যেদিন তুমি চলে গেলে- আকাশটা কেমন ছিলো?
খুব মেঘাচ্ছন্ন! মনে নেই, কিচ্ছু মনে নেই,
চলে গেলে তুমি-একটিবারও চেয়ে দেখলে না এসেছি আমি,
বসে আছি তোমার পাশে, কতবার তোমায় ডেকেছি,
তুমি দিলে না সাড়া, নাকের একদিকে অক্সিজেন নল,
অন্য দিক দিয়ে খাবার, ক্যাথেটার, ডায়াপার,
হাতে স্যালাইন, কতকিছু জড়িয়ে আছে তোমার শরীর
তুমি চলে গেলে! চোখটা একটু মেলে, বড় বড় শ্বাস নিলে!
তারপর শান্তির ঘুম! ঘুমিয়ে গেলে।
সারারাত একা বসেছিলেম তোমার নিথর দেহটার পাশে,
চারিদিক নীরব নিস্তব্ধ, মাঝে মাঝে কুকুরের ঘেউ ঘেউ রব,
নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খান খান, তারপর আবার শুনশান!
তাহলিল খতম করছিলাম তোমার পাশে বসে,
আর নিজেকে প্রশ্ন করেছি-আমি কি ভয় পাচ্ছি!
মোটেও নয়, যে দেহটার ভেতর আমি বেড়ে উঠেছি,
যার রক্ত পুষ্টিতে গঠিত আমার শরীর- তাকে ভয়! কক্ষনো নয়,
একা একা জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিলো আমার
পারিনি! আত্মা কষ্ট পাবে ভেবে তোমার,
যা কখনো বলিনি, সেটাই বলতে চাইছিলো মন
“মা…” খুব খুব অনুভব করি তোমায়, সর্বক্ষণ।