রোদের তেজ নেই তেমন । ওদের হাটতে ভালো ই লাগছিল।
রাতুলের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগছে এখন । সন্ধ্যার আকাশ অনেক সুন্দর লাগে ওর। মাঝে মাঝে ও ভাবে পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ কি আছে ? তারা কি মানুষের মত ? নাকি তারা অন্য ধরনের কোন প্রাণীর মত দেখতে ? ভিনগ্রহের প্রাণীরা মানুষের মত হলেও গল্প উপন্যাসে তাদের দেখান হয় আলাদা চেহারার , যেমন একটি সিনেমায় ভিনগ্রহের প্রাণীটার গায়ের রঙ দেখানো হয় সবুজ । ভিনগ্রহের প্রাণীরা অনেক দিন ধরেই পৃথিবীতে আসছে ।

রাতুল ভাবছিল, Easter Island এর দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তিগুলো কারা কি জন্যে বানিয়েছে কেউ জানে না , মূর্তি গুলোর একটার চেহারা আর একটার সঙ্গে মেলে না ,মিশরের পিরামিডগুলো তখনকার দিনের মানুষ ক্রেন ছাড়া এত উঁচুতে কিভাবে তুলতে পারল , এসব প্রশ্নের একটাই উত্তর হয়তো ভিনগ্রহের মানুষেরাই এগুলো তৈরি করেছে ।
সে রায়ানকে জিজ্ঞেস করল , ' তুই এলিয়ন আছে এইটা বিশ্বাস করিস , রায়ান ?'
রায়ান বলল , ' জানি না ,তবে time travel করা যায় এইটা বিশ্বাস করি । কত ভালো হত যদি ভবিষ্যতে কি হবে আমাদের দেখে আসতে পারতাম !'
দুজনে গল্প করতে করতে বাড়ি পৌঁছে গেছে । ওদের বিকেলে রফিক স্যার এর বাসায় physics কোচিং আছে । গোসল করে আসতে না আসতেই মা ভাত খাওয়ার জন্যে ডাকল। বাবা চেম্বারেই খাবেন .. আজকে ওনার একটা OT আছে , বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা ।
কোচিং শুরু হয় ৫টা থেকে । রাতুল রায়ানকে ওর বাসা থেকে ডেকে নিল। বড় রাস্তার মোড়ের মাথায় আসতেই রায়ানের সাইকেলের চাকার মধ্যে একটা ইট না পেরেক কি জানি ঢুকে চাকা পাংচার হয়ে গেলো । কোচিং এ পৌঁছাতে দেরী হল। কোচিং শেষে রফিক স্যার বললেন , ' রাতুল , তুমি physics অবশ্যই A+ পাবে , but don't waste your time ..do a lot of practice ."
'স্যার আপনি বলছেন কারণ আপনি আমাদের স্নেহ করেন , আমি চেষ্টা করব আপনার মান রাখার । দোয়া করবেন , ভালো result না করতে পারলে তো medical এ chance পাবো না ,আমি জানি স্যার ।"
রায়ান বলল , ' আর আমি স্যার ?'
রফিক স্যার হেসে বললেন , ' হ্যাঁ , তুমিও পাবে রায়ান , তোমাদের দুজনেরই ভবিষ্যতে উজ্জ্বল , তোমরা দুজনেই আমাদের গর্ব ।'
কোচিং শেষ । দুজনেই বাড়ি ফিরছে সাইকেলে। এখনো অন্ধকার হয়নি । আকাশে কয়েকটা তারা মাত্র ফুটছে। বাতাসও তেমন জোর নয় হালকা হাওয়া । দুজনেই বেশ speed এ সাইকেল চালিয়ে আসছিল আর কোন স্যার কিভাবে কথা বলেন , কোন students কি কি বদঅভ্যাস আছে তাই নিয়ে গল্প করছিল । হঠাৎ কোথ্থেকে একটা লোক রাতুলের সাইকেলের সামনে পড়ল। ফাঁকা রাস্তায় লোকটা কিভাবে এসে পড়ল ওদের মাথায় ঢুকল না।
রাতুল পাগল মনে করে সরে চলে যাচ্ছিল , তখনই লোকটা বলে উঠল , 'তোমরা সাবধান , এলিয়েনরা আসছে । '
রাতুল বলল , ' আপনি পাগল না গাজা খেয়ে এসেছেন ? কি বললেন আপনি এলিয়েন আসছে ? আপনি কোথায় থাকেন ? আপনাকে তো আগে কখনো দেখি নি ।'
লোকটা বলল , ' আমি ভবিষ্যতের মানুষ । আমার আসার কথা ছিলো 2018 কিন্তু সময় যন্ত্রের ভুলে আমি আগেই চলে এসেছি তোমাদের সাবধান করতে এলিয়েনদের সম্পর্কে । পৃথিবীকে বাঁচাতে তোমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে যতদ্রুত সম্ভব । এলিয়েনরা আসছে প্রতিবার । তারা পৃথিবীর মানুষকে বশ করে ফেলবে ,যেটা পৃথিবীর মানুষের জন্যে কল্যাণকর হবে না। মানুষকে সাবধান করার জন্যই আমি অতীতে এসেছি ।আমি বাস করি 2035 সালে । তোমরা আমার কথা বিশ্বাস কর।'
রাতুলরা কি বলবে বুঝতে পারছিল না।
রায়ান জিজ্ঞেস করল , 'আপনি time travel করলেন কিভাবে ?'
' এলিয়েনদের সঙ্গে আছি আমি । ওদের সবকিছুর plan আমি জানি । ওদের কাজে সাহায্য করতে করতে ওদের বিশ্বাস অর্জন করেছি ।'
রায়ান বলল , 'আমাদের প্রযুক্তি তো এত উন্নত না ,আমরা কিভাবে এলিয়েনদের প্রতিরোধ করব ?'
লোকটা বলল , 'মানুষ আলাদা আলাদা হয়ে থাকলে তাকে হারিয়ে দেয়া যায় , কিন্তু একজোট হলে যে কোন শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায় । তোমরা বুদ্ধি দিয়ে এলিয়েনদের প্রতিরোধ করবে । '
লোকটাকে পাগল মনে হচ্ছে যদিও তার কথায় যুক্তি আছে । তার কথাবার্তা আর কার্যকলাপ আজগুবি , তবুও তার হাতের bracelet টার মতো একটা জিনিস আছে যা রাতুলরা আগে কখনোই দেখে নি, ওটার ভিতর থেকে লাল নীল আলো বের হচ্ছে আর কেমন ঝিঁ ঝিঁ আওয়াজ আসছে । লোকটা একটা button press করতেই হঠাৎ একটা বিদ্যুত্ের ঝলকানি দেখল ওরা । চোখের পাতা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেলো দুজনেরই আলোর ধাক্কায়। চোখ খুলে ওরা আর কোন লোক দেখতে পেল না॥