ঝড়ের বিশালতার একাধিক মাত্রা আছে। মানব জীবনেও তার বহুমাত্রিকতা আছে। জীবন-মনও ঝড়ের মুখোমুখি হয়, ঝড়ে পতিত হয়, ঝড়ের তাণ্ডব ডিঙিয়ে যায়। এই গল্পেও কিছু ঝড়ো মুহুর্তের স্পর্শ আছে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৩৬

বিচারক স্কোরঃ ২.৬৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৭ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঝড় (এপ্রিল ২০১৯)

ঝড় তর্পণ
ঝড়

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৩৬

জামাল উদ্দিন আহমদ

comment ১০  favorite ০  import_contacts ১৬৬
উসকোখুসকো চুলে উদ্ভ্রান্ত বেশে বাহাদুর শাহ পার্কে বসে আছে নেসার । হাতে আধপোড়া সিগারেট। কখনও দম দিতে ভুলে যায়, কখনও গাঁজার কল্কে টানার মত জোরে টান দেয়। সকালে ফকিরাপুলের এক খাবার হোটেলে দুটো পরোটায় হালুয়া মেখে খেয়েছে। স্বাধীনতার পরপর প্রথম যখন ঢাকায় এসেছিল, তখন এটা তার প্রিয় নাশতা ছিল। এখন দুপুর। একটু একটু খিদে পাচ্ছে। পকেটে হাত দিয়ে দেখল এখনও বেশ কিছু কড়কড়ে নোট আছে। হয়ত বেশিদিন চলবে না। তবে আরও চার-পাঁচদিন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই চলে যাবে বলে মনে হয়।

ঢাকায় নিজের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও পুরনো কিছু বন্ধুবান্ধব আছে। নেসার ইচ্ছে করলে সেখানে কোথাও যেতে পারত। ওরা তাকে পেলে খুশিই হত। কিন্তু সে যায়নি। নতুন পাগলামো চেপেছে মাথায়। দুদিন হল এসেছে ঢাকায়। তার পর থেকেই শুধুই পথে পথে হাঁটছে। পাবলিক টয়লেটে শৌচকর্ম সেরে নিচ্ছে। পুরনো সাইডব্যাগে করে একটি লুঙ্গি, একটি গামছা, একটি ফতুয়া, একটি প্যান্ট আর দুটি শার্ট নিয়ে এসেছে। আজকে কোনো পাবলিক টয়লেটে গোসল সেরে নেবে বলে মনস্থ করেছে। গা চুলকানো সে সহ্য করতে পারে না। গামছা বিছিয়ে ব্যাগের উপরে শিথান দিয়ে মতিঝিলের এক অফিসের বারান্দায় দু’রাত কাটিয়ে দিয়েছে মশার কয়েল জ্বেলে। আশেপাশে আরও বেশকিছু উদ্বাস্তু ছিল। ওরা চোখে কৌতুহল নিয়ে তার দিকে তাকালেও এই অদ্ভুত আগন্তুককে কিছু বলতে সাহস পায়নি। তবে কিছুটা পরিচ্ছন্ন এক বৃদ্ধকে ডেকে নিয়ে এসে কাছে শুতে দিয়েছিল নেসার। বৃদ্ধ লোকটি তাকে কিছু প্রশ্ন করতে চেয়েছিল কিন্তু সে সুযোগ তাকে দেয়নি নেসার। তার অদ্ভুত আচরণে বুড়ো লোকটি উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।

সে গতকাল কোনো এক কাগজে পড়েছে ঢাকা থেকে কলকাতায় এখন জাহাজ চলাচল করবে। লোকজন জাহাজে চড়ে কলকাতা যেতে পারবে। খুবই চমকপ্রদ বিষয়। খবরটি জানার পর থেকেই উত্তেজিত হয়ে আছে নেসার। এ সেবাটি চালু হলে তাকে আর ঠেকায় কে? অবশ্য সাথে একজন বন্ধু থাকলে ভাল হয়। কিন্তু আজকাল সেরকম উৎসাহী এবং মনের মিল থাকা বন্ধু পাওয়া মুশকিল। পুরনো যে দু’একজন আছে তারা তাদের নিজের সংসার পরিজন নিয়েই ব্যস্ত। কেউ কেউ আবার ব্যামোব্যাধিতে আক্রান্ত। সে যাক, না পেলেও অসুবিধা নেই, সে একাই বেরিয়ে পড়বে।

গণ শৌচাগারে গোসল সেরে মাঝারি মানের একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকে দুটি সেঁকা রুটি ডালভর্তা এবং ছোট মাছের ঝোল দিয়ে খেয়ে একটি সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দিকে রওয়ানা দেয়। ইচ্ছে, সেখানে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ঘুমাবে । নামাজ সে আগেও অনিয়মিতভাবে পড়ত। এবার বিশ্রাম নেবার সুবিধা নিতে সে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষ হলে ব্যাগটি মাথার নিচে দিয়ে ঘুমোনোর চেষ্টা করে। ভেবেছিল ভ্রমণকালীন সময়ে মোবাইল ফোনটি আর ব্যবহার করবে না, কিন্তু না করে উপায় নেই। কিছু কিছু লোকের সাথে সম্পর্ক রাখতে হয়। কেউ কেউ তার খোঁজও নেয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে আগত স্ত্রীর কল রিসিভ করতে হয়। কল মানে এক প্রস্থ বকাঝকা এবং তার চোদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করা। এসবের মাঝখান দিয়ে দু বছরের নাতি রাব্বির কিচিরমিচির শুনিয়ে দেয়া। এ যেন অনেকটা তাকে প্রলুব্ধ করার মত যে দেখ আমি নাতিপুতি নিয়ে ছেলের সংসারে কী আনন্দে আছি, আর তুমি তোমার ভড়ং নিয়ে পথে পথে আঁতলামি করে ঘুরছ; রাস্তায় শোও, রাস্তায় খাও, রাস্তায় হাগু কর। এসব পাক্কা ভন্ডামি। নিজের ছেলে বাপের জন্য খোরপোষ দেবে, এখানে তোমার ডাঁট দেখানোর কি আছে বুঝিনা। তিনি ছেলের কাছ থেকে খোরপোষ নেবেন না! মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। আরে বাবা, বিশ্ব-সংসারে দ্যাখ, কত লক্ষ কোটি বাবা-মা না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। ছেলেমেয়েরা ফিরেও তাকায় না। অথচ তোমার ছেলে তার মা-বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে আসার জন্য কতইনা পীড়াপীড়ি করেছে। আমিতো চলে এসেছি। আমি ছেলের কাছে না এলে আমাকে কে দেখবে? আর আসব না কেন? আমার ছেলে, আমার বউমা, আমার নাতি। সবইতো আমার; ওরাই তো আমার সব। তুমি থাক। বনে-জঙ্গলে পাগল-ছাগলের মত ঘুরে বেড়াও। প্রকৃতিকে ভালবেসে দেশ উদ্ধার কর; আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু মনে রেখ, যেদিন পা আর চলবে না, নর্দমার পারে শুয়ে শুয়ে ধুকবে। কোষাগারে কতইবা তোমার আছে যে তুমি ইবনে বতুতা হয়ে পথে-ঘাটে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াবে? স্ত্রীর একঘেয়ে বকুনিমালার কথা ভাবতে ভাবতে নেসার খেয়াল করে তার মোবাইল ফোনের চার্জ কমে এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে যেকোনো মুহূর্তে তা বন্ধ হয়ে যাবে। ফুটপাতের কোনো দোকান থেকে কিছু টাকা দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করিয়ে নেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

তিন বছর আগে নেসার ঢাকা ছেড়েছে। বিদেশি দূতাবাসে মাঝারি মানের পদে চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং ছেলে, কবির, পড়াশেষে অষ্ট্রেলিয়ায় পিআর পেয়ে গেলে সে তার মোহাম্মদপুরের ছোট্ট ফ্লাটটি বিক্রি করে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। গ্রাম বলতে ওরকম গ্রাম নয়। একটি থানা শহরের প্রান্তঘেষা বাড়ি। থানা শহরটি পৌরসভা হয়ে গেছে বেশ আগেই। কিন্তু ছেলে যখন বিয়ে করে স্ত্রীকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যায় তখনই বাবা-মাকে পাসপোর্ট করতে বলেছে। কারণ সে-ই তার বাবা মার একমাত্র সন্তান। সে জানে এদেশে আর তার ফিরে আসা হবে না। তাই বাবা-মাকে ইমিগ্রান্ট করে নিয়ে যেতে চায়। প্রথমে অবশ্য বলেছিল, আপাতত না যেতে চাইলে বাবা-মার যত টাকা প্রয়োজন সে দিয়েই যাবে। কিন্তু দঢ়ঘাড় বাবা বলেছে, তোমার ভবিষ্যত আছে, ভবিষ্যতে সংসার বড় হবে; সেখানে ঘরবাড়ি করা, নাতি-নাতনিদের লেখাপড়া করানো ইত্যাদিতে অনেক টাকাপয়সা লাগবে। অতএব তোমার টাকা পাঠানোর প্রয়োজন নেই। অপরদিকে মায়ের দীর্ঘদিনের শখ, ছেলে যখন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হয়ে যাবে তখন তিনি ছেলের সাথে গিয়ে থাকবেন । ওখানে নাতিপুতি হবে আর তিনি তাদের সাথে হইহুল্লোড় করে আনন্দে দিন কাটাবেন। মাঝেমাঝে পুরো পরিবার নিয়ে দেশে এসে ঘুরে যাবেন। কিন্তু বাপের একই গোঁ। ছেলের মুখাপেক্ষী হব কেন? তার অহমিকায় বাঁধে। শেষপর্যন্ত স্বামীকে দেশে রেখেই পারভীন অর্থাৎ নেসারের স্ত্রী ছেলের কাছে চলে যায়। সেই থেকে নেসার আরো বেশি স্বাধীন। গত এক বছরে মাত্র তিন মাস বাড়িতে থেকেছে আর বাকি নয় মাস সে দূর-দূরান্তের পুরনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছে। মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও দেখে এসেছে। সেদিন হঠাৎ ইচ্ছে চাগিয়ে উঠতেই হুট করে ঢাকায় চলে এসেছে। কিন্তু কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর বাসায় যাবেনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছে বলে এখনও সে কারও কাছে যায়নি কিংবা ফোনেও যোগাযোগ করেনি। থাকতে পারত কোন ইকোনোমি বাজেটের হোটেলেও – ফকিরাপুল কিংবা কমলাপুরে। কিন্তু না, এবার তার শখ হয়েছে ঢাকা শহরের ভাসমান লোকেরা কিভাবে রাস্তাঘাটে ঘুমায় তা উপলব্ধিসহ নিরীক্ষণ করবে। তবে এই নিরীক্ষা বেশিদূর এগোবে বলে মনে হচ্ছে না, কারণ কয়েল জ্বালান সত্ত্বেও মশার জ্বালাতন তার পক্ষে সহ্য করা কঠিন। তাছাড়া ঘুমিয়ে পড়ার পর সেই মশার কয়েলও লাপাত্তা হয়ে যায়। আজকে হয়ত কমলাপুরের কোন এক সস্তা হোটেলে রাত কাটাবে। সেই সাথে সবকিছু ঠিক থাকলে কাল একবার মিরপুর ঘুরে আসারও ইচ্ছা জেগেছে। ব্যাচেলর জীবন সে মিরপুরে কাটিয়েছে বলে বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা মিরপুরেই বেশি।

সকাল বেলা কমলাপুরের সাধারণ রেষ্টুরেন্টে বসে হালুয়া-পরটা খেতে খেতে মল্লিককে ফোন দেয় নেসার। কিডনিসহ আরও অনেক অসুখে ভোগা মল্লিক কথা বেশি জোরে বলতে না পারলেও নেসারের ফোন পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, শালা তুমি ঢাকায় আইসা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেছ। এক্ষুনি আইসা পড়। নেসার জানে তার আদরের কমতি হবে না কারণ সে কোনদিন কারোর বোঝা হয়নি। তাছাড়া মল্লিকের পরিবারে তার আলাদা গ্রহনযোগ্যতা আছে।

পল্লবীর লেকঘেষা এপার্টমেন্টের সাততলার বাসিন্দা মল্লিকের পরিবার – মল্লিক, তার স্ত্রী মুনিরা এবং গ্রাম থেকে নিয়ে আসা মধ্যবয়সী গৃহপরিচারিকা সালেকা; এই তিনজন। সালেকার বিয়ে হয়েছিল তিনবার; সন্তান হয়নি বলে সংসার টেকেনি। নেসারকে পাওয়াতে তাদের অসুখবিসুখের কাতরানি মুহুর্তে উধাও হয়ে গেল। বিশেষ করে দুই বন্ধুর চেঁচামেচিতে মনে হল এখনও তারা সেই তিরিশের কোটায় আছে। পুরনো দিনের খনি খুঁড়ে মূল্যবান আকর উদ্ধার করতে করতে পুরো দিন কাটিয়ে দিয়ে সন্ধ্যার দিকে নেসার চলে আসতে উদ্যত হলে মল্লিক তাকে কিছুতেই ছাড়বেনা। বলে, কয়দিন বাঁচব শালা; পা একটাতো কবরে দিয়াই রাখছি; থাক না দুইটা দিন কাছে। সাথে মুনিরাও যোগ দিয়ে বলে, বন্ধু যখন এত করে বলছে থেকেই যান না নেসার ভাই। নেসার বাধ্য হয়ে থেকে গেলে সবচেয়ে বেশি খুশি হবে মুনিরা তা সে জানে। তাই আর তার ফেরা হল না সেদিন।

মল্লিক অসুখের কাছে কাবু হয়ে পড়লেও মুনিরা এখনও অনেক বলিষ্ঠ এবং প্রাণবন্ত। তাদের ছেলে শাহান থাকে উত্তরায় শশুরের দেয়া ফ্ল্যাটে। মেয়ে শোভার বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। সে এখন নিউজিল্যান্ডে আছে স্বামীর সাথে। পল্লবীর অ্যাপার্টমেন্টে তারা তিন প্রাণী বলতে গেলে ভালই আছে । তবে বেকায়দায় শুধু মল্লিক। একটা কিডনি ডেমেজ হয়ে গেছে, হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে, তাছাড়া ডায়বেটিসও মাঝেমাঝে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। অনেক নিয়ম কানুন এর মধ্যে চলতে হয়। নিয়ম করে খাওয়া, নিয়ম করে ঘুমানো, নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি, ইত্যাদি। এদিক থেকে নেসার সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। ব্লাড সুগার একটু আছে বৈকি; কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ এর মধ্যেই। আর তেমন কোন সমস্যা আছে বলে মনে হয় না যদিও মাঝেমধ্যে হাত-পায়ের জয়েন্টে এবং বুকের বাম পাশে হালকা চিনচিনে ব্যথা টের পাওয়া যায়।

সারাদিনের জম্পেশ আড্ডার পর সন্ধ্যায়ও হইহুল্লোড় করে চা নাস্তা চালিয়ে গেছে দুই বন্ধু; সাথেতো মুনিরা আছেই। পল্লবীর ঝিলঘেষা অ্যাপার্টমেন্টের সাততলায় থাকে বলেই মল্লিক কিছু বাড়তি সুবিধা পায়। যেমন সে সন্ধ্যাবেলা পূবের বারান্দায় বসে চাঁদ দেখতে দেখতে অতীত দিনের মাণচিত্র খোঁজে। মাঝেমাঝে যখন ছেলে, ছেলের বউ এসে দুয়েক রাত তাদের সাথে থেকে যায় সেটা হয় মহা আনন্দের উপলক্ষ। নাতি রাতুল মাতিয়ে রাখে দাদা-দাদীকে। বন্ধুর আগমনে আজকের সন্ধ্যাও তেমনি আনন্দময় হয়ে ওঠে। দুই বন্ধুর পুরনো দিনের স্মৃতির জাবর কাটার ফাঁকে ফাঁকে শুধু চা-কফির যোগানই দিয়ে যায়নি মুনিরা, তাদের হইহুল্লোড়েও যোগ দিয়েছে। কিন্তু রাত আটটা বাজার সাথে সাথেই মল্লিককে উঠতে হয়। ডাক্তারের নির্দেশমত সেঁকা রুটি দুটি খেয়ে তাকে বিছানায় যেতেই হবে। তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও বন্ধুকে তাড়া দিয়ে ডাইনিং টেবিলে নিয়ে যায়। নেসার আগেই বলে রেখেছে সে-ও তাদের সাথে রুটি খাবে। তবে সাথে মাছ মাংস থাকলেও থাকতে পারে।


খাওয়াদাওয়া শেষ করে একগাদা ওষুধ গিলতে গিলতে মল্লিক নেসারকে বলে, দোস্ত তুমি ছাত্রীর সাথে চালাইয়া যাও, বাইচ্যা থাকলে সকালে দেখা হইব ইনশাল্লা। নেসার হো হো করে হেসে উঠে; বলে, তা-তো যাবই। শুনব না কেমন সুখে রেখেছ আমার ছাত্রীকে? তারপর সে সিগ্রেট টানার জন্য বারান্দার দিকে এগোয়। মুনিরা স্বামীর বিছানা গোছগাছ করতে করতেই সালেকা দারুচিনি, লবঙ্গ এবং আদা দিয়ে তৈরি হালকা লিকারের চা ফ্লাস্কে ভরে বারান্দার ছোট টেবিলের উপর রেখে আসে। একটু পর মুনিরা চিনির পাত্রটাও বারান্দায় রাখতে গিয়ে নেসারকে জানিয়ে আসে যে সে এশার নামাজটা পড়েই আসবে। ইতিমধ্যে সালেকা নেসারের বিছানা ঠিক করে এক ফাঁকে তাকে জানিয়ে এসেছে। তার আর কিছু লাগবে কিনা তা-ও জিজ্ঞেস করেছে। নেসার বলেছে, না না, আমার কিছুই লাগবে না; তুমি ঘুমাতে যাও সালেকা।

নেসার আরামচেয়ারে বসে একাদশীর চাঁদের দিকে তাকিয়ে চুপ করে সিগারেট ফুঁকে যাচ্ছে । ততক্ষণে মুনিরা ফ্লাস্ক খুলে কাপে চা ঢেলে নেসারের দিকে এগিয়ে দেয়। মল্লিক ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে; সালেকাও নাক ডাকাতে শুরু করেছে। গ্রাম হলে এরকম সময়ে জোনাকি পোকারা আলোর মশাল নিয়ে ছুটোছুটি করত। অবশ্য শহরে জোনাকির দেখা পাওয়া না গেলেও ঝিঁঝিঁ পোকার ঝিম ধরানো শব্দ কান পাতলেই শোনা যায়। এই বাধোবাধো পরিবেশকে সহজ করার জন্য মুনিরাই প্রথম কথা বলে, ভাবিকে ভিনদেশে একা ফেলে আপনি এখানে কী করছেন?

রাখ তোমার ভাবীর কথা; নিজের খোঁজই রাখতে পারি না। আমার বিদেশ ভালো লাগেনা। তোমার ভাবি নাতিকে নিয়ে ফুর্তিতে আছে; খেলাধুলা করে, ঘুরে বেড়ায় দেশময়। ছেলেও জানে তার মা মাস্তি-মৌজে খুবই মানানসই। তারপর একটু থেমে বলে, বাপের নুন আনতে পানতা ফুরানো সংসারে মায়ের শখ খুব একটা মেটানো সম্ভব ছিল না। এখন সেটা পুষিয়ে নিচ্ছে সে। তারপরও সে খোঁজ নেয় আমি বেঁচে আছি কিনা; আমিতো নিজে থেকে ফোনই করি না।

এটা ঠিক নয়, মুনিরার মন্তব্য।

ঠিক বেঠিকের বাছবিচার ফেলে এসেছি অনেক পিছনে। দেখ না, একটা জীবন কেমন সুড়সুড় করে চলে গেল; ভালইতো আছ। ছেলে প্রতিষ্ঠিত; শশুরের দেয়া ফ্ল্যাটে আনন্দে আছে। মেয়ে আছে নিউজিল্যান্ডে।

হ্যাঁ, আমি সুখেই আছি। কথাটা বলে, চুপ করে রইল মুনিরা । চাঁদের আলো পড়ছে তার মুখের উপর। অন্ধকারেও তার কাল কেশে রুপালি সুতোর হালকা ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। ওপাশে বসা নেসারের হাতের সিগ্রেট পুড়ে কখন শেষ হয়ে নিভে গেছে সে খেয়াল করেনি।

আমাদের সম্পর্কটা কেমন গোলমেলে তাই না? আলো আঁধারের মাঝে নিচু গলায় বলা মুনিরার কথা নিরবতা চূর্ণ-করা শব্দের মত শোনাল।

সেটি কেমন? ভ্যাবাচ্যাকার মত জিজ্ঞেস করে নেসার।

থাক, এসব কথা বলে আর কী হবে?

তা ঠিক, তবে বলছই যখন, বল ।

আমি কখনও জানতে চাইনি, কিন্তু প্রশ্নটা এতদিন আমার মনেই ছিল; কেন আপনি জোরাজুরি করে আপনার বন্ধুর হাতে তুলে দিলেন আমাকে? এটা কি কোনো প্রায়শ্চিত্ত ছিল?

নেসার হুট করে মুনিরার এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারল না। আসলেইতো মল্লিকের সাথে মুনিরার বিয়েটা পাকাপোক্ত করেছিল নেসারই। দশম শ্রেণির ছাত্রী মুনিরার গৃহশিক্ষক ছিল সে জীবনের বেকারলগ্নে। কেতাব পাঠের চেয়ে নেসারকেই মুনিরা পড়তে চাইত বেশি করে। কিন্তু তার আগেই পারভীন অর্থাৎ নেসারের বর্তমান স্ত্রী তাকে পুরোপুরি পাঠ করে নিয়েছিল। নিয়ন্ত্রণহীন উদ্দাম সে সময়েও নেসার অনেকভাবে বুঝিয়েছিল মুনিরাকে। তাতেও পুরো সফল হতে পারেনি সে। কখনও অশ্রুর কাছে, কখনও বয়সের ধর্মের কাছে সে ধরা দিয়েছে দ্বিধা নিয়েও। অনিশ্চিত পরিণতি মেনেও অগ্নিশিখার দিকে বারংবার উড়ে গেছে মুনিরাও – এটা কি তার ভুল ছিল, নাকি বোকামি? তখন কিন্তু এসব কিছুই মনে হয়নি। নেসারের তখন হঠাৎ করে মনে হয়েছিল, কিছু একটা করতে হবে, এ খেলা শেষ করতে হবে – মুনিরা যাকে এখন প্রায়শ্চিত্ত বলছে। অভিভাবকের মত মল্লিককে ধরে নিয়ে এসে ঘটকালি শুরু করে দিল সে। মল্লিক ইতিমধ্যে একটি ব্যাংকে চাকুরি পেয়ে গেছে। সময় এবং পরিস্থিতি এমনই ছিল যে দিনশেষে মুনিরাকে কান্নার পিচ্ছিল পথ বেয়ে নিয়তি মেনে মল্লিকের ঘরেই যেতে হল। কিছুটা অপরাধবোধ, কিছুটা নিষ্টুরতা নিয়ে নেসারকেও জীবনের অন্য গলিপথে ঢুকে যেতে হল। যদিও ত্রিশ বছর ধরে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলেছে; সামাজিকতায় অনুষ্ঠানে মুনিরাকে মল্লিকের স্ত্রী হয়ে চলতে হয়েছে কিন্তু তার মনের অলিতেগলিতে অতীতের কোনো ফুল কিংবা কাঁটা তখনও ছিল কিনা তা নেসারের জানবার আগ্রহ বা প্রয়োজন তেমন হয়নি। মজার ব্যাপার হল, মল্লিকও জানতো, পারভীনও জানতো যে মুনিরা আর নেসারের জীবনের সমীকরণ অন্যভাবেও হতে পারত। তবে এই জানার প্রভাব তাদের মনের জমিনে এতই হালকাভাবে পড়েছিল যে ওখানে কোন বিষবৃক্ষ গজিয়ে ওঠার সুযোগ পায়নি। সে কারণেই দুই পরিবারের মধ্যে সারাজীবন নিশ্ছিদ্র বন্ধুতা বিদ্যমান রয়েছে।

নেসার যুতসই কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে বলল, থাক না ওসব মুনিরা; আমাদের জীবন-খাতাতো আলাদাভাবে লেখা হয়েই গেছে। পিছন দিকে ফিরে তাকালে বিব্রত হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার থাকেনা।

আপনি বিব্রত হতে পারেন, আমি হই না। দৃঢ়তার সাথে কথাটা বলল মুনিরা। আমাদের বাসার সান্ধ্য ছাদ, আপনার সেই চিলেকোঠা এসব আমার স্মৃতির প্রকোষ্ঠের মণিমুক্তা; গুপ্তধনও বলতে পারেন। আমি জেনে বুঝেই তার সন্ধানে গিয়েছি।

নেসার কুণ্ঠিত হয়ে বলে, মুনিরা প্লিজ অতীতকে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত কর না। জীবনের এই সময়ে দুঃখকে আমন্ত্রণ করো না। মল্লিকের মত লোক হয়না। আমার বন্ধু বলে বলছি না। তোমাকে কি সে সব উজাড় করে দেয়নি?

স্বামী হিসেবে মল্লিককে নিয়ে যে কোন মেয়েই গর্ব করতে পারে। আমিও করি। কিন্তু আমি তো মল্লিকের কথা বলছি না। বলছি আপনার এবং আমার কথা।

নেসার চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে আবার একটি সিগারেট ধরায়। তারপর চেয়ার থেকে উঠে রেলিং ঘেষে দাঁড়ায়। চাঁদের আলো এখন আর কারও মুখে পড়ছে না। এতক্ষণে চাঁদ উঠে গেছে দালানের ছাদের উপর। তবে আলো-আঁধারির মায়াময় ছবি ছড়িয়ে রয়েছে পল্লবীর নিথর ঝিল জুড়ে। নেসার সেদিকে তাকিয়ে বলে, একটা কথা কি জান মুনিরা? আজ স্বীকার করি তোমার কাছে; আমার অপরাধবোধ আমাকে কখনও ছেড়ে যায়নি। তারপরও দেখ, আমরা দু’পরিবার কেমন বন্ধু হয়ে আছি। তোমাদের একটি ছেলে, একটি মেয়ে। আমাদের অবশ্য কেবল একটি ছেলে। মোটামুটি সুখেই আছি। কী বল?

হুম…..আসলে…. কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে যায় মুনিরা ।
আসলে কি? নেসার জিজ্ঞেস করে।

না মানে, আসলে আমি আপনাকে কখনই বুঝতে পারি না। শুনি, হঠাৎ চলে যান কোথায়। এখন খেয়ালীর মত ঢাকা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ফুটপাতে ঘুমাচ্ছেন, ছাইপাঁশ খাচ্ছেন। এটি কেমন অভিযান? নাকি কোনো দুঃখ বিলাস?

আমিও ঠিক জানিনা কেন এমনটি হয়। কারো গলগ্রহ হব না বলে কিছু টাকা সঞ্চয়পত্রে রেখেছি। সামান্য সুদ জমলেই মাথায় পোকা ঢুকে। বেরিয়ে পড়ি হঠাৎ করে ।

ছেলের জন্য মায়া হয় না? নাতি?

নেসার অনুচ্চ হাসে। ছেলে মাকে পেয়ে আনন্দে আছে। নাতিও দাদিকে পেয়েছে। ওরা ভাল থাক। আমার একটু দূরে থাকতেই ভাল লাগে।

হ্যাঁ, তাইতো দেখছি। সবকিছু থেকেই দূরে দূরে থাকলেন। কোনোদিন বলার সুযোগই পেলাম না, একটা নয় আপনার দুটো ছেলে আছে।

নেসার কথাটার মানে বুঝতে ব্যর্থ হয়। বলে, বুঝলাম না।

শাহানের মুখের দিকে ভাল করে তাকিয়েছিলেন কোনোদিন? মুনিরা তীর্যকভাবে প্রশ্ন করে।

নেসার চমকে ওঠে। কি বলতে চাইছ মুনিরা?

তড়িঘড়ি করে আপনার বন্ধুর হাতে আমাকে তুলে দিলেন। তখন কি আপনি জানতেন যে আমি ততদিনে আপনার একটা স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে ফেলেছি?

নেসারের মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। চরাচরজুড়ে ভয়ঙ্কর গতিতে ঝড়ের তাণ্ডব বয়ে যায়। তার হাত পা কাঁপতে থাকে। বলার কোনো ভাষা খুঁজে পায়না।

মুনিরা বলে, ভেবেছিলাম তা আপনার জানা ছিল, কিন্তু পরে দেখলাম আপনি বুঝেনই নি। মল্লিক কেন, পরিবারের কেউও তা বুঝতে পারেনি। বাঁচবো আর কদিন? আপনার সাথে দেখা হয় কি না হয় আর। তাই কথাটা বলে আজ হালকা হলাম।

নেসার আবার ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ে। তারপর রেলিং-এ মাথা ঠেকিয়ে বলতে থাকে, ঠিক হয়নি, এ আমার ঠিক হয়নি।

মুনিরা বলে, আমি তা মনে করি না। শাহান সামনে এসে দাঁড়ালে আমি আপনাকে দেখি। মুনিরা চোখ মোছে।

নেসার চেয়ারের পিছনে মাথা ছেড়ে দিয়ে ছাইরঙা আকাশের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। তার গণ্ডদেশের খোঁচা খোঁচা দাড়ি বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে মুনিরা তা টের পায়। সে তার চেয়ার ছেড়ে ধীরে ধীরে নেসারের দিকে এগিয়ে আসে। আলতো করে হাত রাখে নেসারের কপালের উপর। তারপর নিরবে দাঁড়িয়ে থাকে বেশ কিছুটা সময় – পাঁচ মিনিট কিংবা দশ মিনিট। এক সময় নিরবতা ভেঙ্গে মৃদুকণ্ঠে সে বলে, দেখেন, পৃথিবী কেমন শান্ত হয়ে আছে; আমাদের জীবনের মত, যেন তরঙ্গহীন জলাশয়। শাহানটা থাক না আমাদের আনন্দ-ঝড়ের স্মৃতি হয়ে।

তার কপালের উপর রাখা মুনিরার হাতটা হঠাৎ সজোরে চেপে ধরে নেসার।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • বাসু  দেব নাথ
    বাসু দেব নাথ বাহ্ খুব ভালো লাগলো।
    প্রত্যুত্তর . ১ এপ্রিল
  • রণতূর্য ২
    রণতূর্য ২ জামাল ভাই আপনার কাছ থেকে গল্প বলা শিখতে চাই।অসাধারণ লেখনী। পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার চমৎকার দক্ষতা। ভোট ও শুভকামনা।

    আমার কবিতায় আমন্ত্রণ রইল।আপনার সুচিন্তিত মতামতের অপেক্ষায়।
    প্রত্যুত্তর . ১ এপ্রিল
  • প্রজ্ঞা  মৌসুমী
    প্রজ্ঞা মৌসুমী অবশ্যই সুখপাঠ্য। বিষয়ভিত্তিক লেখা পড়াৱ সমস্যাই তো এই কখন বিষয়টা গল্পে পাব সেই অপেক্ষায় থাকা। অপেক্ষা কিছুটা দীৰ্ঘ হলেও বৰ্ণনাৱ টানে পড়ে গেছি। এখানে একজন বৃদ্ধেৱ গল্প পড়ছি কেন যেন প্ৰায়ই মনে হয়নি। হয়তো সে-এৱ বদলে তিনি বসালে অন্যৱকম লাগতো। তিনি কেনইবা হঠাৎ ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৪ এপ্রিল
    • জামাল উদ্দিন আহমদ গক’তে ঢোকার পর আমার অনিয়মিত বিচরণে যে হাতেগোনা ক’জন সুদক্ষ শব্দ-কারিগরের দেখা পেয়েছি আপনি নিঃসন্দেহে তাঁদের অগ্রগামী। তাঁদের আমি ভয় করি; বিদ্যালয়ের পরীক্ষকের মতো! সুখের কথা এই যে (এবং আমার জন্য আনন্দেরও), আপনি শুধু আমার এই সাদামাটা গল্পটি পড়েনইনি, একজন বিচক্ষণ পর্যবেক্ষকের মতো এর সৌষ্ঠবের উপর দৃকপাত করেছেন। ঠিকই বলেছেন, বৃদ্ধলোকের ক্ষেত্রে তুই-তোকারি বেমানান। আমি এই অন্যায়টা সচেতনভাবেই করেছি এই বিবেচনায় যে মল্লিকের সাথে নেসারের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং ঝড়োকালের রসায়ন-সংশ্লেষণের চিত্রায়নে ‘আপনি/তিনি’ জুতসই হবে না। আর অন্য কোনো বন্ধুকে ফোন না করে মল্লিককে ফোন করার পেছনে দুটো কারণ বিবেচনায় নিয়েছে লেখক: এক. মল্লিক নেসারের ঘনিষ্ট বন্ধু। মূল (এবং উদ্ভট) পরিকল্পনা থেকে সরে এসে যখন সে ভাবল মিরপুরের পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করবে, তখনই হুট করে মল্লিকের কথা মাথায় এসে গেল। দুই. মনস্তত্ত্ব। সে এক জটিল ব্যাপার – জীবন থেকে মুনিরা অধ্যায় অন্তর্হিত হয়েছে বটে, স্মৃতির অন্তর্ধান ঘটেনি। উপরের কথাগুলো আমার আত্মপক্ষ সমর্থন নয় মোটেই; শুধুই কৈফিয়ত। অনেক কৃতজ্ঞতা।
      প্রত্যুত্তর . ৭ এপ্রিল
  • আবীর রায়হান
    আবীর রায়হান গল্পের শেষে ধাক্কাটা ভালভাবেই খেয়েছি। মনে হচ্ছে দুই একদিন মাথার মধ্যে গল্পের রেশ থেকে যাবে।
    প্রত্যুত্তর . ৪ এপ্রিল
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান পাঠে মুগ্ধ প্রিয় কবি।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ এপ্রিল
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী হাতুড়ি মারা কবি, যেটাতে ভারি পড়বে সেটাই বিজয়... হা হা হা। অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইল দাদু।।
  • ফাহমিদা   বারী
    ফাহমিদা বারী অনেক অভিনন্দন। নিয়মিত বিজয়ে অশেষ শুভকামনা।
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান অভিনন্দন কবি।
  • সেলিনা ইসলাম
    সেলিনা ইসলাম অনেক অনেক বিজয়ী অভিনন্দন!
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর অনেক অনেক অভিনন্দন জামাল ভাই...

advertisement