একজন বাবা যে তার মেয়েদেরকে কাছে রাখতে পারে নি । বাবা মায়ের ডির্ভোস হলে বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে । গল্পের নায়ক বিয়ে করে স্ত্রী কে নিয়ে গিয়েছিল ইউরোপের একটা শহর ফ্রান্সে । ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থা দেখে সে ঔ ধরনের জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে , স্বামীকে তার ব্যকডেটেড মনে হতে থাকে। এরমধ্যে স্বামীর হার্টে ব্লক ধরা পড়ে । যে কোম্পানীতে সে চাকরি করতো তারা তাকে হসপিটালে ভর্তি করে এবং অপরেশন করিয়ে দেয়। স্বামীর কাছ থেকে তার স্ত্রী ফ্রান্সের বাড়িটা লিখে দিতে বলে । সে বলে যে তার আর সংসার করার ইচ্ছা নেই অসুস্থ একটা লোকের সাথে । মেয়েদের ভালোর জন্য , মেয়েদেরকে যাতে রাস্তায় বাস করতে না হয় সেজন্য সে বাড়িটা লিখে দেয় স্ত্রী আর মেয়েদের । শর্ত একটাই দেয় যে মেয়েরা যেন মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত না হয় । বাবাকে মেয়েরা ভালবাসত , বাবার কাছে থাকতে চাইতো ,কিন্তু বাবার তো বাড়িঘর ছিল না , চাকরি ছিল না সে মেয়েদেরকে নিজের কাছে রাখতে পারতো না ইচ্ছা করলেই । মেয়েদের মাও বাবার কাছে আসতে চাইত না মেয়েদের ,বাবার কথা বললে ওদেের মারধোর করত,টেলিফোনে যখন ছোট মেয়েটা এসব বলত তখন বাবার বুকটা কষ্টে ফেটে যেত। সে মাসে একবার মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে পারত। সবাইকে বলত ,' আমি অনেকটা মান্হলি বাবা।' সে এরপরে ভাল চাকরি পায় নি, মেসে থাকতো, একবার রাত কাটিয়েছে পার্কে। টাকা রোজগারের চিন্তায় , মেয়েদেরকে কাছে না রাখতে না পারার মাসসিক যন্ত্রণায় সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্হায় মারা যায় । এবারে সে আর ফিরে আসতে পারে না মেয়েদের কাছে শ্রেষ্ঠ বাবা হয়ে ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ মে ১৯৬৬
গল্প/কবিতা: ২৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাবারা এমনই হয় (জুন ২০১৯)

আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা হতে চাই
বাবারা এমনই হয়

সংখ্যা

এলিজা রহমান

comment ০  favorite ০  import_contacts ১০৩
রাশেদ্ বিয়ে করতে দেশে গিয়েছিল । বয়স হয়ে যাচ্ছে । তাই এবার আসলে সবাই তাকে ধরেবেধে বিয়ে করিয়ে ছাড়ল । রাশেদ বউকে ভাল করে দেখতেও পারে নি ।
বিয়ের সব কিছু মিটল ভালভাবে । বাসরঘর । রাশেদ দেখল বউয়ের মুখ ভার ।
রাশেদ ,' সেলিনা শুয়ে পড় । রাত হয়েছে ।'
সেলিনা ,' তুমি একটা কি বল তো , বিদেশে থেকে মানুষ দামী কসমেটিক্স কিনে , তুমি তো একটাও ভাল জিনিস কিনো নাই । আমি সবাইকে বলছি আমার বর বিদেশ থাকে ,তারাতো তোমার আনা জিনিসপত্র দেখে হা হয়ে গেছে । শাড়িটা এনেছ এতো বাজে রঙ ।'
'আচ্ছা ,এর পরের বার তোমার জন্য ভাল কসমেটিক্স কিনে আনব । আসলে আগে কখনই কিনি নাই তো তাই ভুল হয়ে গেছে ।'
'না ,তোমাকে আর কিনেআনতে হবে না । তোমার দৌড় আমি বুঝে গেছি । টাকা দিয়ে যাবেআমাকে বেশি করে । নিজের পছন্দসই কিনে নিবো । তুমি ঘুমাও । আমি কি যে একটা বিয়ে করলাম ।'

এইভাবে কেটে গেল রাশেদের বিয়ের পরের কটা দিন । বউ ভাতের পরের দিনই রাশেদের ফ্লাইট । তাকে কাজে ফিরতে হবে । এখন তার একমাত্র কাজ বউকে খুশি করা ।
কাজের মধ্য ফিরে রাশেদ আবার পুরোন জীবনে ফিরল । রান্না ,করা বাজার করা ,ঘর পরিষ্কার করা । ও এখন থাকে একটা মেসে । কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি বাড়ির ব্যবস্হা না করতে পারলে বউকে আনবে কিভাবে ।
কোম্পানীতে ওর কাজের সুনাম আছে । কারন খুব সিনসিয়ার আর ডেডিকেটেড ।
সবাই যেখানে ফঁাকি দেয়ার চিন্তা করে সেখানে ও অন্যের হয়ে কাজটা টাজও করে দেয় ।
রাশেদের এখন মাথায় চিন্তা বউকে নিয়ে আসতে হবে ।
সে কাফে আর ক্রোসেন্ত খেয়ে থাকে ,বাঙ্গালীদের জন্মদিন, নববর্ষে,ঈদে একটু ভাল খাওয়া দাওয়া হয় তার। আর পয়সা জমায় দেশে যাওয়ার। এখানকার বাঙ্গালী কমিউনিটির লোকজন তার পরিচিত বলে কাজটা সে সহজেই পেয়েছে।
বউ বাপের বাড়িতেই থাকে এখনও ,রাশেদের বাসায় অনেক মানুষ । সেলিনার এসি ছাড়া ঘুম হয় না রাতে ।
তাছাড়া , রাশেদের বাসার তেল মসলাদার রান্্না সেলিনার অপছন্দ। সে বিলাসিতা পছন্দ করে কষ্টের জীবন নয় । তার বাবা সুখী হওয়ার সব উপকরন দিয়েছেন জীবনে। বিয়ের পর রাশেদের দায়িত্ব সেলিনাকে সুখে রাখার।

ইউরোপে আসার পর কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ভালো কাজ পাওয়া যায় না পেলেও বেতন ঠিকঠাক মত হয় না ,ছাটাই করে দেয় মালিকপক্ষ । স্হায়ীভাবে বসবাস করতে কারো সময় লাগে ১বছর বা ২/৩/৫/৭/১০ বছরও লেগে যায় সে চেষ্টা করে প্রানপন ।
এর মধ্যে সেলিনা ফোন করে ঘ্যানঘ্যান করে ,'িয়ে করে ফেলে রেখেছ । কবে নিয়ে যাবে আমাকে ?'
সে বলে ,' তোমার কাগজপত্র , পাসপোর্ট তৈরি করতে দাও ,আর ড্রাইভিং শিখে নিও । এখানে গড়ি চালানো জানা থাকলে কাজ পেতে সুবিধা ।'
''কি কি করতে হবে আমি জানি । তুমি তোমার কাজ কর ভিসার ব্যবস্হা কর ।'সেলিনা ধমকের সুরে রাশেদকে বলে উঠে ।
রাশেদ ফোন রেখে দেয় । ওর একটা কাজে যেতে হবে প্যারিস শহরের বাইরে । ও মেট্রোতে উঠল ।
ওর মনে পড়ল সেলিনারা প্রথম ওদের বাসার তিন তালায় ভাড়াটে হয়ে আসল । ও তখন জগন্নাথ কলেজ থেকে অর্নাস শেষ করে ল'তে ভর্তি হয়েছে । টিউশনি করে আর চাকরী খুঁজে । বাবাকে একটু সাহায্য করার জন্য বড় ছেলে হয়ে । ওর বড় বোনের চাকরীর টাকায় সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ্য এসেছিল ,কিন্তু বোনের বিয়ে্ হয়ে যাওয়ার পর ওদের আবার সংসারে টানাটানি শুরু হয়েছে

সেলিনার বাবা ছিলেন কাস্টমস অফিসার । সেলিনাদের ছোট পরিবার সুখী পরিবার আর রাশেদদের ছয়জনকে নিয়ে পরিবার ।
সেলিনা ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ভার্সিটিতে ভর্তির জন্য কোচিং করছিল । ঢাকায় পড়বে মেয়ে তাই সেলিনার আব্বা পোস্টিং নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। একদিন সকালবেলা , সেদিন ছিল শুক্রবার সেলিনা নীচে নামছিল আর রাশেদ বাজার করে ফিরছিল । ওর গায়ে ঘামের গন্ধ, হাতে মাছের ব্যাগ। আর সেলিনাকে ওর মনে হচ্ছেিল হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের মত । সিল্কি চুল ছড়ানো পান পাতার মত ফর্সা মুখের চারপাশে । অবাক হয়ে রাশেদ দেখছিল মানুষ এত সুন্দর হয় !
সেলিনা বলল , 'এই দারোয়ান আমাকে একটা রিকশা ডেকে দাও । কতদিন ধরে কাজ কর তুমি । হা করে দাঁড়িয়ে না থেকে রিকশা ডাক একটা , কেন যে এসব স্টুপিড লোকদের কাজে রাখে !" রাশেদের কানে কোন কথা ঢুকছিল না ,সে দেখছিল একটা পরী যেন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ।
হঠাৎ দারোয়ান চাচা এসে পড়ল । সেলিনাকে রিকশা ডেকে দিলে সে রিকশায় উঠে রাশেদের দিকে তাকিয়ে এমন একটা হাসি দিল যে সে নিশ্বাস নিতে ুুুুলে গেল ।
এরপর দুই পরিবারে কথাবার্তা , বিয়ের আলোচনা । সেলিনা স্পষ্টই বলল যে সে বিদেশে থাকে এমন ছেলে ছাড়া বিয়ে করবে না ।
তাই রাশেদকে আইনজীবী না হয়ে প্রবাসী হতে হল ।

একবছর হয়েছে সেলিনা ওর বাচ্চাটাকে নিয়ে এসেছে ফ্রান্সে । ওরা থাকে দক্ষিণ ফ্রান্সের একটা ছোট শহরে । বাচ্চাটা জন্মের্ সময় রাশেদ ছিল বউয়ের পাশে । ওর কোলে যখন বাচ্চাটা দিলো নার্স তখন সে মনে্ মনে ভাবল , আজকে আমার জন্ম হল একজন বাবা হিসাবে আমার মেয়েকে আমি পৃথিবীর সব সুখ দেব ।

রাশেদ জানত না যে মানুষের হাতে তার সুখের চাবি থাকে না , থাকে অন্য কারো হাতে । ফ্যামিলির সুখের জন্য রাশেদ দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করা শুরু করে । এরমধ্যে রাশেদের ঘরে আরেকটা সন্তান এসেছে । দেশ থেকে এসেই সেলিনা ফ্রান্সের হাওয়ায় নিজেকে অত্যাধুনিক রূপে পাল্টে ফেলে । তার কিছু স্তাবকও জুটে যায় কাজ করার সূত্রে । সে নিজেকে মর্ডান আর স্মার্ট মনে করতে থাকে আর রাশেদ হয়ে যায় ব্যাকডেটেড, আনস্মার্ট। সে মেয়েদের যত্ন করে ,রাতে উঠে ভেজা কাপড় পাল্টে দেয় ছোট মেয়েটার । আবার বড় মেয়েটাকে বাথরুমে নিয়ে যায় । এভাবেই চলল কয়েক মাস । রাশেদের কোন কমপ্লেইন নাই । সে তো বাবা হয়েছে । নিজের বাচ্চার কাজ করার আনন্দের তো কোন তুলনা হয় না । মায়েরা তো এতদিন বাচ্চাদের কাজ করেছে এখন বাবারাও একটু করুক । সন্তান তো বাবা মা দুজনের ই । বাবা করুক কি মা করুক সন্তানের ভাল থাকা নিয়ে কথা । সে সেলিনাকে টাকা পয়সা নিয়ে কিছু বুঝাতে গেলে সে তাকে ডিসগাস্টিং বলে উঠে । মেয়েদের সামনে চিৎকার করে বলে যে রাশেদের সাথে থাকা যায় না ।

একদিন রাশেদ কাজ সেরে বাসায় ফিরেছে । দেখে বাচ্চারা না খেয়ে আছে । ওদের মা কোন খাবার রান্না করেনি । ঘরদোর অগোছাল, বড় মেয়েটা ছোট মেয়েটাকে ফিডার খাওয়াচ্ছে । ছোট মেয়েটা রাশেদকে দেখে দৌড়ে এসে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো কোলে ওঠার জন্য । মেয়েকে কোলে নিয়ে রাশেদ বেডরুমে এল

রাশেদ বলল ,'সেলিনা ,আমাকে আর বাচ্চাদের কে খেতে দেবে না ? এত দেরী হচ্ছে কেন খাবার আনতে ?তোমার কি শরীর খারাপ হয়েছে ?'

'তুমি কি আমাকে তোমার দাসি বান্দী মনে কর যে হকুম করবা আর সাথে সাথে আমি সেটা তামিল করব। 'সেলিনা রাগে গরগর বলতে থাকে রাশেদকে ।
রাশেদ সেলিনার কথা শুনে হতম্ভম্ব হয়ে যায় । সে বলে ,'সেলিনা তুমি কি বলছ ? তুমি তো আমার স্ত্রী, তোমাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি আমি। আমাদের বাচ্চাটা না খেয়ে কাদছে , তুমি তো ওদের মা ? বাচ্চাদের কেন কষ্ট দিচ্ছ এভাবে ?"
'আমার বাচ্চার কি করতে হবে সেটা তোমার চেয়ে আমি ভাল জানি ।" এই বলে সে মেয়েকে হ্যাচকা টান দিয়ে রাশেদের কাছ থেকে নিয়ে নেয় ।
সে রাতে রাশেদ নিজেই খাবার রান্না করে । মেয়েকেও নিজের হাতে খাইয়ে দেয় ।
এই শুরু হয় সেলিনার আর রাশেদের সম্পর্কের টানাপোড়েন । রাশেদের অপরাধ সেলিনার চোখে সে অন্য দশটার ছেলের মত স্মার্ট নয় , অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারে না । বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে চায় । রাতভর পার্টি করতে চায় না
ইউরোপীয় হাওয়ায় বউকে গা ভাসিয়ে দিতে নিষেধ করে। দিনের পর দিন মানুষ তো এতটা মানসিক চাপ নিতে পারে না । একদিন কোম্পানীতে কাজ করার সময় রাশেদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে । কোম্পানী থেকেই ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় , সব রকমের পরীক্ষা করে ডাক্তাররা বলেন রাশেদের হার্টে ব্লক আছে অপরেশন করতে হবে । চিকিৎসার খরচ কোম্পানি থেকেই দেয়া হলো।
রাশেদকে প্রায় ১মাসের মত হাসপাতালে থাকতে হয়েছে রাশেদের দুর্ভাগ্যের এখানেই শেষ নয় । রাশেদের স্ত্রী সেলিনা বলে সে আর রাশেদের সাথে থাকতে পারবে না । একজন অসুস্থ মানুষের সঙ্গে বাস করা তার পক্ষে সম্ভব নয় ,সে রাশেদের কাছ থেকে ডিভোর্স চায় । এসব ক্ষেত্রে স্ত্রী ডিভোর্স চাইতে গেলে দেখাতে হবে স্বামী চরিত্রহীন কি না কিংবা সে স্ত্রীকে মারধোর করে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি ।
পুলিশের কাছে গিয়ে রাশেদের স্ত্রী নালিশ করে যে রাশেদ বউকে রোজ মারধোর করে । সেলিনা একবার রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়েছিল , বেশ গভীর হয়ে কেটেছিল , সেই দাগটা দেখিয়ে সে পুলিশকে বলে যে রাশেদের মার খেয়ে তার হাতের এই অবস্হা হয়েছে ।
ইউরোপে খুব সহজ ডিভোর্স পাওয়া মেয়েদের জন্য। রাশেদ তার মেয়েদেরকে ভাল রাখার জন্য নিজের সবকিছু দিয়ে সর্বস্বান্ত হয় ।

এরপরে রাশেদের শুরু হয় ব্যাচলর লাইফ । সে মেয়েদেরকে রোজ দেখতে যেতে পারত না এমনকি ফোনও করতে পারত না । রাশেদ মাসে একবার মেয়েদের সাথে দেখা করতে পারতো । এই ব্যবস্হা সে নিজেই করেছে মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে । মেয়েরা যদি মায়ের সঙ্গে থাকে তাহলে ওদের রাস্তায় থাকতে হবে না ,পড়াশুনা করতে পারবে । রাশেদ ভালো চাকরি না পেলে তো মেয়েদের নিজের কাছে রাখতে পারবে না ,পড়াশুনার খরচ দিতে পারবে না । সেলিনার তো একটা ভালো চাকরি আছে ,বাড়ি আছে,মেয়েরা মায়ের কাছে থাকলে ভালোই থাকবে । মেয়েদের সুখের জন্য রাশেদ সবকিছু সহ্য করবে
রাশেদকে মেসে থাকতে হয় । একবার সে ঠান্ডায় সারারাত পার্কে বেঞ্চে শুয়েছিল । মেয়েদেরকে তো ও এই কষ্ট করতে দিতে পারে না । মেয়েদেরকে সে দেখতে যেত তাদের স্কুলে । কোনদিন ছোটমেয়েটা বেশি কান্নাকাটি করত বাবাকে দেখার জন্য । ওদেরকে মায়ের হাতে মারও খেতে হয়েছে বাবার কাছে আসার জন্য ।
বড় মেয়েটা বুঝত বাবাকে কি বলতে হবে আর কি কি বলা উচিত নয় । কিন্তু ছোট মেয়েটা ওর বাবাকে বলে দিত মায়ের মারধোরের কথা। অসহায় বাবার এসব কথাগুলো বুকে পাথরের মত চেপে বসত । এই অন্ধকার কষ্ট তার একান্ত নিজস্ব ছিল । মেয়েদের নিয়ে সময় কাটানোকে সে রসিকতা করে বন্ধুদের বলত 'আমি এখন অনেকটা মান্হলি বাবা ।'
সে অনেক চেষ্টা করেছে ভাল চাকরি পাওয়ার । যে কাজের সে উপযুক্ত নয় সেই কাজ সে কিভাবে করবে ?
মেয়েদেরকে নিজের কাছে রাখতে না পারার জন্য সে নিজেকে অপরাধী মনে ভাবে । নিজেকে ব্যর্থ মানুষ মনে করতে করতে মানসিক যন্ত্রণায় সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে । আবারও সেই হার্টের অসুখ । মেয়ের একটা ছবিতে সে নিজের কষ্টের কথা লেখে ,'তোদেরকে খুব মিস করছি ,তোরা ছাড়া তো কেউ নেই আমার ,চেষ্টা করছি বাবা হবার ,পারছি না ।'
এই দুঃসহ কষ্ট তার জীবনী শক্তি করে দেয় ,মৃত্যুর কাছে হার মেনে যায় সে এবং এবারে আর ফিরে আসতে পারে না মেয়েদের জীবনে শ্রেষ্ঠ বাবা হয়ে ।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement