আমি পড়ি।’

ফারাহ্‌ বলে, ‘নাহ, ঠিক আছে, তুমি বস।’ বলে, সে চোখ মুছতে মুছতে চিঠিখানি বড়মামার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে, ‘মায়ের মনে বড় দুঃখ ছিল মেহরাবের জন্য, সেই কথাই লিখেছেন মা।’

বড়মামার পড়া শেষ করে ছোটচাচার হাতে চিঠিখানি দিয়ে বলেন, ‘তোমার কি মনে হয়, জামান, দেখ তো।’

ছোটচাচা চিঠির শেষ অংশটা মনোযোগ দিয়ে পড়তে পড়তে বলেন, ‘আমার মনে হয় ঠিক আছে। ভাবীর সিদ্ধান্তই ঠিক।’

ফরহাদ মৃদুস্বরে বলে, ‘চাচা, একটু জোরে পড়লে…’

‘পড়ছি, পড়ছি। এত ব্যস্ত হয়ো না।’ ছোটচাচা ফরহাদের কথা আর সম্পূর্ণ হতে দেননি। তিনি পড়েন, ‘…সবাই ত্যাগ করলেও আমি তোকে ত্যাগ করি কেমন করে? তুই যে আমার নাড়িছেঁড়া ধন। এই দুনিয়ায় হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না, তবে পরকালে কেউ আর তোকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। ব্যাংকে যা টাকা রয়েছে, তা এখন আমার। ভাড়া দেয়া ফ্ল্যাটটা তোর বোনই পাবে – সে-ও তো আমার মেয়ে। তবে এই ফ্ল্যাটটি একান্তই আমার। ব্যাংকের টাকা আর ফ্ল্যাটটা আমি তোর জন্য আর আমার নাতি-নাতনির জন্য রেখে গেলাম। হায়রে কপাল, আমার নাতি-নাতনিদের আমি …’

ছোটচাচা এতটুকু পড়ে থেমে যান। ওদিকে মেহরাব হাউমাউ করে কাঁদছে আর বলছে, ‘এসব দিয়ে আমি কী করব, চাচা? মারিয়োঁ ছেচল্লিশ বছর পরও তার মাকে ফিরে পেয়েছে, আর আমি …?’
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন ভাল লিখেছেন। ভাল পেড়ে লাগল।
মোঃ মোখলেছুর রহমান আপনার গল্পে একটা মদিরতা থাকে, তাই শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেললাম।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১৯ নভেম্বর - ২০১৭ গল্প/কবিতা: ১০৫ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাবা”
কবিতার বিষয় "কষ্ট”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে,২০২২