চাঁদের পরাগ মাখা উঠোনের কোণে বসেছিল সে ,
আমি তার মুখোমুখি, বিছানো শীতল পাটি ;
সম্মুখে হাস্নাহেনা, পেছনে অলস অনিল–বসন্তের।
বলিতা কে, বলদেখি কেমন আজি সন্ধ্যার সাজ ?
নেচে ওঠে , মুক্তোর দাঁত চপল চমকেতার
তাকায় ডানে , বায়ে এবং আকাশের সামিয়ানায়।

বলে সে বংশী কণ্ঠে , দেখেছ কি কোনদিন কোনও কালে
দক্ষিণ হতে নেমে গেছে সোজা দুধের নহর প্রশস্ত উত্তরে
থোকা থোকা সৌর পুষ্প হেথা - হোথা অজস্র অপার
ঝলকিত নিযুত জোনাকি বর্ণ হীন পটে।
সে এক স্বপ্নের হাট, ঘাগরি, ঘুঙুর আর ঝালর ঝিলিক–
মুক্ত পুচ্ছ ছোটে কেউ না জেনে ঠিকানা স্বর্গের
তির বেগে কেউ না মেমর্ত্যের গৃহে – হারূত - মারূতের।

তাকাই চার পাশে , দূরের হিজল আর চাঁদের খোড়লে
ছাতিমের শীর্ষ থেকে নামাই দুচোখ নিশ্চুপ বেলীর ঝোপে–
কী ছবি আঁকলোসে ! কোন খানে রঙশালা তার ?
সেখানেও বসন্ত কি এখানের মতো , আজ এবেলায় ?

দু’চোখ বন্ধ করে খুঁজিতার মায়াবী ঝর্ণা আলোর
ক্রমশ দৃষ্টি হারাই , হারাই নিজেকে , যেতে চাই যতই গভীরে।